ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমি বায়ু ও চরম আবহাওয়া | Cyclones, Monsoons and Extreme Weather বাংলা নোট

Geography
Indian Climate
TET & Government Exams

ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমি বায়ু ও চরম আবহাওয়া (Cyclones, Monsoons and Extreme Weather)

ভূগোলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি ও গঠন, ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্য, বর্ষার আগমন ও প্রত্যাবর্তন এবং বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। TET, WBCS, SSC, Railway এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

এই অধ্যায়ে কী শিখবেন? ঘূর্ণিঝড় কীভাবে তৈরি হয়, কেন বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বেশি, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর পার্থক্য কী, El Niño ও La Niña কীভাবে বর্ষাকে প্রভাবিত করে এবং তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, বন্যা, খরা ও বজ্রঝড়ের কারণ কী—এই সব প্রশ্নের উত্তর এখানে পাবেন।

পরীক্ষার জন্য সরাসরি উত্তর: ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান প্রবল বায়ুপ্রবাহ। ভারতীয় মৌসুমি বায়ু প্রধানত ঋতুভিত্তিক বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্ষাকালে বৃষ্টি আনে, আর উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বিশেষত তামিলনাড়ু উপকূলে গুরুত্বপূর্ণ বৃষ্টিপাত ঘটায়।

সূচিপত্র

  1. ঘূর্ণিঝড় ও চরম আবহাওয়ার ধারণা
  2. ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি ও গঠন
  3. ভারতীয় ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণিবিভাগ
  4. ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল
  5. মৌসুমি বায়ু: ধারণা ও উৎপত্তি
  6. ভারতের মৌসুমি বায়ুর শাখা ও বৈশিষ্ট্য
  7. El Niño, La Niña ও Indian Ocean Dipole
  8. চরম আবহাওয়ার বিভিন্ন ধরন
  9. জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়া
  10. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতা
  11. পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  12. 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ ও ব্যাখ্যা
  13. প্রশ্নোত্তর

1. ঘূর্ণিঝড় ও চরম আবহাওয়ার ধারণা

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) কী?

ঘূর্ণিঝড় হলো এমন একটি আবহাওয়াজনিত ব্যবস্থা, যেখানে নিম্ন বায়ুচাপকে কেন্দ্র করে চারদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়ে ঘূর্ণনের সৃষ্টি করে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু সরাসরি নিম্নচাপের কেন্দ্রে না গিয়ে বক্রপথে ঘোরে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রঝড় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।

উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু সাধারণত ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। এর কারণ কোরিওলিস বল।

চরম আবহাওয়া (Extreme Weather) কী?

কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল ও ঋতুর স্বাভাবিক আবহাওয়ার তুলনায় অস্বাভাবিক তীব্র বা বিরল আবহাওয়ার ঘটনাকে চরম আবহাওয়া বলা হয়। যেমন—অত্যধিক তাপমাত্রা, তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত।

ঘূর্ণিঝড় ও প্রতিঘূর্ণিঝড়ের পার্থক্য

বিষয় ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) প্রতিঘূর্ণিঝড় (Anticyclone)
কেন্দ্রীয় চাপ নিম্নচাপ উচ্চচাপ
বায়ুর প্রবাহ কেন্দ্রের দিকে অভিসরণ কেন্দ্র থেকে বহির্মুখী অপসরণ
উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহ সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী সাধারণত নিম্নমুখী
আবহাওয়া মেঘ, বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা বেশি সাধারণত পরিষ্কার ও শুষ্ক আবহাওয়া
উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণন ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘড়ির কাঁটার দিকে

2. ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি ও গঠন

ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সাধারণত উষ্ণ সমুদ্রের উপর সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের উষ্ণ জল থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সময় সুপ্ততাপ নির্গত হয়, যা বায়ুকে আরও উষ্ণ ও ঊর্ধ্বমুখী হতে সাহায্য করে। এর ফলে নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং ঘূর্ণিঝড়ের বিকাশ ঘটে।

ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল শর্ত

  • উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ: সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় 26.5°C বা তার বেশি হলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু তাপমাত্রা বেশি হলেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
  • পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প: নিম্ন ও মধ্য ট্রপোস্ফিয়ারে আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন।
  • নিম্ন উল্লম্ব বায়ু-শিয়ার: বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতি ও দিকের পার্থক্য কম থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সংগঠন বজায় রাখা সহজ হয়।
  • কোরিওলিস বল: ঘূর্ণন সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত কোরিওলিস বল দরকার। তাই নিরক্ষরেখার একেবারে কাছে সাধারণত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
  • প্রাথমিক নিম্নচাপ: ঘূর্ণিঝড়ের বিকাশের জন্য একটি প্রাথমিক নিম্নচাপ বা বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা প্রয়োজন।
  • উচ্চস্তরে বায়ুর অপসরণ: উপরের স্তরে বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার অনুকূল ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড়কে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে।
মনে রাখুন: সমুদ্রের উষ্ণতা, আর্দ্রতা, কোরিওলিস বল এবং নিম্ন vertical wind shear—ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নিরক্ষরেখার একেবারে উপর কোরিওলিস বল খুব দুর্বল হওয়ায় সেখানে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় গড়ে ওঠে না।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান অংশ

1. Eye বা চোখ: ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় অংশ। এখানে বায়ুচাপ সবচেয়ে কম থাকে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে চোখের ভিতরে তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়া এবং কম মেঘ দেখা যেতে পারে।

2. Eyewall বা চোখের প্রাচীর: চোখের চারপাশের বলয়াকার অঞ্চল। এখানে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ, বজ্রগর্ভ মেঘ, ভারী বৃষ্টি এবং সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস দেখা যায়।

3. Spiral Rainbands: ঘূর্ণিঝড়ের বাইরের দিকে সর্পিল আকৃতির মেঘ ও বৃষ্টির বলয়। এগুলিতে ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও বজ্রঝড় হতে পারে।

4. Storm Surge বা জলোচ্ছ্বাস: প্রবল বাতাস ও নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে উপকূলের দিকে উঠে আসে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় এটি উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ।

ঘূর্ণিঝড় কীভাবে দুর্বল হয়?

  • স্থলভাগে প্রবেশ করলে সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প ও শক্তির সরবরাহ কমে যায়।
  • শীতল সমুদ্রজলের উপর দিয়ে গেলে শক্তি সংগ্রহের ক্ষমতা কমে যায়।
  • উচ্চ vertical wind shear ঘূর্ণিঝড়ের গঠন নষ্ট করতে পারে।
  • শুষ্ক বায়ু ঘূর্ণিঝড়ের মেঘ ও পরিচলন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।

3. ভারতীয় ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণিবিভাগ

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে—বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে—ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণিবিভাগ সর্বোচ্চ স্থায়ী বায়ুর গতির ভিত্তিতে করে। নিচের সারণিতে IMD-এর ব্যবহৃত শ্রেণিগুলি দেওয়া হলো।

আবহাওয়াগত ব্যবস্থা সর্বোচ্চ স্থায়ী বায়ুর গতি (km/h)
Low Pressure Area 31 km/h-এর কম
Depression 31–49 km/h
Deep Depression 50–61 km/h
Cyclonic Storm 62–88 km/h
Severe Cyclonic Storm 89–117 km/h
Very Severe Cyclonic Storm 118–166 km/h
Extremely Severe Cyclonic Storm 167–221 km/h
Super Cyclonic Storm 222 km/h বা তার বেশি

দ্রষ্টব্য: IMD-এর উত্তর ভারত মহাসাগরীয় শ্রেণিবিভাগে 3-minute sustained wind ব্যবহৃত হয়। অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার শ্রেণিবিভাগে wind averaging period ও শ্রেণির নাম আলাদা হতে পারে। পরীক্ষায় ভারতীয় শ্রেণিবিভাগের প্রশ্নে IMD-এর তথ্য অনুসরণ করুন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নাম

অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের পরিচিত নাম
উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর Hurricane
উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর Typhoon
ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন অংশ Tropical Cyclone

নাম আলাদা হলেও এগুলি মূলত একই ধরনের ক্রান্তীয় নিম্নচাপজনিত ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নামকরণে আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার নির্ধারিত তালিকা ব্যবহৃত হয়।

4. ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ও ভারতের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল

ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান ক্ষতিকর প্রভাব

  • প্রবল বাতাস: ঘরবাড়ি, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর ক্ষতি করে।
  • অতিবৃষ্টি: নদী ও জলাশয়ের জলস্তর বাড়িয়ে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
  • জলোচ্ছ্বাস: সমুদ্রের জল উপকূলীয় নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে।
  • কৃষিক্ষেত্রের ক্ষতি: ফসল নষ্ট, জমিতে লবণাক্ত জল প্রবেশ এবং মাটির ক্ষয় হতে পারে।
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি: পানীয় জলের দূষণ, সংক্রামক রোগ এবং আশ্রয়হীনতার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অর্থনৈতিক ক্ষতি: মৎস্য, পর্যটন, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বঙ্গোপসাগর একটি ঘূর্ণিঝড়-প্রবণ সামুদ্রিক অঞ্চল। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ, প্রচুর আর্দ্রতা, মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তন এবং উপকূলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশের অগভীর ও ফানেল-আকৃতির উপকূলীয় বিন্যাস কিছু পরিস্থিতিতে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব বাড়াতে পারে। তবে প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা তার গতি, আকার, গতিপথ, জোয়ার-ভাটা এবং উপকূলীয় ভূপ্রকৃতির উপর নির্ভর করে।

ভারতের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ উপকূলীয় অঞ্চল

  • পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল
  • অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু উপকূল
  • গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চল
  • আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

পশ্চিমবঙ্গ ও সুন্দরবন অঞ্চলের বিশেষ ঝুঁকি

পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলা এবং সুন্দরবন অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যা। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। তবে ম্যানগ্রোভ বন কোনো ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারে না। বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, আগাম সতর্কতা ও স্থানীয় প্রস্তুতিরও সমান গুরুত্ব রয়েছে।



5. মৌসুমি বায়ু (Monsoon): ধারণা ও উৎপত্তি

মৌসুমি বায়ু কী?

মৌসুমি বায়ু হলো এমন এক ধরনের ঋতুভিত্তিক বায়ুপ্রবাহ, যার দিক ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে মৌসুমি বায়ু গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে আর্দ্র বায়ু নিয়ে আসে এবং বর্ষাকালে অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। শীতকালে বায়ুপ্রবাহের দিক বিপরীত হয়ে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়।

মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির প্রধান কারণ

ভারতের মৌসুমি বায়ু কোনো একটি কারণের ফল নয়। স্থল ও সমুদ্রের অসম উত্তাপ, বায়ুচাপের পার্থক্য, ITCZ-এর উত্তর-দক্ষিণ স্থানান্তর, তিব্বত মালভূমির তাপীয় প্রভাব, জেট বায়ুপ্রবাহ এবং ভারত মহাসাগরের বায়ুমণ্ডলীয়-সমুদ্রগত অবস্থার সম্মিলিত প্রভাবে মৌসুমি বায়ুর বিকাশ ঘটে।

মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তির প্রধান প্রক্রিয়া

  1. স্থল ও সমুদ্রের অসম উত্তাপ: গ্রীষ্মকালে ভারতীয় স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়। এর ফলে স্থলভাগে নিম্নচাপের প্রবণতা তৈরি হয়।
  2. ITCZ-এর উত্তরমুখী স্থানান্তর: গ্রীষ্মকালে Inter Tropical Convergence Zone বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল উত্তর দিকে সরে আসে।
  3. দক্ষিণ গোলার্ধের বায়ুর উত্তরমুখী যাত্রা: দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে উত্তর গোলার্ধে প্রবেশ করে। কোরিওলিস বলের প্রভাবে তা দক্ষিণ-পশ্চিমমুখী বায়ুপ্রবাহে পরিণত হয়।
  4. তিব্বত মালভূমির প্রভাব: গ্রীষ্মকালে তিব্বত মালভূমির উত্তাপ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বায়ুপ্রবাহের বিন্যাসকে প্রভাবিত করে।
  5. জেট বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন: উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেটের অবস্থান পরিবর্তন এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পূর্বালী জেটের বিকাশ মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ITCZ-এর পূর্ণরূপ: Inter Tropical Convergence Zone। এখানে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য বায়ু মিলিত হয়। শক্তিশালী পরিচলন ও মেঘ সৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি।

