ধ্বনি ও বর্ণ কাকে বলে? সংজ্ঞা, পার্থক্য, স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি | বাংলা ব্যাকরণ

বাংলা ব্যাকরণ | ধ্বনিতত্ত্ব | WB TET · WBPSC · WBP · SLST · অন্যান্য সরকারি পরীক্ষা

ধ্বনি ও বর্ণ: সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য ও বাংলা বর্ণমালা

ধ্বনি ও বর্ণ বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব অংশের একটি মৌলিক অধ্যায়। ভাষায় আমরা যে আওয়াজ উচ্চারণ করি ও শুনি, তা হলো ধ্বনি। আর সেই ধ্বনিকে লেখার জন্য যে লিখিত চিহ্ন ব্যবহার করি, তাকে বর্ণ বলে। ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য, স্বরধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনি এবং বাংলা বর্ণমালা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে বাংলা ব্যাকরণের পরবর্তী অধ্যায়গুলি শেখা সহজ হয়।

এই নোটে থাকছে: ধ্বনি ও বর্ণের সংজ্ঞা, পার্থক্য, বাগযন্ত্র, স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি, বর্ণমালার পরিচয়, উচ্চারণস্থান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ১০টি ব্যাখ্যাসহ MCQ।

সূচিপত্র: ধ্বনি · বর্ণ · পার্থক্য · স্বরধ্বনি · ব্যঞ্জনধ্বনি · বর্ণমালা · উচ্চারণস্থান · ১০টি MCQ · FAQ

১. ধ্বনি কাকে বলে?

মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত এবং ভাষায় অর্থের পার্থক্য সৃষ্টি করতে সক্ষম আওয়াজকে ধ্বনি বলে। ইংরেজিতে ধ্বনিকে Sound বলা হয়। ভাষার ধ্বনি মুখে উচ্চারিত হয় এবং কানে শোনা যায়।

উদাহরণ: আম, কলম, বই, জল—এই শব্দগুলি উচ্চারণ করার সময় আমরা যে ভাষাগত আওয়াজ সৃষ্টি করি, সেগুলি বিভিন্ন ধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত।

সহজে মনে রাখুন: ধ্বনি হলো ভাষার উচ্চারিত রূপ। ধ্বনি কানে শোনা যায়, চোখে দেখা যায় না।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বাগযন্ত্রের ভূমিকা

মানুষের মুখ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি অঙ্গের সাহায্যে ভাষার ধ্বনি তৈরি হয়। এই অঙ্গগুলিকে একত্রে বাগযন্ত্র বা Speech Organs বলা হয়।

  • ফুসফুস: ধ্বনি উচ্চারণের জন্য প্রয়োজনীয় বাতাস সরবরাহ করে।
  • স্বরযন্ত্র: স্বরতন্ত্রী বা Vocal Cords-এর কম্পনের মাধ্যমে ঘোষ ধ্বনি উৎপন্ন হতে সাহায্য করে।
  • কণ্ঠনালি: বাতাস চলাচলের পথ হিসেবে কাজ করে।
  • জিহ্বা: বিভিন্ন ধ্বনি উচ্চারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • তালু ও দাঁত: জিহ্বা ও বাতাসের সংযোগে বিভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি তৈরি হয়।
  • ঠোঁট: ওষ্ঠ্য ধ্বনি উচ্চারণে সাহায্য করে।
  • নাসিকা: অনুনাসিক ধ্বনি উচ্চারণে ভূমিকা রাখে।

২. বর্ণ কাকে বলে?

