Government Exam Preparation
নদী, বায়ু ও হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপ: সম্পূর্ণ বাংলা নোট
পৃথিবীর উপরিভাগ সর্বদা পরিবর্তিত হচ্ছে। নদীর প্রবাহ, বায়ুর ক্রিয়া এবং হিমবাহের চলাচলের ফলে কোথাও ভূমির ক্ষয় হয়, আবার কোথাও পলি, বালি বা শিলাখণ্ড জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াগুলি থেকে গিরিখাত, জলপ্রপাত, বদ্বীপ, বালিয়াড়ি, U-আকৃতির উপত্যকা, মোরেনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূপ্রকৃতির সৃষ্টি হয়।
WBPSC, WBCS, Clerkship, Railway, SSC, Police, TET, Group C ও Group D-সহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার ভূগোল অংশের প্রস্তুতির জন্য এই নোটটি সাজানো হয়েছে।
বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন
দৈনিক পরীক্ষা আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ নোটের জন্য WhatsApp Channel-এ যোগ দিন
সূচিপত্র
১. ভূমিরূপ, ক্ষয় ও সঞ্চয় কী?
ভূমিরূপ (Landform) বলতে পৃথিবীর পৃষ্ঠের স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক আকৃতি বা গঠনকে বোঝায়। পাহাড়, উপত্যকা, সমভূমি, বদ্বীপ, বালিয়াড়ি ও হিমবাহ-গঠিত উপত্যকা ভূমিরূপের উদাহরণ।
ক্ষয় (Erosion)
নদীর জল, বায়ু বা হিমবাহ যখন শিলা ও মাটির কণা ভেঙে সরিয়ে নিয়ে যায়, তখন তাকে ক্ষয় বলে। ক্ষয় ভূমির উচ্চতা ও আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে।
পরিবহণ (Transportation)
ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখণ্ড, বালি, কাদা ও পলি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন হওয়াকে পরিবহণ বলে।
সঞ্চয় (Deposition)
নদী, বায়ু বা হিমবাহের বহনক্ষমতা কমে গেলে পরিবাহিত পদার্থ জমা হয়। এই জমা হওয়ার প্রক্রিয়াই সঞ্চয়।
২. নদীর দ্বারা সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপ (Landforms Formed by Rivers)
নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় নদীগর্ভ ও নদীতীরের ক্ষয় করে, শিলাখণ্ড ও পলি পরিবহণ করে এবং প্রবাহের গতি কমে গেলে সেই পদার্থ সঞ্চয় করে। নদীর ঢাল, জলের পরিমাণ, প্রবাহের গতি, শিলার প্রকৃতি এবং বহন করা পদার্থের পরিমাণের উপর ভূমিরূপের ধরন নির্ভর করে।
২.১ V-আকৃতির উপত্যকা (V-shaped Valley)
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ঢাল বেশি থাকায় জল দ্রুত বেগে প্রবাহিত হয়। এই পর্যায়ে নদীর নিম্নক্ষয় বা উল্লম্ব ক্ষয় বেশি কার্যকর হয়। ফলে নদীখাত গভীর হতে থাকে এবং দুই পাশের ঢাল মিলিয়ে ইংরেজি V অক্ষরের মতো উপত্যকা তৈরি হয়।
পরীক্ষার তথ্য: V-আকৃতির উপত্যকা সাধারণত নদীর উচ্চগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
২.২ গিরিখাত ও ক্যানিয়ন (Gorge and Canyon)
