Social and Religious Reform Movements in India: সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন


INDIAN HISTORY | MODERN INDIA | BENGALI GK

ভারতের সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন (Social and Religious Reform Movements in India)

উনিশ ও বিশ শতকের ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন, প্রতিষ্ঠাতা, সাল, উদ্দেশ্য, প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ পরীক্ষামুখী বাংলা নোট।

উপযোগী পরীক্ষা: WBCS, WBPSC, Clerkship, WB Police, SSC, Railway, ICDS এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা।

এক কথায় উত্তর: উনিশ শতক ও বিশ শতকের প্রথম দিকে ভারতে গড়ে ওঠা সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনগুলি ছিল কুসংস্কার, সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা, নারীশিক্ষার অভাব এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী, জ্যোতিরাও ফুলে, স্বামী বিবেকানন্দ ও স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ এই আন্দোলনগুলির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় কী কী গুরুত্বপূর্ণ?

  • ব্রাহ্মসমাজ, আর্যসমাজ ও প্রার্থনা সমাজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠার সাল।
  • সতীদাহ প্রথা বিলোপ ও বিধবা বিবাহ আইন।
  • রামকৃষ্ণ মিশন ও থিওসফিক্যাল সোসাইটি।
  • আলিগড় আন্দোলন ও দেওবন্দ আন্দোলন।
  • ফরাজি আন্দোলন, ওয়াহাবি আন্দোলন ও সিং সভা আন্দোলন।
  • সত্যশোধক সমাজ ও শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালন যোগম।
  • গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সংগঠন, সাল এবং অবদান।

বিনামূল্যে Registration করুন — সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন

WhatsApp Channel-এ যোগ দিন — Daily Exam Updates ও News

1. সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের পটভূমি

আধুনিক ভারতের ইতিহাসে সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষত উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসন, পাশ্চাত্য শিক্ষা, আধুনিক বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, সংবাদপত্র এবং নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার প্রসারের ফলে ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন প্রচলিত রীতিনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

ভারতীয় সমাজের বহু ক্ষেত্রে জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা, নারীশিক্ষার অভাব, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, সতীদাহ এবং বিধবাদের প্রতি বৈষম্যের মতো সমস্যা দেখা যেত। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারক এসব সমস্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন।

এই আন্দোলনগুলির উদ্দেশ্য কেবল ধর্মীয় আচার পরিবর্তন করা ছিল না। এগুলি শিক্ষা, নারী-অধিকার, সামাজিক মর্যাদা, যুক্তিবাদ এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

2. সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের উদ্ভবের কারণ

2.1 পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার

ইংরেজি শিক্ষা ও পাশ্চাত্য দর্শনের মাধ্যমে ভারতীয় শিক্ষিত সমাজ স্বাধীন চিন্তা, যুক্তিবাদ, মানবাধিকার, সাম্য এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়। এর ফলে সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

2.2 আধুনিক বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ

বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা ও যুক্তির প্রসার মানুষকে অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সামাজিক রীতিনীতি বিচার করতে উৎসাহিত করে।

2.3 সংবাদপত্র ও মুদ্রণযন্ত্রের প্রসার

সংবাদপত্র, সাময়িকপত্র ও বইয়ের মাধ্যমে সমাজসংস্কারকদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। জনমত গঠনে সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

2.4 খ্রিস্টান মিশনারিদের কার্যকলাপ

খ্রিস্টান মিশনারিদের শিক্ষা ও সামাজিক কার্যকলাপ ভারতীয় সমাজের প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় অনেক ভারতীয় চিন্তাবিদ নিজেদের ধর্ম ও সমাজকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে উদ্যোগী হন।

2.5 নারীসমাজের দুরবস্থা

সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, বিধবাদের প্রতি বৈষম্য, নারীশিক্ষার অভাব এবং বহুবিবাহের মতো সমস্যাগুলি সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