ধ্বনিকে লিখিতভাবে প্রকাশ করার জন্য যে নির্দিষ্ট সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলে। ইংরেজিতে বর্ণকে Letter বলা হয়।

উদাহরণ: অ, আ, ই, ক, খ, গ, চ, ট ইত্যাদি বাংলা বর্ণের উদাহরণ।

আমরা যখন কোনো শব্দ লিখি, তখন বর্ণ ব্যবহার করি। আবার সেই শব্দ উচ্চারণ করলে ধ্বনি সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ ধ্বনি ও বর্ণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও এক বিষয় নয়।

সহজে মনে রাখুন: বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক। বর্ণ চোখে দেখা যায় এবং লেখা যায়।

৩. ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে পার্থক্য

পরীক্ষায় ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য থেকে সরাসরি প্রশ্ন আসতে পারে। নিচের ছকটি ভালোভাবে মনে রাখুন।

বিষয় ধ্বনি বর্ণ
সংজ্ঞা ভাষার উচ্চারিত আওয়াজ বা শব্দধ্বনি। ধ্বনি প্রকাশের লিখিত সাংকেতিক চিহ্ন।
প্রকৃতি শ্রুতিগ্রাহ্য। দৃষ্টিগ্রাহ্য।
উপলব্ধি কানে শোনা যায়। চোখে দেখা যায়।
প্রকাশের মাধ্যম কথা বলা ও উচ্চারণ। লেখা ও মুদ্রণ।
উদাহরণ উচ্চারিত /ক/ ধ্বনি। ‘ক’ বর্ণ।
সম্পর্ক ধ্বনি হলো উচ্চারণের একক। বর্ণ হলো ধ্বনি প্রকাশের লিখিত চিহ্ন।
পরীক্ষার ট্রিক: ধ্বনি কানে শোনা যায়—এই কথাটি মনে রাখুন। বর্ণ চোখে দেখা যায়—এই কথাটিও মনে রাখুন। ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য নির্ণয়ের সবচেয়ে সহজ সূত্র এটি।


৪. ধ্বনির প্রধান প্রকারভেদ

বাংলা ভাষার বাগধ্বনিকে প্রধানত দুটি ভাগে আলোচনা করা হয়:

  1. স্বরধ্বনি (Vowel Sound)
  2. ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant Sound)

স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বাতাসের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয় না। অন্যদিকে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোনো স্থানে বাতাস বাধা পায় অথবা ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়।

৫. স্বরধ্বনি কাকে বলে?

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস মুখগহ্বরের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য বাধা ছাড়াই বেরিয়ে আসে, তাকে স্বরধ্বনি বলে। ইংরেজিতে একে Vowel Sound বলা হয়।

বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি সাধারণভাবে ৭টি হিসেবে শেখানো হয়। এগুলি হলো—

অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা

উদাহরণ হিসেবে ‘আম’, ‘ইট’, ‘এক’, ‘ওল’ ইত্যাদি শব্দের উচ্চারণে স্বরধ্বনির ভূমিকা লক্ষ করা যায়।

স্বরবর্ণ ও স্বরধ্বনির পার্থক্য

স্বরবর্ণ হলো লিখিত চিহ্ন, আর স্বরধ্বনি হলো তার উচ্চারিত ধ্বনি। বাংলা বর্ণমালায় প্রচলিত স্বরবর্ণের সংখ্যা ১১টি। কিন্তু বাংলা উচ্চারণব্যবস্থায় মৌলিক স্বরধ্বনি সাধারণভাবে ৭টি হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বরবর্ণ স্বরধ্বনি সম্পর্কে ধারণা
অ মৌলিক স্বরধ্বনি
আ মৌলিক স্বরধ্বনি
ই, ঈ উচ্চারণে ই-ধ্বনির সঙ্গে সম্পর্কিত
উ, ঊ উচ্চারণে উ-ধ্বনির সঙ্গে সম্পর্কিত
ঋ আধুনিক বাংলায় প্রচলিত উচ্চারণে স্বতন্ত্র স্বরধ্বনি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না
এ মৌলিক স্বরধ্বনি
ঐ যৌগিক স্বরধ্বনির সঙ্গে সম্পর্কিত
ও মৌলিক স্বরধ্বনি
ঔ যৌগিক স্বরধ্বনির সঙ্গে সম্পর্কিত
মনে রাখবেন: বর্ণের সংখ্যা ও ধ্বনির সংখ্যা এক নয়। ১১টি স্বরবর্ণ আছে বলেই ১১টি স্বতন্ত্র মৌলিক স্বরধ্বনি আছে—এমন সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। পাঠ্যবই ও ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গণনায় পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