গিরিখাত (Gorge) হলো গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকা, যার পার্শ্বপ্রাচীর খাড়া হতে পারে। নদীর দীর্ঘস্থায়ী নিম্নক্ষয় এবং শিলার প্রকৃতি এর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ক্যানিয়ন (Canyon) হলো গভীর উপত্যকা, যার পার্শ্বদেশ অনেক সময় ধাপযুক্ত এবং উপরের অংশ নিচের তুলনায় প্রশস্ত হতে পারে। অনুভূমিক স্তরযুক্ত শিলায় ক্যানিয়ন গড়ে উঠতে পারে।
গিরিখাত ও ক্যানিয়নের বৈশিষ্ট্য কিছু ক্ষেত্রে কাছাকাছি হতে পারে; তাই পরীক্ষায় প্রশ্নের বর্ণনা মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
২.৩ জলপ্রপাত (Waterfall)
নদীর প্রবাহপথে কঠিন ও নরম শিলার অসম ক্ষয়, ভূস্তরের আকস্মিক উচ্চতার পার্থক্য অথবা খাড়া ঢালের কারণে জলপ্রপাত তৈরি হতে পারে। কঠিন শিলার তুলনায় নরম শিলা দ্রুত ক্ষয় হলে ধাপ বা খাড়া পতন তৈরি হয়। জলপ্রপাতের পাদদেশে জল ও পাথরের ঘূর্ণায়মান আঘাতে গভীর গর্তও তৈরি হতে পারে।
২.৪ পটহোল ও প্লাঞ্জ পুল (Pothole and Plunge Pool)
নদীর পাথুরে তলদেশে ঘূর্ণায়মান জল এবং তার সঙ্গে ঘুরতে থাকা পাথর ও নুড়ির ঘর্ষণে গোলাকার গর্ত তৈরি হলে তাকে পটহোল বলে। জলপ্রপাতের নিচে জলপতনের আঘাতে গঠিত গভীর গর্তকে প্লাঞ্জ পুল বলে।
২.৫ মিয়ান্ডার বা নদীর আঁকাবাঁকা বাঁক (Meander)
সমভূমিতে নদীর ঢাল কমে গেলে নদী অনেক সময় আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। বাঁকের বাইরের দিকে প্রবাহের গতি ও ক্ষয় বেশি হতে পারে, আর ভেতরের দিকে তুলনামূলকভাবে পলি সঞ্চয় হয়। এই বাঁকগুলিকে মিয়ান্ডার বলে।
২.৬ অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Oxbow Lake)
নদীর মিয়ান্ডারের বাঁক ক্রমশ বড় হলে কোনো পর্যায়ে নদী বাঁকের সরু সংযোগপথ কেটে অপেক্ষাকৃত সোজা পথে প্রবাহিত হতে পারে। পুরোনো বাঁকটি মূল প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বক্ষুর বা ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ তৈরি করে।
মনে রাখুন: Oxbow Lake হলো পরিত্যক্ত নদীবাঁকের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূমিরূপ।
২.৭ প্লাবনভূমি (Floodplain)
বন্যার সময় নদী তীর উপচে আশপাশের জমিতে পলি, বালি ও সূক্ষ্ম কাদা ছড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই সঞ্চয়ের ফলে নদীর দুপাশে বিস্তৃত সমতল ভূমি তৈরি হতে পারে, যাকে প্লাবনভূমি বলে। পলিসমৃদ্ধ প্লাবনভূমি অনেক ক্ষেত্রে কৃষিকাজের জন্য উপযোগী।
২.৮ প্রাকৃতিক বাঁধ (Natural Levee)
বন্যার সময় নদীর জল তীর উপচে বেরিয়ে এলে নদীর কাছাকাছি অপেক্ষাকৃত মোটা কণা আগে জমা হতে পারে। বারবার সঞ্চয়ের ফলে নদীর দুই তীরে সামান্য উঁচু প্রাকৃতিক বাঁধের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়। একে প্রাকৃতিক বাঁধ বলে। এটি মানুষের তৈরি বাঁধ নয়।
২.৯ পলল পাখা (Alluvial Fan)
পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা নদী বা জলধারা সমতল বা কম ঢালযুক্ত ভূমিতে প্রবেশ করলে প্রবাহের গতি কমতে পারে। ফলে বালি, নুড়ি ও অন্যান্য পলি পাখার মতো ছড়িয়ে সঞ্চিত হয়। এই ভূমিরূপকে পলল পাখা বলে।
২.১০ বদ্বীপ (Delta)
নদী যখন সমুদ্র, হ্রদ বা অন্য কোনো স্থির জলভাগে প্রবেশ করে, তখন তার বহন করা পলির কিছু অংশ জমা হতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতিতে এই সঞ্চয় নদীমুখে বদ্বীপ তৈরি করে। বদ্বীপে নদী একাধিক শাখা বা উপশাখায় বিভক্ত হতে পারে।
উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ বিশ্বের বৃহৎ বদ্বীপগুলির মধ্যে অন্যতম। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশের সুন্দরবন এই বিস্তৃত বদ্বীপীয় পরিবেশের অংশ।
৩. বায়ুর দ্বারা সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপ (Landforms Formed by Wind)
শুষ্ক মরুভূমি ও উদ্ভিদহীন অঞ্চলে বায়ু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-আকৃতিক শক্তি। বায়ু বালিকণা ও ধূলিকণা সরিয়ে নিয়ে যায়, শিলার গায়ে আঘাত করে ক্ষয় ঘটায় এবং গতি কমে গেলে বালি সঞ্চয় করে। বায়ুর কাজ সাধারণত শুষ্ক অঞ্চলে বেশি স্পষ্ট হয়, যদিও বায়ু অন্যান্য অঞ্চলেও ভূমিরূপ পরিবর্তন করে।
৩.১ অপসারণ গর্ত (Deflation Hollow)
বায়ু যখন আলগা বালি, ধূলিকণা ও সূক্ষ্ম পদার্থ উড়িয়ে সরিয়ে নিয়ে যায়, তখন ভূমিতে অবনমিত গর্ত তৈরি হতে পারে। একে অপসারণ গর্ত বা Deflation Hollow বলে। এর গভীরতা ও আকার স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।
৩.২ মাশরুম শিলা বা পেডেস্টাল রক (Mushroom Rock)
বায়ুবাহিত বালিকণা ভূমির কাছাকাছি উচ্চতায় শিলার নিচের অংশে বেশি ঘর্ষণ ঘটাতে পারে। শিলার নিচের অংশ তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হলে উপরের অংশ চওড়া এবং নিচের অংশ সরু হয়ে মাশরুমের মতো আকৃতি তৈরি হয়। একে মাশরুম শিলা বলে।
৩.৩ ইয়ারডাং (Yardang)
বায়ুর ঘর্ষণ ও অপসারণের ফলে নরম শিলা বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন শিলা লম্বাটে উঁচু রেখা বা শৈলশিরার মতো থেকে যেতে পারে। বায়ুর প্রধান প্রবাহের দিক বরাবর তৈরি হওয়া এই দীর্ঘায়িত ক্ষয়জাত ভূমিরূপকে ইয়ারডাং বলে।
৩.৪ বালিয়াড়ি (Sand Dune)
বায়ুবাহিত বালি কোনো বাধা, উদ্ভিদ বা অন্য কারণে জমা হতে থাকলে বালিয়াড়ি তৈরি হয়। বায়ুর গতি, বালির সরবরাহ, বায়ুর দিক এবং উদ্ভিদের উপস্থিতি বালিয়াড়ির আকার নির্ধারণ করে।
৩.৫ বারখান (Barchan)
বারখান হলো অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়ি। সাধারণত সীমিত বালির সরবরাহ এবং একটি প্রধান বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে এটি গড়ে ওঠে। এর দুই প্রান্ত বা শিং সাধারণত বায়ুর প্রবাহের দিকে নির্দেশ করে।
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ: বারখান হলো বায়ুর সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ। এর শিং বায়ুর প্রবাহের দিকে নির্দেশ করে।