2.6 জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা

জাতিভিত্তিক বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার কারণে সমাজের একটি বড় অংশ শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। জ্যোতিরাও ফুলে, নারায়ণ গুরু এবং পরবর্তীকালে বি. আর. আম্বেদকরের মতো নেতারা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


3. সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • একেশ্বরবাদ: এক ঈশ্বরের ধারণা ও যুক্তিনির্ভর ধর্মীয় চিন্তার প্রসার।
  • কুসংস্কার বিরোধিতা: সতীদাহ, বাল্যবিবাহ ও অন্ধবিশ্বাসের বিরোধিতা।
  • নারীশিক্ষা: নারীদের শিক্ষার অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।
  • জাতিভেদ বিরোধিতা: জাতিগত বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
  • আধুনিক শিক্ষা: বিজ্ঞান, ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষার প্রসার।
  • ধর্মীয় পুনর্ব্যাখ্যা: ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে নতুন যুক্তির আলোকে বিচার।
  • মানবসেবা: শিক্ষা, চিকিৎসা, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সমাজকল্যাণে গুরুত্ব।

4. বাংলার সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন

উনিশ শতকে বাংলায় সমাজসংস্কার ও ধর্মীয় পুনর্জাগরণের একটি শক্তিশালী ধারা গড়ে ওঠে। এই পরিবর্তনকে সাধারণভাবে বাংলার নবজাগরণ বা Bengal Renaissance বলা হয়। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ডিরোজিও, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কেশবচন্দ্র সেন এই ধারার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

4.1 রাজা রামমোহন রায় (1772–1833)

রাজা রামমোহন রায়কে আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত বলা হয়। তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক কুসংস্কার এবং সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।

প্রধান অবদান:

  • 1815 সালে আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করেন।
  • 1828 সালে কলকাতায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়।
  • সতীদাহ প্রথা বিলোপের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
  • একেশ্বরবাদ ও ধর্মীয় যুক্তিবাদের সমর্থক ছিলেন।
  • নারীর অধিকার ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা পালন করেন।
  • সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন।
পরীক্ষায় মনে রাখুন: রামমোহন রায় → আত্মীয় সভা (1815) → ব্রাহ্মসভা (1828) → সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন → সতীদাহ বিলোপ আইন (1829)।

4.2 ব্রাহ্মসমাজ (Brahmo Samaj)

1828 সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এটি ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়। এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল একেশ্বরবাদ, ধর্মীয় উদারতা এবং সামাজিক সংস্কার।

প্রধান আদর্শ:

  • এক ঈশ্বরের উপাসনা।
  • মূর্তিপূজা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা।
  • জাতিভেদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরোধিতা।
  • নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহের সমর্থন।
  • যুক্তি ও নৈতিকতার ভিত্তিতে ধর্মীয় চিন্তা।

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর: রামমোহন রায়ের পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম আন্দোলনের সাংগঠনিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 1839 সালে তিনি তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন। 1843 সালে ব্রাহ্ম আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

কেশবচন্দ্র সেন: তিনি ব্রাহ্ম আন্দোলনের বিস্তার ও সামাজিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে 1866 সালে ব্রাহ্মসমাজে বিভাজন ঘটে। দেবেন্দ্রনাথের নেতৃত্বাধীন অংশ আদি ব্রাহ্মসমাজ এবং কেশবচন্দ্রের নেতৃত্বাধীন অংশ ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়।

1878 সালে কেশবচন্দ্র সেনের অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

4.3 ডিরোজিও ও ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন (Young Bengal Movement)

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন হিন্দু কলেজের একজন প্রভাবশালী শিক্ষক। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে যুক্তিবাদ, স্বাধীন চিন্তা, প্রশ্ন করার মানসিকতা এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব গড়ে ওঠে। এই ছাত্রগোষ্ঠী Young Bengal নামে পরিচিত।

