ভাষা ও উপভাষা সম্পর্কে ধারণা (Concept of Language and Dialect)
ভাষা ও উপভাষা কী, এদের বৈশিষ্ট্য কী এবং পার্থক্য কোথায়? TET পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই নোটে সংজ্ঞা, উদাহরণ, আঞ্চলিক ভাষার বৈচিত্র্য, শিক্ষাক্ষেত্রে উপভাষার ভূমিকা এবং 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ-র উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন
দৈনিক আপডেট পেতে WhatsApp-এ যোগ দিন
উপযোগী: TET পরীক্ষার্থী, শিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থী এবং বাংলা ভাষা ও ভাষাশিক্ষণ অধ্যয়নকারী পাঠক।
1. ভাষা কাকে বলে?
ভাষা হলো মানুষের ভাব, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য প্রকাশ এবং অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের একটি সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা পদ্ধতি। ভাষা কথ্য, লিখিত বা সাংকেতিক রূপে ব্যবহৃত হতে পারে। ভাষার মাধ্যমে মানুষ নিজের চিন্তা প্রকাশ করে, জ্ঞান অর্জন করে এবং সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।
উদাহরণ হিসেবে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, অসমীয়া ও সাঁওতালি ভাষার কথা বলা যায়। প্রতিটি ভাষার নিজস্ব শব্দভাণ্ডার, ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য, ব্যাকরণগত রীতি এবং ব্যবহারিক নিয়ম থাকতে পারে।
ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য
- যোগাযোগের মাধ্যম: ভাষার মাধ্যমে মানুষ তথ্য, চিন্তা ও অনুভূতি বিনিময় করে।
- সামাজিক প্রকৃতি: ভাষা সমাজে ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শেখা ও বিকশিত হয়।
- নিয়মবদ্ধতা: ভাষায় ধ্বনি, শব্দ, বাক্যগঠন ও অর্থের নিজস্ব নিয়ম থাকে।
- পরিবর্তনশীলতা: সময়, সমাজ, অঞ্চল ও প্রযুক্তির প্রভাবে ভাষার ব্যবহার বদলায়।
- সংস্কৃতির বাহক: ভাষা লোকজ জ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা বহন করে।
- সৃজনশীলতা: সীমিত শব্দ ও নিয়ম ব্যবহার করে মানুষ অসংখ্য নতুন বাক্য তৈরি করতে পারে।
- বৈচিত্র্য: একই ভাষার বক্তাদের অঞ্চল, সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাষার ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়।
2. উপভাষা কাকে বলে?
উপভাষা হলো কোনো ভাষার এমন একটি আঞ্চলিক বা সামাজিক রূপ, যার উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার, বাক্যগঠন কিংবা ব্যবহারের কিছু বৈশিষ্ট্য অন্য রূপ থেকে আলাদা হতে পারে। একই ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কথাবার্তায় এই ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। ভাষাবিজ্ঞানে উপভাষাকে ভাষার স্বাভাবিক বৈচিত্র্য হিসেবে দেখা হয়।
উদাহরণ হিসেবে বাংলা ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলে একই অর্থ বোঝাতে আলাদা শব্দ বা উচ্চারণ ব্যবহারের কথা বলা যায়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বৃহত্তর বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে কথ্যরীতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য ভাষার সমৃদ্ধি ও সামাজিক ইতিহাসের অংশ।
উপভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য
- আঞ্চলিক বা সামাজিক বৈশিষ্ট্য: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সামাজিক গোষ্ঠীর ব্যবহারে বিশেষ রূপ গড়ে উঠতে পারে।