6. ভারতের মৌসুমি বায়ুর শাখা ও বৈশিষ্ট্য

ভারতে মৌসুমি বায়ুর প্রধান ঋতু

ঋতু সময়কাল (সাধারণভাবে) প্রধান বৈশিষ্ট্য
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু জুন–সেপ্টেম্বর ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রধান বর্ষাকাল
প্রত্যাবর্তনশীল মৌসুমি বায়ু অক্টোবর–নভেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন; বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা
শীতকালীন মৌসুমি অবস্থা ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শুষ্ক বায়ুপ্রবাহের প্রাধান্য
গ্রীষ্মকালীন বা প্রাক্‌-বর্ষা মার্চ–মে তাপপ্রবাহ, বজ্রঝড় ও স্থানীয় বৃষ্টিপাত

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দুটি শাখা

1. আরব সাগরীয় শাখা: আরব সাগর থেকে আর্দ্র বায়ু ভারতের পশ্চিম উপকূলে প্রবেশ করে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢালে বৃষ্টি বেশি হয়, আর পূর্বদিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল তৈরি হয়।

2. বঙ্গোপসাগরীয় শাখা: বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বায়ু উত্তর-পূর্ব ভারত ও গাঙ্গেয় সমভূমির দিকে অগ্রসর হয়। মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত মৌসিনরাম ও চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে অরোগ্রাফিক বৃষ্টিপাতের জন্য অত্যন্ত বেশি বৃষ্টি হয়। পরে এই বায়ু গাঙ্গেয় সমভূমি বরাবর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্য

  • এটি ভারতের প্রধান বর্ষা ঋতু।
  • মৌসুমি বায়ু সাধারণত জুন মাসের শুরুতে কেরালায় প্রবেশ করে; প্রকৃত আগমনের তারিখ বছরভেদে পরিবর্তিত হয়।
  • বায়ুপ্রবাহের অগ্রগতি ধাপে ধাপে ঘটে এবং সারা দেশে পৌঁছাতে সময় লাগে।
  • মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্থান ও সময় অনুযায়ী অসমভাবে বণ্টিত হয়।
  • মৌসুমি বায়ুর মধ্যে সক্রিয় ও বিরতি পর্যায় বা Active and Break Monsoon দেখা যায়।

মৌসুমি বৃষ্টির বিরতি (Break in Monsoon)

বর্ষাকালে কয়েক দিন বা কিছু সময়ের জন্য কোনো অঞ্চলে বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে তাকে মৌসুমি বৃষ্টির বিরতি বলা হয়। মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান, বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহ এবং নিম্নচাপ ব্যবস্থার অবস্থান এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বিরতি মানেই মৌসুমি বায়ু সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।

প্রত্যাবর্তনশীল মৌসুমি বায়ু (Retreating Monsoon)

সেপ্টেম্বরের পর সূর্যের আপাত অবস্থান দক্ষিণ দিকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় স্থলভাগ ধীরে ধীরে শীতল হতে থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে প্রত্যাহার শুরু করে। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এই প্রত্যাবর্তনশীল পর্যায় বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।

এই সময় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আর্দ্রতা সংগ্রহ করে তামিলনাড়ু, দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর পার্থক্য

বিষয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
প্রধান সময় জুন–সেপ্টেম্বর অক্টোবর–ডিসেম্বর
বায়ুর সাধারণ দিক সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে; বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে আর্দ্র হয়
প্রধান বৃষ্টিপ্রাপ্ত অঞ্চল ভারতের অধিকাংশ অঞ্চল বিশেষত তামিলনাড়ু উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব ভারত
প্রধান বৈশিষ্ট্য ভারতের প্রধান বর্ষা প্রত্যাবর্তনশীল বর্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত


7. El Niño, La Niña ও Indian Ocean Dipole

El Niño কী?

El Niño হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি পর্যায়। এর সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহের পরিবর্তন ঘটে। El Niño অনেক সময় ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করার সঙ্গে সম্পর্কিত, ফলে ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে প্রতিটি El Niño বছরেই ভারতে খরা হবে—এমন নয়।

La Niña কী?

La Niña হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়ার পর্যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি ভারতের মৌসুমি বায়ুর পক্ষে অনুকূল হতে পারে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অন্যান্য আবহাওয়াগত উপাদানের উপরও নির্ভর করে।

Indian Ocean Dipole (IOD) কী?

