জলদূষণ (Water Pollution): কারণ, প্রভাব, প্রতিকার ও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ
জলদূষণ কী? জলাশয়, নদী, হ্রদ, সমুদ্র বা ভূগর্ভস্থ জলে ক্ষতিকর জীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ, বর্জ্য কিংবা অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান মিশে যখন জলের স্বাভাবিক গুণমান নষ্ট করে এবং মানুষ, অন্যান্য জীব বা পরিবেশের ক্ষতি করে, তখন তাকে জলদূষণ বলে।
এই নোটে জলদূষণের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, উৎস, BOD ও eutrophication, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর প্রভাব, প্রতিরোধ, ভারতের আইন এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার উপযোগী ১০টি MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করা হয়েছে।
১. জলদূষণ কাকে বলে?
জলের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক বৈশিষ্ট্যের এমন ক্ষতিকর পরিবর্তন, যার ফলে জল পান, গৃহস্থালি, কৃষি, শিল্প বা জলজ প্রাণীর জন্য অনুপযুক্ত বা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তাকে জলদূষণ বলা হয়। সব দূষণ চোখে দেখা যায় না—স্বচ্ছ জলেও জীবাণু, আর্সেনিক, সিসা বা অন্যান্য রাসায়নিক দূষক থাকতে পারে।
জলদূষণের প্রধান বৈশিষ্ট্য
- ভৌত পরিবর্তন: ঘোলাভাব, রং, গন্ধ বা তাপমাত্রার পরিবর্তন।
- রাসায়নিক পরিবর্তন: বিষাক্ত ধাতু, কীটনাশক, অতিরিক্ত সারজাতীয় উপাদান বা শিল্প-রাসায়নিকের উপস্থিতি।
- জৈবিক দূষণ: রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীর উপস্থিতি।
- জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি: দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যাওয়া, শৈবালের অতিবৃদ্ধি এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়া।
২. জলদূষণের প্রকারভেদ
| প্রকার | ব্যাখ্যা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ভৌত দূষণ | জলের রং, ঘোলাভাব বা তাপমাত্রার ক্ষতিকর পরিবর্তন। | নির্মাণকাজের মাটি ও পলি জলে মেশা। |
| রাসায়নিক দূষণ | ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ধাতুর উপস্থিতি। | শিল্পবর্জ্য, কীটনাশক, আর্সেনিক, সিসা। |
| জৈবিক দূষণ | রোগজীবাণু বা জৈব বর্জ্যের মাধ্যমে দূষণ। | অপরিশোধিত নর্দমার জল, মলজাত জীবাণু। |
| তাপীয় দূষণ | উষ্ণ বর্জ্যজল জলাশয়ে পড়ে তাপমাত্রা বাড়ায়। | বিদ্যুৎকেন্দ্র বা শিল্প থেকে নির্গত উষ্ণ জল। |
| পুষ্টি উপাদানজনিত দূষণ | নাইট্রেট ও ফসফেটের অতিরিক্ত প্রবেশে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। | কৃষিজমি থেকে সার ধুয়ে জলাশয়ে প্রবেশ। |
| প্লাস্টিক দূষণ | প্লাস্টিক ও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জলজ পরিবেশে জমা হয়। | নদী ও সমুদ্রে প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও মাইক্রোপ্লাস্টিক। |
৩. জলদূষণের প্রধান কারণ ও উৎস
৩.১ গৃহস্থালি নর্দমা ও পয়ঃবর্জ্য
বাড়ি, বাজার ও শহর থেকে উৎপন্ন অপরিশোধিত নর্দমার জল নদী বা পুকুরে পড়লে জৈব বর্জ্য এবং রোগজীবাণু ছড়াতে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় ও টাইফয়েডের মতো জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
৩.২ শিল্পবর্জ্য
কিছু শিল্পের বর্জ্যজলে ভারী ধাতু, অ্যাসিড, ক্ষার, রং এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে। যথাযথ শোধন ছাড়া এই জল জলাশয়ে ফেললে জলজ প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।
৩.৩ কৃষিজমি থেকে সার ও কীটনাশকের প্রবাহ
বৃষ্টি বা সেচের জল কৃষিজমি থেকে নাইট্রেট, ফসফেট ও কীটনাশক ধুয়ে পুকুর, খাল, নদী এবং ভূগর্ভস্থ জলে নিয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত নাইট্রেট ও ফসফেট জলাশয়ে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
৩.৪ প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য
প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতল, একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ও অন্যান্য আবর্জনা জলাশয়ে ফেললে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্লাস্টিক ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে জলজ প্রাণীর শরীরেও প্রবেশ করতে পারে।
৩.৫ তেল, জাহাজ ও পরিবহণজনিত দূষণ
জাহাজ থেকে তেল নিঃসরণ, জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া এবং বন্দরসংলগ্ন বর্জ্য সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। তেলের স্তর জলের উপরিভাগে ছড়িয়ে পড়লে জীবের সঙ্গে জলের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