  • প্রধান ব্যক্তিত্ব: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
  • প্রধান কেন্দ্র: হিন্দু কলেজ, কলকাতা।
  • গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন: Academic Association (1828)।
  • মূল আদর্শ: মুক্তচিন্তা, যুক্তিবাদ ও সামাজিক রক্ষণশীলতার বিরোধিতা।

4.4 ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারক ও শিক্ষাবিদ। তিনি বিশেষভাবে বিধবা বিবাহের প্রচলন, নারীশিক্ষা এবং বাংলা শিক্ষার উন্নতির জন্য কাজ করেন।

  • বিধবা বিবাহের পক্ষে জনমত ও আইন প্রণয়নের জন্য আন্দোলন করেন।
  • 1856 সালের Hindu Widows’ Remarriage Act প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধিতা করেন।
  • নারীশিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় ভূমিকা নেন।
  • বাংলা গদ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতিতে অবদান রাখেন।
গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: 1829 সালের Regulation XVII-এর মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয়। 1856 সালের Hindu Widows’ Remarriage Act বিধবা বিবাহকে আইনগত স্বীকৃতি দেয়। দুটি আইনকে গুলিয়ে ফেলবেন না।

বাংলার নবজাগরণ: প্রধান ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কার আন্দোলন পড়ুন

5. হিন্দু সমাজের প্রধান সংস্কার আন্দোলন

5.1 প্রার্থনা সমাজ (Prarthana Samaj)

1867 সালে বোম্বাইয়ে আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই আন্দোলন ব্রাহ্মসমাজ দ্বারা প্রভাবিত হলেও মহারাষ্ট্রের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কারমূলক কাজ করে।

প্রধান ব্যক্তিত্ব: আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ, মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, রামকৃষ্ণ গোপাল ভাণ্ডারকর এবং অন্যান্য সংস্কারক।

প্রধান উদ্দেশ্য:

  • একেশ্বরবাদের প্রচার।
  • জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা।
  • বিধবা বিবাহের সমর্থন।
  • নারীশিক্ষার প্রসার।
  • বাল্যবিবাহের বিরোধিতা।

5.2 আর্যসমাজ (Arya Samaj)

1875 সালে বোম্বাইয়ে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী আর্যসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই আন্দোলনের প্রধান আদর্শ ছিল বেদে ফিরে যাওয়া (Back to the Vedas)।

প্রধান আদর্শ ও অবদান:

  • বেদকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া।
  • মূর্তিপূজা ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরোধিতা।
  • জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ।
  • নারীশিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার প্রসার।
  • শুদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের পুনরায় হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।
  • শিক্ষা বিস্তারে DAV (Dayanand Anglo-Vedic) প্রতিষ্ঠানগুলির বিকাশে অনুপ্রেরণা।

গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: সত্যার্থ প্রকাশ (Satyarth Prakash), রচয়িতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী।

মনে রাখুন: Arya Samaj → 1875 → Dayanand Saraswati → Back to the Vedas।

5.3 রামকৃষ্ণ আন্দোলন ও রামকৃষ্ণ মিশন

শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার এক বিশিষ্ট ধর্মীয় সাধক। তিনি বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে আধ্যাত্মিক ঐক্য এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ওপর গুরুত্ব দেন।

তাঁর প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ 1897 সালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রধান উদ্দেশ্য:

  • মানবসেবাকে ঈশ্বরসেবার অংশ হিসেবে দেখা।
  • শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান।
  • ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা প্রচার।
  • দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণ।
  • ব্যক্তিত্ব গঠন ও আত্মশক্তির বিকাশ।

1893 সালে শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি প্রদান করে।

5.4 থিওসফিক্যাল সোসাইটি (Theosophical Society)

1875 সালে নিউইয়র্কে হেলেনা পেট্রোভনা ব্লাভাটস্কি এবং হেনরি স্টিল অলকট থিওসফিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে 1882 সালে এর আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর ভারতের মাদ্রাজের আদিয়ারে স্থাপিত হয়।

