সরকারের তিনটি অঙ্গ: আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচারবিভাগ | বাংলা নোটস, MCQ




ভারতীয় সংবিধান • নাগরিকবিদ্যা • সরকারি চাকরির প্রস্তুতি

সরকারের তিনটি অঙ্গ: আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচারবিভাগ

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের কাজ পরিচালনা, আইন প্রণয়ন, আইন বাস্তবায়ন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কাজ করে। সাধারণভাবে সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ হলো আইনসভা (Legislature), নির্বাহী বিভাগ (Executive) এবং বিচারবিভাগ (Judiciary)।

ভারতের সংবিধানের আলোকে এই তিনটি অঙ্গের কাজ, ক্ষমতা, পারস্পরিক সম্পর্ক, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ সহজ বাংলায় আলোচনা করা হয়েছে। WBPSC, WBCS, SSC, রেলওয়ে, পুলিশ, TET, CTET এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই নোটস সহায়ক হতে পারে।

বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন →
WhatsApp-এ Daily Updates ও Exam News পেতে যোগ দিন

১. আইনসভাআইন প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা, সরকারি কাজের পর্যালোচনা এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব।
২. নির্বাহী বিভাগআইন ও সরকারি নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসন পরিচালনা।
৩. বিচারবিভাগআইনের ব্যাখ্যা, বিরোধের নিষ্পত্তি এবং সাংবিধানিক অধিকার ও সীমা রক্ষায় বিচারিক ভূমিকা।

১. সরকারের তিনটি অঙ্গ কী?

সরকারের তিনটি অঙ্গ বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার তিনটি প্রধান কার্যক্ষেত্রকে বোঝায়। আইনসভা আইন তৈরি করে, নির্বাহী বিভাগ আইন ও নীতি কার্যকর করে এবং বিচারবিভাগ আইন ব্যাখ্যা ও বিচারকার্য পরিচালনা করে। এই বিভাজন রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

কেন তিনটি অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ?

  • ক্ষমতার ভারসাম্য: বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতা ও দায়িত্ব বণ্টিত হয়।
  • জবাবদিহি: সরকারের সিদ্ধান্ত ও কাজ পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
  • আইনের শাসন: সরকারি কর্তৃপক্ষকেও সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করতে হয়।
  • অধিকার রক্ষা: বিচারবিভাগ সাংবিধানিক অধিকার ও আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • গণতন্ত্র: নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব, প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং স্বাধীন বিচারিক পর্যালোচনার মধ্যে ভারসাম্য গড়ে ওঠে।
পরীক্ষায় মনে রাখুন: আইনসভা = আইন প্রণয়ন; নির্বাহী বিভাগ = আইন ও নীতি বাস্তবায়ন; বিচারবিভাগ = আইন ব্যাখ্যা ও বিচার। এটি একটি মৌলিক ধারণাগত বিভাজন। বাস্তবে তিনটি অঙ্গের মধ্যে সাংবিধানিক সম্পর্ক ও কিছু কার্যগত ওভারল্যাপ রয়েছে।

২. আইনসভা (Legislature)

আইনসভা হলো সরকারের সেই অঙ্গ, যার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনসভা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, সরকারি নীতি নিয়ে আলোচনা করে, বাজেট ও সরকারি ব্যয়ের ওপর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করে এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সংসদীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে।

ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভা

ভারতের সংসদ রাষ্ট্রপতি এবং দুটি কক্ষ—লোকসভা ও রাজ্যসভা—নিয়ে গঠিত। সংবিধানের ৭৯ অনুচ্ছেদে সংসদের গঠন নির্ধারিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান বৈশিষ্ট্য পরীক্ষার তথ্য
লোকসভা জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কক্ষ। সাধারণত নিম্নকক্ষ নামে পরিচিত; মন্ত্রিসভা সম্মিলিতভাবে এর কাছে দায়বদ্ধ।
রাজ্যসভা রাজ্য ও নির্দিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী কক্ষ। এটি স্থায়ী কক্ষ; সম্পূর্ণ কক্ষ একসঙ্গে ভেঙে যায় না।
রাষ্ট্রপতি সংসদের সাংবিধানিক অংশ। সংসদের অধিবেশন আহ্বান, বিলের ওপর সাংবিধানিক ভূমিকা এবং অন্যান্য নির্ধারিত ক্ষমতা রয়েছে।