৩.৬ খনি, নির্মাণকাজ ও মাটিক্ষয়
খনি ও নির্মাণকাজ থেকে মাটি, পলি এবং কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থ জলাশয়ে প্রবেশ করে ঘোলাভাব বাড়াতে পারে। এতে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩.৭ ভূগর্ভস্থ জলের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দূষণ
কিছু অঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক কারণে ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক বা ফ্লুরাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হতে পারে। আবার অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দূষিত সেপটিক ব্যবস্থা এবং রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারও ভূগর্ভস্থ জলের গুণমান নষ্ট করতে পারে।
৪. জলের গুণমান: BOD, DO, COD ও Eutrophication
৪.১ BOD (Biochemical Oxygen Demand)
BOD হলো নির্দিষ্ট পরীক্ষার শর্তে জলের মধ্যে থাকা জৈব পদার্থ ভাঙতে অণুজীবের যে পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রয়োজন, তার পরিমাপ। অনেক ক্ষেত্রে BOD বেশি হওয়া জলে জৈব দূষণের বেশি উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
পরীক্ষার সূত্র: সাধারণভাবে BOD বেশি → জৈব পদার্থ ভাঙতে বেশি অক্সিজেনের চাহিদা।
৪.২ DO (Dissolved Oxygen)
DO হলো জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ। মাছ ও বহু জলজ জীব বেঁচে থাকার জন্য এই অক্সিজেনের উপর নির্ভর করে। জৈব বর্জ্য ভাঙার সময় অণুজীব অক্সিজেন ব্যবহার করলে DO কমে যেতে পারে।
৪.৩ COD (Chemical Oxygen Demand)
COD হলো রাসায়নিক পদ্ধতিতে জলে উপস্থিত অক্সিডাইজযোগ্য পদার্থের পরিমাণ নির্ণয়ের একটি সূচক। এটি শিল্পবর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের দূষিত জলের মূল্যায়নে ব্যবহার করা হয়। BOD ও COD সম্পর্কিত হলেও তারা একই পরীক্ষা নয়।
৪.৪ Eutrophication বা অতিপুষ্টিজনিত জলদূষণ
জলাশয়ে নাইট্রেট ও ফসফেটের মতো পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত জমা হলে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে। পরে এদের মৃতদেহ পচাতে অণুজীব অক্সিজেন ব্যবহার করে, ফলে DO কমে যেতে পারে এবং মাছসহ জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে eutrophication বলা হয়।
অতিরিক্ত সার/নর্দমার পুষ্টি উপাদান → শৈবালের অতিবৃদ্ধি → শৈবাল ও উদ্ভিদের মৃত্যু → পচনকারী অণুজীবের অক্সিজেন ব্যবহার → DO হ্রাস → জলজ প্রাণীর উপর চাপ।
৫. জলদূষণের প্রভাব
৫.১ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
- জলবাহিত রোগ: দূষিত পানির মাধ্যমে কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিস A ছড়াতে পারে।
- রাসায়নিক ঝুঁকি: দূষণের উৎস ও মাত্রার উপর নির্ভর করে আর্সেনিক, ফ্লুরাইড, সিসা এবং অন্যান্য রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী: নিরাপদ জল ও স্যানিটেশনের অভাব শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
- খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ: কিছু দূষক জলজ প্রাণীর শরীরে জমা হয়ে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।
৫.২ পরিবেশের উপর প্রভাব
- জলে অক্সিজেন কমে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে।
- জলজ উদ্ভিদ, প্ল্যাঙ্কটন এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
- অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান শৈবালের অতিবৃদ্ধি ঘটিয়ে জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র বদলে দিতে পারে।
- প্লাস্টিক ও রাসায়নিক পদার্থ নদী, হ্রদ, মোহনা এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- দূষিত জল কৃষি, মৎস্যচাষ, পর্যটন ও স্থানীয় জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৫.৩ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
দূষিত জলের কারণে পানীয় জল শোধনের খরচ বাড়তে পারে, মৎস্য উৎপাদন কমতে পারে এবং মানুষের চিকিৎসা ও জীবিকার ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। নিরাপদ জলের অভাব শিক্ষা, কর্মক্ষমতা ও দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
জলদূষণ ও নিরাপদ পানীয় জলের স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) Drinking-water তথ্যপত্র পড়ুন।
৬. জলদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়
৬.১ নর্দমার জল শোধন