স্বরধ্বনির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

  • স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বাতাসের প্রবাহ বাধাহীন থাকে।
  • স্বরধ্বনি সাধারণত ঘোষ বা স্বরতন্ত্রী-কম্পিত ধ্বনি।
  • স্বরধ্বনি শব্দের উচ্চারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
  • স্বরধ্বনির লিখিত প্রতীককে স্বরবর্ণ বলা হয়।

৬. ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস মুখগহ্বরের কোনো স্থানে সম্পূর্ণ বা আংশিক বাধা পায় অথবা ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। ইংরেজিতে একে Consonant Sound বলা হয়।

উদাহরণ: ক্, খ্, গ্, চ্, ট্, ত্, প্ ইত্যাদি। ব্যঞ্জনধ্বনিকে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে সাধারণত স্বরধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয়। যেমন— ক্ + অ = ক।

ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য

  • উচ্চারণের সময় বাতাস মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি করে।
  • ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা, দাঁত, ঠোঁট ও তালুর ভূমিকা রয়েছে।
  • ব্যঞ্জনধ্বনি ঘোষ অথবা অঘোষ হতে পারে।
  • ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত প্রতীককে ব্যঞ্জনবর্ণ বলা হয়।

৭. স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির পার্থক্য

বিষয় স্বরধ্বনি ব্যঞ্জনধ্বনি
উচ্চারণ বাতাসের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা থাকে না। বাতাস বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা ক্, খ্, গ্, চ্, ট্, প্
উচ্চারণে ভূমিকা নিজস্বভাবে উচ্চারিত হতে পারে। সাধারণত স্বরধ্বনির আশ্রয়ে স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়।
লিখিত চিহ্ন স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ


৮. বাংলা বর্ণমালা কাকে বলে?

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সমষ্টিকে বাংলা বর্ণমালা বলে। প্রচলিত প্রাথমিক ব্যাকরণে বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ ধরা হয়। এর মধ্যে ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।

বাংলা স্বরবর্ণের তালিকা

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ

বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের তালিকা

ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ

প্রচলিত বর্ণমালার তালিকায় চন্দ্রবিন্দু (ঁ) একটি বিশেষ চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্ণমালার গণনা ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠ্যবইভেদে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষ করে ৎ, ং, ঃ এবং চন্দ্রবিন্দুর অবস্থান ও শ্রেণি সম্পর্কে নির্দিষ্ট পাঠ্যবই অনুসরণ করা উচিত।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রচলিত স্কুল-স্তরের গণনায় ১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ—মোট ৫০টি বর্ণ বলা হয়। তবে আধুনিক ধ্বনিতত্ত্বে বর্ণের সংখ্যা এবং স্বতন্ত্র ধ্বনির সংখ্যা আলাদা বিষয়। প্রশ্নে কোন ধারণাটি জানতে চাওয়া হয়েছে, তা বুঝে উত্তর দিন।

৯. কারচিহ্ন বা স্বরচিহ্ন কী?