- উচ্চারণের পার্থক্য: একই শব্দের উচ্চারণ অঞ্চলভেদে বদলাতে পারে।
- শব্দভাণ্ডারের পার্থক্য: একই বস্তু বা ধারণার জন্য ভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হতে পারে।
- ব্যাকরণগত বৈচিত্র্য: বাক্য গঠন, ক্রিয়ার রূপ বা সর্বনামের ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
- সামাজিক পরিচয়: উপভাষা বক্তার অঞ্চল, সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার পরিচয় বহন করতে পারে।
- স্বাভাবিক অধিগ্রহণ: শিশুরা পরিবার ও সম্প্রদায়ের কথ্য ভাষার রূপ দৈনন্দিন যোগাযোগের মধ্য দিয়ে শেখে।
3. ভাষা ও উপভাষার মধ্যে পার্থক্য
পরীক্ষায় ভাষা ও উপভাষার তুলনামূলক প্রশ্ন আসতে পারে। নিচের সারণিটি ধারণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে। তবে মনে রাখতে হবে, ভাষা ও উপভাষার সীমারেখা সব সময় শুধু ভাষাগত বৈশিষ্ট্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না; ইতিহাস, সামাজিক পরিচয়, শিক্ষা, সাহিত্য, প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখে।
| তুলনার বিষয় | ভাষা | উপভাষা |
|---|---|---|
| ধারণা | যোগাযোগের একটি নিয়মবদ্ধ পদ্ধতি | কোনো ভাষার আঞ্চলিক বা সামাজিক বৈচিত্র্য |
| ব্যবহারের ক্ষেত্র | বিস্তৃত অঞ্চল ও বিভিন্ন সামাজিক পরিসরে ব্যবহৃত হতে পারে | নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সামাজিক গোষ্ঠীতে বিশেষভাবে প্রচলিত হতে পারে |
| উচ্চারণ | একাধিক উচ্চারণরীতি থাকতে পারে | স্থানীয় উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হতে পারে |
| শব্দভাণ্ডার | বিস্তৃত ও পরিবর্তনশীল | স্থানীয় শব্দ ও প্রকাশভঙ্গির বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে |
| ব্যাকরণ | নিজস্ব নিয়ম ও একাধিক ব্যবহাররীতি থাকতে পারে | ভাষার অন্য রূপ থেকে কিছু ব্যাকরণগত পার্থক্য থাকতে পারে |
| প্রমিত রূপ | কোনো ভাষার প্রমিত রূপ শিক্ষা ও আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে | উপভাষার নিজস্ব নিয়ম থাকতে পারে; সব উপভাষার লিখিত প্রমিত রূপ থাকা বাধ্যতামূলক নয় |
| সামাজিক মর্যাদা | প্রশাসন ও শিক্ষায় বেশি স্বীকৃতি পেতে পারে | মর্যাদা অঞ্চল ও সামাজিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে পারে; এটি ভাষাগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয় |
ভাষা ও উপভাষার সম্পর্ক
একটি ভাষার একাধিক উপভাষা থাকতে পারে। কোনো উপভাষার বৈশিষ্ট্য সাহিত্য, শিক্ষা, গণমাধ্যম ও প্রশাসনে বিস্তৃত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রমিত রূপের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। আবার ভাষার বিভিন্ন রূপের পারস্পরিক সম্পর্ক জটিল হতে পারে; তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে ভাষা ও উপভাষার শ্রেণিবিভাগকে একেবারে কঠোর নিয়ম হিসেবে ধরা উচিত নয়।
4. বাংলা ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্য
বাংলা ভাষা বিস্তৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। ফলে উচ্চারণ, শব্দচয়ন, ক্রিয়ার রূপ ও কথ্য প্রকাশভঙ্গিতে আঞ্চলিক পার্থক্য দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের মধ্যেও কথ্যরীতির বৈচিত্র্য রয়েছে।