৩.৬ অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি (Longitudinal Dune)
কিছু মরুভূমিতে বালিয়াড়ি বায়ুর প্রধান প্রবাহের সঙ্গে প্রায় সমান্তরালভাবে দীর্ঘ রেখার মতো বিস্তৃত হয়। এগুলিকে অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বলা হয়। বায়ুর দিকের পরিবর্তন এবং বালির সরবরাহের উপর এর গঠন নির্ভর করে।
৩.৭ লোয়েস (Loess)
বায়ুবাহিত সূক্ষ্ম পলি বা ধূলিকণা দূরবর্তী স্থানে জমা হয়ে লোয়েস নামে পরিচিত সঞ্চয় গঠন করতে পারে। লোয়েস সাধারণত সূক্ষ্ম কণাযুক্ত এবং বিস্তৃত আবরণ তৈরি করতে সক্ষম।
৪. হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপ (Landforms Formed by Glaciers)
হিমবাহ হলো স্থলভাগে জমা হওয়া বরফের বিশাল স্তর, যা নিজের ওজন এবং মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ধীরে ধীরে সরে যায়। চলমান হিমবাহ শিলাকে ঘষে, ভেঙে ও তুলে নিয়ে ক্ষয় ঘটায়। হিমবাহ গলে গেলে তার বহন করা শিলাখণ্ড, বালি ও অন্যান্য পদার্থ বিভিন্ন স্থানে সঞ্চিত হয়।
৪.১ সার্ক বা করি (Cirque/Corrie)
পর্বতের উচ্চ অংশে হিমবাহের উৎপত্তিস্থলের কাছে বাটি বা অ্যাম্ফিথিয়েটারের মতো অবনমিত ভূমিরূপ তৈরি হতে পারে। হিমবাহের ক্ষয়ের ফলে গঠিত এই অবনমিত অংশকে সার্ক বা করি বলে। হিমবাহ গলে গেলে এর মধ্যে জল জমে ছোট হ্রদ তৈরি হতে পারে, যাকে Tarn বলে।
৪.২ U-আকৃতির উপত্যকা (U-shaped Valley)
নদী সাধারণত সংকীর্ণ V-আকৃতির উপত্যকা তৈরি করতে পারে। হিমবাহ সেই উপত্যকার তলদেশ ও দুই পাশ ঘষে প্রশস্ত ও গভীর করলে উপত্যকার আড়াআড়ি ছেদ U অক্ষরের মতো হয়ে যায়। একে U-আকৃতির উপত্যকা বা Glacial Trough বলে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: নদীর ক্ষয়ে সাধারণত V-আকৃতির উপত্যকা এবং হিমবাহের ক্ষয়ে সাধারণত U-আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়।
৪.৩ হর্ন ও আরেত (Horn and Arête)
একাধিক দিক থেকে হিমবাহের ক্ষয় একটি পর্বতশৃঙ্গকে ধারালো ও সুচালো করে তুলতে পারে। এমন পিরামিডের মতো শৃঙ্গকে হর্ন বলে। পাশাপাশি থাকা হিমবাহ-গঠিত উপত্যকা বা সার্কের মধ্যবর্তী সরু, ধারালো পর্বতশিরাকে আরেত বলে।
৪.৪ ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley)
প্রধান হিমবাহের উপত্যকা অনেক সময় উপনদীসদৃশ ছোট হিমবাহের উপত্যকার তুলনায় বেশি গভীর হয়। বরফ গলে গেলে ছোট উপত্যকাটি প্রধান উপত্যকার তুলনায় উঁচুতে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে যায়। একে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে। এর প্রান্তে জলপ্রপাত তৈরি হতে পারে।
৪.৫ মোরেন (Moraine)
হিমবাহ তার সঙ্গে বিভিন্ন আকারের শিলাখণ্ড, নুড়ি, বালি ও সূক্ষ্ম গুঁড়ো শিলা বহন করে। হিমবাহের পাশে, সামনে বা তলদেশে এই পদার্থ সঞ্চিত হলে তাকে মোরেন বলে।
- পার্শ্ব মোরেন (Lateral Moraine): হিমবাহের পাশ বরাবর সঞ্চিত পদার্থ।
