আবহবিকার, ক্ষয় ও সঞ্চয়: সম্পূর্ণ বাংলা নোটস ও MCQ

WEST BENGAL GEOGRAPHY • COMPLETE NOTES

আবহবিকার, ক্ষয় ও সঞ্চয়: Weathering, Erosion and Deposition

আবহবিকার (Weathering), ক্ষয় (Erosion) ও সঞ্চয় (Deposition) হলো ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটানো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এগুলির মাধ্যমে শিলা ভাঙে, ভাঙা পদার্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায় এবং নতুন ভূমিরূপ তৈরি হয়। WBPSC, WBCS, SSC, Railway, Police, TET এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য এই নোটে সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, পার্থক্য, উদাহরণ ও ১০টি অনলাইন MCQ দেওয়া হয়েছে।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন
WhatsApp Daily Updates



১. ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন কীভাবে ঘটে?

পৃথিবীর পৃষ্ঠ সব সময় পরিবর্তিত হচ্ছে। পাহাড়ের শিলা ভেঙে ছোট টুকরো হয়, নদী সেই পদার্থ বহন করে, বায়ু বালুকণা সরিয়ে নিয়ে যায় এবং নদীর মোহনা বা সমুদ্রতটে পলি জমা হয়। এই প্রক্রিয়াগুলি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে উপত্যকা, সমভূমি, বালিয়াড়ি, বদ্বীপ এবং অন্যান্য ভূমিরূপ তৈরি করে।

আবহবিকার

শিলা নিজ অবস্থানে ভেঙে যায় বা রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়। সাধারণত পদার্থের উল্লেখযোগ্য দূরত্বে পরিবহণ ঘটে না।

ক্ষয়

প্রাকৃতিক শক্তি শিলা বা মাটিকে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ সরিয়ে নিয়ে যায়।

পরিবহণ

নদী, বায়ু, হিমবাহ বা অন্যান্য বাহক ক্ষয়জাত পদার্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে।

সঞ্চয়

বহনকারী শক্তি বা গতিবেগ কমলে পরিবাহিত পদার্থ জমা হতে থাকে এবং সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ গড়ে ওঠে।

সহজে মনে রাখুন: শিলা ভাঙা বা পরিবর্তন = আবহবিকার; পদার্থ অপসারণ = ক্ষয়; এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া = পরিবহণ; পদার্থ জমা হওয়া = সঞ্চয়।

২. আবহবিকার (Weathering) কী?

তাপমাত্রার পরিবর্তন, জল, বায়ু, বরফ, রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং জীবের প্রভাবে শিলা নিজ অবস্থানে ভেঙে ছোট টুকরো হওয়া বা রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আবহবিকার বলে। এটি মাটি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক প্রক্রিয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষয়কে সহজ করে তোলে।

আবহবিকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • শিলা নিজ অবস্থানে ভাঙে বা পরিবর্তিত হয়।
  • এর জন্য শিলাকে অবশ্যই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরতে হয় না।
  • আবহবিকার মাটি গঠনে সাহায্য করে।
  • জলবায়ু, শিলার গঠন, উদ্ভিদ, ভূপ্রকৃতি ও সময় আবহবিকারের ধরনকে প্রভাবিত করে।
  • আবহবিকার ভাঙা পদার্থ তৈরি করে, যা পরে ক্ষয় ও পরিবহণের শিকার হতে পারে।

আবহবিকারের প্রকারভেদ

ক. যান্ত্রিক বা ভৌত আবহবিকার (Mechanical/Physical Weathering)

শিলার রাসায়নিক গঠন উল্লেখযোগ্যভাবে না বদলে শিলা ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে গেলে তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার বলে।

  • তাপমাত্রার পরিবর্তন: গরমে শিলা প্রসারিত ও ঠান্ডায় সংকুচিত হতে পারে। দীর্ঘ সময়ে এই পুনরাবৃত্ত পরিবর্তন শিলায় ফাটল তৈরি করতে সাহায্য করে।
  • তুষার বা বরফের ক্রিয়া: ফাটলে প্রবেশ করা জল জমে বরফ হলে প্রসারিত হতে পারে; বারবার জমা ও গলার ফলে ফাটল বড় হতে পারে।
  • চাপমুক্তি ও খণ্ড বিচ্ছিন্নতা: উপরিভাগের চাপ কমলে কিছু শিলায় স্তর বা পাতের মতো অংশ খুলে আসতে পারে।
  • লবণের স্ফটিকের বৃদ্ধি: শিলার ফাটলে লবণাক্ত জল প্রবেশ করে শুকিয়ে গেলে স্ফটিকের বৃদ্ধি শিলাকে দুর্বল করতে পারে।