বাংলা ভাষার আঞ্চলিক রূপ আলোচনা করতে গিয়ে রাঢ়ী, বরেন্দ্রী, কামরূপী এবং পূর্ববঙ্গীয় কথ্যরীতির মতো নাম বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনায় দেখা যায়। এই শ্রেণিবিভাগের পরিসর ও নামকরণ উৎসভেদে ভিন্ন হতে পারে। সব স্থানীয় কথ্যরীতিকে একটি মাত্র তালিকায় সম্পূর্ণভাবে ধরা যায় না।
আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের উদাহরণ
- একই শব্দের উচ্চারণ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে আলাদা হতে পারে।
- দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত বস্তু বা সম্পর্ক বোঝাতে ভিন্ন স্থানীয় শব্দ ব্যবহৃত হতে পারে।
- কথ্য বাক্যে সর্বনাম, ক্রিয়ার রূপ এবং বাক্যশেষের প্রকাশভঙ্গিতে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
- লোকগান, লোককথা, প্রবাদ, আঞ্চলিক সাহিত্য ও মৌখিক ইতিহাসে স্থানীয় ভাষার বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত থাকে।
5. TET পরীক্ষায় ভাষা ও উপভাষার গুরুত্ব
শিক্ষক-প্রশিক্ষণে ভাষার বৈচিত্র্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বাড়ি ও সম্প্রদায়ের কথ্য ভাষার রূপ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আসে। শিক্ষকের কাজ হলো সেই ভাষাগত অভিজ্ঞতাকে সম্মান করে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের ভাষা ও প্রমিত লিখিত রূপ শেখাতে সাহায্য করা।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের করণীয়
- মাতৃভাষা ও গৃহভাষাকে সম্মান: শিক্ষার্থীর কথ্যরীতিকে উপহাস বা অপমান করা যাবে না।
- অর্থবোধকে গুরুত্ব: শিক্ষার্থী নিজের কথ্য ভাষায় ধারণা প্রকাশ করলে প্রথমে তার বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
- তুলনামূলক শিক্ষণ: কথ্য রূপ ও প্রমিত রূপের মধ্যে পার্থক্য উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায়।
- সেতুবন্ধ তৈরি: শিক্ষার্থীর পরিচিত ভাষা থেকে পাঠ্যবইয়ের ভাষায় ধাপে ধাপে নিয়ে যেতে হবে।
- বহুভাষিক পরিবেশ: বিভিন্ন ভাষাগত পটভূমির শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাকে শ্রেণিকক্ষের সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- ন্যায্য মূল্যায়ন: বিষয়বস্তু বোঝার ক্ষমতা এবং ভাষার প্রমিত ব্যবহার—প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করে মূল্যায়ন করতে হবে।
6. ভাষা ও উপভাষা: 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
নিচের প্রশ্নগুলি অনুশীলনের জন্য। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা সঙ্গে দেওয়া আছে; এটি কোনো অনলাইন টেস্ট নয়।
প্রশ্ন 1. ভাষার প্রধান কাজ কোনটি?
(ক) শুধু লিখিত পরীক্ষা নেওয়া
(খ) ভাব ও তথ্যের আদান-প্রদান করা
(গ) শুধু সাহিত্য রচনা করা
(ঘ) কেবল ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ করা
ব্যাখ্যা: ভাষা মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম। এর সাহায্যে মানুষ চিন্তা, অনুভূতি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে।
প্রশ্ন 2. উপভাষা বলতে সাধারণত কী বোঝায়?
(ক) ভুলভাবে ব্যবহৃত ভাষা
(খ) কেবল লিখিত ভাষা
(গ) ভাষার আঞ্চলিক বা সামাজিক রূপ
(ঘ) ব্যাকরণহীন শব্দসমষ্টি
ব্যাখ্যা: উপভাষায় উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার ও ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই উপভাষাকে ভুল ভাষা বলা ঠিক নয়।
প্রশ্ন 3. একই ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চারণ ও শব্দের পার্থক্য দেখা গেলে সেটি কীসের উদাহরণ?
