ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ: ক্ষমতা, কার্যাবলি, অনুচ্ছেদ ও MCQ

Indian Polity • বাংলা সম্পূর্ণ নোট

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ: ক্ষমতা, কার্যাবলি ও গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ

WB TET, CTET, Upper Primary TET, WBPSC, SSC, Railway এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার জন্য সহজ বাংলা নোট, তুলনামূলক ছক, দ্রুত রিভিশন এবং ১০টি অনলাইন MCQ।

এক নজরে উত্তর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান এবং মন্ত্রিপরিষদের নেতা। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। অন্যান্য মন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নিয়োগ করেন। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের বিধান রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ (Council of Ministers) কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবিধানের ৭৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সম্পর্ক বোঝার জন্য এই অনুচ্ছেদগুলি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

১. প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ: পরিচয়

ভারত একটি সংসদীয় গণতন্ত্র। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের নেতৃত্ব দেন, সরকারি নীতি ও প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় করেন এবং রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিপরিষদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংযোগ রক্ষা করেন।

মন্ত্রিপরিষদে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা থাকেন। তাঁরা সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংসদের কাছে সরকারের কাজের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারকে লোকসভার আস্থা বজায় রাখতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মূল ভূমিকা

  • মন্ত্রিপরিষদের নেতৃত্ব দেওয়া।
  • সরকারের নীতি ও কাজের সমন্বয় করা।
  • মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টনে ভূমিকা পালন করা।
  • রাষ্ট্রপতিকে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা।

মন্ত্রিপরিষদের মূল ভূমিকা

  • সরকারি নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন।
  • বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিচালনা।
  • সংসদে সরকারি বিল ও নীতির পক্ষে বক্তব্য রাখা।
  • লোকসভার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকা।

২. প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ও যোগ্যতা

প্রধানমন্ত্রীকে কে নিয়োগ করেন?

সংবিধানের ৭৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। সংসদীয় ব্যবস্থায় সাধারণত লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বা জোটের নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, তবে লোকসভার আস্থা অর্জন করতে পারবেন এমন ব্যক্তিকে নিয়োগের সাংবিধানিক প্রথা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা

সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা করে কোনও নির্দিষ্ট বয়সের ধারা নেই; প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী লোকসভা বা রাজ্যসভা—যে কোনও এক কক্ষের সদস্য হতে পারেন।

  • ভারতের নাগরিক হতে হবে।
  • লোকসভার সদস্য হলে সাধারণভাবে ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর হতে হয়।
  • রাজ্যসভার সদস্য হলে সাধারণভাবে ন্যূনতম বয়স ৩০ বছর হতে হয়।
  • সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
পরীক্ষায় মনে রাখুন: প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই নিয়োগের সময় সংসদের সদস্য হতে হবে—এমন নয়। সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না হয়েও কেউ প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী নিযুক্ত হতে পারেন; তবে সংবিধানের ৭৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে সংসদের যে কোনও এক কক্ষের সদস্য হতে না পারলে মন্ত্রী পদে থাকা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল

প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংবিধানে আলাদা নির্দিষ্ট পাঁচ বছরের কার্যকাল নির্ধারিত নেই। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে লোকসভার আস্থা বজায় রাখতে হয়। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন হারালে সংসদীয় নিয়ম ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সরকারের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে। লোকসভার সাধারণ কার্যকাল পাঁচ বছর হলেও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে তা আগে ভেঙে যেতে পারে।


৩. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি

ক. মন্ত্রিপরিষদের নেতা

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের নেতা। তিনি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নেতৃত্ব দেন, সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। মন্ত্রিপরিষদের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

খ. মন্ত্রী নিয়োগ ও দপ্তর বণ্টনে ভূমিকা

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দপ্তরে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের গঠন ও কার্যক্রমের সমন্বয় তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

গ. রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিপরিষদের মধ্যে সংযোগ

সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর কিছু দায়িত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো, রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রশাসন ও আইন প্রস্তাব-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া এবং কোনও মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদের বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতি নির্দেশ দিলে তা উপস্থাপনের বিষয় রয়েছে।

ঘ. সংসদে সরকারের নেতৃত্ব

প্রধানমন্ত্রী সংসদে সরকারের নীতি ব্যাখ্যা করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি সংসদের যে কোনও এক কক্ষের সদস্য হতে পারেন। তবে মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ—এটি সংসদীয় সরকারের মূল নীতি।