- প্রান্ত মোরেন (Terminal Moraine): হিমবাহের সর্বাধিক অগ্রসর প্রান্তের কাছে সঞ্চিত পদার্থ।
- মধ্য মোরেন (Medial Moraine): দুটি হিমবাহের মিলনের পর তাদের পার্শ্বীয় সঞ্চয় যুক্ত হয়ে মাঝখানে যে শিলাপদার্থের রেখা তৈরি করে।
৪.৬ ড্রামলিন (Drumlin)
হিমবাহের সঞ্চিত পদার্থ দিয়ে তৈরি দীর্ঘায়িত, মসৃণ ও ঢিবির মতো ভূমিরূপকে ড্রামলিন বলে। এর আকৃতি অনেক সময় উল্টানো নৌকা বা চামচের মতো দেখায়। ড্রামলিনের দীর্ঘ অক্ষ থেকে হিমবাহের প্রবাহ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে, তবে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার জন্য স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ।
৪.৭ এস্কার (Esker)
হিমবাহের নিচে বা বরফের ভেতরের সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবাহিত গলিত জল বালি ও নুড়ি জমা করতে পারে। বরফ গলে যাওয়ার পর এই সঞ্চয় দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো থেকে যায়। একে এস্কার বলে।
৪.৮ আউটওয়াশ সমভূমি (Outwash Plain)
হিমবাহের গলিত জল বরফের সামনের দিকে বালি, নুড়ি ও অন্যান্য পলি ছড়িয়ে জমা করলে বিস্তৃত সমভূমি তৈরি হতে পারে। একে আউটওয়াশ সমভূমি বলে। মোরেনের মতো সরাসরি বরফের সঞ্চয়ের বদলে গলিত জলের পরিবহণ ও সঞ্চয় এখানে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
৫. ক্ষয়জাত ও সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের তুলনা
| প্রাকৃতিক শক্তি | ক্ষয়জাত ভূমিরূপ | সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ |
|---|---|---|
| নদী | V-আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত, ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত, পটহোল | প্লাবনভূমি, প্রাকৃতিক বাঁধ, পলল পাখা, বদ্বীপ |
| বায়ু | মাশরুম শিলা, ইয়ারডাং, অপসারণ গর্ত | বারখান, অন্যান্য বালিয়াড়ি, লোয়েস |
| হিমবাহ | সার্ক, হর্ন, আরেত, U-আকৃতির উপত্যকা, ঝুলন্ত উপত্যকা | মোরেন, ড্রামলিন, এস্কার, আউটওয়াশ সমভূমি |
৬. নদী, বায়ু ও হিমবাহের কাজের মধ্যে পার্থক্য
| তুলনার বিষয় | নদী | বায়ু | হিমবাহ |
|---|---|---|---|
| প্রধান মাধ্যম | প্রবাহিত জল | চলমান বায়ু | চলমান বরফ |
| বিশেষ কার্যকর অঞ্চল | পার্বত্য নদীখাত ও নদী অববাহিকা | শুষ্ক ও উদ্ভিদহীন অঞ্চল | উচ্চ পর্বত ও শীতল হিমবাহ অঞ্চল |
| বহন করা পদার্থ | পলি, বালি, নুড়ি ও শিলাখণ্ড | ধূলিকণা ও বালি | বিভিন্ন আকারের শিলাখণ্ড ও পলি |
| চেনার মতো ভূমিরূপ | V-উপত্যকা, মিয়ান্ডার, বদ্বীপ | মাশরুম শিলা, বারখান | U-উপত্যকা, সার্ক, মোরেন |
৭. পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলের সঙ্গে এই বিষয়ের সম্পর্ক
পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি বুঝতে নদীবাহিত পলি, বদ্বীপ, উপকূলীয় সঞ্চয়, পাহাড়ি নদীর ক্ষয় এবং ভূমিক্ষয়ের প্রভাব জানা জরুরি। রাজ্যের উত্তরাংশে হিমালয়সংলগ্ন পাহাড় ও নদী উপত্যকা রয়েছে। দক্ষিণে গাঙ্গেয় বদ্বীপ ও সুন্দরবনের জোয়ার-ভাটাপ্রভাবিত পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।
- উত্তরবঙ্গ: পাহাড়ি ঢাল, নদী উপত্যকা ও পলিবাহিত নদীর কার্যকলাপ গুরুত্বপূর্ণ।
- গাঙ্গেয় সমভূমি: নদীর পলি সঞ্চয়, প্লাবনভূমি এবং কৃষির সম্পর্ক পরীক্ষায় প্রাসঙ্গিক।
- সুন্দরবন: বদ্বীপীয় ভূমিরূপ, নদী-খাঁড়ি, জোয়ার-ভাটা এবং ম্যানগ্রোভ পরিবেশের জন্য পরিচিত।
- উপকূলীয় অঞ্চল: নদী ও সমুদ্রের সম্মিলিত প্রভাবে পলি সঞ্চয় এবং উপকূলীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের অঞ্চলভিত্তিক ভূগোল ও নদী সম্পর্কে আরও পড়ুন:
৮. পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ লিংক
ভূগোলের এই অধ্যায়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে নিচের সম্পর্কিত নোটগুলি পড়ুন।
৯. আরও পড়ার জন্য ৩টি নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক শিক্ষামূলক উৎস
- SATHEE / NCERT: Landforms and Their Evolution — নদী, বায়ু, হিমবাহ ও অন্যান্য ভূ-আকৃতিক শক্তির বিস্তারিত আলোচনা।
- USGS: Geology of Glacier National Park — হিমবাহের U-আকৃতির উপত্যকা, সার্ক, হর্ন ও মোরেন সম্পর্কে তথ্য।
- United States Geological Survey (USGS) — ভূতত্ত্ব, ভূমিরূপ ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য।
বাহ্যিক লিংকগুলি পাঠকের অতিরিক্ত পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়েছে। প্রকাশের আগে প্রতিটি লিংক খুলে দেখে নিন এবং আপনার WordPress সেটিংস অনুযায়ী নতুন ট্যাবে খোলার আচরণ ঠিক আছে কি না যাচাই করুন।
বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন — আরও নোট ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য
১০. ১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ: উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
নিচের প্রশ্নগুলি অনুশীলনের জন্য। এটি কোনো অনলাইন টেস্ট নয়; প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে সঠিক উত্তর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
১. সাধারণত নদীর ক্ষয়ে কোন ধরনের উপত্যকা তৈরি হয়?
ক) U-আকৃতির উপত্যকা
খ) V-আকৃতির উপত্যকা
গ) বৃত্তাকার উপত্যকা
ঘ) অর্ধচন্দ্রাকার উপত্যকা
ব্যাখ্যা: পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের ফলে গভীর ও সংকীর্ণ V-আকৃতির উপত্যকা গড়ে উঠতে পারে।
২. বদ্বীপ প্রধানত কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়?
ক) পলি সঞ্চয়
খ) আগ্নেয় উদ্গীরণ
গ) ভূমিকম্প
ঘ) বায়ুর অপসারণ
ব্যাখ্যা: নদী মোহনা বা স্থির জলভাগে প্রবেশ করে গতি ও বহনক্ষমতা হারালে পলি জমতে পারে। অনুকূল অবস্থায় এই সঞ্চয় থেকে বদ্বীপ তৈরি হয়।
৩. নদীর আঁকাবাঁকা বাঁককে কী বলা হয়?
