বাংলা ব্যাকরণ TET পরীক্ষার জন্য
সন্ধি · সমাস · কারক — সম্পূর্ণ গাইড
সংজ্ঞা, শ্রেণিবিভাগ, বিস্তারিত উদাহরণ, শর্টকাট ট্রিকস ও MCQ প্র্যাকটিস সেট সহ — CTET, WB TET, JTET, BTET সব পরীক্ষার জন্য একটিমাত্র গাইড।
🎓 বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন📊 TET বাংলা বিভাগ পরিচিতি
CTET, WB TET, JTET ও BTET সহ দেশের প্রায় সব Teacher Eligibility Test (TET) পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বিভাগে মোট ৩০টি প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে ভাষা দক্ষতা (Pedagogy) ১৫ নম্বর ও বাংলা ব্যাকরণ-সাহিত্য ১৫ নম্বর। ব্যাকরণ অংশে সন্ধি, সমাস এবং কারক এই তিনটি টপিক থেকে প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।
অনেক পরীক্ষার্থীই এই তিনটি বিষয়ে সংজ্ঞা ও উদাহরণ গুলিয়ে ফেলেন। এই গাইডে আমরা প্রতিটি বিষয়কে একদম সহজ ভাষায়, প্রচুর উদাহরণ ও শর্টকাট ট্রিক দিয়ে ব্যাখ্যা করেছি। শেষে MCQ প্র্যাকটিস সেটও দেওয়া আছে — আপনি এখনই পরীক্ষা দিতে পারবেন।
| পরীক্ষার নাম | বাংলা বিভাগ | ব্যাকরণ প্রশ্ন | গুরুত্বপূর্ণ টপিক |
|---|---|---|---|
| WB TET (Primary) | ৩০ নম্বর | ১০-১৫টি | সন্ধি, সমাস, কারক, অলংকার |
| WB TET (Upper Primary) | ৩০ নম্বর | ১৫টি | সন্ধি, সমাস, কারক, ছন্দ |
| CTET (Paper 1 & 2) | ৩০ নম্বর | ১৫টি | সন্ধি, সমাস, কারক, Pedagogy |
| JTET / BTET | ৩০ নম্বর | ১০-১২টি | সন্ধি, সমাস, কারক, বাক্যগঠন |
সন্ধি + সমাস + কারক একসাথে মিলিয়ে TET বাংলা বিভাগে ৫০% এরও বেশি ব্যাকরণ নম্বর আসে। এই তিনটি টপিক ভালো করলেই বাংলা ব্যাকরণ বিভাগে অনায়াসে ১০-১২ নম্বর পাওয়া সম্ভব। বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে আরও MCQ প্র্যাকটিস শুরু করুন।
🎯 TET বাংলা ব্যাকরণে সর্বোচ্চ স্কোর করুন!
MyTestSeries.in-এ CTET ও WB TET-এর জন্য বাংলা ব্যাকরণ মক টেস্ট — সন্ধি, সমাস, কারক সব বিষয়ে।
🚀 বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন🔤 সন্ধি (Sandhi) — সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ
পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি হয় শুধু তখনই, যখন দুটি শব্দের মধ্যে বিরতি থাকে না এবং উচ্চারণে দুটি ধ্বনি কাছাকাছি আসে। সন্ধির ফলে অনেক সময় একটি নতুন ধ্বনি তৈরি হয়।
- স্বর + স্বর মিলে যায়
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
- মহা + উৎসব = মহোৎসব
- ৮ ধরনের বিধান আছে
- ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন বা স্বর মিলে
- জগৎ + নাথ = জগন্নাথ
- দিক্ + গজ = দিগ্গজ
- আত্মসাৎ + করা অনেক বিধান
- শব্দের শেষে বিসর্গ (:) থাকে
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট
- নিঃ + আশা = নিরাশা