আইনসভার প্রধান কাজ

  1. আইন প্রণয়ন: সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়গুলিতে বিল আলোচনা ও পাস করা।
  2. বাজেট ও অর্থ: সরকারি আয়-ব্যয়, কর এবং সরকারি ব্যয়ের অনুমোদনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ।
  3. নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি: প্রশ্নোত্তর, আলোচনা, প্রস্তাব এবং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারি কাজ পরীক্ষা করা।
  4. প্রতিনিধিত্ব: নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থ সংসদে তুলে ধরা।
  5. সংবিধান সংশোধন: সংবিধানের ৩৬৮ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে সংশোধনে অংশ নেওয়া।
  6. আলোচনা ও বিতর্ক: জাতীয় নীতি, জনস্বার্থ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা।

লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

বিষয় লোকসভা রাজ্যসভা
প্রতিনিধিত্ব জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি। মূলত রাজ্য ও নির্দিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব।
মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর, আগে ভেঙে দেওয়া যেতে পারে। স্থায়ী কক্ষ; প্রতি দুই বছরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন।
অর্থবিল অর্থবিলের ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। অর্থবিল সম্পর্কে সুপারিশ করতে পারে; লোকসভা সেগুলি গ্রহণে বাধ্য নয়।
মন্ত্রিসভার দায়বদ্ধতা মন্ত্রিসভা সম্মিলিতভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ। মন্ত্রিসভা রাজ্যসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ নয়।

রাজ্য আইনসভা

রাজ্য পর্যায়ে আইন প্রণয়নের কাজ রাজ্য আইনসভা করে। সংবিধানের ১৬৮ অনুচ্ছেদে রাজ্য আইনসভার গঠন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। কিছু রাজ্যে এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে, আবার কিছু রাজ্যে বিধানসভা ও বিধান পরিষদ—দুটি কক্ষ থাকতে পারে। রাজ্যের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা সংবিধানের সপ্তম তফসিলসহ প্রাসঙ্গিক বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

৩. নির্বাহী বিভাগ (Executive)

নির্বাহী বিভাগ সরকারের সেই অঙ্গ, যা আইন কার্যকর করে, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে এবং প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে। কেন্দ্রীয় স্তরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর ও সরকারি কর্মচারীরা নির্বাহী কাঠামোর অংশ। ভারতের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সরকারের দৈনন্দিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী বিভাগের প্রধান উপাদান

  • রাষ্ট্রপতি: সংবিধানের ৫২ ও ৫৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী ক্ষমতার বিধান রয়েছে। এই ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়।
  • উপরাষ্ট্রপতি: রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি বা পদ শূন্য হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করেন; তিনি রাজ্যসভার পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান।
  • প্রধানমন্ত্রী: সরকারের প্রধান রাজনৈতিক নেতা এবং মন্ত্রিপরিষদের নেতৃত্ব দেন।
  • মন্ত্রিপরিষদ: সরকারি নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
  • প্রশাসনিক কর্মচারী: মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মাধ্যমে নীতি ও সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

নির্বাহী বিভাগের প্রধান কাজ

  1. আইনসভায় পাস হওয়া আইন বাস্তবায়ন করা।
  2. সরকারি নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরি ও কার্যকর করা।
  3. প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবা পরিচালনা করা।
  4. সংসদে বাজেট ও আইনসংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনে অংশ নেওয়া।
  5. বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা।
  6. সরকারি দপ্তর ও কর্মচারীদের কাজ সমন্বয় ও তদারকি করা।

রাজ্য নির্বাহী বিভাগ

রাজ্য পর্যায়ে রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ এবং প্রশাসনিক দপ্তর নির্বাহী কাঠামোর অংশ। সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদে রাজ্যপালের পদ এবং ১৬৩ অনুচ্ছেদে রাজ্যপালকে সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের বিধান রয়েছে, সংবিধানে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম সাপেক্ষে।

গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান, আর প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান। একইভাবে রাজ্যে রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান এবং মুখ্যমন্ত্রী সরকারের প্রধান হিসেবে কাজ করেন।