গৃহস্থালি নর্দমার জল জলাশয়ে ছাড়ার আগে উপযুক্ত Sewage Treatment Plant (STP)-এ শোধন করা উচিত। শিল্পবর্জ্যের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী Effluent Treatment Plant (ETP) ব্যবহার করা দরকার। শোধনব্যবস্থা কার্যকর কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
৬.২ শিল্পবর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা
- শিল্পবর্জ্য নির্ধারিত মান অনুযায়ী শোধন করে নিষ্কাশন করা।
- ক্ষতিকর রাসায়নিক সরাসরি নদী, পুকুর বা নর্দমায় না ফেলা।
- বর্জ্যের পরিমাণ কমানো, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।
৬.৩ কৃষিক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যবহার
- মাটির পরীক্ষা ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহার করা।
- কীটনাশক নির্দেশিত মাত্রা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে ব্যবহার করা।
- জলাশয়ের পাশে গাছপালা ও ঘাসের বাফার অঞ্চল বজায় রাখা, যাতে মাটি ও পুষ্টি উপাদানের প্রবাহ কমে।
৬.৪ প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ
প্লাস্টিক, ব্যাটারি, তেল, রং, ওষুধ এবং অন্যান্য রাসায়নিক বর্জ্য জলাশয়ে বা নর্দমায় ফেলা উচিত নয়। বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং নির্ধারিত ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি করতে হবে।
৬.৫ নিরাপদ পানীয় জল
পানীয় জলের উৎস সুরক্ষিত রাখা, স্যানিটেশন উন্নত করা, নিয়মিত জল পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বীকৃত পদ্ধতিতে শোধন করা জরুরি। শুধু জল ফুটিয়ে নিলেই সব রাসায়নিক দূষক দূর হয় না; আর্সেনিক বা সিসার মতো দূষকের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরীক্ষা ও বিশেষ শোধন প্রয়োজন হতে পারে।
৬.৬ নাগরিক ও প্রশাসনের ভূমিকা
- নদী, পুকুর ও খালে আবর্জনা না ফেলা।
- স্থানীয় জলাশয় পরিষ্কার রাখা এবং দূষণের ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
- জলাশয় ও জলাভূমি সংরক্ষণ করা।
- নিয়মিত জলের গুণমান পর্যবেক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করা।
৭. ভারতে জলদূষণ নিয়ন্ত্রণ: আইন ও সংস্থা
Water (Prevention and Control of Pollution) Act, 1974
ভারতে জলদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং জলের গুণমান রক্ষার জন্য Water (Prevention and Control of Pollution) Act, 1974 একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনের অধীনে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের ভূমিকা নির্ধারিত হয়েছে। পরীক্ষায় আইনটির সাল, উদ্দেশ্য এবং CPCB/SPCB-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- CPCB: Central Pollution Control Board বা কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।
- SPCB: State Pollution Control Board বা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।
- STP: Sewage Treatment Plant — গৃহস্থালি নর্দমার জল শোধনের ব্যবস্থা।
- ETP: Effluent Treatment Plant — শিল্পবর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা।
আইনের মূল পাঠের জন্য India Code-এ Water Act, 1974 দেখুন। সরকারি পরিবেশ মন্ত্রকের Water Pollution বিষয়ক পৃষ্ঠা থেকেও আইনটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে পড়তে পারেন।
পরীক্ষায় মনে রাখার মতো তথ্য
| প্রশ্নের বিষয় | উত্তর / মূল ধারণা |
|---|---|
| জলদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন | Water Act, 1974 |
| কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ | CPCB |
| রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ | SPCB |
| জৈব দূষণ মূল্যায়নের পরিচিত সূচক | BOD |
| জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন | DO |
| অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানে জলাশয়ের পরিবর্তন | Eutrophication |
| নর্দমার জল শোধন | STP |
| শিল্পবর্জ্য শোধন | ETP |
স্বাদু জলের দূষণের উৎস, কৃষিজ প্রবাহ, শিল্পবর্জ্য এবং জলজ প্রাণীর উপর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়ুন United Nations Environment Programme (UNEP)-এর Freshwater Pollution বিষয়ক তথ্য থেকে।
৮. জলদূষণ: ১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
WBPSC, WBCS, Clerkship, Police, Panchayat, TET এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচের প্রশ্নগুলি অনুশীলন করুন। এটি সাধারণ প্রশ্নোত্তর বিভাগ—কোনো অনলাইন টেস্ট নয়।
প্রশ্ন ১. জলদূষণ বলতে কী বোঝায়?
