পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধ: কারণ, ঘটনা, ফলাফল ও ১০টি MCQ
আধুনিক ভারতের ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭) এবং বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পলাশীর যুদ্ধ বাংলার রাজনীতিতে কোম্পানির প্রভাব বাড়ায়; বক্সারের যুদ্ধ সেই প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে এবং ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভের পথ প্রশস্ত করে।
১. পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি
সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে বাংলার বস্ত্র, রেশম, লবণ, নীল এবং অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য ইউরোপীয় বণিকদের আকৃষ্ট করেছিল। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করলেও ধীরে ধীরে দুর্গ নির্মাণ, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে থাকে।
বাংলার নবাবদের সঙ্গে কোম্পানির বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল বাণিজ্যিক সুবিধার ব্যবহার, শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ, কলকাতার দুর্গ মজবুত করা এবং নবাবের কর্তৃত্বের প্রতি কোম্পানির আচরণ। এই সংঘাত ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে গিয়ে পৌঁছায়।
সিরাজউদ্দৌলা ও কোম্পানির বিরোধ
আলিবর্দি খানের মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হন। কোম্পানির সঙ্গে বিরোধের মধ্যে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করেন। পরে রবার্ট ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসনের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনী কলকাতা পুনর্দখল করে। ১৭৫৭ সালের আলিনগরের সন্ধির পরও বিরোধের অবসান হয়নি। একই সময়ে বাংলার দরবারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কোম্পানির হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে।
২. পলাশীর যুদ্ধ (Battle of Plassey, ১৭৫৭)
পলাশীর যুদ্ধ ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী এবং রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রটি ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী পলাশী অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এই যুদ্ধের পর বাংলার রাজনীতিতে কোম্পানির প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
পলাশীর যুদ্ধের প্রধান তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| যুদ্ধের নাম | পলাশীর যুদ্ধ (Battle of Plassey) |
| তারিখ | ২৩ জুন ১৭৫৭ |
| স্থান | পলাশী, ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী অঞ্চল, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ |
| বাংলার নবাব | সিরাজউদ্দৌলা |
| কোম্পানি বাহিনীর নেতা | রবার্ট ক্লাইভ |
| গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্র | মীর জাফর |
| তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ফল | সিরাজউদ্দৌলার পতন এবং মীর জাফরের নবাব হওয়া |
পলাশীর যুদ্ধের কারণ
- বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে বিরোধ: কোম্পানির বাণিজ্যিক সুবিধা ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নবাবের সঙ্গে বিরোধ ছিল।
- দুর্গ নির্মাণ ও সামরিক প্রস্তুতি: নবাবের অনুমতি ও কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে কলকাতায় কোম্পানির দুর্গ মজবুত করা নিয়ে সংঘাত বাড়ে।
- কলকাতা দখল ও পুনর্দখল: ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা দখল এবং ১৭৫৭ সালে কোম্পানির পুনর্দখল পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।
- দরবারের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র: নবাবের বিরোধী গোষ্ঠী ও মীর জাফরের সঙ্গে কোম্পানির গোপন সমঝোতা যুদ্ধের ফলকে প্রভাবিত করে।
- রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা: কোম্পানি বাংলার বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়াতে চেয়েছিল।
পলাশীর যুদ্ধের ঘটনাক্রম
- ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হন।
- নবাব কলকাতার ইংরেজ ঘাঁটি দখল করেন; পরে কোম্পানি কলকাতা পুনর্দখল করে।
- আলিনগরের সন্ধি হলেও নবাব ও কোম্পানির মধ্যে আস্থার সংকট থেকে যায়।
- ২৩ জুন ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মীর জাফরের পক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও দরবারের ষড়যন্ত্র নবাবের সামরিক অবস্থান দুর্বল করে।
- পরাজয়ের পর সিরাজউদ্দৌলা পালিয়ে যান এবং পরে নিহত হন।
- কোম্পানির সমর্থনে মীর জাফর বাংলার নবাব হন।
পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ও গুরুত্ব