- বিসর্গ → র/স/অদৃশ্য হয়
সন্ধি = যোগ। দুটি শব্দের শেষ ও শুরুর ধ্বনি মিলিয়ে নতুন শব্দ। বিভাজন করলে আবার পুরনো শব্দ পাওয়া যায়। যেমন: বিদ্যালয় → বিদ্যা + আলয়।
🅰️ স্বরসন্ধি — বিধান ও উদাহরণ
দুটি স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। এটিই সন্ধির সবচেয়ে প্রচলিত রূপ এবং TET পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।
| সন্ধির বিধান | সংক্ষেপে | উদাহরণ | ধরন |
|---|---|---|---|
| অ/আ + অ/আ | → আ | দেব+আলয় = দেবালয় | দীর্ঘ |
| অ/আ + ই/ঈ | → এ | গণ+ঈশ = গণেশ | গুণ |
| অ/আ + উ/ঊ | → ও | মহা+উৎসব = মহোৎসব | গুণ |
| অ/আ + এ/ঐ | → ঐ | মত+ঐক্য = মতৈক্য | বৃদ্ধি |
| অ/আ + ও/ঔ | → ঔ | মহা+ঔদার্য = মহৌদার্য | বৃদ্ধি |
| ই/ঈ + ই/ঈ | → ঈ | অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয় | দীর্ঘ |
| ই/ঈ + অ/আ (ভিন্ন) | → য+স্বর | নদী+অর্থ = নদ্যর্থ | যান্ |
| উ/ঊ + অ/আ (ভিন্ন) | → ব+স্বর | মনু+অন্তর = মন্বন্তর | বান্ |
🔡 ব্যঞ্জনসন্ধি — বিধান ও উদাহরণ
ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জন বা স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। এটি তুলনামূলকভাবে জটিল কিন্তু TET পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়মই বারবার আসে।
| নিয়ম | উদাহরণ | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ক্ + গ = গ্গ (সদৃশ হয়) | দিক্ + গজ = দিগ্গজ | ক → গ (পরে ঘোষ আছে) |
| ত্ + স = চ্ছ | উৎ + সব = উৎসব (প্রকৃতিসিদ্ধ) | বিশেষ নিয়ম |
| ন্ + ন = ন্ন | উৎ + নতি = উন্নতি | অনুনাসিক সাদৃশ্য |
| জগৎ বিশেষ | জগৎ + নাথ = জগন্নাথ | ৎ → ন (ন-এর আগে) |
| সৎ বিশেষ | সৎ + জন = সজ্জন | ৎ → জ (জ-এর আগে) |
| ত্ + চ = চ্চ | উৎ + চারণ = উচ্চারণ | ত → চ (চ-এর আগে) |
| স্ + শ = শ্শ | নিস্ + শ্বাস = নিশ্শ্বাস | স → শ (তালব্য আগে) |
ঘোষ ব্যঞ্জনের আগে অঘোষ ব্যঞ্জন → ঘোষ হয়। অনুনাসিক ব্যঞ্জনের আগে যেকোনো বর্গের শেষ ব্যঞ্জন → সেই বর্গের অনুনাসিক হয়। উদাহরণ: জগৎ + নাথ → জগন্নাথ (ৎ + ন → ন্ন)।
🔸 বিসর্গসন্ধি — বিধান ও উদাহরণ
শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে পরবর্তী ধ্বনির সাথে মিলে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গসন্ধি বলে।
| বিধান | উদাহরণ | ফলাফল |
|---|---|---|
| বিসর্গের পরে স্বর → বিসর্গ অদৃশ্য | মনঃ + অভাব = মনোভাব | ঃ → ও |
| বিসর্গের পরে ক/খ/প/ফ | নিঃ + কলঙ্ক = নিষ্কলঙ্ক | ঃ → ষ |
| বিসর্গের পরে শ/ষ/স | নিঃ + সন্দেহ = নিঃসন্দেহ | ঃ অপরিবর্তিত |
| বিসর্গের পরে ঘোষ ব্যঞ্জন | নিঃ + আশা = নিরাশা | ঃ → র |
| ঃ এর আগে অ, পরে অ/আ | মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট | অপরিবর্তিত |
📚 সন্ধির সম্পূর্ণ MCQ প্র্যাকটিস করুন!