ঙ. নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক সমন্বয়

অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং জনকল্যাণের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকার যে নীতি গ্রহণ করে, তার সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নীতির বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, আইন এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

চ. গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সরকারের কাজের সমন্বয় করেন। সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সাধারণত মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন; সেই পরামর্শ পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর সাংবিধানিক সুযোগও রয়েছে।

৪. মন্ত্রিপরিষদ (Council of Ministers): গঠন ও কাজ

মন্ত্রিপরিষদ হলো প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত মন্ত্রীদের সমষ্টি। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। ৭৫ অনুচ্ছেদে মন্ত্রী নিয়োগ, কার্যকাল, যৌথ দায়বদ্ধতা, শপথ এবং অন্যান্য বিধান দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদের গঠন

মন্ত্রিপরিষদে সাধারণভাবে বিভিন্ন স্তরের মন্ত্রী থাকেন। প্রচলিত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রধানত নিম্নলিখিত শ্রেণিগুলি দেখা যায়:

  • ক্যাবিনেট মন্ত্রী: গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেন এবং ক্যাবিনেটের মূল নীতি নির্ধারণী আলোচনায় অংশ নেন।
  • স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী: নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন; প্রয়োজন অনুসারে ক্যাবিনেট বৈঠকে আমন্ত্রিত হতে পারেন।
  • প্রতিমন্ত্রী: সাধারণত কোনও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর অধীনে নির্দিষ্ট কাজ বা দপ্তরে সহায়তা করেন।

এই শ্রেণিবিভাগ প্রশাসনিক রীতি ও সরকারের গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংবিধানে “Council of Ministers” এবং “Cabinet” শব্দ দুটির ব্যবহার ও ভূমিকা বুঝতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদের প্রধান কাজ

  • জাতীয় নীতি নির্ধারণ ও সরকারি কর্মসূচির সমন্বয়।
  • প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয়গুলির কাজ পরিচালনা।
  • সংসদে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব ও সরকারি নীতি উপস্থাপন।
  • রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিক বিষয়ে সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়া।
  • সরকারি ব্যয়, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সমন্বয়।
  • লোকসভার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকা।

মন্ত্রীর শপথ ও সংসদের সদস্যপদ

মন্ত্রী পদ গ্রহণের আগে রাষ্ট্রপতি তাঁকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান। সংবিধানের ৭৫(৪) অনুচ্ছেদে এই বিধান রয়েছে। কোনও মন্ত্রী টানা ছয় মাস সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না থাকলে ৭৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রী পদে থাকা বন্ধ করেন।

মন্ত্রীর সংখ্যা সংক্রান্ত বিধান

সংবিধানের ৭৫(১A) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মোট সংখ্যা লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। এই বিধান ৯১তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়।

পরীক্ষার তথ্য: ১৫ শতাংশের সীমাটি প্রধানমন্ত্রীসহ সমগ্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের মোট সংখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—শুধু ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সংখ্যা নয়।

৫. মন্ত্রিসভা (Cabinet) ও মন্ত্রিপরিষদের পার্থক্য

পরীক্ষায় “Cabinet” এবং “Council of Ministers” প্রায়ই একই অর্থে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক অর্থে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ একটি বৃহত্তর গোষ্ঠী; ক্যাবিনেট হলো এর প্রধান নীতি নির্ধারণী ছোট গোষ্ঠী, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা থাকেন।

বিষয় মন্ত্রিপরিষদ (Council of Ministers) মন্ত্রিসভা (Cabinet)
পরিধি প্রধানমন্ত্রীসহ সব শ্রেণির মন্ত্রী নিয়ে বৃহত্তর গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের নিয়ে ছোট গোষ্ঠী
প্রধান কাজ সরকারি নীতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংবিধানিক পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সরকারি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রীয় সমন্বয়
সাংবিধানিক উল্লেখ অনুচ্ছেদ ৭৪ ও ৭৫-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে অনুচ্ছেদ ৩৫২(৩)-এ “Union Cabinet” শব্দের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে
সদস্যসংখ্যা সাধারণত ক্যাবিনেটের চেয়ে বেশি তুলনামূলকভাবে কম
সম্পর্ক বৃহত্তর মন্ত্রীগোষ্ঠী মন্ত্রিপরিষদের মূল নীতি নির্ধারণী অংশ