খ. রাসায়নিক আবহবিকার (Chemical Weathering)

জল, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং দুর্বল অম্লের মতো উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়ায় শিলার খনিজ পরিবর্তিত বা দ্রবীভূত হলে তাকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে। উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে অনেক ধরনের রাসায়নিক আবহবিকার তুলনামূলকভাবে দ্রুত ঘটে।

  • জারণ (Oxidation): অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়ায় কিছু খনিজ, বিশেষত লৌহযুক্ত খনিজ, পরিবর্তিত হয়।
  • কার্বনেশন (Carbonation): জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে তৈরি দুর্বল কার্বনিক অ্যাসিড চুনাপাথরের মতো শিলাকে দ্রবীভূত করতে পারে।
  • দ্রবণ (Solution): কিছু খনিজ জল বা অন্য দ্রাবকে দ্রবীভূত হয়।
  • হাইড্রোলাইসিস (Hydrolysis): খনিজ ও জলের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন খনিজ তৈরি হতে পারে; ফেল্ডস্পার থেকে কাদামাটির খনিজ তৈরি হওয়া একটি উদাহরণ।

গ. জৈব আবহবিকার (Biological Weathering)

উদ্ভিদ, প্রাণী ও অন্যান্য জীবের কার্যকলাপে শিলা ভাঙলে বা পরিবর্তিত হলে তাকে জৈব আবহবিকার বলে। গাছের শিকড় শিলার ফাটলে ঢুকে বড় হলে ফাটল প্রশস্ত হতে পারে। কিছু জীব জৈব অম্ল নিঃসরণ করে খনিজের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। মানুষের খনন বা নির্মাণকাজও শিলাকে ভাঙতে পারে, যদিও তা প্রাকৃতিক জৈব আবহবিকারের থেকে আলাদা মানবীয় প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

পরীক্ষার টিপস: আবহবিকার ও ক্ষয় এক জিনিস নয়। আবহবিকারে শিলা নিজ অবস্থানে ভাঙে বা পরিবর্তিত হয়; ক্ষয়ে পদার্থ অপসারিত ও পরিবাহিত হয়।

৩. ক্ষয় (Erosion) কী?

নদীর জল, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রের ঢেউ বা ভূগর্ভস্থ জলের মতো প্রাকৃতিক বাহকের দ্বারা শিলা ও মাটির পদার্থ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অপসারিত এবং পরিবাহিত হলে তাকে ক্ষয় বলে। আবহবিকার ক্ষয়কে সহজ করতে পারে, কিন্তু ক্ষয় ঘটার আগে সব শিলার আবহবিকার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

ক্ষয়ের প্রধান বাহক

  • নদী ও প্রবাহিত জল: নদীর জল তলদেশ ও দুই তীর ক্ষয় করে উপত্যকা, গিরিখাত এবং জলপ্রপাতের মতো ভূমিরূপ গড়ে তুলতে পারে।
  • বায়ু: বালুকণা বহনকারী বায়ু শিলার পৃষ্ঠে ঘর্ষণ ঘটায় এবং আলগা কণা উড়িয়ে নিয়ে যায়। এটি বিশেষত শুষ্ক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ।
  • হিমবাহ: চলমান বরফ শিলা ঘষে, ভেঙে এবং তুলে নিয়ে যায়; ফলে U-আকৃতির উপত্যকা ও অন্যান্য হিমবাহজাত ভূমিরূপ তৈরি হতে পারে।
  • সমুদ্রের ঢেউ: ঢেউ উপকূলের শিলায় আঘাত করে ও ক্ষয় ঘটিয়ে সামুদ্রিক খাড়া উপকূল বা sea cliff তৈরি করতে পারে।
  • ভূগর্ভস্থ জল: দ্রবণীয় শিলা, বিশেষত চুনাপাথর, দ্রবীভূত করে গুহা ও কার্স্ট ভূমিরূপ গঠনে ভূমিকা রাখে।

ক্ষয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি

  • Hydraulic Action: প্রবাহিত জল বা ঢেউয়ের চাপ শিলার ফাটলকে বড় করতে পারে।
  • Abrasion বা Corrasion: জল, বায়ু বা বরফের সঙ্গে বহন করা কণা শিলার গায়ে ঘষা খেয়ে ক্ষয় ঘটায়।
  • Attrition: পরিবাহিত পাথর বা কণা পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছোট ও গোলাকার হতে পারে।
  • Solution/Corrosion: দ্রবণীয় খনিজ রাসায়নিকভাবে দ্রবীভূত হয়ে অপসারিত হয়।

মনে রাখবেন, Attrition-এ বহন করা কণাগুলি পরস্পরের ধাক্কায় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়; Abrasion-এ কণার ঘর্ষণে আশপাশের শিলা বা পৃষ্ঠ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

৪. সঞ্চয় (Deposition) কী?