৪. বিচারবিভাগ (Judiciary)

বিচারবিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি, আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং ন্যায়বিচার প্রদান। ভারতের বিচারব্যবস্থা একটি একীভূত আদালত কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত; তার নিচে হাইকোর্ট এবং অধস্তন আদালত রয়েছে।

ভারতের বিচারব্যবস্থার কাঠামো

সুপ্রিম কোর্টভারতের সর্বোচ্চ আদালত। সাংবিধানিক ব্যাখ্যা, আপিল এবং নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত প্রতিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হাইকোর্টরাজ্য বা নির্দিষ্ট বিচারিক অঞ্চলের উচ্চ আদালত। অধস্তন আদালতের ওপর তত্ত্বাবধান এবং আইন অনুযায়ী বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
অধস্তন আদালতজেলা ও অন্যান্য স্তরে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাসহ বিভিন্ন বিচারিক কাজ পরিচালনা করে।

বিচারবিভাগের প্রধান কাজ

  • বিচার প্রদান: দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং অন্যান্য আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি করা।
  • আইনের ব্যাখ্যা: আইন ও সাংবিধানিক বিধানের অর্থ এবং প্রয়োগ নির্ধারণ করা।
  • মৌলিক অধিকার রক্ষা: সংবিধান ও আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রতিকার প্রদান করা।
  • বিচারিক পর্যালোচনা: সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনকারী আইন বা সরকারি পদক্ষেপকে উপযুক্ত মামলায় পর্যালোচনা করা।
  • বিরোধ নিষ্পত্তি: কেন্দ্র ও রাজ্য অথবা অন্যান্য পক্ষের মধ্যে সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত বিরোধ নিষ্পত্তি করা।

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে যে বিচারিক সিদ্ধান্ত যথাযথ আইন, প্রমাণ এবং সাংবিধানিক নীতির ভিত্তিতে নেওয়া হবে। বিচারকরা যেন অনুচিত রাজনৈতিক বা বাহ্যিক চাপ ছাড়া বিচার করতে পারেন, সে জন্য সংবিধানে নিয়োগ, কার্যকাল, বেতন ও পদ থেকে অপসারণ সম্পর্কিত বিভিন্ন সুরক্ষা রয়েছে।

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা মানে আদালত আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতও সংবিধান, আইন এবং প্রযোজ্য বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করে।

সুপ্রিম কোর্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ

  • অনুচ্ছেদ ১২৪: সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা ও গঠন।
  • অনুচ্ছেদ ৩২: মৌলিক অধিকার প্রয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সাংবিধানিক প্রতিকার।
  • অনুচ্ছেদ ১৩৬: বিশেষ অনুমতিতে আপিল গ্রহণের ক্ষমতা।
  • অনুচ্ছেদ ১৪১: সুপ্রিম কোর্ট ঘোষিত আইন ভারতের সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
  • অনুচ্ছেদ ২২৬: হাইকোর্টের রিট জারির ক্ষমতা; এর পরিধি মৌলিক অধিকার প্রয়োগের বাইরেও প্রাসঙ্গিক আইনি অধিকার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
পরীক্ষায় মনে রাখুন: অনুচ্ছেদ ৩২ সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার প্রয়োগের প্রতিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনুচ্ছেদ ২২৬ হাইকোর্টের রিট জারির ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করে।

৫. ক্ষমতার পৃথকীকরণ (Separation of Powers)

ক্ষমতার পৃথকীকরণ হলো এমন একটি সাংবিধানিক ধারণা, যেখানে আইন প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা এবং বিচারকার্যের দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ করা, জবাবদিহি বাড়ানো এবং স্বাধীন বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ বজায় রাখা।

ভারতে তিনটি অঙ্গের মধ্যে কঠোর ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা নেই। সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ আইনসভার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, কারণ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সাধারণত আইনসভার সদস্যদের মধ্য থেকে গঠিত হয় এবং মন্ত্রিপরিষদ লোকসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ। তবু বিচারবিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক সীমা রক্ষার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Checks and Balances বা ক্ষমতার ভারসাম্য