ভারতে প্রধান ব্যক্তিত্ব: অ্যানি বেসান্ত।

প্রধান উদ্দেশ্য:

  • মানবজাতির সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।
  • প্রাচ্য ধর্ম ও দর্শনের অধ্যয়ন।
  • মানবজীবন ও প্রকৃতির আধ্যাত্মিক দিক অনুসন্ধান।
  • ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি।

অ্যানি বেসান্ত ভারতীয় শিক্ষা ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


6. মুসলিম সমাজের প্রধান সংস্কার আন্দোলন

6.1 আলিগড় আন্দোলন (Aligarh Movement)

স্যার সৈয়দ আহমদ খান ছিলেন আলিগড় আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা। 1857 সালের বিদ্রোহের পর ভারতীয় মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তিনি উপলব্ধি করেন।

প্রধান উদ্যোগ:

  • 1864 সালে গাজিপুরে Scientific Society প্রতিষ্ঠা করেন; পরে এটি আলিগড়ে স্থানান্তরিত হয়।
  • 1870 সালে তাহজিব-উল-আখলাক (Tahzib-ul-Akhlaq) পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
  • 1875 সালে মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়, যা 1877 সালে কলেজে উন্নীত হয়।
  • এই প্রতিষ্ঠান পরবর্তীকালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (AMU)-এর ভিত্তি তৈরি করে। 1920 সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রধান উদ্দেশ্য: মুসলিম সমাজে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রসার।

6.2 দেওবন্দ আন্দোলন (Deoband Movement)

1866 সালে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আন্দোলনের প্রধান প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ কাসিম নানুতভি এবং রশিদ আহমদ গঙ্গোহী।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  • ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞানের সংরক্ষণ।
  • কোরান ও হাদিসভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার।
  • ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
  • ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব।

পরীক্ষায় পার্থক্য: আলিগড় আন্দোলন আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়; দেওবন্দ আন্দোলন ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষার সংরক্ষণ ও প্রসারে গুরুত্ব দেয়।

6.3 ফরায়েজি আন্দোলন (Faraizi Movement)

ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাজি শরিয়তউল্লাহ। উনিশ শতকের প্রথম ভাগে বাংলার মুসলিম সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে এই আন্দোলনের সূচনা হয়।

তাঁর পুত্র দুদু মিয়াঁ এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন।

প্রধান উদ্দেশ্য:

  • ইসলামের ফরজ কর্তব্য পালনের ওপর গুরুত্ব।
  • ধর্মীয় কুসংস্কার ও অনৈসলামিক আচার দূর করার প্রচেষ্টা।
  • কৃষকদের ওপর জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ।
  • বাংলার গ্রামীণ মুসলিম সমাজের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

মনে রাখুন: হাজি শরিয়তউল্লাহ → ফরায়েজি আন্দোলন; দুদু মিয়াঁ → আন্দোলনের বিস্তার।

6.4 ওয়াহাবি আন্দোলন (Wahabi Movement)

ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের সঙ্গে সৈয়দ আহমদ বেরেলভির নাম বিশেষভাবে যুক্ত। তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভাগে ধর্মীয় সংস্কার ও ইসলামের বিশুদ্ধ অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেন।

এই আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় পুনর্জাগরণ এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজনৈতিক-ধর্মীয় সংঘাতও যুক্ত ছিল। বাংলার তিতুমীরের আন্দোলনের সঙ্গে ওয়াহাবি ভাবধারার সম্পর্ক নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা রয়েছে। তবে তিতুমীরের আন্দোলনকে কেবল একটি ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়; এর মধ্যে কৃষক ও ঔপনিবেশিক-বিরোধী উপাদানও ছিল।

6.5 আহমদিয়া আন্দোলন (Ahmadiyya Movement)