A. জলের স্বাভাবিক গুণমানের ক্ষতিকর পরিবর্তন
B. জলের পরিমাণ বৃদ্ধি
C. নদীর গভীরতা বৃদ্ধি
D. বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: ক্ষতিকর জীবাণু, রাসায়নিক বা বর্জ্যের কারণে জল মানুষ, জীবজগৎ বা পরিবেশের জন্য অনুপযুক্ত হলে তাকে জলদূষণ বলে।
প্রশ্ন ২. জলদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আইন কোনটি?
A. Forest Rights Act, 2006
B. Water (Prevention and Control of Pollution) Act, 1974
C. Wildlife Protection Act, 1972
D. Motor Vehicles Act, 1988
ব্যাখ্যা: ১৯৭৪ সালের এই আইন জলদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং জলের গুণমান রক্ষার জন্য প্রণীত হয়।
প্রশ্ন ৩. BOD-এর পূর্ণরূপ কী?
A. Biological Oxygen Density
B. Basic Oxygen Demand
C. Biochemical Oxygen Demand
D. Balanced Organic Decomposition
ব্যাখ্যা: BOD নির্দিষ্ট পরীক্ষার শর্তে জৈব পদার্থ ভাঙতে অণুজীবের প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ নির্দেশ করে। অনেক ক্ষেত্রে BOD বেশি হলে জৈব দূষণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৪. জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনকে কী বলা হয়?
A. DO
B. COD
C. BOD
D. TDS
ব্যাখ্যা: DO-এর পূর্ণরূপ Dissolved Oxygen। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত দ্রবীভূত অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ৫. জলাশয়ে নাইট্রেট ও ফসফেট অতিরিক্ত জমে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটলে তাকে কী বলে?
A. Desertification
B. Eutrophication
C. Afforestation
D. Biomagnification
ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানের ফলে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধি বেড়ে যায়। পরে পচন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন কমে জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।
প্রশ্ন ৬. গৃহস্থালি নর্দমার জল শোধনের জন্য কোন ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়?
A. STP
B. ETP
C. AQI
D. GPS
ব্যাখ্যা: STP-এর পূর্ণরূপ Sewage Treatment Plant। এটি নর্দমার জল শোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়। শিল্পবর্জ্য শোধনে ETP ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৭. শিল্পবর্জ্য শোধনের জন্য সাধারণত কোন ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়?
A. STP
B. ETP
C. ATM
D. GPS
ব্যাখ্যা: ETP-এর পূর্ণরূপ Effluent Treatment Plant। শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্যজলকে প্রয়োজনীয় মান অনুযায়ী শোধন করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৮. কোন ধরনের দূষণ জলাশয়ের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জলজ প্রাণীর উপর প্রভাব ফেলতে পারে?
A. তাপীয় দূষণ
B. শব্দদূষণ
C. আলোকদূষণ
D. দৃশ্যদূষণ
ব্যাখ্যা: শিল্প বা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত উষ্ণ জল জলাশয়ের তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তন জলে অক্সিজেনের পরিমাণ ও জলজ জীবের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্ন ৯. দূষিত পানীয় জলের মাধ্যমে কোন রোগ ছড়াতে পারে?