স্বরবর্ণ যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে তার সংক্ষিপ্ত লিখিত রূপকে কারচিহ্ন বা স্বরচিহ্ন বলা হয়। যেমন—

স্বরবর্ণ কারচিহ্ন উদাহরণ
আ া কা
ই ি কি
ঈ ী কী
উ ু কু
ঊ ূ কূ
ঋ ৃ কৃ
এ ে কে
ঐ ৈ কৈ
ও ো কো
ঔ ৌ কৌ

বিশেষ তথ্য: অ-কারের আলাদা কোনো দৃশ্যমান কারচিহ্ন নেই। ব্যঞ্জনবর্ণে সাধারণত অন্তর্নিহিত অ-ধ্বনি থাকে বলে ধরা হয়।

১০. উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বর্ণের শ্রেণিবিভাগ

ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা, তালু, দাঁত, ঠোঁট ও কণ্ঠের বিভিন্ন অংশ কাজ করে। উচ্চারণের প্রধান স্থান অনুযায়ী বর্ণ বা ধ্বনিকে কণ্ঠ্য, তালব্য, মূর্ধন্য, দন্ত্য ও ওষ্ঠ্য প্রভৃতি ভাগে আলোচনা করা হয়।

উচ্চারণস্থান উদাহরণ পরিচয়
কণ্ঠ্য / জিহ্বামূলীয় ক, খ, গ, ঘ, ঙ জিহ্বার পিছনের অংশ ও কণ্ঠের কাছে উচ্চারিত হয়।
তালব্য চ, ছ, জ, ঝ, ঞ জিহ্বার সামনের অংশ তালুর কাছে কাজ করে।
মূর্ধন্য ট, ঠ, ড, ঢ, ণ জিহ্বার ডগা মূর্ধার দিকে উঠে উচ্চারিত হয়।
দন্ত্য ত, থ, দ, ধ, ন জিহ্বা দাঁতের কাছে গিয়ে উচ্চারিত হয়।
ওষ্ঠ্য প, ফ, ব, ভ, ম দুই ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত হয়।

এ ছাড়া বাংলা বর্ণ ও ধ্বনির উচ্চারণস্থান আলোচনায় কণ্ঠতালব্য, কণ্ঠৌষ্ঠ্য, দন্তৌষ্ঠ্য, নাসিক্য প্রভৃতি পরিভাষাও পাওয়া যায়। সব বর্ণকে শুধু পাঁচটি বর্গে সীমাবদ্ধ করে দেখলে উচ্চারণস্থানের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।

স্পর্শবর্ণ বা বর্গীয় ব্যঞ্জন

বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথম ২৫টি বর্ণকে পাঁচটি বর্গে সাজানো হয়। প্রতিটি বর্গে পাঁচটি করে বর্ণ থাকে।

বর্গ বর্ণ
ক-বর্গ ক, খ, গ, ঘ, ঙ
চ-বর্গ চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
ট-বর্গ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ
ত-বর্গ ত, থ, দ, ধ, ন
প-বর্গ প, ফ, ব, ভ, ম

প্রতিটি বর্গের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণের উচ্চারণে আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন—প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ সাধারণত অঘোষ, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ণ ঘোষ এবং পঞ্চম বর্ণ অনুনাসিক।

১১. ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি

ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হচ্ছে কি না, তার ভিত্তিতে ধ্বনিকে ঘোষ ও অঘোষ ভাগে আলোচনা করা হয়।

  • ঘোষ ধ্বনি: উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয়। উদাহরণ: গ, ঘ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ, ব, ভ।
  • অঘোষ ধ্বনি: উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় না। উদাহরণ: ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ।

১২. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি

উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপ বা নিঃশ্বাসের প্রবাহের পরিমাণের ভিত্তিতে কিছু ব্যঞ্জনধ্বনিকে অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ বলা হয়।

  • অল্পপ্রাণ: তুলনামূলক কম শ্বাসবায়ুর সাহায্যে উচ্চারিত হয়। উদাহরণ: ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব।
  • মহাপ্রাণ: তুলনামূলক বেশি শ্বাসবায়ুর সাহায্যে উচ্চারিত হয়। উদাহরণ: খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ।
মনে রাখার কৌশল: ক-বর্গে ক ও গ অল্পপ্রাণ; খ ও ঘ মহাপ্রাণ। একই নিয়ম অন্যান্য বর্গের প্রথম চারটি বর্ণেও দেখা যায়।