- সিরাজউদ্দৌলার পতন: বাংলার নবাবি রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে।
- মীর জাফরের নবাবত্ব: কোম্পানি নবাব নির্বাচনে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
- আর্থিক লাভ: কোম্পানি ও তার কর্মকর্তারা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিপুল অর্থ ও বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করেন।
- রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: বাংলার প্রশাসন ও নবাবি দরবারে কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
- ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ভিত্তি: পলাশী কোম্পানির উত্থানের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হলেও এটি একাই সমগ্র ভারতের উপর ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠা করেনি। বক্সার ও দেওয়ানি লাভ পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
৩. বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar, ১৭৬৪)
বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪ সালের ২২–২৩ অক্টোবর বিহারের বক্সার অঞ্চলে সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন মেজর হেক্টর মুনরো। কোম্পানির বিরুদ্ধে মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব শুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয়ের সম্মিলিত পক্ষ লড়াই করে। পরীক্ষার প্রচলিত তারিখ হিসেবে ২৩ অক্টোবর ১৭৬৪ মনে রাখা উপযোগী।
বক্সারের যুদ্ধের প্রধান তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| যুদ্ধের নাম | বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar) |
| তারিখ | ২২–২৩ অক্টোবর ১৭৬৪; সাধারণ পরীক্ষার উত্তর ২৩ অক্টোবর ১৭৬৪ |
| স্থান | বক্সার, বর্তমান বিহার |
| কোম্পানি বাহিনীর নেতা | মেজর হেক্টর মুনরো |
| কোম্পানির বিরোধী পক্ষ | মীর কাসিম, শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়ের সম্মিলিত বাহিনী |
| ফলাফল | ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিজয় |
| পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা | ১৭৬৫ সালের এলাহাবাদের সন্ধি ও দেওয়ানি লাভ |
বক্সারের যুদ্ধের কারণ
- মীর কাসিমের সঙ্গে কোম্পানির বিরোধ: মীর জাফরের পরে বাংলার নবাব হওয়া মীর কাসিম কোম্পানির হস্তক্ষেপ কমিয়ে নিজের প্রশাসনিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।
- শুল্ক ও বাণিজ্যিক সুবিধার সংঘাত: কোম্পানির বাণিজ্যিক ছাড়ের অপব্যবহার এবং দেশীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্য নিয়ে বিরোধ বাড়ে।
- মীর কাসিমের প্রশাসনিক পদক্ষেপ: তিনি রাজস্ব ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন এবং কোম্পানির প্রভাব প্রতিরোধ করেন।
- রাজনৈতিক জোট: কোম্পানির বিরুদ্ধে মীর কাসিম অযোধ্যার নবাব শুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয়ের সঙ্গে জোটবদ্ধ হন।
- আঞ্চলিক ক্ষমতার সংঘর্ষ: বাংলার রাজস্ব, বাণিজ্য এবং উত্তর ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিরোধ সামরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বক্সারের যুদ্ধের ঘটনাক্রম
- মীর কাসিম কোম্পানির সঙ্গে বিরোধের পর বাংলার বাইরে আশ্রয় নেন এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তি সংগঠিত করেন।
- মীর কাসিম, শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়ের পক্ষ কোম্পানির বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- ১৭৬৪ সালের অক্টোবরে বক্সারের কাছে দুই পক্ষের যুদ্ধ হয়।
- হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বাধীন কোম্পানি বাহিনী বিজয়ী হয়।
- পরাজয়ের পর মুঘল সম্রাট ও অযোধ্যার নবাবের সঙ্গে কোম্পানির রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।
- ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদের সন্ধির মাধ্যমে কোম্পানির ক্ষমতা ও রাজস্ব অধিকার আরও সুসংহত হয়।
বক্সারের যুদ্ধের ফলাফল ও গুরুত্ব
- কোম্পানির সামরিক কর্তৃত্ব বৃদ্ধি: তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত পক্ষকে পরাজিত করার ফলে কোম্পানির অবস্থান শক্তিশালী হয়।
- মুঘল সম্রাটের দুর্বলতা: সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয় কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হন।
- এলাহাবাদের সন্ধি, ১৭৬৫: যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক বন্দোবস্তে কোম্পানির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- দেওয়ানি অধিকার: ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে।
