Government Exam Notes
WBCS • TET • WBPSC • SSC
বিশেষ্য পদ: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, উদাহরণ ও 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ
বাংলা ব্যাকরণে যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, স্থান, জাতি, সমষ্টি, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। বিশেষ্য পদ বাক্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। বাক্যে কে, কী, কোথায় বা কোন বিষয়ের কথা বলা হচ্ছে, তা বুঝতে বিশেষ্য পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই অধ্যায়ে বিশেষ্য পদের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, 6টি প্রচলিত প্রকারভেদ, উদাহরণ, বাক্যে প্রয়োগ, বিশেষ্য চেনার কৌশল এবং পরীক্ষায় আসার মতো 10টি MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- বিশেষ্য পদের ইংরেজি নাম: Noun
- বিশেষ্যকে নাম পদও বলা হয়।
- প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে বিশেষ্য পদ 6 প্রকারে আলোচিত হয়।
- বিশেষ্যের উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ, কলকাতা, নদী, মানুষ, জল, সততা, সৌন্দর্য।
- বিশেষ্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, সমষ্টি, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম প্রকাশ করে।
1. বিশেষ্য পদ কাকে বলে?
যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, স্থান, কাল, জাতি, সমষ্টি, অবস্থা, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। সহজ কথায়, কোনো কিছুর নাম বোঝালে সেই পদটি বিশেষ্য হতে পারে।
উদাহরণ: রাহুল, কলকাতা, গঙ্গা, বই, পাখি, মানুষ, জল, সততা, সৌন্দর্য, আনন্দ, ভোজন।
বাক্যে বিশেষ্য পদের উদাহরণ
- রবীন্দ্রনাথ একজন বিশ্বকবি। — রবীন্দ্রনাথ: ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য।
- মানুষ সামাজিক জীব। — মানুষ: জাতিবাচক বিশেষ্য।
- গ্লাসে জল আছে। — জল: দ্রব্যবাচক বিশেষ্য।
- জনতা সভায় উপস্থিত হয়েছে। — জনতা: সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- সততা মানুষের মহৎ গুণ। — সততা: গুণবাচক বিশেষ্য।
- ভোজন একটি প্রয়োজনীয় কাজ। — ভোজন: ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
2. বিশেষ্য পদের বৈশিষ্ট্য
বিশেষ্য পদ চেনার জন্য এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য মনে রাখা প্রয়োজন।
- বিশেষ্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, স্থান বা বিষয়ের নাম প্রকাশ করে।
- বিশেষ্য কোনো জাতি বা শ্রেণির সাধারণ নাম বোঝাতে পারে।
- কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান, নদী, দেশ বা প্রতিষ্ঠানের নামও বিশেষ্য।
- কোনো পদার্থ বা উপাদানের নাম বিশেষ্য হতে পারে।
- কোনো দল, গোষ্ঠী বা সমষ্টির নাম বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কোনো গুণ, অবস্থা, অনুভূতি বা কাজের নামও বিশেষ্য পদ হতে পারে।
- বিশেষ্য বাক্যে কর্তা, কর্ম বা অন্য কারক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
3. বিশেষ্য পদ কত প্রকার ও কী কী?
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণের একটি বহুল ব্যবহৃত শ্রেণিবিভাগ অনুসারে বিশেষ্য পদ 6 প্রকার। যথা:
- নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (Proper Noun)
- জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun)
- দ্রব্যবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্য (Material Noun)
- সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun)
- ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (Abstract/Verbal Noun)
- গুণবাচক বিশেষ্য (Quality Noun)
4. নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (Proper Noun)
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান, দেশ, নদী, পর্বত, সমুদ্র, গ্রন্থ, প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ কিছুর নাম বোঝায়, তাকে নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে।
নামবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ
- ব্যক্তির নাম: রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগর, সত্যজিৎ রায়।
- স্থানের নাম: কলকাতা, দিল্লি, ঢাকা, লন্ডন।
- দেশের নাম: ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, জাপান।
- নদীর নাম: গঙ্গা, পদ্মা, দামোদর, তিস্তা।
- পর্বতের নাম: হিমালয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা, আল্পস।
- গ্রন্থের নাম: গীতাঞ্জলি, আনন্দমঠ, অগ্নিবীণা।
- প্রতিষ্ঠানের নাম: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী।
বাক্যে প্রয়োগ
- রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
- গঙ্গা একটি বিখ্যাত নদী।
- কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী।
5. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun)
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, প্রাণী, বস্তু বা শ্রেণির সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট সদস্যকে নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ জাতি বা শ্রেণিকে বোঝায়।
জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ
- মানুষ: মানুষ, শিশু, শিক্ষক, ছাত্র, কৃষক।
- প্রাণী: গরু, বাঘ, সিংহ, পাখি, মাছ।
- উদ্ভিদ: গাছ, ফুল, আমগাছ, ঘাস।
- ভৌগোলিক শ্রেণি: নদী, পর্বত, সাগর, দ্বীপ।
- বস্তু: বই, কলম, চেয়ার, টেবিল।
বাক্যে প্রয়োগ
- মানুষ সমাজে বাস করে।
- পাখি আকাশে ওড়ে।
- শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়ান।
- পদ্মা = নামবাচক বিশেষ্য।
- নদী = জাতিবাচক বিশেষ্য।
- রবীন্দ্রনাথ = নামবাচক বিশেষ্য।
- কবি = জাতিবাচক বিশেষ্য।
- কলকাতা = নামবাচক বিশেষ্য।
- শহর = জাতিবাচক বিশেষ্য।
6. দ্রব্যবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্য (Material Noun)
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো পদার্থ, উপাদান বা দ্রব্যের নাম বোঝায়, তাকে দ্রব্যবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে। এই ধরনের পদার্থ সাধারণত ওজন, আয়তন বা পরিমাণ দিয়ে মাপা যায়; কিন্তু সাধারণভাবে একক হিসেবে গণনা করা যায় না।
দ্রব্যবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ
- ধাতু: সোনা, রুপা, লোহা, তামা।
- তরল পদার্থ: জল, দুধ, তেল, মধু।
- খাদ্যদ্রব্য: চাল, ডাল, চিনি, লবণ, আটা।
- প্রাকৃতিক উপাদান: মাটি, বালি, পাথর, কয়লা।
বাক্যে প্রয়োগ
- সোনা একটি মূল্যবান ধাতু।
- জল ছাড়া জীবন অসম্ভব।
- চাল দিয়ে ভাত তৈরি হয়।
7. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun)
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা একাধিক ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুর সমষ্টিকে এককভাবে বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। এখানে পৃথক সদস্যের পরিবর্তে তাদের সম্মিলিত দল বা গোষ্ঠীর পরিচয় প্রকাশ পায়।
সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ
- মানুষের সমষ্টি: জনতা, দল, সভা, সমিতি, বাহিনী, পরিবার।
- প্রাণীর সমষ্টি: ঝাঁক, পাল, পশুপাল, মৎস্যদল।
- বস্তুর সমষ্টি: গুচ্ছ, স্তূপ, পুঞ্জ, রাশি।
- প্রাতিষ্ঠানিক সমষ্টি: সংসদ, মন্ত্রিসভা, কমিটি, পরিষদ।
বাক্যে প্রয়োগ
- জনতা মিছিল করছে।
- একদল ছাত্র মাঠে খেলছে।
- আকাশে পাখির ঝাঁক উড়ছে।
- সভা আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে।
8. ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (Abstract/Verbal Noun)
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো কাজ, ক্রিয়া, অনুভূতি, অবস্থা বা মানসিক ভাবের নাম প্রকাশ পায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে। এই ধরনের বিশেষ্য অনেক সময় কোনো কাজের নাম বা ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে।
ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ
- গমন — যাওয়ার কাজ বা ভাব।
- শয়ন — শোয়ার কাজ।
- ভোজন — খাওয়ার কাজ।
- দর্শন — দেখার কাজ।
- পঠন — পড়ার কাজ।
- লিখন — লেখার কাজ।