১৩. ধ্বনি, বর্ণ ও বর্ণমালা: এক নজরে

ধ্বনি: ভাষার উচ্চারিত আওয়াজ; কানে শোনা যায়।

বর্ণ: ধ্বনির লিখিত প্রতীক; চোখে দেখা যায়।

স্বরধ্বনি: উচ্চারণে বাতাসের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা থাকে না।

ব্যঞ্জনধ্বনি: উচ্চারণে বাতাস বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।

বর্ণমালা: ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণগুলির সমষ্টি।

১৪. পরীক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ধ্বনি হলো ভাষার শ্রুতিগ্রাহ্য একক।
  • বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক।
  • বাংলা বর্ণমালার প্রচলিত গণনায় ১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে।
  • বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি সাধারণভাবে ৭টি হিসেবে শেখানো হয়।
  • ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি করে।
  • ক, খ, গ, ঘ, ঙ হলো ক-বর্গের বর্ণ।
  • প, ফ, ব, ভ, ম হলো প-বর্গের বর্ণ।
  • ত, থ, দ, ধ, ন হলো ত-বর্গের বর্ণ।
  • ধ্বনি ও বর্ণের সংখ্যা সবসময় এক হয় না।
  • বর্ণমালার প্রচলিত সংখ্যা ও ধ্বনির আধুনিক বিশ্লেষণ আলাদা বিষয়।

বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন — নিয়মিত বাংলা ব্যাকরণ আপডেট পান

১৫. ধ্বনি ও বর্ণ: ১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ

WB TET, WBPSC Clerkship, WBP, SLST এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচের প্রশ্নগুলি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। এটি সাধারণ অনুশীলন-নোট, কোনো অনলাইন টেস্ট নয়।

প্রশ্ন ১. ধ্বনি কাকে বলে?

ক) ধ্বনির লিখিত চিহ্ন

খ) ভাষার উচ্চারিত আওয়াজ

গ) শব্দের অর্থ

ঘ) বাক্যের সমষ্টি

সঠিক উত্তর: খ) ভাষার উচ্চারিত আওয়াজ।
ব্যাখ্যা: মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ভাষাগত আওয়াজকে ধ্বনি বলে। ধ্বনি কানে শোনা যায়।

প্রশ্ন ২. বর্ণ কাকে বলে?

ক) ধ্বনির লিখিত প্রতীক

খ) শব্দের উচ্চারণ

গ) বাক্যের অর্থ

ঘ) কেবলমাত্র স্বরধ্বনি

সঠিক উত্তর: ক) ধ্বনির লিখিত প্রতীক।
ব্যাখ্যা: ধ্বনিকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য যে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, তাকে বর্ণ বলে। যেমন—অ, আ, ক, খ।

প্রশ্ন ৩. ধ্বনি কোন ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে উপলব্ধি করা যায়?

ক) চোখ

খ) নাক

গ) কান

ঘ) জিহ্বা

সঠিক উত্তর: গ) কান।
ব্যাখ্যা: ধ্বনি শ্রুতিগ্রাহ্য। অর্থাৎ ধ্বনি শোনা যায়। অন্যদিকে বর্ণ দৃষ্টিগ্রাহ্য, কারণ বর্ণ লেখা ও দেখা যায়।

প্রশ্ন ৪. প্রচলিত বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের সংখ্যা কত?

ক) ৭টি

খ) ১০টি

গ) ১১টি

ঘ) ১২টি

সঠিক উত্তর: গ) ১১টি।
ব্যাখ্যা: প্রচলিত বাংলা বর্ণমালায় অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ—এই ১১টি স্বরবর্ণ ধরা হয়। মনে রাখবেন, স্বরবর্ণের সংখ্যা ও মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা এক নয়।

প্রশ্ন ৫. বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি সাধারণভাবে কয়টি?