নদী, বায়ু, হিমবাহ বা ঢেউয়ের দ্বারা পরিবাহিত পলি, বালি, নুড়ি ও অন্যান্য পদার্থ যখন জমা হয়, তখন তাকে সঞ্চয় বলে। সাধারণত বাহকের শক্তি বা গতিবেগ কমলে সঞ্চয় বাড়ে। তবে সঞ্চয় শুধু গতিবেগের উপর নির্ভর করে না; কণার আকার, জলের গভীরতা, ঢাল, বাধা এবং পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।

সঞ্চয়ের কারণ

  • নদী সমভূমিতে প্রবেশ করে ঢাল ও গতিবেগ কমালে পলি জমতে পারে।
  • নদী সমুদ্রে মেশার সময় বহনক্ষমতা কমলে মোহনায় পলি জমতে পারে।
  • বায়ুর গতি কমলে বালি ও ধুলো জমা হয়।
  • হিমবাহ গলে গেলে বহন করা শিলা ও পলি জমে থাকে।
  • ঢেউ ও উপকূলীয় স্রোতের শক্তি বদলালে সৈকত ও বালুচর তৈরি হতে পারে।

সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের উদাহরণ

  • বদ্বীপ (Delta): নদীর মোহনায় পলি জমে গড়ে ওঠে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীব্যবস্থার বদ্বীপ একটি বিখ্যাত উদাহরণ।
  • প্লাবনভূমি (Floodplain): বন্যার সময় নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে পলি জমে সমতল ভূমি তৈরি হয়।
  • পলল পাখা (Alluvial Fan): পাহাড়ি ঢাল থেকে নদী বা স্রোত অপেক্ষাকৃত সমতল অঞ্চলে প্রবেশ করলে পাখার মতো পলি জমতে পারে।
  • বালিয়াড়ি (Sand Dune): বায়ুবাহিত বালি জমে তৈরি হয়।
  • মোরেন (Moraine): হিমবাহের বহন করা শিলা ও পলি জমে তৈরি ভূমিরূপ।
  • সৈকত (Beach): ঢেউ ও উপকূলীয় স্রোতের দ্বারা বালি বা নুড়ি জমে গড়ে ওঠে।
গুরুত্বপূর্ণ: সঞ্চয় মানেই শুধু নদীর পলি জমা নয়। বায়ু, হিমবাহ এবং সমুদ্রের ঢেউও সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ তৈরি করে।

৫. নদী, বায়ু, হিমবাহ ও সমুদ্রের ভূমিকা

প্রাকৃতিক বাহক ক্ষয়জাত ভূমিরূপ সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ
নদী V-আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত, জলপ্রপাত বদ্বীপ, প্লাবনভূমি, পলল পাখা, প্রাকৃতিক বাঁধ
বায়ু মাশরুম শিলা, ডিফ্লেশন হোলো, বায়ু-ঘর্ষণে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা বালিয়াড়ি, লোয়েস সঞ্চয়
হিমবাহ U-আকৃতির উপত্যকা, সার্ক, ঝুলন্ত উপত্যকা মোরেন, হিমবাহজাত পলির সমভূমি
সমুদ্রের ঢেউ সামুদ্রিক খাড়া উপকূল, তরঙ্গ-কর্তিত মঞ্চ, সামুদ্রিক গুহা সৈকত, বালুচর, কিছু ধরনের উপকূলীয় বার
ভূগর্ভস্থ জল চুনাপাথরের গুহা ও দ্রবণজনিত গহ্বর গুহার ভেতরে স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইটের মতো খনিজ সঞ্চয়

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত উদাহরণ

  • গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ: নদীবাহিত পলি সঞ্চয়ের ফলে বিস্তৃত বদ্বীপীয় ভূমি গড়ে উঠেছে।
  • সুন্দরবন: বদ্বীপীয় পরিবেশে নদী, জোয়ার-ভাটা ও উপকূলীয় প্রক্রিয়া পলি পরিবহণ ও সঞ্চয়ে ভূমিকা রাখে।
  • দার্জিলিং ও হিমালয়ের পাদদেশ: ঢাল, প্রবল বৃষ্টিপাত, শিলার অবস্থা ও ভূমির অস্থিতিশীলতা ভূমিক্ষয় এবং ভূমিধসের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • পশ্চিমাঞ্চলের মালভূমি: আবহবিকার, প্রবাহিত জল ও শিলার বৈশিষ্ট্য স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও মাটি গঠনে ভূমিকা রাখে।