৬. যৌথ দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা

যৌথ দায়বদ্ধতা (Collective Responsibility)

সংবিধানের ৭৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ। এর অর্থ, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হয়। লোকসভায় সরকার আস্থা হারালে সংসদীয় রীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সমগ্র মন্ত্রিপরিষদকে পদত্যাগ করতে হতে পারে।

ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা (Individual Responsibility)

সংবিধানের ৭৫(২) অনুচ্ছেদে মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টিকাল পর্যন্ত পদে থাকেন বলে উল্লেখ আছে। সংসদীয় ব্যবস্থায় এই বিধান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীদের নিয়োগ ও পদত্যাগের সাংবিধানিক রীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বা নীতিগত মতবিরোধ দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইতে পারেন বা তাঁকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পরামর্শ দিতে পারেন।

বিষয় যৌথ দায়বদ্ধতা ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা
কার প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সম্মিলিতভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ প্রতিটি মন্ত্রীর দায়িত্ব ও পদে থাকা নিয়ে পৃথক প্রশ্ন উঠতে পারে
মূল ধারণা সরকারের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের জন্য সম্মিলিত দায়িত্ব নিজের দপ্তর ও আচরণের জন্য মন্ত্রীর ব্যক্তিগত দায়িত্ব
প্রধান অনুচ্ছেদ ৭৫(৩) ৭৫(২)-এর সাংবিধানিক বিধান ও সংসদীয় রীতি

৭. প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা মৃত্যু হলে কী হয়?

প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে সাধারণত তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদেরও পদত্যাগের প্রশ্ন আসে, কারণ মন্ত্রিপরিষদের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী মারা গেলে বা পদ শূন্য হলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি এমন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন যিনি লোকসভার আস্থা অর্জন করতে পারবেন বলে বিবেচিত হন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পদ এবং মন্ত্রিপরিষদের যৌথ দায়বদ্ধতা—এই দুটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সরকারের নেতৃত্ব দেন, কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের টিকে থাকার ভিত্তি হলো লোকসভার আস্থা।

৮. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ

অনুচ্ছেদ বিষয়
৭৪ রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ
৭৫(১) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ
৭৫(১A) কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মোট সংখ্যার ১৫ শতাংশ সীমা
৭৫(২) মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টিকাল পর্যন্ত পদে থাকেন
৭৫(৩) লোকসভার কাছে মন্ত্রিপরিষদের যৌথ দায়বদ্ধতা
৭৫(৪) মন্ত্রীদের পদ ও গোপনীয়তার শপথ
৭৫(৫) টানা ছয় মাস সংসদের সদস্য না হলে মন্ত্রী পদে থাকা বন্ধ
৭৭ ভারত সরকারের কাজ পরিচালনার পদ্ধতি
৭৮ রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব
৮৮ মন্ত্রীদের সংসদে বক্তব্য ও অংশগ্রহণের অধিকার সম্পর্কিত বিধান
৩৫২(৩) জাতীয় জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত বিধানে Union Cabinet-এর সংজ্ঞা

৯. দ্রুত রিভিশন: পরীক্ষার আগে মনে রাখুন

  • রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন—অনুচ্ছেদ ৭৫(১)।
  • অন্যান্য মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে।
  • প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য ও পরামর্শ দেয়—অনুচ্ছেদ ৭৪।
  • মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ—অনুচ্ছেদ ৭৫(৩)।
  • মন্ত্রী পদ গ্রহণের আগে পদ ও গোপনীয়তার শপথ নেন—অনুচ্ছেদ ৭৫(৪)।
  • সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না হলে ছয় মাসের বেশি মন্ত্রী থাকা যায় না—অনুচ্ছেদ ৭৫(৫)।
  • প্রধানমন্ত্রী লোকসভা অথবা রাজ্যসভা—যে কোনও এক কক্ষের সদস্য হতে পারেন।
  • প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংবিধানে পৃথক নির্দিষ্ট পাঁচ বছরের কার্যকাল নেই; সরকারের লোকসভার আস্থা বজায় রাখা জরুরি।
  • প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মোট সংখ্যা লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না—অনুচ্ছেদ ৭৫(১A)।
  • রাষ্ট্রপতিকে তথ্য জানানো ও মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অবহিত করা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব—অনুচ্ছেদ ৭৮।

১০. অনলাইন MCQ টেস্ট: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ

প্রতিটি প্রশ্নে একটি উত্তর নির্বাচন করুন। শেষে “উত্তর জমা দিন” বোতামে ক্লিক করলে আপনার স্কোর এবং প্রতিটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন।

১. রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদের বিধান কোন অনুচ্ছেদে?




২. ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কে নিয়োগ করেন?




৩. মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে কার কাছে দায়বদ্ধ?




৪. রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?




৫. সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না হয়েও নিযুক্ত মন্ত্রী সর্বোচ্চ কত সময় সদস্য না থেকে পদে থাকতে পারেন?




৬. কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মোট সংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা কত?




৭. অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শে নিয়োগ করেন?




৮. মন্ত্রিপরিষদ ও ক্যাবিনেটের মধ্যে সঠিক সম্পর্ক কোনটি?




৯. মন্ত্রীদের শপথ কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত?




১০. প্রধানমন্ত্রী সংসদের কোন কক্ষের সদস্য হতে পারেন?






প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে সংবিধান, গণতন্ত্র, সরকারের তিনটি অঙ্গ এবং রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত নোটগুলিও পড়ুন। নিচের internal link-গুলি আপনার দেওয়া mytestseries.in URL থেকে নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও প্রামাণ্য external resources

সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ ও সংসদীয় ব্যবস্থার বিধান যাচাই করার জন্য সরকারি উৎস ব্যবহার করুন।

এই external links-গুলিতে rel=”nofollow” যোগ করা হয়নি। প্রকাশের আগে প্রতিটি URL খোলা যাচ্ছে কি না এবং বিষয়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কি না যাচাই করুন।

পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন

বাংলা নোট পড়ুন, MCQ অনুশীলন করুন এবং নিয়মিত পরীক্ষার আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেলে যুক্ত থাকুন।

১২. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কে নিয়োগ করেন?

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। সাধারণত লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বা জোটের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কি রাজ্যসভার সদস্য হতে পারেন?

হ্যাঁ। প্রধানমন্ত্রী লোকসভা অথবা রাজ্যসভার যে কোনও এক কক্ষের সদস্য হতে পারেন। সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না হয়ে নিযুক্ত হলে সংবিধানের ৭৫(৫) অনুচ্ছেদের ছয় মাসের বিধান প্রযোজ্য হয়।

মন্ত্রিপরিষদ কার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ?

সংবিধানের ৭৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ।

মন্ত্রিপরিষদ ও মন্ত্রিসভার মধ্যে পার্থক্য কী?

মন্ত্রিপরিষদ হলো প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মন্ত্রীর বৃহত্তর গোষ্ঠী। মন্ত্রিসভা বা Cabinet হলো এর মূল নীতি নির্ধারণী অংশ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা থাকেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মোট সংখ্যা কত হতে পারে?

সংবিধানের ৭৫(১A) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মোট সংখ্যা লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না।

একজন মন্ত্রী সংসদের সদস্য না হলে কতদিন পদে থাকতে পারেন?

সংবিধানের ৭৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও মন্ত্রী টানা ছয় মাস সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না থাকলে ওই সময় শেষে মন্ত্রী পদে থাকা বন্ধ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতির প্রতি দায়িত্ব কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?

সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে অবহিত করার মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বগুলি উল্লেখ করা হয়েছে।

উপসংহার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ অধ্যায়ে নিয়োগ, মন্ত্রীদের শপথ, মন্ত্রিপরিষদের যৌথ দায়বদ্ধতা, মন্ত্রীর ছয় মাসের বিধান এবং ১৫ শতাংশ সীমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাভিত্তিক বিষয়। বিশেষভাবে অনুচ্ছেদ ৭৪, ৭৫ ও ৭৮-এর মূল বক্তব্য মনে রাখুন এবং মন্ত্রিপরিষদ ও ক্যাবিনেটের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বুঝুন।

শিক্ষামূলক নোট: এই পৃষ্ঠা সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। সাংবিধানিক প্রশ্নে সর্বশেষ সরকারি সংবিধান পাঠ ও প্রযোজ্য আইনকে চূড়ান্ত উৎস হিসেবে অনুসরণ করুন।


ফ্রি রেজিস্ট্রেশন • পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন
এখনই রেজিস্ট্রেশন




Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series