1889 সালে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানে আহমদিয়া আন্দোলনের সূচনা করেন। এই আন্দোলন ধর্মীয় পুনর্ব্যাখ্যা, আধ্যাত্মিক সংস্কার এবং ইসলামি ধর্মীয় চিন্তার একটি পৃথক ধারা হিসেবে বিকশিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার তথ্য:

  • আলিগড় আন্দোলন — স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
  • দেওবন্দ আন্দোলন — মুহাম্মদ কাসিম নানুতভি ও রশিদ আহমদ গঙ্গোহী।
  • ফরায়েজি আন্দোলন — হাজি শরিয়তউল্লাহ।
  • আহমদিয়া আন্দোলন — মির্জা গোলাম আহমদ।
  • ভারতীয় ওয়াহাবি আন্দোলন — সৈয়দ আহমদ বেরেলভি।

7. শিখ ও পারসি সমাজের সংস্কার আন্দোলন

7.1 সিং সভা আন্দোলন (Singh Sabha Movement)

1873 সালে অমৃতসরে সিং সভা আন্দোলনের সূচনা হয়। শিখ ধর্মীয় পরিচয়, শিক্ষা এবং সামাজিক-ধর্মীয় সংস্কারের বিকাশে এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

1879 সালে লাহোরে আরেকটি সিং সভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল শিখ ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং শিখদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

7.2 পারসি সংস্কার আন্দোলন ও রহনুমাই মাজদায়াসন সভা

1851 সালে বোম্বাইয়ে রহনুমাই মাজদায়াসন সভা (Rahnumai Mazdayasnan Sabha) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি পারসি সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।

দাদাভাই নওরোজি, নওরোজি ফুরদুনজি, এস. এস. বেঙ্গালি প্রমুখ এই সংস্কার ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নারীশিক্ষা, আধুনিক শিক্ষা, সামাজিক সংস্কার এবং পারসি ধর্মীয় ঐতিহ্যের যুক্তিনির্ভর পুনর্ব্যাখ্যা ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

8. নিম্নবর্ণ, দলিত ও পিছিয়ে পড়া সমাজের সংস্কার আন্দোলন

8.1 সত্যশোধক সমাজ (Satyashodhak Samaj)

1873 সালে মহারাষ্ট্রে জ্যোতিরাও ফুলে সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল ব্রাহ্মণ্য আধিপত্য, জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

প্রধান অবদান:

  • নিম্নবর্ণ ও শোষিত মানুষের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।
  • নারীশিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার প্রসার।
  • জাতিভিত্তিক বৈষম্য ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরোধিতা।
  • সামাজিক সাম্য ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে আন্দোলন।

সাবিত্রীবাই ফুলে নারীশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জ্যোতিরাও ফুলে ও সাবিত্রীবাই ফুলে 1848 সালে পুনেতে মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

8.2 শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালন যোগম (SNDP Yogam)

কেরালায় শ্রী নারায়ণ গুরুর সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সংস্কারচিন্তার ভিত্তিতে 1903 সালে SNDP Yogam প্রতিষ্ঠিত হয়। ড. পালপু এবং কুমারন আসানও এর প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক বিকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের প্রসার।

শ্রী নারায়ণ গুরুর বিখ্যাত বাণী ছিল: “এক জাতি, এক ধর্ম, এক ঈশ্বর মানুষের জন্য।”

8.3 আত্মসম্মান আন্দোলন (Self-Respect Movement)

1925 সালে ই. ভি. রামাস্বামী পেরিয়ার তামিলনাড়ুতে আত্মসম্মান আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলন জাতিভেদ, ব্রাহ্মণ্য আধিপত্য, সামাজিক বৈষম্য এবং নারীর প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।

প্রধান আদর্শ:

  • সামাজিক সাম্য ও আত্মমর্যাদা।
  • জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা।
  • নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা।
  • যুক্তিবাদ ও কুসংস্কারবিরোধিতা।

8.4 ড. বি. আর. আম্বেদকর ও দলিত আন্দোলন

ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর জাতিভিত্তিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে আন্দোলন করেন।