Indian Ocean Dipole হলো ভারত মহাসাগরের পশ্চিম ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যজনিত একটি সমুদ্র-বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা। এর প্রধান পর্যায় তিনটি:

  • Positive IOD: পশ্চিম ভারত মহাসাগর পূর্ব অংশের তুলনায় উষ্ণ হয়।
  • Negative IOD: পূর্ব ভারত মহাসাগর পশ্চিম অংশের তুলনায় উষ্ণ হয়।
  • Neutral IOD: দুই অঞ্চলের তাপমাত্রার পার্থক্য উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকে।
বিষয় El Niño La Niña
সমুদ্রের অবস্থা মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগর উষ্ণ মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগর শীতল
ভারতীয় বর্ষার সঙ্গে সম্পর্ক অনেক সময় দুর্বল বর্ষার ঝুঁকি অনেক সময় অনুকূল বর্ষার প্রবণতা
প্রকৃতি ENSO-এর উষ্ণ পর্যায় ENSO-এর শীতল পর্যায়

8. চরম আবহাওয়ার বিভিন্ন ধরন

1. তাপপ্রবাহ (Heat Wave)

কোনো অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যধিক তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করলে তাকে তাপপ্রবাহ বলা হয়। ভারতের ক্ষেত্রে IMD নির্দিষ্ট সমতল, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের জন্য আলাদা তাপপ্রবাহের মানদণ্ড ব্যবহার করে। সমতল অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অন্তত 40°C এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অন্তত 37°C হলে তাপপ্রবাহ নির্ধারণের অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে এই প্রাথমিক তাপমাত্রার মান 30°C।

তাপপ্রবাহের ফলে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, কর্মক্ষমতা হ্রাস, কৃষির ক্ষতি এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে।

2. শৈত্যপ্রবাহ (Cold Wave)

কোনো অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা অত্যন্ত কমে গেলে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তর-পশ্চিম ভারত, গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশে শীতকালে শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়। ঘন কুয়াশা ও শীতল বাতাসের কারণে দৈনন্দিন জীবন, কৃষি, পরিবহন এবং স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

3. অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা (Extreme Rainfall and Flash Flood)

স্বল্প সময়ে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হলে নদী, নালা ও জলাশয়ের জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। শহরাঞ্চলে নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ জলাবদ্ধতা বাড়ায়।

4. খরা (Drought)

দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া বা জলসম্পদের ঘাটতির কারণে কৃষি, পানীয় জল এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়লে তাকে খরা বলা হয়। খরা সব সময় শুধু বৃষ্টির অভাবের কারণে হয় না; উচ্চ তাপমাত্রা, বাষ্পীভবন, ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং জল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও এর প্রভাব বাড়ায়।

খরার প্রধান ধরন:

  • Meteorological Drought: স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাতের ঘাটতি।
  • Agricultural Drought: ফসলের বৃদ্ধির জন্য মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাব।
  • Hydrological Drought: নদী, জলাধার ও ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণ কমে যাওয়া।
  • Socio-economic Drought: জল ও খাদ্যসম্পদের ঘাটতির কারণে মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়া।

5. বজ্রঝড় ও বজ্রপাত (Thunderstorm and Lightning)

বায়ুমণ্ডলে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু দ্রুত উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি করলে বজ্রঝড় হতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি দেখা যায়। প্রাক্‌-বর্ষা ঋতুতে পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী নামে পরিচিত শক্তিশালী বজ্রঝড় দেখা যায়।

6. শিলাবৃষ্টি (Hailstorm)

বজ্রগর্ভ মেঘের ভিতরে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহের কারণে জলকণা বারবার উপরে-নিচে চলাচল করে জমাট বরফের স্তর তৈরি করলে শিলার সৃষ্টি হয়। যথেষ্ট বড় শিলা মাটিতে পড়লে তাকে শিলাবৃষ্টি বলা হয়। এতে ফসল, ফলের বাগান, যানবাহন ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হতে পারে।

7. ধূলিঝড় (Dust Storm)

শুষ্ক অঞ্চলে প্রবল বাতাস মাটি ও ধুলিকণা উড়িয়ে নিয়ে গেলে ধূলিঝড় সৃষ্টি হয়। এতে দৃশ্যমানতা কমে যায়, শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে এবং সড়ক ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