(ক) ভাষাগত বৈচিত্র্য
(খ) ভাষার বিলুপ্তি
(গ) ভাষাহীনতা
(ঘ) শুধু বানান ভুল
ব্যাখ্যা: অঞ্চল ও সামাজিক পরিবেশ অনুযায়ী ভাষার ব্যবহার বদলাতে পারে। এই বৈচিত্র্য ভাষার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন 4. প্রমিত ভাষা ও উপভাষার সম্পর্ক সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
(ক) উপভাষার কোনো নিয়ম নেই
(খ) প্রমিত ভাষাই একমাত্র শুদ্ধ ভাষা
(গ) প্রমিত ভাষা ও উপভাষার ব্যবহারিক ক্ষেত্র আলাদা হতে পারে
(ঘ) উপভাষা কখনো যোগাযোগে ব্যবহৃত হয় না
ব্যাখ্যা: প্রমিত রূপ শিক্ষা ও আনুষ্ঠানিক কাজে বেশি ব্যবহৃত হতে পারে; উপভাষাও নিয়মবদ্ধ যোগাযোগের মাধ্যম।
প্রশ্ন 5. শিশু সাধারণত গৃহভাষা বা কথ্য ভাষার রূপ প্রথমে কোথায় শেখে?
(ক) শুধু পরীক্ষাকক্ষে
(খ) পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে
(গ) কেবল অভিধান পড়ে
(ঘ) শুধু ব্যাকরণের বই থেকে
ব্যাখ্যা: শিশু দৈনন্দিন যোগাযোগ, শোনা, অনুকরণ ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ভাষা অর্জন করে।
প্রশ্ন 6. বহুভাষিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের উপযুক্ত আচরণ কোনটি?
(ক) শিক্ষার্থীর গৃহভাষা নিষিদ্ধ করা
(খ) উপভাষায় কথা বললে শিক্ষার্থীকে অপমান করা
(গ) শিক্ষার্থীর ভাষাগত অভিজ্ঞতাকে সম্মান করে শেখানো
(ঘ) ভাষাগত পার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া
ব্যাখ্যা: অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর পরিচিত ভাষাকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং প্রমিত ভাষার দক্ষতা ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হয়।
প্রশ্ন 7. উপভাষার বৈশিষ্ট্য কোন ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে?
(ক) উচ্চারণে
(খ) শব্দভাণ্ডারে
(গ) বাক্যগঠনে
(ঘ) উপরের সবকটিতে
ব্যাখ্যা: উপভাষাগত পার্থক্য ধ্বনি, শব্দ, ব্যাকরণ এবং ভাষা ব্যবহারের একাধিক স্তরে দেখা যেতে পারে।
প্রশ্ন 8. কোনো কথ্যরীতিকে শুধু আলাদা উচ্চারণের কারণে ভুল ভাষা বলা কি সঠিক?
(ক) হ্যাঁ, সব সময়
(খ) না, উচ্চারণের বৈচিত্র্য ভাষার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হতে পারে
(গ) হ্যাঁ, যদি তা গ্রামে ব্যবহৃত হয়
(ঘ) হ্যাঁ, যদি তা লিখিত না হয়
ব্যাখ্যা: উচ্চারণের আঞ্চলিক পার্থক্য ভাষাগত বৈচিত্র্যের অংশ। কোনো রূপের সামাজিক মর্যাদা দিয়ে তার ভাষাগত মূল্য নির্ধারণ করা যায় না।
প্রশ্ন 9. ভাষা ও উপভাষার শ্রেণিবিভাগে কোন বিষয়গুলি ভূমিকা রাখতে পারে?
(ক) শুধু উচ্চারণ
(খ) শুধু শব্দের সংখ্যা
(গ) ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি ইতিহাস ও সামাজিক পরিস্থিতি
(ঘ) শুধু বক্তার বয়স
ব্যাখ্যা: ভাষা ও উপভাষার সীমারেখা নির্ধারণে ভাষাগত কাঠামোর সঙ্গে সামাজিক পরিচয়, ইতিহাস, শিক্ষা ও প্রশাসনিক স্বীকৃতিও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্ন 10. ভাষা শিক্ষণের ক্ষেত্রে উপভাষাকে কীভাবে দেখা উচিত?