A. কলেরা
B. রাতকানা
C. স্কার্ভি
D. রিকেটস
ব্যাখ্যা: রোগজীবাণু দ্বারা দূষিত জল কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়াতে পারে। নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন এই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ১০. ভারতে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সংক্ষিপ্ত নাম কী?
A. NGT
B. CPCB
C. ISRO
D. FCI
ব্যাখ্যা: CPCB-এর পূর্ণরূপ Central Pollution Control Board। এটি ভারতের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সংস্থা। রাজ্য পর্যায়ে SPCB কাজ করে।
৯. দ্রুত রিভিশন: এক নজরে জলদূষণ
| Keyword | মনে রাখার তথ্য |
|---|---|
| Water Pollution | জলের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক গুণমানের ক্ষতিকর পরিবর্তন |
| BOD | জৈব পদার্থ ভাঙতে অণুজীবের অক্সিজেনের চাহিদা |
| DO | জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন |
| COD | রাসায়নিক পদ্ধতিতে অক্সিডাইজযোগ্য পদার্থের পরিমাপের সূচক |
| Eutrophication | অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানের কারণে জলজ উদ্ভিদ/শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি |
| STP | Sewage Treatment Plant |
| ETP | Effluent Treatment Plant |
| Water Act | Water (Prevention and Control of Pollution) Act, 1974 |
| CPCB | Central Pollution Control Board |
| SPCB | State Pollution Control Board |
১১. জলদূষণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
জলদূষণ কাকে বলে?
জলের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষতিকর পরিবর্তনের ফলে জল মানুষ, জীবজগৎ বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বা অনুপযুক্ত হয়ে পড়লে তাকে জলদূষণ বলে।
জলদূষণের প্রধান কারণ কী কী?
অপরিশোধিত নর্দমার জল, শিল্পবর্জ্য, কৃষিক্ষেত্রের সার ও কীটনাশক, প্লাস্টিক, তেল নিঃসরণ এবং কিছু ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ জলের প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান জলদূষণের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
BOD ও DO-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
BOD হলো জৈব পদার্থ ভাঙতে অণুজীবের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণের সূচক। DO হলো জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ। BOD বেশি হলে অনেক ক্ষেত্রে জৈব দূষণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়; অক্সিজেনের চাহিদা বাড়লে DO কমে যেতে পারে।
Eutrophication কী?
জলাশয়ে নাইট্রেট ও ফসফেটের মতো পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত জমে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটলে তাকে eutrophication বলে। এর ফলে জলে অক্সিজেন কমে জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।
জলদূষণ প্রতিরোধে STP ও ETP-এর ভূমিকা কী?
STP গৃহস্থালি নর্দমার জল শোধনে এবং ETP শিল্পবর্জ্য শোধনে ব্যবহৃত হয়। বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী যথাযথ শোধন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জলদূষণ কমাতে সাহায্য করে।
ভারতে জলদূষণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ আইন কোনটি?
Water (Prevention and Control of Pollution) Act, 1974 ভারতের জলদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।
দূষিত জল থেকে কোন রোগ হতে পারে?
রোগজীবাণু দ্বারা দূষিত পানীয় জল থেকে কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিস A-এর মতো রোগ ছড়াতে পারে। রাসায়নিক দূষণ আবার আলাদা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বচ্ছ জল কি সবসময় পানযোগ্য?
না। জলে চোখে দেখা যায় না এমন জীবাণু ও রাসায়নিক দূষক থাকতে পারে। নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং উপযুক্ত শোধন দরকার।
জলদূষণ কমাতে সাধারণ মানুষ কী করতে পারেন?
জলাশয়ে আবর্জনা বা রাসায়নিক না ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা, পানীয় জলের উৎস রক্ষা করা এবং স্থানীয় জলাশয় সংরক্ষণে অংশ নেওয়া যায়।
উপসংহার
জলদূষণ শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং অর্থনীতির সঙ্গেও যুক্ত। নর্দমা ও শিল্পবর্জ্য শোধন, কৃষিক্ষেত্রে সার-কীটনাশকের দায়িত্বশীল ব্যবহার, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা—এই পদক্ষেপগুলি জলদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পরীক্ষার জন্য সংজ্ঞা, BOD, DO, eutrophication, STP, ETP, CPCB এবং Water Act, 1974 বিশেষভাবে রিভিশন করুন।




