ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি: যোগ্যতা, নির্বাচন, ক্ষমতা ও কার্যকাল
WB TET, CTET, Upper Primary TET, WBPSC, SSC, Railway এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য সহজ বাংলা নোট, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ, তুলনামূলক ছক ও ১০টি অনলাইন MCQ।
এক নজরে উত্তর
ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ৫৩ অনুচ্ছেদে কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সাংবিধানিক পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন, সংবিধানের বিধান সাপেক্ষে।
ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হলেন রাজ্যসভার পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা সংবিধানে নির্ধারিত পরিস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচনপদ্ধতি এক নয়—পরীক্ষায় এই পার্থক্যটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
১. ভারতের রাষ্ট্রপতি: পরিচয় ও সাংবিধানিক অবস্থান
ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান (Head of State)। সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভারতের সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তবে সংসদীয় ব্যবস্থায় দৈনন্দিন সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা
- রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে কাজ করেন।
- কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী তাঁর নামে প্রয়োগ করা হয়।
- সংসদের অংশ; নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী বিলের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দেন।
পরীক্ষায় মনে রাখুন
- রাষ্ট্রপতি পদ: অনুচ্ছেদ ৫২।
- কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা: অনুচ্ছেদ ৫৩।
- রাষ্ট্রপতির নির্বাচন: অনুচ্ছেদ ৫৪ ও ৫৫।
- রাষ্ট্রপতির কার্যকাল: অনুচ্ছেদ ৫৬।
২. রাষ্ট্রপতির নির্বাচন
ভারতের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধানে নির্ধারিত একটি নির্বাচকমণ্ডলী (Electoral College) রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করে। নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (Proportional Representation), একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট (Single Transferable Vote) এবং গোপন ব্যালট ব্যবহৃত হয়।
রাষ্ট্রপতির নির্বাচকমণ্ডলীতে কারা থাকেন?
- সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত সদস্য—লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত সাংসদ।
- রাজ্যগুলির বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরা।
- সংবিধান অনুযায়ী দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ও পুদুচেরির বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।
গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের মনোনীত সদস্যরা এবং রাজ্য বিধান পরিষদের সদস্যরা নির্বাচকমণ্ডলীর অংশ নন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য রাখার জন্য ভোটের মূল্য নির্ধারণের সাংবিধানিক পদ্ধতি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা
- ভারতের নাগরিক হতে হবে।
- কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে।
- লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
- সরকারের অধীন কোনও লাভজনক পদে (Office of Profit) অধিষ্ঠিত থাকা চলবে না, সংবিধানে উল্লিখিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে।
৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি
ক. নির্বাহী ক্ষমতা
সংবিধানের ৫৩ অনুচ্ছেদে কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত। সংবিধান ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রয়েছে। বাস্তবে এসব ক্ষমতা সংসদীয় শাসনব্যবস্থা, মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
খ. আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত ক্ষমতা
- রাষ্ট্রপতি সংসদের একটি সাংবিধানিক অংশ।
- সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি করার ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী ভূমিকা পালন করেন; লোকসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও সাংবিধানিক নিয়মের অধীন।
- সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করা হয়; অর্থবিল ছাড়া নির্দিষ্ট বিল পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর সুযোগ থাকতে পারে।
- সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের উভয় কক্ষ একসঙ্গে অধিবেশনে না থাকলে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট শর্তে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
গ. আর্থিক ক্ষমতা
বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি বা কেন্দ্রীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রয়েছে। নির্দিষ্ট আর্থিক বিল উত্থাপনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ প্রয়োজন হয়। এই ক্ষমতাগুলি সংবিধানের বিধান ও সংসদীয় পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত; রাষ্ট্রপতি এককভাবে সাধারণ বাজেট প্রণয়ন করেন না।
ঘ. বিচার-সংক্রান্ত ক্ষমতা
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা, দণ্ড স্থগিত, দণ্ড মওকুফ বা দণ্ড লঘু করার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। এই ক্ষমতার পরিধি সংবিধানে নির্ধারিত। পরীক্ষায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতার সঙ্গে ৭২ অনুচ্ছেদটি মনে রাখুন।
ঙ. সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা
রাষ্ট্রপতি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। বিদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের স্বীকৃতির মতো কূটনৈতিক কার্যক্রমেও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে। এসব কার্যাবলি সরকারের নীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পন্ন হয়।
চ. জরুরি অবস্থার ক্ষমতা