(ক) শিক্ষার্থীর দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে
(খ) নিষিদ্ধ কথ্যরীতি হিসেবে
(গ) শিক্ষার্থীর ভাষাগত অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে
(ঘ) শেখার সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয় হিসেবে
ব্যাখ্যা: শিক্ষক শিক্ষার্থীর পরিচিত ভাষার ভিত্তিতে নতুন শব্দ, প্রমিত রূপ ও লিখিত ভাষার দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করতে পারেন।
7. দ্রুত পুনরালোচনা: TET Revision Notes
- ভাষা মানুষের যোগাযোগ, চিন্তা ও অনুভূতি প্রকাশের নিয়মবদ্ধ মাধ্যম।
- উপভাষা ভাষার আঞ্চলিক বা সামাজিক রূপ হতে পারে।
- উপভাষার পার্থক্য উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার ও ব্যাকরণে দেখা যেতে পারে।
- প্রমিত ভাষা ও উপভাষার ব্যবহারিক ক্ষেত্র আলাদা হতে পারে।
- উপভাষাকে ভুল বা নিম্নমানের ভাষা হিসেবে দেখা ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যথাযথ নয়।
- শিশু পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে ভাষার রূপ অর্জন করে।
- শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর গৃহভাষাকে সম্মান করে প্রমিত ভাষা শেখানো উচিত।
- ভাষা ও উপভাষার শ্রেণিবিভাগে ভাষাগত ও সামাজিক—উভয় ধরনের কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।
8. আরও পড়ুন: বাংলা ব্যাকরণ ও TET প্রস্তুতি
ভাষা, ব্যাকরণ এবং ভাষাশিক্ষণ সম্পর্কে প্রস্তুতি আরও ভালো করতে নিচের সম্পর্কিত নোটগুলি পড়ুন।
প্রকাশের আগে প্রতিটি অভ্যন্তরীণ URL খুলে পরীক্ষা করে নিন। সার্চে পেজ পাওয়া গেলেও সব সময় লাইভ HTTP status বা redirect নিশ্চিত হয় না।
9. আরও জানুন: নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক উৎস
- Banglapedia: Dialect — বাংলা ভাষার আঞ্চলিক রূপ ও উপভাষা সম্পর্কে তথ্য।
- INFLIBNET: Language and Education — ভাষা, উপভাষা ও শিক্ষার সম্পর্ক।
- Ministry of Education, Government of India — শিক্ষানীতি ও শিক্ষা-সম্পর্কিত সরকারি তথ্যের উৎস।
বাহ্যিক লিংকগুলিতে nofollow যোগ করা হয়নি। প্রকাশের আগে উৎসের প্রাসঙ্গিকতা ও পেজের বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।
10. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ভাষা কাকে বলে?
ভাষা হলো মানুষের ভাব, অনুভূতি, জ্ঞান ও তথ্য প্রকাশ এবং যোগাযোগ স্থাপনের একটি সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা নিয়মবদ্ধ পদ্ধতি।
উপভাষা কাকে বলে?
উপভাষা হলো কোনো ভাষার আঞ্চলিক বা সামাজিক রূপ, যার উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার বা ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্য অন্য রূপ থেকে আলাদা হতে পারে।
উপভাষা কি অশুদ্ধ ভাষা?
না। উপভাষা ভাষার স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। প্রমিত ভাষার সঙ্গে পার্থক্য থাকলেই কোনো উপভাষাকে ভুল বা নিম্নমানের ভাষা বলা যায় না।
ভাষা ও উপভাষার প্রধান পার্থক্য কী?
উপভাষা সাধারণত কোনো ভাষার আঞ্চলিক বা সামাজিক বৈচিত্র্য বোঝায়। তবে ভাষা ও উপভাষার সীমারেখা নির্ধারণে ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি সামাজিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
TET পরীক্ষার জন্য এই বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভাষা ও উপভাষার ধারণা ভাষাগত বৈচিত্র্য, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষণ এবং বহুভাষিক শ্রেণিকক্ষের মতো ভাষাশিক্ষণ-সম্পর্কিত ধারণা বুঝতে সাহায্য করে।
শ্রেণিকক্ষে উপভাষা ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষক কীভাবে কাজ করবেন?
শিক্ষার্থীর গৃহভাষাকে সম্মান করে পরিচিত কথ্য রূপ ও প্রমিত ভাষার মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে হবে। ভাষাগত পার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীকে অপমান করা বা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।