  • 1924 সালে Bahishkrit Hitakarini Sabha প্রতিষ্ঠা করেন।
  • 1927 সালে মহাড় সত্যাগ্রহের মাধ্যমে জল ব্যবহারের অধিকারের দাবি জানান।
  • 1930 সালে নাসিকের কালারাম মন্দির প্রবেশ আন্দোলন পরিচালিত হয়।
  • ভারতের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় খসড়া কমিটির সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


9. নারী সংস্কার আন্দোলন ও গুরুত্বপূর্ণ আইন

উনিশ শতকের সমাজসংস্কার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নারীর সামাজিক অবস্থার উন্নতি। বিভিন্ন সংস্কারক নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ, বাল্যবিবাহের বিরোধিতা এবং নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন।

9.1 সতীদাহ প্রথা বিলোপ, 1829

রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন করেন। গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে 1829 সালে Regulation XVII জারি করে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীকালে নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য প্রেসিডেন্সিতেও সম্প্রসারিত হয়।

9.2 বিধবা বিবাহ আইন, 1856

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় 1856 সালে Hindu Widows’ Remarriage Act প্রণীত হয়। এর মাধ্যমে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ আইনগত স্বীকৃতি লাভ করে।

9.3 নারীশিক্ষার প্রসার

বিদ্যাসাগর, সাবিত্রীবাই ফুলে, জ্যোতিরাও ফুলে এবং অন্যান্য শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 1849 সালে জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের উদ্যোগে কলকাতায় হিন্দু ফিমেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত হয়।

9.4 বাল্যবিবাহ ও বয়স সংক্রান্ত আইন

  • 1872: Special Marriage Act-এর পূর্ববর্তী Native Marriage Act বা Civil Marriage Act নামে পরিচিত আইন প্রণীত হয়; এটি কিছু ক্ষেত্রে অসবর্ণ ও অসাম্প্রদায়িক বিবাহের সুযোগ সৃষ্টি করে।
  • 1891: Age of Consent Act-এর মাধ্যমে সহবাসের সম্মতির ন্যূনতম বয়স 10 থেকে 12 বছর করা হয়।
  • 1929: Child Marriage Restraint Act বা শারদা আইন প্রণীত হয়।
পরীক্ষার সতর্কতা: সতীদাহ বিলোপ আইন 1829, বিধবা বিবাহ আইন 1856, Age of Consent Act 1891 এবং Child Marriage Restraint Act 1929 — এই চারটি সাল আলাদা করে মনে রাখুন।

10. সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সাল ও সময়রেখা

সাল ঘটনা / প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিত্ব
1815 আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা রাজা রামমোহন রায়
1828 ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা রাজা রামমোহন রায়
1829 সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক; রামমোহনের সংস্কার আন্দোলন
1839 তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
1848 পুনেতে মেয়েদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জ্যোতিরাও ফুলে ও সাবিত্রীবাই ফুলে
1849 হিন্দু ফিমেল স্কুল প্রতিষ্ঠা জে. ই. ডি. বেথুন
1851 রহনুমাই মাজদায়াসন সভা পারসি সংস্কারকগণ
1856 Hindu Widows’ Remarriage Act ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
1866 দেওবন্দ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পূর্ববর্তী বছর; ব্রাহ্মসমাজে বিভাজন নানুতভি ও গঙ্গোহী; কেশবচন্দ্র সেন ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
1867 প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ
1873 সত্যশোধক সমাজ ও সিং সভা আন্দোলনের সূচনা জ্যোতিরাও ফুলে; শিখ সংস্কারকগণ
1875 আর্যসমাজ প্রতিষ্ঠা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী
1875 মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল স্কুল প্রতিষ্ঠা স্যার সৈয়দ আহমদ খান
1875 থিওসফিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা ব্লাভাটস্কি ও অলকট
1878 সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখ
1882 থিওসফিক্যাল সোসাইটির সদর দপ্তর আদিয়ারে স্থাপন থিওসফিক্যাল সোসাইটি
1889 আহমদিয়া আন্দোলনের সূচনা মির্জা গোলাম আহমদ
1897 রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা স্বামী বিবেকানন্দ
1903 SNDP Yogam প্রতিষ্ঠা নারায়ণ গুরু ও সহযোগীরা
1925 আত্মসম্মান আন্দোলন ই. ভি. রামাস্বামী পেরিয়ার
1927 মহাড় সত্যাগ্রহ ড. বি. আর. আম্বেদকর