8. শীতকালীন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দিক থেকে আগত পশ্চিমী বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত নিম্নচাপ ও আবহাওয়া ব্যবস্থা উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতকালীন বৃষ্টিপাত এবং হিমালয়ে তুষারপাত ঘটায়। এই ব্যবস্থাকে Western Disturbance বলা হয়। গমসহ রবি শস্যের জন্য এই বৃষ্টিপাত অনেক সময় উপকারী।



9. জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়া

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। তাই অনেক অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও তীব্রতা বাড়তে পারে। তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার জন্য এককভাবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব

  • তাপপ্রবাহের ঘনত্ব, স্থায়িত্ব বা তীব্রতা বৃদ্ধি।
  • কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বৃদ্ধি।
  • সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি বাড়তে পারে।
  • কৃষি উৎপাদন, পানীয় জল ও জীববৈচিত্র্যের উপর চাপ সৃষ্টি।
  • উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও ভূমিক্ষয়ের সমস্যা বৃদ্ধি।

ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা সব সমুদ্র অববাহিকায় একইভাবে বাড়ছে—এমন সরল সিদ্ধান্ত করা যায় না। তবে উষ্ণ সমুদ্র, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন ঘূর্ণিঝড়জনিত ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।

10. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় ও চরম আবহাওয়ার ক্ষতি কমানোর জন্য আগাম সতর্কতা, সঠিক তথ্য প্রচার, নিরাপদ আশ্রয়, উদ্ধার ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা ও পূর্বাভাসের জন্য India Meteorological Department (IMD) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় National Disaster Management Authority (NDMA) ও রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিও কাজ করে।

ঘূর্ণিঝড়ের আগে করণীয়

  • IMD ও সরকারি প্রশাসনের সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করুন।
  • প্রয়োজনীয় নথি, ওষুধ, শুকনো খাবার, পানীয় জল, টর্চ ও ব্যাটারি প্রস্তুত রাখুন।
  • মোবাইল ফোন ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা সচল রাখুন।
  • উপকূলীয় নিচু এলাকা থেকে প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয়ে যান।
  • নৌকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী নিরাপদে রাখুন।

ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন করণীয়

  • নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা মজবুত ভবনের ভিতরে থাকুন।
  • জানালা ও কাচের কাছ থেকে দূরে থাকুন।
  • প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়া বাইরে বের হবেন না।
  • বিদ্যুতের ছেঁড়া তার ও জলমগ্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে দূরে থাকুন।
  • গুজব ছড়াবেন না; সরকারি সতর্কবার্তার উপর নির্ভর করুন।

বজ্রপাতের সময় করণীয়

  • খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, জলাশয় ও ধাতব খুঁটি থেকে দূরে থাকুন।
  • নিরাপদ পাকা ভবন বা বন্ধ গাড়ির ভিতরে আশ্রয় নিন।
  • বজ্রঝড় চলাকালীন সাঁতার বা মাছ ধরা বন্ধ রাখুন।
  • বাড়ির ভিতরে থাকলে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও তারযুক্ত সংযোগ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

তাপপ্রবাহের সময় করণীয়

  • পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং শরীরকে আর্দ্র রাখুন।
  • দুপুরের তীব্র রোদে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
  • শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের প্রতি বিশেষ নজর দিন।
  • অসুস্থতা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
সুরক্ষা সংক্রান্ত সতর্কতা: আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও দুর্যোগের সময় প্রশাসনের নির্দেশ সর্বদা অনুসরণ করুন। এই অধ্যায়টি শিক্ষামূলক; জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারি নির্দেশ ও IMD-এর সতর্কবার্তাই অগ্রাধিকার পাবে।

11. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে

প্রশ্ন উত্তর
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে কী থাকে? নিম্নচাপ
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় শান্ত অংশ কী? Eye
ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস সাধারণত কোথায় থাকে? Eyewall
উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড় কোন দিকে ঘোরে? ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
ভারতের প্রধান বর্ষাকাল কোনটি? দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সাধারণত কখন কেরালায় প্রবেশ করে? জুন মাসের শুরুতে
তামিলনাড়ুতে প্রধান বৃষ্টির সময় কোনটি? উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বা প্রত্যাবর্তনশীল বর্ষা
ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী? Inter Tropical Convergence Zone
El Niño কোন মহাসাগরের সঙ্গে সম্পর্কিত? প্রশান্ত মহাসাগর
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় জলের অস্বাভাবিক উত্থান কী? Storm Surge বা জলোচ্ছ্বাস
কালবৈশাখী কী ধরনের আবহাওয়া? প্রাক্‌-বর্ষাকালীন বজ্রঝড়
শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টির অন্যতম কারণ কী? Western Disturbance