- রাজস্ব ও প্রশাসনে প্রভাব: রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার কোম্পানিকে সামরিক ব্যয় চালানো এবং আরও রাজনৈতিক সম্প্রসারণের আর্থিক ভিত্তি দেয়।
৪. পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | পলাশীর যুদ্ধ | বক্সারের যুদ্ধ |
|---|---|---|
| সাল | ১৭৫৭ | ১৭৬৪ |
| তারিখ | ২৩ জুন ১৭৫৭ | ২২–২৩ অক্টোবর ১৭৬৪; সাধারণ পরীক্ষার উত্তর ২৩ অক্টোবর |
| স্থান | পলাশী, ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী অঞ্চল | বক্সার, বিহার |
| কোম্পানি বাহিনীর নেতা | রবার্ট ক্লাইভ | হেক্টর মুনরো |
| প্রধান প্রতিপক্ষ | বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা | মীর কাসিম, শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়ের সম্মিলিত পক্ষ |
| যুদ্ধের প্রকৃতি | দরবারের ষড়যন্ত্র ও বাহিনীর একাংশের নিষ্ক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। | কোম্পানির বিরুদ্ধে বৃহত্তর সম্মিলিত সামরিক প্রতিরোধ ছিল। |
| তাৎক্ষণিক ফল | সিরাজউদ্দৌলার পতন; মীর জাফর নবাব হন। | কোম্পানির সামরিক বিজয়; প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়। |
| দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব | বাংলার নবাবি রাজনীতিতে কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি। | কোম্পানির সামরিক ও রাজস্ব ক্ষমতার ভিত্তি শক্তিশালী; ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভের পথ প্রশস্ত। |
পলাশী = রাজনৈতিক উত্থান
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ কোম্পানিকে বাংলার নবাবি রাজনীতিতে প্রভাবশালী করে তোলে।
বক্সার = সামরিক ও রাজস্ব ক্ষমতা
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি বন্দোবস্ত কোম্পানির কর্তৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করে।
৫. ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভ ও এলাহাবাদের সন্ধি
বক্সারের যুদ্ধের পরে ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয়ের সঙ্গে কোম্পানির বন্দোবস্ত হয়। এলাহাবাদের সন্ধির প্রেক্ষাপটে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি অধিকার লাভ করে। দেওয়ানি বলতে এখানে রাজস্ব আদায় ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রশাসনিক অধিকারের বিষয়টি বোঝায়।
দেওয়ানি লাভ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- কোম্পানি বাংলার রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার পায়।
- রাজস্বের মাধ্যমে কোম্পানির বাণিজ্যিক ও সামরিক ব্যয়ের অর্থ জোগাড়ের ক্ষমতা বাড়ে।
- কোম্পানির প্রভাব কেবল নবাব পরিবর্তনের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজস্ব প্রশাসনের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়।
- বাংলার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর কোম্পানির রাজস্বনীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
১৭৫৭ — পলাশীর যুদ্ধ → ১৭৬৪ — বক্সারের যুদ্ধ → ১৭৬৫ — দেওয়ানি লাভ।
৬. গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাক্রম: ১৭৫৬–১৭৬৫
| সাল | ঘটনা | পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|
| ১৭৫৬ | সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হন; কলকাতা দখলের ঘটনা ঘটে। | পলাশীর যুদ্ধের পটভূমি |
| ১৭৫৭ | কলকাতা পুনর্দখল ও আলিনগরের সন্ধি। | নবাব-কোম্পানি বিরোধ |
| ২৩ জুন ১৭৫৭ | পলাশীর যুদ্ধ। | সিরাজউদ্দৌলা, রবার্ট ক্লাইভ, মীর জাফর |
| ১৭৬০ | মীর কাসিম বাংলার নবাব হন; মীর জাফরের পরে কোম্পানির সমর্থনে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। | পলাশী-পরবর্তী নবাবি রাজনীতি |
| ১৭৬৩ | মীর কাসিম ও কোম্পানির সংঘাত তীব্র হয়; একাধিক সামরিক সংঘর্ষ ঘটে। | বক্সারের পূর্ববর্তী পরিস্থিতি |
| ২২–২৩ অক্টোবর ১৭৬৪ | বক্সারের যুদ্ধ। | হেক্টর মুনরো ও সম্মিলিত প্রতিপক্ষ |
| ১৭৬৫ | এলাহাবাদের সন্ধি ও দেওয়ানি লাভ। | বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব অধিকার |
৭. সরকারি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ One-Liner
- পলাশীর যুদ্ধ হয় ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে।
- পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- পলাশীর যুদ্ধে কোম্পানি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন রবার্ট ক্লাইভ।
- পলাশীর যুদ্ধের পরে মীর জাফর বাংলার নবাব হন।
- বক্সারের যুদ্ধ হয় ১৭৬৪ সালের অক্টোবরে।
- বক্সারের যুদ্ধে কোম্পানি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন হেক্টর মুনরো।
- বক্সারের যুদ্ধে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রধান সম্মিলিত পক্ষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মীর কাসিম, শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়।
- ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি অধিকার লাভ করে।
- পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় সাত বছর।
- পলাশী কোম্পানির রাজনৈতিক উত্থানের গুরুত্বপূর্ণ মোড়; বক্সার কোম্পানির সামরিক ও আর্থিক ক্ষমতা সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরীক্ষার সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলুন
ভুল ১: পলাশীর যুদ্ধ ১৭৬৪ সালে হয়েছিল — ভুল। সঠিক সাল ১৭৫৭।
ভুল ২: বক্সারের যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা নেতৃত্ব দেন — ভুল। সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত।
ভুল ৩: দেওয়ানি লাভ ১৭৬৪ সালে হয় — ভুল। বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪ সালে; দেওয়ানি লাভ ১৭৬৫ সালে।
ভুল ৪: পলাশীর যুদ্ধের পরেই সমগ্র ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায় — ভুল। ব্রিটিশ কর্তৃত্ব বিভিন্ন যুদ্ধ, চুক্তি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়।
৮. Online MCQ Test: পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধ
মোট ১০টি প্রশ্ন। প্রতিটি প্রশ্নের একটি সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন। শেষে “উত্তর জমা দিন” চাপলে স্কোর ও প্রতিটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন।
১০. নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক তথ্যসূত্র
- World History Encyclopedia — Battle of Plassey: পলাশীর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
- World History Encyclopedia — Battle of Buxar: বক্সারের যুদ্ধ, সংশ্লিষ্ট শক্তি ও পরবর্তী প্রভাব।
- District Administration, Buxar — History: বক্সার অঞ্চলের ঐতিহাসিক তথ্য।
ইতিহাসের তথ্য পড়ার সময় একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস মিলিয়ে দেখুন। নির্দিষ্ট পরীক্ষার উত্তর লেখার ক্ষেত্রে সরকারি সিলেবাস এবং স্বীকৃত পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করুন।
১১. FAQ: পরীক্ষায় আসতে পারে এমন প্রশ্ন
পলাশীর যুদ্ধ কত সালে হয়?
পলাশীর যুদ্ধ ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে সংঘটিত হয়।
পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব কে ছিলেন?
পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা। কোম্পানি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন রবার্ট ক্লাইভ।
বক্সারের যুদ্ধ কত সালে হয়?
বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪ সালের ২২–২৩ অক্টোবর সংঘটিত হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণত ২৩ অক্টোবর ১৭৬৪ তারিখটি ব্যবহৃত হয়।
বক্সারের যুদ্ধে কোম্পানির বিরুদ্ধে কারা লড়েছিলেন?
মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব শুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয়ের সম্মিলিত পক্ষ কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়েছিল।
পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
দুটি যুদ্ধের গুরুত্ব আলাদা। পলাশী বাংলার নবাবি রাজনীতিতে কোম্পানির প্রভাব বাড়ায়। বক্সারের বিজয় কোম্পানির সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে এবং ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভের পথ প্রশস্ত করে।
দেওয়ানি অধিকার কী এবং কোম্পানি কবে তা লাভ করে?
এখানে দেওয়ানি বলতে রাজস্ব আদায় ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রশাসনিক অধিকার বোঝায়। ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি অধিকার লাভ করে।
এই অধ্যায় WBPSC ও WBP পরীক্ষার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পলাশী, বক্সার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব, তারিখ, যুদ্ধের ফলাফল এবং দেওয়ানি লাভ আধুনিক ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক বিষয়। তবে প্রস্তুতির সময় নিজের পরীক্ষার সর্বশেষ সিলেবাসও যাচাই করুন।
১২. পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আরও রিসোর্স
সম্পূর্ণ ইতিহাস নোট
প্রাচীন, মধ্যযুগীয় ও আধুনিক ভারতের ইতিহাসের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিন।
History Notes ও MCQ দেখুনTET Exam Products
শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য উপলব্ধ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি সামগ্রী দেখুন।
TET Products দেখুনWest Bengal Gram Panchayat Mock Test
গ্রাম পঞ্চায়েত পরীক্ষার জন্য উপলব্ধ মক টেস্টের বিবরণ দেখুন।
Mock Test দেখুন