  • আইনসভা নির্বাহী বিভাগের কাজের ওপর প্রশ্নোত্তর, আলোচনা এবং অন্যান্য সংসদীয় পদ্ধতিতে নজরদারি করে।
  • আদালত উপযুক্ত মামলায় আইন ও সরকারি পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা পর্যালোচনা করতে পারে।
  • আইনসভা সংবিধান নির্ধারিত পদ্ধতিতে আইন প্রণয়ন করে, তবে তা সংবিধানের সীমার মধ্যে হতে হয়।
  • নির্বাহী বিভাগ আইন ও সাংবিধানিক বিধান অনুসারে প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করে।

বাস্তব উদাহরণ

ধরা যাক, সংসদ একটি আইন পাস করেছে। নির্বাহী বিভাগ সেই আইন কার্যকর করার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে। যদি কোনও ব্যক্তি মনে করেন যে আইনটির কোনও বিধান সংবিধানবিরোধী এবং তিনি উপযুক্ত আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেন, তাহলে প্রাসঙ্গিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতের পর্যালোচনা চাওয়া যেতে পারে। এই উদাহরণটি তিনটি অঙ্গের আলাদা ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝায়।


৬. আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচারবিভাগের তুলনামূলক ছক

বিষয় আইনসভা নির্বাহী বিভাগ বিচারবিভাগ
প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন আইন ও নীতি বাস্তবায়ন আইন ব্যাখ্যা ও বিচার
কেন্দ্রীয় পর্যায়ের উদাহরণ সংসদ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদসহ নির্বাহী কাঠামো সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট ও অধস্তন আদালত
জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ তুলে ধরে জননীতি ও প্রশাসনিক সেবা বাস্তবায়ন করে আইন অনুযায়ী অধিকার ও বিরোধের প্রতিকার দেয়
জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণ সংবিধান, সংসদীয় বিধি ও বিচারিক পর্যালোচনার অধীন আইনসভা, সংবিধান ও আদালতের প্রাসঙ্গিক নিয়ন্ত্রণের অধীন সংবিধান, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে
গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিল, বাজেট, আলোচনা ও তদারকি নীতি, প্রশাসন ও সরকারি কর্মসূচি বিচার, আইনের ব্যাখ্যা ও সাংবিধানিক পর্যালোচনা

৭. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ

অনুচ্ছেদ বিষয় মনে রাখার কৌশল
৫২ ভারতের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির পদ
৫৩ কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা Union Executive
৭৪ রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ প্রধানমন্ত্রী-নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদ
৭৯ সংসদের গঠন রাষ্ট্রপতি, লোকসভা ও রাজ্যসভা
৮০ রাজ্যসভার গঠন কাউন্সিল অব স্টেটস
৮১ লোকসভার গঠন হাউস অব দ্য পিপল
১১০ অর্থবিলের সংজ্ঞা Money Bill
১২৪ সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা ও গঠন Supreme Court
১৪১ সুপ্রিম কোর্ট ঘোষিত আইন সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক
১৬৮ রাজ্য আইনসভার গঠন State Legislature
২১৪ রাজ্যগুলির জন্য হাইকোর্ট High Court
২২৬ হাইকোর্টের রিট জারির ক্ষমতা Writ Jurisdiction
৩২৪ নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ Election Commission
৩৬৮ সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি Constitutional Amendment

নোট: এটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদের নির্বাচিত তালিকা, সম্পূর্ণ তালিকা নয়। পরীক্ষার আগে সর্বশেষ সরকারি সংবিধান পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

৮. অনলাইন MCQ টেস্ট: সরকারের তিনটি অঙ্গ

প্রতিটি প্রশ্নে একটি সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন। শেষে উত্তর জমা দিলে আপনার স্কোর ও ব্যাখ্যা দেখা যাবে।

১. সরকারের কোন অঙ্গের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন?




২. আইন ও সরকারি নীতি বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব কার?




৩. ভারতের সংসদের গঠন কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?




৪. সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা ও গঠনের সঙ্গে কোন অনুচ্ছেদটি সম্পর্কিত?




৫. কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ সম্মিলিতভাবে কার কাছে দায়বদ্ধ?




৬. বিচারিক পর্যালোচনার (Judicial Review) সঙ্গে কোন অঙ্গটি প্রধানত যুক্ত?