এই অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূগোলের অন্যান্য নোট

ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমি বায়ু ও চরম আবহাওয়া ভালোভাবে বুঝতে বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু, সমুদ্রস্রোত, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং ভূমিরূপ সম্পর্কিত বিষয়গুলিও পড়া দরকার। নিচের নোটগুলি এই অধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

12. 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ — উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ

নিচের প্রশ্নগুলি TET, WBCS, SSC, Railway এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভূগোল অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন 1. উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সাধারণত কোন দিকে আবর্তিত হয়?

A. ঘড়ির কাঁটার দিকে
B. ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
C. সরলরেখায়
D. কোনো নির্দিষ্ট দিক নেই

সঠিক উত্তর: B. ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরে। দক্ষিণ গোলার্ধে ঘূর্ণনের দিক এর বিপরীত।

প্রশ্ন 2. ঘূর্ণিঝড়ের কোন অংশে সাধারণত সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস দেখা যায়?

A. Eye
B. Eyewall
C. বাইরের Rainband-এর বাইরে
D. ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে

সঠিক উত্তর: B. Eyewall
ব্যাখ্যা: Eyewall হলো ঘূর্ণিঝড়ের চোখের চারপাশের বলয়। এখানে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ, বজ্রগর্ভ মেঘ, ভারী বৃষ্টি এবং শক্তিশালী বাতাস দেখা যায়। Eye তুলনামূলক শান্ত হতে পারে।

প্রশ্ন 3. ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রধান বৃষ্টিপাত কোন মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হয়?

A. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
B. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
C. মেরু বায়ু
D. স্থানীয় স্থলবায়ু

সঠিক উত্তর: B. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা: জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এটি ভারতের কৃষি ও জলসম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন 4. ভারতের কোন রাজ্যে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

A. পাঞ্জাব
B. রাজস্থান
C. তামিলনাড়ু
D. হিমাচল প্রদেশ

সঠিক উত্তর: C. তামিলনাড়ু
ব্যাখ্যা: উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

প্রশ্ন 5. ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী?

A. International Tropical Climate Zone
B. Inter Tropical Convergence Zone
C. Indian Tropical Cyclone Zone
D. Inter Terrestrial Climate Zone

সঠিক উত্তর: B. Inter Tropical Convergence Zone
ব্যাখ্যা: ITCZ হলো নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছাকাছি নিম্নচাপ ও বায়ু-অভিসরণের বলয়। এটি ঋতুভেদে উত্তর-দক্ষিণে সরে যায় এবং ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন 6. El Niño প্রধানত কোন মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত?

A. আটলান্টিক মহাসাগর
B. ভারত মহাসাগর
C. প্রশান্ত মহাসাগর
D. আর্কটিক মহাসাগর

সঠিক উত্তর: C. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা: El Niño-র সময় মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। এটি বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরন এবং ভারতের মৌসুমি বায়ুকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রশ্ন 7. ঘূর্ণিঝড়ের সময় সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে উপকূলের দিকে উঠে আসাকে কী বলে?

A. Tsunami
B. Storm Surge
C. Tidal Bore
D. Ocean Current

সঠিক উত্তর: B. Storm Surge
ব্যাখ্যা: ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাস ও নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রের জল উপকূলের দিকে অস্বাভাবিকভাবে উঠে আসে। একে Storm Surge বা জলোচ্ছ্বাস বলা হয়। এটি উপকূলীয় বন্যা ও প্রাণহানির বড় কারণ হতে পারে।

প্রশ্ন 8. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) ভারতের কোন অঞ্চলে শীতকালীন বৃষ্টিপাত ঘটাতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

A. উত্তর-পশ্চিম ভারত
B. দক্ষিণ ভারতের পূর্ব উপকূল
C. আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ
D. গাঙ্গেয় বদ্বীপের দক্ষিণাংশ

সঠিক উত্তর: A. উত্তর-পশ্চিম ভারত
ব্যাখ্যা: পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দিক থেকে আগত আবহাওয়া ব্যবস্থা। এটি উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতকালীন বৃষ্টিপাত এবং হিমালয়ে তুষারপাত ঘটায়।

প্রশ্ন 9. কালবৈশাখী সাধারণত কোন ঋতুতে দেখা যায়?