ক) মোরেন
খ) মিয়ান্ডার
গ) বারখান
ঘ) এস্কার
ব্যাখ্যা: সমভূমিতে নদীর প্রবাহপথে তৈরি হওয়া বড় আঁকাবাঁকা বাঁককে মিয়ান্ডার বলা হয়।
৪. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কীভাবে তৈরি হয়?
ক) হিমবাহের গলনে
খ) নদীর পরিত্যক্ত বাঁক বিচ্ছিন্ন হলে
গ) বায়ুতে বালি জমলে
ঘ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে
ব্যাখ্যা: নদী মিয়ান্ডারের সরু সংযোগপথ কেটে নতুন পথে প্রবাহিত হলে পুরোনো বাঁকটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ গঠন করতে পারে।
৫. মাশরুম শিলা প্রধানত কোন প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক) বায়ু
খ) হিমবাহের সঞ্চয়
গ) নদীর বদ্বীপ সঞ্চয়
ঘ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা: বায়ুবাহিত বালিকণার ঘর্ষণে শিলার নিচের অংশ বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হলে মাশরুমের মতো আকৃতি তৈরি হতে পারে।
৬. বারখান কী ধরনের ভূমিরূপ?
ক) নদীর ক্ষয়জাত
খ) বায়ুর সঞ্চয়জাত
গ) হিমবাহের ক্ষয়জাত
ঘ) আগ্নেয় সঞ্চয়জাত
ব্যাখ্যা: বারখান একটি অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়ি, যা সাধারণত বায়ুর দ্বারা বালি সঞ্চয়ের ফলে গড়ে ওঠে।
৭. হিমবাহের ক্ষয়ে সাধারণত কোন ধরনের উপত্যকা তৈরি হয়?
ক) V-আকৃতির
খ) U-আকৃতির
গ) কেবল বৃত্তাকার
ঘ) সমতল বদ্বীপ
ব্যাখ্যা: চলমান হিমবাহ উপত্যকার তলদেশ ও পার্শ্বদেশ ক্ষয় করে উপত্যকাকে প্রশস্ত ও গভীর করতে পারে। ফলে U-আকৃতির উপত্যকা গড়ে ওঠে।
৮. হিমবাহের দ্বারা সঞ্চিত শিলাখণ্ড ও পলির স্তূপকে কী বলা হয়?
ক) মিয়ান্ডার
খ) মোরেন
গ) বদ্বীপ
ঘ) লোয়েস
ব্যাখ্যা: হিমবাহের পাশে, প্রান্তে বা তলদেশে জমা হওয়া বিভিন্ন আকারের শিলাখণ্ড ও পলিকে মোরেন বলে।
৯. সার্কের অববাহিকায় হিমবাহ গলে জল জমে যে হ্রদ তৈরি হয়, তাকে কী বলা হয়?
ক) টার্ন (Tarn)
খ) অক্সবো লেক
গ) লেগুন
ঘ) প্লাবনভূমি
ব্যাখ্যা: হিমবাহের ক্ষয়ে তৈরি সার্কের অববাহিকায় বরফ গলে জল জমলে টার্ন নামে পরিচিত হ্রদ গঠিত হতে পারে।
১০. নদীর দুই তীরে বন্যার সময় পলি সঞ্চয়ের ফলে তৈরি উঁচু প্রাকৃতিক ভূমিরূপকে কী বলে?