11. প্রধান সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের তুলনামূলক ছক

আন্দোলন / প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতা / প্রধান ব্যক্তিত্ব সাল মূল উদ্দেশ্য
আত্মীয় সভা রাজা রামমোহন রায় 1815 ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার
ব্রাহ্মসভা রাজা রামমোহন রায় 1828 একেশ্বরবাদ ও সমাজসংস্কার
ইয়ং বেঙ্গল ডিরোজিও 1820-এর দশক যুক্তিবাদ ও মুক্তচিন্তা
প্রার্থনা সমাজ আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ 1867 সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার
আর্যসমাজ দয়ানন্দ সরস্বতী 1875 বেদে প্রত্যাবর্তন
রামকৃষ্ণ মিশন স্বামী বিবেকানন্দ 1897 মানবসেবা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি
থিওসফিক্যাল সোসাইটি ব্লাভাটস্কি ও অলকট 1875 সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান
আলিগড় আন্দোলন স্যার সৈয়দ আহমদ খান 19শ শতক আধুনিক মুসলিম শিক্ষা
দেওবন্দ আন্দোলন নানুতভি ও গঙ্গোহী 1866 ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষা
ফরায়েজি আন্দোলন হাজি শরিয়তউল্লাহ 19শ শতকের প্রথম ভাগ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার
সিং সভা শিখ সংস্কারকগণ 1873 শিখ ধর্মীয় পুনর্জাগরণ
সত্যশোধক সমাজ জ্যোতিরাও ফুলে 1873 জাতিভেদ ও বৈষম্য বিরোধিতা
SNDP Yogam নারায়ণ গুরু ও সহযোগীরা 1903 সামাজিক সাম্য ও শিক্ষা
আত্মসম্মান আন্দোলন পেরিয়ার 1925 আত্মমর্যাদা ও জাতিভেদ বিরোধিতা

12. সংস্কারবাদী ও পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের পার্থক্য

সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনগুলিকে বোঝার একটি কার্যকর উপায় হলো সংস্কারবাদী (Reformist) এবং পুনরুজ্জীবনবাদী (Revivalist) প্রবণতার পার্থক্য বোঝা। তবে কোনো আন্দোলনকে সব সময় একটিমাত্র শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

বিষয় সংস্কারবাদী প্রবণতা পুনরুজ্জীবনবাদী প্রবণতা
মূল লক্ষ্য সমাজ ও ধর্মীয় প্রথার সংস্কার নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য ও শাস্ত্রীয় শিক্ষার পুনরুজ্জীবন
পদ্ধতি যুক্তি, আধুনিক শিক্ষা ও পরিবর্তন ধর্মীয় শাস্ত্র ও ঐতিহ্যের পুনর্ব্যাখ্যা
উদাহরণ ব্রাহ্মসমাজ, প্রার্থনা সমাজ, আলিগড় আন্দোলন আর্যসমাজ, দেওবন্দ আন্দোলনের মতো ধারা
সাধারণ লক্ষ্য সামাজিক উন্নতি ও কুসংস্কার দূরীকরণ ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ

13. সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের প্রভাব ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব

13.1 সামাজিক সচেতনতার বিকাশ

এই আন্দোলনগুলি সমাজের কুসংস্কার, বৈষম্য ও অন্যায় প্রথা নিয়ে আলোচনা এবং প্রতিবাদের পরিবেশ তৈরি করে।