A. শীতকাল
B. প্রাক্‌-বর্ষাকাল বা গ্রীষ্মের শেষভাগ
C. বর্ষার শেষভাগ
D. শরৎকাল

সঠিক উত্তর: B. প্রাক্‌-বর্ষাকাল বা গ্রীষ্মের শেষভাগ
ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে গ্রীষ্মের শেষভাগে স্থানীয় তাপ ও আর্দ্রতার প্রভাবে শক্তিশালী বজ্রঝড় সৃষ্টি হয়। একে কালবৈশাখী বলা হয়।

প্রশ্ন 10. কৃষিক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবকে কোন ধরনের খরা বলা হয়?

A. Meteorological Drought
B. Agricultural Drought
C. Hydrological Drought
D. Socio-economic Drought

সঠিক উত্তর: B. Agricultural Drought
ব্যাখ্যা: কৃষি খরা বা Agricultural Drought-এ ফসলের বৃদ্ধির জন্য মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে না। এর ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
MCQ প্রস্তুতির কৌশল: ঘূর্ণিঝড়ের Eye ও Eyewall, IMD-এর ঘূর্ণিঝড় শ্রেণিবিভাগ, মৌসুমি বায়ুর দুটি শাখা, ITCZ, El Niño, La Niña এবং খরার প্রকারভেদ ভালোভাবে মনে রাখুন। এই বিষয়গুলি থেকে সরাসরি তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন আসতে পারে।

13. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

1. ঘূর্ণিঝড় কাকে বলে?

নিম্ন বায়ুচাপকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান প্রবল বায়ুপ্রবাহ এবং তার সঙ্গে যুক্ত ঝড়-বৃষ্টি ও অন্যান্য আবহাওয়াগত ঘটনাকে ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

2. ঘূর্ণিঝড়ের চোখ (Eye) কী?

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় অংশকে Eye বলা হয়। এখানে বায়ুচাপ সর্বনিম্ন এবং শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে আবহাওয়া তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে।

3. ঘূর্ণিঝড়ের Eyewall কী?

Eye-এর চারপাশের বলয়াকার মেঘময় অঞ্চলকে Eyewall বলে। এখানে সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস ও ভারী বৃষ্টি দেখা যায়।

4. বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ, আর্দ্রতা, বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে।

5. মৌসুমি বায়ু কী?

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলা হয়। ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

6. ভারতের প্রধান বর্ষাকাল কোনটি?

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের প্রধান বর্ষাকাল। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে এই বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়।

7. তামিলনাড়ুতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আর্দ্রতা সংগ্রহ করে এবং তামিলনাড়ু উপকূলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত ঘটায়।

8. El Niño কি ভারতের মৌসুমি বায়ুকে প্রভাবিত করে?

হ্যাঁ। El Niño অনেক সময় ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এর প্রভাব প্রতি বছর একই রকম হয় না।

9. কালবৈশাখী কী?

গ্রীষ্মের শেষভাগে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে সংঘটিত শক্তিশালী স্থানীয় বজ্রঝড়কে কালবৈশাখী বলা হয়।

10. Storm Surge বা জলোচ্ছ্বাস কী?

ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাস ও নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উচ্চতায় উপকূলের দিকে উঠে আসাকে Storm Surge বলা হয়।

14. আরও পড়ুন: গুরুত্বপূর্ণ ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক নোট

15. নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক পাঠ্যসূত্র

এই অধ্যায়ের তথ্য আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নীচের উৎসগুলি পড়ুন।

এই উৎসগুলি ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণিবিভাগ, মৌসুমি বায়ুর প্রক্রিয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেয়।

16. সম্পর্কিত পরীক্ষার প্রস্তুতি ও স্টাডি রিসোর্স

ভূগোল, পরিবেশ ও সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে MyTestSeries-এর সংশ্লিষ্ট নোট ও অনুশীলন সামগ্রী পড়ুন।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি সামগ্রী ও নতুন আপডেট পেতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন এবং WhatsApp চ্যানেলে যুক্ত থাকুন।






Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series