৭. ভারতের কোন সংসদীয় কক্ষটি স্থায়ী কক্ষ?




৮. হাইকোর্টের রিট জারির ক্ষমতার সঙ্গে কোন অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত?




৯. ক্ষমতার পৃথকীকরণের অন্যতম উদ্দেশ্য কী?




১০. ভারতের নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার সঙ্গে কোন অনুচ্ছেদটি যুক্ত?





১০. তিনটি প্রামাণ্য বাহ্যিক রিসোর্স

বাহ্যিক লিঙ্কগুলিতে nofollow ব্যবহার করা হয়নি। লিঙ্কের কার্যকারিতা প্রকাশের সময় পুনরায় পরীক্ষা করুন।

১১. দ্রুত রিভিশন: এক মিনিটে মনে রাখুন

  • আইনসভা — আইন প্রণয়ন, বাজেট ও সরকারি কাজের পর্যালোচনা।
  • নির্বাহী বিভাগ — আইন ও সরকারি নীতি বাস্তবায়ন।
  • বিচারবিভাগ — আইন ব্যাখ্যা, বিচার এবং সাংবিধানিক পর্যালোচনা।
  • সংসদের গঠন — অনুচ্ছেদ ৭৯।
  • কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা — অনুচ্ছেদ ৫৩।
  • সুপ্রিম কোর্ট — অনুচ্ছেদ ১২৪।
  • হাইকোর্টের রিট ক্ষমতা — অনুচ্ছেদ ২২৬।
  • নির্বাচন কমিশন — অনুচ্ছেদ ৩২৪।
  • সংবিধান সংশোধন — অনুচ্ছেদ ৩৬৮।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে প্রস্তুতি শুরু করুন →

১২. FAQ: সরকারের তিনটি অঙ্গ

সরকারের তিনটি অঙ্গ কী কী?

সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ হলো আইনসভা (Legislature), নির্বাহী বিভাগ (Executive) এবং বিচারবিভাগ (Judiciary)।

আইনসভার প্রধান কাজ কী?

আইনসভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন। এছাড়া বাজেট আলোচনা, সরকারি কাজের পর্যালোচনা এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নির্বাহী বিভাগের প্রধান কাজ কী?

নির্বাহী বিভাগ আইন ও সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে এবং প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে। ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

বিচারবিভাগের প্রধান কাজ কী?

বিচারবিভাগ আইন ব্যাখ্যা করে, বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার ও আইনগত প্রতিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করে।

ভারতের সংসদ কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?

ভারতের সংসদের গঠন সংবিধানের ৭৯ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে কোন অনুচ্ছেদটি সম্পর্কিত?

সংবিধানের ১২৪ অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা ও গঠন সম্পর্কিত।

ক্ষমতার পৃথকীকরণ বলতে কী বোঝায়?

ক্ষমতার পৃথকীকরণ হলো আইন প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা ও বিচারকার্যের দায়িত্ব বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টনের ধারণা। এর লক্ষ্য ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ এবং জবাবদিহি সমর্থন করা।

ভারতে কি সরকারের তিনটি অঙ্গ সম্পূর্ণ স্বাধীন?

ভারতে তিনটি অঙ্গের মধ্যে কঠোর ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা নেই। সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ আইনসভার সঙ্গে যুক্ত; তবে সংবিধান বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা, সীমা ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে।

আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে পার্থক্য কী?

আইনসভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন, আর নির্বাহী বিভাগের প্রধান কাজ আইন ও সরকারি নীতি বাস্তবায়ন। সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ লোকসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ।

এই অধ্যায় কোন সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ভারতীয় সংবিধানের অংশ হিসেবে বিষয়টি WBPSC, WBCS, SSC, রেলওয়ে, পুলিশ নিয়োগ, TET, CTET এবং অন্যান্য পরীক্ষায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। নির্দিষ্ট পরীক্ষার সিলেবাস অনুসরণ করুন।

শিক্ষামূলক নোট: সাংবিধানিক অনুচ্ছেদের সঠিক ভাষা, সংশোধনী এবং প্রযোজ্য বিধানের জন্য ভারতের সংবিধানের সর্বশেষ সরকারি পাঠ অনুসরণ করুন।


Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series