MyTestSeries.in-এ WB TET ও CTET-এর জন্য সন্ধি, সমাস ও কারকের ১০০+ MCQ প্র্যাকটিস পাচ্ছেন — বিনামূল্যে।
🎓 বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন🔗 সমাস (Compound) — সংজ্ঞা ও শ্রেণি
অর্থসম্পর্কযুক্ত দুই বা তার বেশি পদ মিলে একটি পদ তৈরি করলে তাকে সমাস বলে। সমাসের ফলে তৈরি শব্দকে সমস্তপদ এবং মূল শব্দগুলিকে আলাদা করলে পাওয়া যায় বিগ্রহবাক্য।
সমস্তপদ দেখলে বিগ্রহ করার চেষ্টা করুন। বিগ্রহে কোন সম্বন্ধপদটি কোথায় থাকে তার ওপর নির্ভর করে সমাসের নাম। উদাহরণ: "রাজা-প্রজা" → বিগ্রহ: "রাজা ও প্রজা" → দ্বন্দ্ব সমাস।
- উভয় পদই প্রধান
- বিগ্রহে "ও/এবং" থাকে
- মাতা-পিতা → মাতা ও পিতা
- দিনরাত → দিন ও রাত
- পরপদ প্রধান
- বিগ্রহে কারক থাকে
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র
- গৃহে প্রবেশ = গৃহপ্রবেশ
- বিশেষণ + বিশেষ্য
- বিগ্রহে "যে-সে" থাকে
- মহাপুরুষ → মহান যে পুরুষ
- চন্দ্রমুখ → চন্দ্রের মতো মুখ
- কোনো পদই প্রধান নয়
- তৃতীয় অর্থ বোঝায়
- চতুর্ভুজ → চার ভুজ আছে যার
- বীণাপাণি → বীণা পাণিতে আছে যার
- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক
- সমাহার বোঝায়
- ত্রিভুবন → তিন ভুবনের সমাহার
- পঞ্চবটী → পাঁচ বটের সমাহার
- পূর্বপদ অব্যয়
- সমস্তপদ অব্যয় হয়
- যথাসাধ্য → সাধ্য অনুযায়ী
- প্রতিদিন → দিনে দিনে
📐 সমাসের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও পার্থক্য
TET পরীক্ষায় সমাস নিয়ে প্রধানত দুটি ধরনের প্রশ্ন আসে — (১) সমাসের নাম চেনা, এবং (২) কর্মধারয় ও বহুব্রীহির পার্থক্য। নিচে সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর তুলনাগুলি আলোচনা করা হলো:
| সমাসপদ | বিগ্রহ | সমাসের নাম | কৌশল |
|---|---|---|---|
| মাতা-পিতা | মাতা ও পিতা | দ্বন্দ্ব | দুই পদ, "ও" দিয়ে বিগ্রহ |
| মহাপুরুষ | মহান যে পুরুষ | কর্মধারয় | বিশেষণ + বিশেষ্য |
| পদ্মলোচন | পদ্মের মতো লোচন যার | বহুব্রীহি | "যার" আছে → বহুব্রীহি |
| নীলকমল | নীল যে কমল | কর্মধারয় | বিশেষণ আগে, কমলই প্রধান |
| ত্রিনয়ন | তিন নয়ন যার | বহুব্রীহি | সংখ্যা + "যার" → বহুব্রীহি |
| ত্রিভুবন | তিন ভুবনের সমাহার | দ্বিগু | সংখ্যা + সমাহার → দ্বিগু |
| গৃহপ্রবেশ | গৃহে প্রবেশ | তৎপুরুষ | কারক বিভক্তি → তৎপুরুষ |
| প্রতিদিন | দিনে দিনে | অব্যয়ীভাব | পূর্বপদ অব্যয় |
কর্মধারয়: সমস্তপদ সরাসরি একটি বিষয়ের নাম বোঝায়। "নীলকমল" মানে নীল রঙের কমল।
বহুব্রীহি: সমস্তপদ তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা বস্তু বোঝায়। "পদ্মলোচন" মানে পদ্মের মতো চোখ আছে যার — অর্থাৎ কৃষ্ণ বা বিষ্ণু।
মনে রাখুন: বিগ্রহে "যার/যে/যার মধ্যে" থাকলে → বহুব্রীহি।
🏷️ কারক (Karak) — সংজ্ঞা ও প্রকার
বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য বা সর্বনামের যে সম্পর্ক থাকে তাকে কারক বলে। সহজ কথায়, বাক্যের বিভিন্ন পদ ক্রিয়ার সাথে কোন সম্পর্কে যুক্ত তাই কারক।
বাংলা ব্যাকরণে ছয় প্রকার কারক আছে। কারক চেনার সহজ উপায় হলো প্রশ্ন করা — ক্রিয়াকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে উত্তরে যে পদটি পাওয়া যায় সেটিই সেই কারক।
স্মৃতিসূত্র: "কর্তা কর্মে করণ দিল সম্প্রদানে, অপাদান বলে এলাম অধিকরণের স্থানে।"
এই বাক্যে ছয়টি কারকের নাম লুকিয়ে আছে: কর্তৃ, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ।
🔑 ছয় কারকের বিস্তারিত বিবরণ
→ কে পড়ে? → রাম = কর্তৃকারক
→ কী পড়ে? → বই = কর্মকারক
→ কী দিয়ে লেখে? → কলম = করণকারক
→ কাকে দাও? → গরিবকে = সম্প্রদান
→ কোথা থেকে পড়ে? → গাছ = অপাদান
→ কোথায় পড়ে? → স্কুলে = অধিকরণ
📊 কারক ও বিভক্তি চার্ট
| কারক | প্রশ্ন | বিভক্তি | উদাহরণ বাক্য |
|---|---|---|---|
| কর্তৃকারক | কে? | শূন্য, এ, রা | রাম লেখে। |
| কর্মকারক | কী / কাকে? | শূন্য, কে, রে | রাম বইটি পড়ে। |
| করণকারক | কী দিয়ে? | দিয়ে, দ্বারা, কর্তৃক | কলম দিয়ে লেখে। |
| সম্প্রদানকারক | কাকে / কীসের জন্য? | কে, জন্য, নিমিত্তে | গরিবকে দাও। |
| অপাদানকারক | কোথা থেকে? | থেকে, হতে | গাছ থেকে পড়ে। |
| অধিকরণকারক | কোথায় / কখন? | এ, তে, য়, মধ্যে | স্কুলে পড়ে। |
কর্মকারক "কে": ক্রিয়া সরাসরি যার ওপর পড়ছে। "রামকে দেখলাম" — রামকে দেখার কাজটি সরাসরি রামের ওপর।
সম্প্রদানকারক "কে": দেওয়া বা স্বার্থে ব্যবহৃত। "গরিবকে খাবার দিলাম" — গরিব পাচ্ছে, সম্প্রদান।
মনে রাখুন: "দেওয়া, বলা, শেখানো" ক্রিয়ায় "কাকে" হলে সম্প্রদানকারক।
- ক বিদ্যা + লয়
- খ বিদ্যা + আলয়
- গ বিদ্য + আলয়
- ঘ বি + দ্যালয়
এটি স্বরসন্ধি — আ + আ = আ নিয়মে। বিদ্যা-র শেষে আ এবং আলয়-এর শুরুতে আ মিলে একটি দীর্ঘ আ হয়।
- ক মহ + উৎসব
- খ মহা + ওৎসব
- গ মহা + উৎসব
- ঘ মহো + উৎসব
গুণ সন্ধি নিয়মে আ + উ = ও। মহা-এর আ এবং উৎসব-এর উ মিলে ও হয়।
- ক ব্যঞ্জনসন্ধি
- খ স্বরসন্ধি
- গ বিসর্গসন্ধি
- ঘ কোনো সন্ধি নয়
জগৎ + নাথ = জগন্নাথ। এখানে ৎ ব্যঞ্জনধ্বনির পরে ন আসায় ৎ → ন্ন হয়।
- ক নির + আশা
- খ নি + রাশা
- গ নিরাশ + আ
- ঘ নিঃ + আশা
বিসর্গসন্ধি। নিঃ-র বিসর্গ স্বরের আগে → র হয়। নিঃ + আশা = নিরাশা।
- ক মত + ইক্য
- খ মত + ঐক্য
- গ মতৈ + ক্য
- ঘ মতো + ঐক্য
বৃদ্ধি সন্ধি নিয়মে অ + ঐ = ঐ। মত-এর শেষে অ এবং ঐক্য-র শুরুতে ঐ মিলে ঐ হয়।
- ক উচ্চ + আরণ
- খ উচ + চারণ
- গ উৎ + চারণ
- ঘ উচ্চা + রণ
ব্যঞ্জনসন্ধি। উৎ-র ৎ, চারণ-এর চ-এর আগে এলে ৎ → চ হয়, ফলে চ্চ। উৎ + চারণ = উচ্চারণ।
- ক নিঃ + কলঙ্ক
- খ নিষ্ক + অলঙ্ক