ক) প্রাকৃতিক বাঁধ
খ) হর্ন
গ) বারখান
ঘ) ইয়ারডাং
ব্যাখ্যা: বন্যার জল নদীতীর উপচে পড়লে নদীর কাছাকাছি তুলনামূলক মোটা পলি আগে জমা হতে পারে। বারবার সঞ্চয়ের ফলে প্রাকৃতিক বাঁধ গড়ে ওঠে।
১১. এক নজরে পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| প্রশ্নের সংকেত | মনে রাখার উত্তর |
|---|---|
| নদীর উপত্যকা | V-আকৃতির উপত্যকা |
| হিমবাহের উপত্যকা | U-আকৃতির উপত্যকা |
| নদীর মোহনায় পলি সঞ্চয় | বদ্বীপ |
| নদীর বিচ্ছিন্ন পুরোনো বাঁক | অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ |
| বায়ুর ক্ষয়ে মাশরুমের মতো শিলা | মাশরুম শিলা / পেডেস্টাল রক |
| অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়ি | বারখান |
| হিমবাহের সঞ্চিত শিলাপদার্থ | মোরেন |
| সার্কে গঠিত হ্রদ | টার্ন |
| বন্যার পলি সঞ্চয় | প্লাবনভূমি ও প্রাকৃতিক বাঁধ |
| বায়ুবাহিত সূক্ষ্ম পলির সঞ্চয় | লোয়েস |
প্রতিদিনের GK, নোট ও পরীক্ষার আপডেট পেতে WhatsApp Channel-এ যোগ দিন
১২. পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সম্পর্কিত বিষয় ও রেজিস্ট্রেশন
ভূগোলের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান ও অন্যান্য পরীক্ষামুখী বিষয়ের নোট পড়ুন।
১৩. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
নদী, বায়ু ও হিমবাহ কীভাবে ভূমিরূপ তৈরি করে?
এই তিনটি প্রাকৃতিক শক্তি ক্ষয়, পরিবহণ ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমিরূপ তৈরি করে। নদী জল ও পলি বহন করে, বায়ু ধূলিকণা ও বালি সরিয়ে নিয়ে যায় এবং হিমবাহ বরফের সঙ্গে শিলাখণ্ড বহন করে।
নদী ও হিমবাহের উপত্যকার প্রধান পার্থক্য কী?
নদীর ক্ষয়ে সাধারণত V-আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়। হিমবাহ উপত্যকার তলদেশ ও পার্শ্বদেশকে প্রশস্ত ও গভীর করে সাধারণত U-আকৃতির উপত্যকা তৈরি করে।
বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয়?
নদী মোহনা বা স্থির জলভাগে প্রবেশ করলে বহন করা পলির একাংশ জমা হয়। উপযুক্ত পরিবেশে দীর্ঘদিনের পলি সঞ্চয় থেকে বদ্বীপ তৈরি হয়।
বারখান ও মোরেনের মধ্যে পার্থক্য কী?
বারখান হলো বায়ুর দ্বারা গঠিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়ি। মোরেন হলো হিমবাহের দ্বারা সঞ্চিত শিলাখণ্ড ও পলির স্তূপ।
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কী?
নদীর মিয়ান্ডারের বাঁক বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল প্রবাহ থেকে আলাদা হলে যে হ্রদ তৈরি হয়, তাকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বা Oxbow Lake বলে।
সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের কোন বিষয়গুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
V-আকৃতির ও U-আকৃতির উপত্যকা, বদ্বীপ, মিয়ান্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, বারখান, মাশরুম শিলা, সার্ক, মোরেন এবং ক্ষয়জাত ও সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের পার্থক্য বিশেষভাবে অনুশীলন করা উচিত।
উপসংহার
নদী, বায়ু ও হিমবাহ পৃথিবীর উপরিভাগকে ক্রমাগত পরিবর্তন করে। কোন ভূমিরূপ ক্ষয়ের ফলে তৈরি হয়েছে এবং কোনটি সঞ্চয়ের ফলে তৈরি হয়েছে—এই পার্থক্য বুঝে পড়লে ভূগোলের MCQ সমাধান সহজ হয়। বিশেষভাবে V-আকৃতির উপত্যকা ও U-আকৃতির উপত্যকা, বদ্বীপ ও মিয়ান্ডার, বারখান ও মোরেনের মতো বিষয়গুলি নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করুন।
এই নোটটি পরীক্ষার প্রস্তুতির সহায়ক শিক্ষামূলক উপকরণ হিসেবে তৈরি। সর্বশেষ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ও সিলেবাসের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মিলিয়ে নেবেন।