ক) ৫টি

খ) ৬টি

গ) ৭টি

ঘ) ১১টি

সঠিক উত্তর: গ) ৭টি।
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি সাধারণভাবে অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা—এই ৭টি হিসেবে শেখানো হয়। বিভিন্ন ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে শ্রেণিবিভাগের সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকতে পারে।

প্রশ্ন ৬. কোনটি ক-বর্গের অন্তর্ভুক্ত?

ক) চ, ছ, জ, ঝ, ঞ

খ) ক, খ, গ, ঘ, ঙ

গ) ট, ঠ, ড, ঢ, ণ

ঘ) প, ফ, ব, ভ, ম

সঠিক উত্তর: খ) ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
ব্যাখ্যা: বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথম পাঁচটি বর্ণ নিয়ে ক-বর্গ গঠিত। চ-বর্গ, ট-বর্গ ও প-বর্গের বর্ণগুলি অন্য বিকল্পে দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ৭. কোন বর্গের বর্ণগুলি ওষ্ঠ্য উচ্চারণের সঙ্গে সম্পর্কিত?

ক) ক-বর্গ

খ) চ-বর্গ

গ) ত-বর্গ

ঘ) প-বর্গ

সঠিক উত্তর: ঘ) প-বর্গ।
ব্যাখ্যা: প, ফ, ব, ভ, ম—এই বর্ণগুলি উচ্চারণের সময় দুই ঠোঁটের ভূমিকা থাকে। তাই এগুলি ওষ্ঠ্য ধ্বনি বা বর্ণ হিসেবে পরিচিত।

প্রশ্ন ৮. ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় কী ঘটে?

ক) বাতাস কোনো বাধা ছাড়াই বের হয়

খ) মুখগহ্বরে বাতাস বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়

গ) কোনো বাগযন্ত্র কাজ করে না

ঘ) কেবল নাক দিয়ে বাতাস বের হয়

সঠিক উত্তর: খ) মুখগহ্বরে বাতাস বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোনো স্থানে বাতাস সম্পূর্ণ বা আংশিক বাধা পায় অথবা ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন ৯. ত, থ, দ, ধ, ন—কোন বর্গের বর্ণ?

ক) ট-বর্গ

খ) প-বর্গ

গ) ত-বর্গ

ঘ) চ-বর্গ

সঠিক উত্তর: গ) ত-বর্গ।
ব্যাখ্যা: ত, থ, দ, ধ, ন—এই পাঁচটি বর্ণ ত-বর্গ গঠন করে। এগুলিকে উচ্চারণস্থানের ভিত্তিতে দন্ত্য বর্ণ হিসেবে শেখানো হয়।

প্রশ্ন ১০. ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে মূল পার্থক্য কোনটি?

ক) ধ্বনি লেখা যায়, বর্ণ শোনা যায়

খ) ধ্বনি কানে শোনা যায়, বর্ণ চোখে দেখা যায়

গ) ধ্বনি ও বর্ণ একই বিষয়

ঘ) বর্ণের কোনো লিখিত রূপ নেই

সঠিক উত্তর: খ) ধ্বনি কানে শোনা যায়, বর্ণ চোখে দেখা যায়।
ব্যাখ্যা: ধ্বনি হলো ভাষার উচ্চারিত রূপ, আর বর্ণ হলো সেই ধ্বনির লিখিত প্রতীক। তাই ধ্বনি শ্রুতিগ্রাহ্য এবং বর্ণ দৃষ্টিগ্রাহ্য।


ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে আরও বাংলা ব্যাকরণ নোট ও আপডেট পান

১৬. পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কীভাবে পড়বেন?