এই উদাহরণগুলি ভূগোলের ধারণা বাস্তব অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট ভূমিরূপের উৎপত্তি বুঝতে স্থানীয় ভূতত্ত্ব, জলবায়ু এবং নদীপ্রবাহের তথ্যও বিবেচনা করা দরকার।

৬. আবহবিকার, ক্ষয় ও সঞ্চয়ের পার্থক্য

বিষয় আবহবিকার ক্ষয় সঞ্চয়
মূল অর্থ শিলার ভাঙন বা রাসায়নিক পরিবর্তন পদার্থ অপসারণ ও পরিবহণ পরিবাহিত পদার্থ জমা হওয়া
পদার্থের চলাচল সাধারণত নিজ অবস্থানে ঘটে পদার্থ স্থানান্তরিত হয় পদার্থ নতুন স্থানে জমা হয়
প্রধান কারণ তাপমাত্রা, জল, রাসায়নিক বিক্রিয়া, জীব প্রবাহিত জল, বায়ু, বরফ, ঢেউ ও অন্যান্য বাহক বাহকের শক্তি কমা, কণার বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ
প্রধান ফল ভাঙা শিলা, পরিবর্তিত খনিজ, মাটি গঠনের উপাদান উপত্যকা, গিরিখাত ও ক্ষয়প্রাপ্ত ভূমি বদ্বীপ, বালিয়াড়ি, প্লাবনভূমি, মোরেন
মনে রাখার শব্দ Break down Remove and transport Settle and accumulate

প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে সম্পর্ক

একটি সাধারণ ধারাবাহিকতা হলো: শিলা আবহবিকারে দুর্বল বা ভাঙা হয় → ক্ষয়কারী বাহক পদার্থ অপসারণ ও পরিবহণ করে → বাহকের বহনক্ষমতা কমলে সঞ্চয় ঘটে। তবে প্রকৃতিতে সব সময় এই ধারাবাহিকতা একরকম নয়। আবহবিকার ছাড়াও ক্ষয় ঘটতে পারে, এবং একই বাহক এক অঞ্চলে ক্ষয় ও অন্য অঞ্চলে সঞ্চয় ঘটাতে পারে।

৭. ভূমিক্ষয় ও পরিবেশ সংরক্ষণ

প্রাকৃতিক ক্ষয় ভূ-পৃষ্ঠের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বন উজাড়, অতিরিক্ত চাষ, ঢাল কেটে নির্মাণ, অনিয়ন্ত্রিত খনন ও ভুল ভূমি-ব্যবহারের ফলে অনেক অঞ্চলে মাটির ক্ষয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে উর্বর মাটি হারানো, নদীতে পলি জমা, জলাধারের ধারণক্ষমতা কমা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ক্ষয় কমানোর উপায়

  • ঢালু জমিতে কনট্যুর চাষ ও ধাপচাষ ব্যবহার করা।
  • গাছপালা ও ভূমি-আচ্ছাদন রক্ষা করা।
  • নদীতীর ও উপকূলীয় অঞ্চলে উপযুক্ত উদ্ভিদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা করা।
  • বৃষ্টির জল নিয়ন্ত্রণ করে মাটির উপরিভাগের প্রবাহ কমানো।
  • খনন ও নির্মাণকাজে উপযুক্ত মাটি ও ঢাল ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা।

৮. সরকারি পরীক্ষার জন্য দ্রুত পুনরাবৃত্তি

  • আবহবিকার সাধারণত শিলার নিজ অবস্থানে ঘটে।
  • যান্ত্রিক আবহবিকারে শিলার রাসায়নিক গঠন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলায় না।
  • রাসায়নিক আবহবিকারে খনিজ দ্রবীভূত বা পরিবর্তিত হতে পারে।
  • জৈব আবহবিকারে জীবের কার্যকলাপ ভূমিকা রাখে।
  • ক্ষয় হলো পদার্থ অপসারণ ও পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত প্রক্রিয়া।
  • নদী, বায়ু, হিমবাহ ও সমুদ্রের ঢেউ ক্ষয়কারী বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।
  • বদ্বীপ নদীর মোহনায় পলি সঞ্চয়ের ফলে গড়ে ওঠে।
  • বালিয়াড়ি বায়ুবাহিত বালি সঞ্চয়ের ফলে তৈরি হয়।
  • মোরেন হিমবাহের বহন করা পদার্থের সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ।
  • ক্ষয় ও সঞ্চয় একসঙ্গে বিভিন্ন ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে প্রস্তুতি চালিয়ে যান
Daily Updates-এর জন্য WhatsApp-এ যোগ দিন