- গ নিষ + কলঙ্ক
- ঘ নিস্ + কলঙ্ক
বিসর্গসন্ধি। ক/প-এর আগে বিসর্গ → ষ হয়। নিঃ + কলঙ্ক = নিষ্কলঙ্ক।
- ক ওউ
- খ আউ
- গ অউ
- ঘ ও
গুণ সন্ধি নিয়মে আ/অ + উ/ঊ = ও। যেমন: মহা + উৎসব = মহোৎসব।
- ক সৎ + জ্ঞান
- খ সৎ + জন
- গ সদ + জন
- ঘ সজ + জন
সৎ-এর ৎ জ-এর আগে এলে ৎ → জ হয়, ফলে জ্জ। সৎ + জন = সজ্জন।
- ক গণ + এশ
- খ গনে + শ
- গ গণ + ঈশ
- ঘ গণো + ঈশ
গুণ সন্ধি। অ + ঈ = এ। গণ-এর অ এবং ঈশ-এর ঈ মিলে এ হয় → গণেশ।
- ক দ্বন্দ্ব সমাস
- খ তৎপুরুষ সমাস
- গ কর্মধারয় সমাস
- ঘ বহুব্রীহি সমাস
বিগ্রহ: মাতা ও পিতা। উভয় পদই প্রধান এবং বিগ্রহে "ও" দিয়ে যুক্ত → দ্বন্দ্ব সমাস।
- ক দ্বিগু সমাস
- খ কর্মধারয় সমাস
- গ তৎপুরুষ সমাস
- ঘ বহুব্রীহি সমাস
বিগ্রহ: চার ভুজ আছে যার। বিগ্রহে "যার" আছে এবং তৃতীয় ব্যক্তি (বিষ্ণু) বোঝাচ্ছে → বহুব্রীহি। দ্বিগু হলে "চার ভুজের সমাহার" হতো।
- ক রাজা ও পুত্র
- খ রাজা যার পুত্র
- গ রাজার পুত্র
- ঘ রাজা রূপ পুত্র
"রাজার পুত্র" বিগ্রহে সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস। কারক বিভক্তি (সম্বন্ধ পদ) থেকে পরপদ মুক্ত হয়ে সমাস হয়েছে।
- ক তৎপুরুষ
- খ কর্মধারয়
- গ বহুব্রীহি
- ঘ দ্বন্দ্ব
বিগ্রহ: মহান যে পুরুষ। বিশেষণ (মহান) + বিশেষ্য (পুরুষ) → কর্মধারয় সমাস।
- ক দ্বিগু সমাস
- খ বহুব্রীহি সমাস
- গ দ্বন্দ্ব সমাস
- ঘ কর্মধারয় সমাস
বিগ্রহ: তিন ভুবনের সমাহার। পূর্বপদ সংখ্যাবাচক (তিন) এবং সমাহার বোঝায় → দ্বিগু সমাস।
- ক তৎপুরুষ সমাস
- খ বহুব্রীহি সমাস
- গ কর্মধারয় সমাস
- ঘ অব্যয়ীভাব সমাস
বিগ্রহ: সাধ্য অনুযায়ী। "যথা" একটি অব্যয় এবং পূর্বপদে আছে। পূর্বপদ অব্যয় → অব্যয়ীভাব সমাস।
- ক পূর্বপদ প্রধান
- খ পরপদ প্রধান
- গ কোনো পদই প্রধান নয়
- ঘ উভয় পদই প্রধান
বহুব্রীহি সমাসে দুটি পদের বাইরে তৃতীয় কোনো বিষয়কে বোঝায়। যেমন "চতুর্ভুজ" বিষ্ণুকে বোঝায়, চার বা ভুজকে নয়।
- ক বহুব্রীহি
- খ কর্মধারয়
- গ তৎপুরুষ
- ঘ দ্বন্দ্ব
বিগ্রহ: নীল যে কমল। বিশেষণ (নীল) + বিশেষ্য (কমল) → কর্মধারয়। এটি বহুব্রীহি নয় কারণ সরাসরি একটি কমলকেই বোঝাচ্ছে।
- ক পরপদ প্রধান
- খ পূর্বপদ প্রধান
- গ উভয় পদই প্রধান
- ঘ কোনো পদই প্রধান নয়
তৎপুরুষ সমাসে পরপদ প্রধান। যেমন "রাজপুত্র" = রাজার পুত্র → পুত্র-ই প্রধান।
- ক বহুব্রীহি
- খ কর্মধারয়
- গ অব্যয়ীভাব
- ঘ দ্বিগু
বিগ্রহ: পাঁচটি বটের সমাহার। পূর্বপদ সংখ্যাবাচক (পাঁচ/পঞ্চ) + সমাহার অর্থ → দ্বিগু সমাস।
- ক কর্মকারক
- খ কর্তৃকারক
- গ করণকারক
- ঘ সম্প্রদানকারক
প্রশ্ন: কে পড়ে? → রাম। যে ক্রিয়া সম্পাদন করে সে কর্তৃকারক।
- ক অধিকরণকারক
- খ করণকারক
- গ অপাদানকারক
- ঘ কর্মকারক
"থেকে" বিভক্তি এবং উৎস/বিচ্যুতি বোঝাচ্ছে → অপাদানকারক। প্রশ্ন: কোথা থেকে পড়ে?