ভারতের সংবিধানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান রয়েছে। জাতীয় জরুরি অবস্থা, রাজ্যে সাংবিধানিক যন্ত্রের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শাসন এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা—এই বিষয়গুলি যথাক্রমে ৩৫২, ৩৫৬ ও ৩৬০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলির প্রয়োগের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
৪. রাষ্ট্রপতির কার্যকাল, পদত্যাগ ও অভিশংসন
কার্যকাল
রাষ্ট্রপতি সাধারণত পাঁচ বছরের জন্য পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। তবে উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকতে পারেন। রাষ্ট্রপতি পুনর্নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। কার্যকাল ও পদে থাকার বিধান সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত।
পদত্যাগ
রাষ্ট্রপতি উপরাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দিতে পারেন। উপরাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রটি লোকসভার স্পিকারের কাছে জানান। এই বিষয়টি পরীক্ষায় প্রায়ই সরাসরি প্রশ্ন হিসেবে আসে।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment)
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণ করা যেতে পারে। সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদে এই পদ্ধতি নির্ধারিত। সংসদের যে কোনও কক্ষে প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যায়; নির্দিষ্ট নোটিশ, তদন্ত ও বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করতে হয়।
৫. ভারতের উপরাষ্ট্রপতি
সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে উপরাষ্ট্রপতির পদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপরাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান (Ex-officio Chairman of the Rajya Sabha)। তিনি রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করতে পারেন অথবা রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করতে পারেন।
উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন
উপরাষ্ট্রপতি সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের নিয়ে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে নির্বাচিত ও মনোনীত—উভয় ধরনের সাংসদ অংশ নেন। নির্বাচন হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে, একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে এবং গোপন ব্যালটে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সঙ্গে মূল পার্থক্য: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরা অংশ নেন; উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজ্য বিধানসভার সদস্যরা অংশ নেন না। উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচনে সংসদের মনোনীত সদস্যরাও ভোট দিতে পারেন।
উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা
- ভারতের নাগরিক হতে হবে।
- কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে।
- রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
- সরকারের অধীন কোনও লাভজনক পদে থাকা চলবে না, সংবিধানে নির্ধারিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে।
উপরাষ্ট্রপতির কার্যকাল ও পদত্যাগ
উপরাষ্ট্রপতির কার্যকাল পাঁচ বছর। তিনি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারেন। কার্যকাল শেষ হলেও উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। উপরাষ্ট্রপতির কার্যকাল ও পদত্যাগের বিধান ৬৭ অনুচ্ছেদে রয়েছে।
উপরাষ্ট্রপতির অপসারণ
উপরাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রস্তাব রাজ্যসভায় উত্থাপন করা হয়। রাজ্যসভার তৎকালীন সকল সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাবটি পাস হতে হবে এবং লোকসভাকে তাতে সম্মতি দিতে হবে। প্রস্তাব উত্থাপনের আগে অন্তত ১৪ দিনের নোটিশ দিতে হয়। এটি রাষ্ট্রপতির অভিশংসন পদ্ধতি থেকে আলাদা।
রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা
রাষ্ট্রপতির পদ মৃত্যু, পদত্যাগ, অপসারণ বা অন্য কারণে শূন্য হলে উপরাষ্ট্রপতি নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলেও উপরাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী তাঁর কার্যাবলি পালন করতে পারেন। এই সময়ে উপরাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেন না।
৬. রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | রাষ্ট্রপতি | উপরাষ্ট্রপতি |
|---|---|---|
| সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ | ৫২–৬২ প্রধানত | ৬৩–৭১ প্রধানত |
| প্রধান ভূমিকা | রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান | রাজ্যসভার পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান |
| নির্বাচকমণ্ডলী | সংসদের নির্বাচিত সদস্য এবং নির্দিষ্ট বিধানসভাগুলির নির্বাচিত সদস্য | সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্য |
| বিধানসভার সদস্যদের ভোট | নির্দিষ্ট রাজ্য, দিল্লি ও পুদুচেরির নির্বাচিত বিধায়করা অংশ নেন | রাজ্য বিধানসভার সদস্যরা অংশ নেন না |
| ন্যূনতম বয়স | ৩৫ বছর | ৩৫ বছর |
| সদস্য হওয়ার যোগ্যতা | লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা | রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা |
| কার্যকাল | পাঁচ বছর | পাঁচ বছর |
| পদত্যাগ | উপরাষ্ট্রপতির কাছে | রাষ্ট্রপতির কাছে |
| অপসারণ | সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য অভিশংসন পদ্ধতি | রাজ্যসভায় প্রস্তাব, লোকসভার সম্মতি এবং নির্ধারিত নোটিশ |
| রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে | প্রযোজ্য নয় | নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করেন |
৭. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ
| অনুচ্ছেদ | বিষয় |
|---|---|
| ৫২ | ভারতের রাষ্ট্রপতির পদ |
| ৫৩ | কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা |
| ৫৪ | রাষ্ট্রপতির নির্বাচন |
| ৫৫ | রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি |
| ৫৬ | রাষ্ট্রপতির কার্যকাল |
| ৫৮ | রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা |
| ৬১ | রাষ্ট্রপতির অভিশংসন |
| ৬৩ | উপরাষ্ট্রপতির পদ |
| ৬৪ | রাজ্যসভার পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান হিসেবে উপরাষ্ট্রপতি |
| ৬৫ | রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য বা অক্ষমতার সময় উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা |
| ৬৬ | উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও যোগ্যতা |
| ৬৭ | উপরাষ্ট্রপতির কার্যকাল, পদত্যাগ ও অপসারণ |
| ৭১ | রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ |
| ৭২ | রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা |
| ১২৩ | রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা |
| ৩৫২ | জাতীয় জরুরি অবস্থা |
| ৩৫৬ | রাজ্যে সাংবিধানিক যন্ত্রের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে বিধান |
| ৩৬০ | আর্থিক জরুরি অবস্থা |
৮. পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন
- রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি—দুজনেরই ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদ ও নির্দিষ্ট বিধানসভার নির্বাচিত বিধায়করা অংশ নেন।
- উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যরা অংশ নেন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনীত সাংসদ ভোট দেন না; উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেন।
- রাষ্ট্রপতি লোকসভার সদস্য হওয়ার যোগ্য এবং উপরাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
- রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র উপরাষ্ট্রপতির কাছে; উপরাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে।
- রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও উপরাষ্ট্রপতির অপসারণের পদ্ধতি এক নয়।
- উপরাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান।
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা—অনুচ্ছেদ ৭২; অধ্যাদেশ—অনুচ্ছেদ ১২৩।
- নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধের বিচার—অনুচ্ছেদ ৭১ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট।
৯. অনলাইন MCQ টেস্ট: রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি
প্রতিটি প্রশ্নে একটি উত্তর নির্বাচন করুন। শেষে “উত্তর জমা দিন” বোতামে ক্লিক করলে আপনার স্কোর ও প্রতিটি উত্তরের ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন।
১০. সম্পর্কিত বাংলা নোট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি
রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির অধ্যায়টি ভালোভাবে বুঝতে ভারতীয় সংবিধান, গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কিত বিষয়গুলিও পড়ুন। নিচের internal link-গুলি আপনার দেওয়া mytestseries.in URL থেকে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও প্রামাণ্য external resources
সংবিধানের অনুচ্ছেদ, নির্বাচন পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা যাচাই করার জন্য সরকারি উৎস ব্যবহার করুন।
বহিরাগত লিংকগুলিতে ইচ্ছাকৃতভাবে rel=”nofollow” যোগ করা হয়নি। লিংকগুলি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মূল ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়; প্রকাশের আগে URL এবং পৃষ্ঠার প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করুন।
পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন
বাংলা নোট পড়ুন, অনলাইন MCQ অনুশীলন করুন এবং নিয়মিত পরীক্ষার আপডেট পেতে আমাদের চ্যানেলে যুক্ত থাকুন।
১১. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ভারতের রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত সদস্য এবং নির্দিষ্ট বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলী রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার ন্যূনতম বয়স কত?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর। প্রার্থীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির কার্যকাল কত?
রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি উভয়ের সাধারণ কার্যকাল পাঁচ বছর। কার্যকাল, পদত্যাগ এবং পদে বহাল থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক অনুচ্ছেদগুলি প্রযোজ্য।
উপরাষ্ট্রপতি কি রাজ্যসভার সদস্য?
উপরাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান; তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে একই সঙ্গে আসন ধরে রাখেন না। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ বা রাজ্য আইনসভার সদস্যপদ থাকলে তা সংবিধান অনুযায়ী ছাড়তে হয়।
রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচনে প্রধান পার্থক্য কী?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্দিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরা অংশ নেন। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যরা অংশ নেন; রাজ্য বিধানসভার সদস্যরা ভোট দেন না।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা, দণ্ড স্থগিত, দণ্ড মওকুফ বা দণ্ড লঘু করার নির্দিষ্ট ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে।
উপসংহার
ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত অধ্যায়ে নির্বাচনপদ্ধতি, যোগ্যতা, কার্যকাল, সাংবিধানিক ক্ষমতা, পদত্যাগ ও অপসারণের নিয়ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে মনে রাখুন—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরা অংশ নেন, কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেন না। অনুচ্ছেদ ৫২–৭১-এর মূল বিষয়গুলি পুনরাবৃত্তি করে MCQ অনুশীলন করলে পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও সুসংগঠিত হবে।
শিক্ষামূলক নোট: এই পৃষ্ঠাটি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। আইনগত বা সাংবিধানিক প্রশ্নে ভারতের সংবিধানের সর্বশেষ সরকারি পাঠকে চূড়ান্ত উৎস হিসেবে অনুসরণ করুন।