৯. অনলাইন MCQ পরীক্ষা: ১০টি প্রশ্ন

প্রতিটি প্রশ্নের একটি সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন। সব উত্তর দেওয়ার পর “ফলাফল দেখুন” চাপুন। আপনার নম্বর, সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা প্রদর্শিত হবে।

১. আবহবিকার বলতে কী বোঝায়?





২. কোনটি রাসায়নিক আবহবিকারের উদাহরণ?





৩. ক্ষয়ের সঙ্গে কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?





৪. নদীর মোহনায় পলি জমে সাধারণত কোন ভূমিরূপ তৈরি হয়?





৫. বালিয়াড়ি প্রধানত কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়?





৬. মোরেন কোন প্রাকৃতিক বাহকের সঙ্গে সম্পর্কিত?





৭. শিলার ফাটলে প্রবেশ করা জল জমে বরফ হলে ফাটল বাড়তে পারে—এটি কোন প্রক্রিয়ার উদাহরণ?





৮. নদীর প্লাবনভূমি সাধারণত কীভাবে তৈরি হয়?





৯. Abrasion বলতে কী বোঝায়?





১০. আবহবিকার, ক্ষয় ও সঞ্চয় সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?







১০. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

আবহবিকার ও ক্ষয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?

আবহবিকারে শিলা নিজ অবস্থানে ভাঙে বা রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়। ক্ষয়ে পদার্থ অপসারিত ও পরিবাহিত হয়। আবহবিকার ক্ষয়কে সহজ করতে পারে, তবে দুটি প্রক্রিয়া এক নয়।

আবহবিকারের প্রধান প্রকারভেদ কী?

আবহবিকারের প্রধান প্রকার হলো যান্ত্রিক বা ভৌত আবহবিকার, রাসায়নিক আবহবিকার এবং জৈব আবহবিকার।

সঞ্চয় কীভাবে ঘটে?

নদী, বায়ু, হিমবাহ বা ঢেউয়ের বহনক্ষমতা কমে গেলে বা পরিবেশের পরিবর্তনে পরিবাহিত পদার্থ জমা হতে পারে। এর ফলে বদ্বীপ, বালিয়াড়ি, প্লাবনভূমি ও মোরেনের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়।

বদ্বীপ কীভাবে তৈরি হয়?

নদী মোহনায় পৌঁছে প্রবাহের শক্তি ও বহনক্ষমতা কমলে পলি জমতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই পলি সঞ্চয়ের ফলে বদ্বীপ গড়ে ওঠে।

আবহবিকার কি সব সময় ক্ষয়ের আগে ঘটে?

না। আবহবিকার ক্ষয়কে সহজ করতে পারে, কিন্তু ক্ষয় ঘটার আগে সব শিলার আবহবিকার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

বায়ু কি ক্ষয় ও সঞ্চয় দুটোই ঘটায়?

হ্যাঁ। বায়ু আলগা কণা অপসারণ ও পরিবহণ করে ক্ষয় ঘটাতে পারে এবং বায়ুর গতি কমলে সেই কণা জমা করে বালিয়াড়ি বা অন্যান্য সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ তৈরি করতে পারে।

১১. সম্পর্কিত ভূগোলের নোটস

West Bengal Geography ও Physical Geography আরও ভালোভাবে বুঝতে নিচের অধ্যায়গুলি ধারাবাহিকভাবে পড়ুন।

১২. বিশ্বস্ত বাহ্যিক শিক্ষণ-সম্পদ

পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান

নোট পড়ার পরে MCQ পরীক্ষা দিন, ভুল উত্তরগুলির ব্যাখ্যা পড়ুন এবং সম্পর্কিত ভূগোলের অধ্যায়গুলি পুনরাবৃত্তি করুন। নিয়মিত অনুশীলন আপনাকে সংজ্ঞা, প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপের পার্থক্য মনে রাখতে সাহায্য করবে।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন
Daily Updates-এর জন্য যোগ দিন


সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান
ফ্রি রেজিস্ট্রেশন

Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series