- হাসি — হাসার ভাব বা কাজ।
- কান্না — কাঁদার ভাব বা কাজ।
- আনন্দ — মনের অনুভূতি।
- দুঃখ — মনের অবস্থা।
বাক্যে প্রয়োগ
- অতিরিক্ত ভোজন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
- তার হাসি সকলকে আনন্দিত করল।
- প্রতিদিন পঠন অভ্যাস করা উচিত।
9. গুণবাচক বিশেষ্য (Quality Noun)
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর গুণ, দোষ, বৈশিষ্ট্য বা ধর্মের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে। এই বিশেষ্য কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে নাম হিসেবে প্রকাশ করে।
গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ
- সততা — সৎ হওয়ার গুণ।
- সৌন্দর্য — সুন্দর হওয়ার গুণ।
- মধুরতা — মধুর হওয়ার গুণ।
- সরলতা — সরল হওয়ার গুণ।
- মহত্ত্ব — মহান হওয়ার গুণ।
- বীরত্ব — বীর হওয়ার গুণ।
- দয়া — দয়ালু হওয়ার গুণ বা ভাব।
- নিষ্ঠা — একাগ্রতা ও দায়িত্ববোধের গুণ।
- সাহস — নির্ভীক হওয়ার গুণ।
বাক্যে প্রয়োগ
- সততা মানুষের মহৎ গুণ।
- সৌন্দর্য মানুষের মনকে আকর্ষণ করে।
- সাহস বিপদের সময় কাজে লাগে।
10. বিশেষ্য পদের 6 প্রকারের তুলনামূলক ছক
| বিশেষ্যের প্রকার | কী বোঝায়? | উদাহরণ |
|---|---|---|
| নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক | নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা প্রতিষ্ঠানের নাম | রবীন্দ্রনাথ, কলকাতা, গঙ্গা |
| জাতিবাচক | কোনো জাতি বা শ্রেণির সাধারণ নাম | মানুষ, পাখি, নদী, গাছ |
| দ্রব্যবাচক | পদার্থ বা উপাদানের নাম | জল, সোনা, লোহা, চাল |
| সমষ্টিবাচক | একাধিকের সমষ্টি | জনতা, দল, ঝাঁক, সভা |
| ভাববাচক | কাজ, অনুভূতি বা অবস্থার নাম | গমন, ভোজন, হাসি, আনন্দ |
| গুণবাচক | গুণ বা বৈশিষ্ট্যের নাম | সততা, সৌন্দর্য, সাহস |
11. বিশেষ্য পদ চেনার সহজ কৌশল
পরীক্ষায় কোনো শব্দ বিশেষ্য কি না, তা নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি সহজ প্রশ্ন নিজেকে করতে পারো।
- কোনো নির্দিষ্ট নাম কি? যেমন—কলকাতা, রবীন্দ্রনাথ, গঙ্গা। হলে নামবাচক বিশেষ্য।
- কোনো জাতি বা শ্রেণির নাম কি? যেমন—মানুষ, পাখি, নদী। হলে জাতিবাচক বিশেষ্য।
- কোনো পদার্থের নাম কি? যেমন—জল, সোনা, লোহা। হলে দ্রব্যবাচক বিশেষ্য।
- কোনো দল বা সমষ্টির নাম কি? যেমন—জনতা, ঝাঁক, বাহিনী। হলে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- কোনো কাজ বা অনুভূতির নাম কি? যেমন—গমন, ভোজন, আনন্দ। হলে ভাববাচক বিশেষ্য হতে পারে।
- কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্যের নাম কি? যেমন—সততা, সৌন্দর্য, সাহস। হলে গুণবাচক বিশেষ্য।
12. বিশেষ্য ও বিশেষণের পার্থক্য
বিশেষ্য এবং বিশেষণ এক নয়। বিশেষ্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়ের নাম বোঝায়। অন্যদিকে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, দোষ, অবস্থা, সংখ্যা বা পরিমাণ প্রকাশ করে।
| বিশেষ্য | বিশেষণ | উদাহরণ বাক্য |
|---|---|---|
| সৌন্দর্য | সুন্দর | ফুলটি সুন্দর। ফুলের সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। |
| সততা | সৎ | সে একজন সৎ মানুষ। সততা মহৎ গুণ। |
| মধুরতা | মধুর | তার কণ্ঠ মধুর। কণ্ঠের মধুরতা সবাইকে মুগ্ধ করে। |
| সাহস | সাহসী | সে সাহসী ছেলে। তার সাহস প্রশংসনীয়। |
13. পরীক্ষায় বিশেষ্য পদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি
বিভ্রান্তি 1: নদী বনাম গঙ্গা
‘নদী’ একটি জাতিবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি শ্রেণির সাধারণ নাম। ‘গঙ্গা’ নামবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট নদীর নাম।
বিভ্রান্তি 2: কবি বনাম রবীন্দ্রনাথ
‘কবি’ জাতিবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি পেশা বা শ্রেণির নাম। ‘রবীন্দ্রনাথ’ নামবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম।
বিভ্রান্তি 3: জল বনাম গ্লাস
‘জল’ দ্রব্যবাচক বিশেষ্য। ‘গ্লাস’ একটি নির্দিষ্ট ধরনের পাত্রের সাধারণ নাম, তাই এটি জাতিবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিভ্রান্তি 4: দল বনাম খেলোয়াড়