- ক করণকারক
- খ কর্মকারক
- গ কর্তৃকারক
- ঘ অধিকরণকারক
"দিয়ে" বিভক্তি এবং উপকরণ বোঝাচ্ছে → করণকারক। প্রশ্ন: কী দিয়ে লেখা হয়?
- ক কর্তৃকারক
- খ অপাদানকারক
- গ সম্প্রদানকারক
- ঘ অধিকরণকারক
"এ" বিভক্তি এবং স্থান বোঝাচ্ছে → অধিকরণকারক। প্রশ্ন: কোথায় পড়াশোনা হয়?
- ক কর্মকারক
- খ সম্প্রদানকারক
- গ অপাদানকারক
- ঘ করণকারক
"কে" বিভক্তি দিয়ে দেওয়া বা স্বার্থ বোঝাচ্ছে → সম্প্রদানকারক। "সাহায্য করা" ক্রিয়ায় "কাকে করো" → সম্প্রদান।
- ক কে, রে
- খ এ, তে, য়
- গ থেকে, হতে, হইতে
- ঘ দিয়ে, দ্বারা
অপাদানকারকের প্রধান বিভক্তি "থেকে" এবং "হতে/হইতে"। "কে/রে" কর্ম বা সম্প্রদান, "এ/তে" অধিকরণ, "দিয়ে/দ্বারা" করণ।
- ক কর্মকারক
- খ সম্প্রদানকারক
- গ কর্তৃকারক
- ঘ অধিকরণকারক
"রামকে দেখা" — দেখার ক্রিয়া সরাসরি রামের ওপর পড়ছে → কর্মকারক। "রামকে দিলাম" হলে সম্প্রদান হতো।
- ক থেকে, হতে
- খ কে, রে
- গ এ, তে, য়
- ঘ দিয়ে, দ্বারা, কর্তৃক
করণকারকের বিভক্তি "দিয়ে/দ্বারা/কর্তৃক"। উপকরণ বা পদ্ধতি বোঝায়।
- ক কর্মকারক
- খ অধিকরণকারক
- গ অপাদানকারক
- ঘ করণকারক
"এ" বিভক্তি, স্থান বোঝাচ্ছে → অধিকরণকারক (আধারাধিকরণ)।
- ক থেকে
- খ দিয়ে
- গ কে
- ঘ এ
"কে" বিভক্তি কর্মকারক (রামকে দেখলাম) এবং সম্প্রদানকারক (রামকে দিলাম) উভয়েই আসে। প্রসঙ্গ দেখে বুঝতে হয়।

About Ranjan Malakar
Ranjan Malakar is an experienced educational content writer and exam preparation mentor with more than 15 years of expertise in creating high-quality study materials, mock tests, MCQs, and competitive exam resources in Bengali, Assamese, and English languages.
He specializes in educational content related to WB Police, Panchayat, TET, Assam Exams, and various state-level competitive examinations. Through My Test Series, he continuously works to make exam preparation more accessible, affordable, and effective for students across India.