  1. প্রথমে ধ্বনি ও বর্ণের সংজ্ঞা এবং পার্থক্য মুখস্থ না করে বুঝে নিন।
  2. স্বরধ্বনি ও স্বরবর্ণের সংখ্যাগত পার্থক্য আলাদা করে লিখে রাখুন।
  3. পাঁচটি বর্গের বর্ণগুলি প্রতিদিন একবার করে পড়ুন।
  4. উচ্চারণস্থান, ঘোষ-অঘোষ এবং অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণের উদাহরণ অনুশীলন করুন।
  5. প্রতিটি MCQ-এর ব্যাখ্যা পড়ুন। ভুল বিকল্প কেন ভুল, সেটিও বোঝার চেষ্টা করুন।
  6. নিজের পরীক্ষার নির্দিষ্ট সিলেবাস ও পাঠ্যবইয়ের পরিভাষাকে অগ্রাধিকার দিন।

১৭. MyTestSeries-এর সম্পর্কিত বাংলা ব্যাকরণ নোট ও প্রস্তুতি

ধ্বনি ও বর্ণ অধ্যায়টি ভালোভাবে শেষ করার পর বাংলা ব্যাকরণের পরবর্তী বিষয়গুলি ধারাবাহিকভাবে পড়ুন। নিচের লিংকগুলি MyTestSeries-এর সংশ্লিষ্ট নোট ও প্রস্তুতি পেজে নিয়ে যাবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আরও সহায়তা

বাংলা ব্যাকরণ, TET, WBPSC Clerkship, WBP এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য MyTestSeries-এর সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি পেজগুলি দেখুন। বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে নতুন নোট ও আপডেট পাওয়ার সুযোগ নিন।

এখনই বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন

১৮. ধ্বনি ও বর্ণ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. ধ্বনি কাকে বলে?

মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ভাষাগত আওয়াজকে ধ্বনি বলে। ধ্বনি কানে শোনা যায়।

২. বর্ণ কাকে বলে?

ধ্বনিকে লিখিতভাবে প্রকাশ করার জন্য যে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলে। যেমন—অ, আ, ক, খ।

৩. ধ্বনি ও বর্ণের প্রধান পার্থক্য কী?

ধ্বনি হলো উচ্চারিত ও শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ; বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত ও দৃষ্টিগ্রাহ্য প্রতীক।

৪. বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ কয়টি?

প্রচলিত বাংলা বর্ণমালায় ১১টি স্বরবর্ণ রয়েছে—অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।

৫. বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?

বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি সাধারণভাবে ৭টি হিসেবে শেখানো হয়—অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।

৬. ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বাতাস বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

৭. ক-বর্গের বর্ণগুলি কী কী?

ক, খ, গ, ঘ, ঙ—এই পাঁচটি বর্ণ ক-বর্গের অন্তর্ভুক্ত।

৮. বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি ও বর্ণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ধ্বনি ও বর্ণ ভাষার মৌলিক উপাদান। শুদ্ধ উচ্চারণ, বানান, শব্দগঠন ও ভাষার নিয়ম বোঝার জন্য এই অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ।

৯. বাংলা বর্ণমালায় মোট কয়টি বর্ণ রয়েছে?

প্রচলিত স্কুল-স্তরের গণনায় বাংলা বর্ণমালায় ৫০টি বর্ণ ধরা হয়—১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ। পাঠ্যবইয়ের শ্রেণিবিভাগ অনুসরণ করা উচিত।

১০. WB TET ও WBPSC পরীক্ষার জন্য কোন বিষয়গুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য, স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি, বর্ণমালার সংখ্যা, বর্গীয় বর্ণ এবং উচ্চারণস্থান বিশেষভাবে অনুশীলন করা উচিত।

১৯. তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন

ধ্বনি, বর্ণ ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্বের ধারণা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য নিচের শিক্ষামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলি দেখতে পারেন।

সম্পাদনা ও প্রকাশনা: MyTestSeries.in | বিভাগ: বাংলা ব্যাকরণ | পাঠক: WB TET, WBPSC, WBP, SLST ও অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থী।




Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series