‘দল’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একাধিক সদস্যের সমষ্টি বোঝায়। ‘খেলোয়াড়’ জাতিবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি শ্রেণির সদস্যকে বোঝায়।
বিভ্রান্তি 5: সুন্দর বনাম সৌন্দর্য
‘সুন্দর’ বিশেষণ, কারণ এটি কোনো কিছুর গুণ প্রকাশ করে। ‘সৌন্দর্য’ গুণের নাম প্রকাশ করে, তাই এটি গুণবাচক বিশেষ্য।
বিভ্রান্তি 6: খাওয়া বনাম খাদ্য
‘খাওয়া’ বাক্যে কাজের নাম বোঝালে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হতে পারে। ‘খাদ্য’ কোনো খাবার বা ভক্ষণযোগ্য বস্তুর নাম বোঝায়; বাক্য ও প্রসঙ্গ অনুযায়ী এর শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
14. 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ: উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
নিচের প্রশ্নগুলি WBCS, WBPSC Clerkship, WB TET, WBP, SSC ও Railway পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এগুলি সাধারণ MCQ অনুশীলন—কোনো অনলাইন টেস্ট নয়।
A. বিশেষণ পদ
B. বিশেষ্য পদ
C. ক্রিয়াপদ
D. অব্যয় পদ
ব্যাখ্যা: যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, স্থান, জাতি, সমষ্টি, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
A. জাতিবাচক
B. সমষ্টিবাচক
C. নামবাচক
D. দ্রব্যবাচক
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম। নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা স্থানের নাম বোঝালে তা নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হয়।
A. নামবাচক
B. জাতিবাচক
C. সমষ্টিবাচক
D. গুণবাচক
ব্যাখ্যা: নদী কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম নয়; এটি একটি শ্রেণির সাধারণ নাম। তাই ‘নদী’ জাতিবাচক বিশেষ্য। তবে ‘গঙ্গা’ বা ‘তিস্তা’ নামবাচক বিশেষ্য।
A. জনতা
B. সততা
C. সোনা
D. কলকাতা
ব্যাখ্যা: সোনা একটি পদার্থ বা উপাদানের নাম। তাই এটি দ্রব্যবাচক বিশেষ্য। জনতা সমষ্টিবাচক, সততা গুণবাচক এবং কলকাতা নামবাচক বিশেষ্য।
A. জাতিবাচক
B. সমষ্টিবাচক
C. দ্রব্যবাচক
D. ভাববাচক
ব্যাখ্যা: ঝাঁক শব্দটি একাধিক পাখির সমষ্টি বোঝায়। তাই এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
A. নামবাচক
B. জাতিবাচক
C. ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক
D. দ্রব্যবাচক
ব্যাখ্যা: ভোজন বলতে খাওয়ার কাজ বা ক্রিয়ার ভাব বোঝায়। তাই এটি ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
A. গুণবাচক
B. সমষ্টিবাচক
C. নামবাচক
D. দ্রব্যবাচক
ব্যাখ্যা: সততা হলো সৎ হওয়ার গুণ। কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্যের নাম প্রকাশ করলে তা গুণবাচক বিশেষ্য।
A. জাতিবাচক
B. নামবাচক
C. ভাববাচক
D. সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা: কলকাতা একটি নির্দিষ্ট শহরের নাম। তাই এটি নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য।
A. গঙ্গা — জাতিবাচক
B. জনতা — দ্রব্যবাচক
C. জল — দ্রব্যবাচক
D. সততা — সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা: জল একটি পদার্থের নাম, তাই এটি দ্রব্যবাচক বিশেষ্য। গঙ্গা নামবাচক, জনতা সমষ্টিবাচক এবং সততা গুণবাচক বিশেষ্য।
A. উভয়ই বিশেষ্য
B. উভয়ই বিশেষণ
C. সুন্দর বিশেষণ, সৌন্দর্য বিশেষ্য
D. সুন্দর বিশেষ্য, সৌন্দর্য বিশেষণ
ব্যাখ্যা: ‘সুন্দর’ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর গুণ প্রকাশ করে, তাই এটি বিশেষণ। ‘সৌন্দর্য’ সেই গুণের নাম প্রকাশ করে, তাই এটি গুণবাচক বিশেষ্য।
15. পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision
| শব্দ | বিশেষ্যের প্রকার |
|---|---|
| রবীন্দ্রনাথ | নামবাচক |
| কলকাতা | নামবাচক |
| মানুষ | জাতিবাচক |
| পাখি | জাতিবাচক |
| জল | দ্রব্যবাচক |
| সোনা | দ্রব্যবাচক |
| জনতা | সমষ্টিবাচক |
| ঝাঁক | সমষ্টিবাচক |
| গমন | ভাববাচক |
| ভোজন | ভাববাচক |
| সততা | গুণবাচক |
| সৌন্দর্য | গুণবাচক |
16. Frequently Asked Questions (FAQ)
1. বিশেষ্য পদ কাকে বলে?
যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, স্থান, জাতি, সমষ্টি, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
2. বিশেষ্য পদ কত প্রকার?
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণের একটি বহুল ব্যবহৃত শ্রেণিবিভাগ অনুসারে বিশেষ্য পদ 6 প্রকার: নামবাচক, জাতিবাচক, দ্রব্যবাচক, সমষ্টিবাচক, ভাববাচক ও গুণবাচক।
3. নামবাচক বিশেষ্য কাকে বলে?
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান, দেশ, নদী, গ্রন্থ বা প্রতিষ্ঠানের নাম বোঝায়, তাকে নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন—রবীন্দ্রনাথ, কলকাতা, গঙ্গা।
4. জাতিবাচক বিশেষ্য কাকে বলে?
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুর সাধারণ জাতি বা শ্রেণির নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন—মানুষ, পাখি, নদী।
5. দ্রব্যবাচক বিশেষ্য কী?
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো পদার্থ বা উপাদানের নাম বোঝায়, তাকে দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন—জল, সোনা, লোহা, চাল।
6. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য কী?
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা একাধিক ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুর সমষ্টি বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন—জনতা, দল, ঝাঁক, বাহিনী।
7. ভাববাচক বিশেষ্য কাকে বলে?
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো কাজ, ক্রিয়ার ভাব, অনুভূতি বা অবস্থার নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন—গমন, ভোজন, হাসি, আনন্দ।
8. গুণবাচক বিশেষ্য কী?
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর গুণ, দোষ বা বৈশিষ্ট্যের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন—সততা, সৌন্দর্য, সাহস।
9. ‘গঙ্গা’ ও ‘নদী’-এর মধ্যে কোনটি নামবাচক বিশেষ্য?
‘গঙ্গা’ নামবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট নদীর নাম। ‘নদী’ জাতিবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি শ্রেণির সাধারণ নাম।
10. বিশেষ্য ও বিশেষণের মধ্যে পার্থক্য কী?
বিশেষ্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়ের নাম প্রকাশ করে। বিশেষণ সেই বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, দোষ, অবস্থা, সংখ্যা বা পরিমাণ প্রকাশ করে। যেমন—’সৌন্দর্য’ বিশেষ্য, ‘সুন্দর’ বিশেষণ।
17. আরও পড়ুন: বাংলা ব্যাকরণ
বিশেষ্য পদ ভালোভাবে বোঝার জন্য বাংলা ব্যাকরণের অন্যান্য সম্পর্কিত অধ্যায়ও পড়ুন। নিচের লিংকগুলি MyTestSeries-এর বাংলা ব্যাকরণ বিষয়ক প্রকাশিত পৃষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত।
18. নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক পাঠ্যসূত্র
বিশেষ্য পদের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে আরও পড়ার জন্য নিচের শিক্ষামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলি দেখতে পারেন।
- Netaji Subhas Open University (NSOU) — বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষার পাঠ্যসামগ্রী।
- Bangladesh Open University — বাংলা ব্যাকরণ ও ভাষা শিক্ষার পাঠ্যসামগ্রী।
- Teachers Portal Bangladesh — বাংলা ব্যাকরণ ও শিক্ষণ উপকরণ।
19. ফ্রি রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলা ব্যাকরণসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য MyTestSeries-এর সঙ্গে যুক্ত থাকুন। নিয়মিত নোটস, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষার আপডেট পেতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন।
ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন – Free Registration
প্রতিদিনের পরীক্ষার খবর, নতুন স্টাডি নোটস ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp Channel-এ যুক্ত হন।
Join WhatsApp Channel – Daily Updates
আরও পড়াশোনা শুরু করুন
MyTestSeries-এর অন্যান্য স্টাডি রিসোর্স ও পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ পেতে ফ্রি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
বিশেষ্য = নাম পদ। প্রচলিত 6 প্রকার: নামবাচক, জাতিবাচক, দ্রব্যবাচক, সমষ্টিবাচক, ভাববাচক ও গুণবাচক। গঙ্গা নামবাচক, নদী জাতিবাচক, জল দ্রব্যবাচক, জনতা সমষ্টিবাচক, গমন ভাববাচক এবং সততা গুণবাচক।