13.2 নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকার

নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নগুলি জনপরিসরে গুরুত্ব পায়।

13.3 আধুনিক শিক্ষার প্রসার

বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন বিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে সাহায্য করে।

13.4 জাতীয়তাবাদের বিকাশ

ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক মর্যাদা সম্পর্কে নতুন সচেতনতা জাতীয় আত্মপরিচয় এবং ঔপনিবেশিক শাসনের সমালোচনাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে সব সংস্কার আন্দোলনের লক্ষ্য সরাসরি রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না।

13.5 সামাজিক সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ

জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন ভবিষ্যতের সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চিন্তার বিকাশে ভূমিকা রাখে।

13.6 ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও নতুন চিন্তা

বিভিন্ন আন্দোলন ধর্মীয় মতাদর্শকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে এবং কিছু ক্ষেত্রে আন্তঃধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটায়।

সারসংক্ষেপ: সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন ভারতের আধুনিক ইতিহাসে সামাজিক পরিবর্তন, শিক্ষার প্রসার, নারী-অধিকার, জাতিভেদ বিরোধিতা, ধর্মীয় পুনর্বিবেচনা এবং আধুনিক জাতীয় চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


14. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ One-Liner তথ্য

  • ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন — রাজা রামমোহন রায়।
  • আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠিত হয় — 1815 সালে।
  • ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠিত হয় — 1828 সালে।
  • সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় — 1829 সালে।
  • তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের নেতা — ডিরোজিও।
  • বিধবা বিবাহ আইন — 1856 সালে।
  • প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠাতা — আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ।
  • আর্যসমাজ প্রতিষ্ঠাতা — স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী।
  • সত্যার্থ প্রকাশের রচয়িতা — দয়ানন্দ সরস্বতী।
  • রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠাতা — স্বামী বিবেকানন্দ।
  • রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠিত হয় — 1897 সালে।
  • আলিগড় আন্দোলনের নেতা — স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
  • দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় — 1866 সালে।
  • ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা — হাজি শরিয়তউল্লাহ।
  • সিং সভা আন্দোলনের সূচনা — 1873 সালে।
  • সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠাতা — জ্যোতিরাও ফুলে।
  • SNDP Yogam-এর সঙ্গে যুক্ত — শ্রী নারায়ণ গুরু।
  • আত্মসম্মান আন্দোলনের নেতা — পেরিয়ার।
  • মহাড় সত্যাগ্রহের নেতা — ড. বি. আর. আম্বেদকর।

15. সম্পর্কিত ইতিহাসের বাংলা নোট (Internal Linking)

ভারতের ইতিহাসের এই অধ্যায়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য নিচের সম্পর্কিত নোটগুলিও পড়ুন। প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় পরিবর্তন থেকে আধুনিক ভারতের সমাজসংস্কার এবং ব্রিটিশ শাসনের বিস্তার পর্যন্ত বিষয়গুলির মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে।

  1. ভারতের ইতিহাস সম্পূর্ণ বাংলা নোটস ও MCQ — ইতিহাসের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মূল হাব।
  2. ইতিহাস কী? ইতিহাসের উৎস ও অধ্যয়নের পদ্ধতি — ইতিহাসের উৎস ও গবেষণা পদ্ধতি জানুন।
  3. সিন্ধু সভ্যতা: বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য — প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি।
  4. বৈদিক যুগ: সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি — প্রাচীন ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো।
  5. মহাজনপদ ও মগধের উত্থান — প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন।
  6. বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মের তুলনামূলক আলোচনা — প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় সংস্কার ও শ্রমণ ঐতিহ্য।
  7. পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধ — বাংলায় ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের সূচনা।
  8. ব্রিটিশ শাসনের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তার — ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস।
  9. জৈনধর্ম: মহাবীরের জীবন ও প্রধান শিক্ষা — ভারতীয় ধর্মীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
  10. বাংলার নবজাগরণ: প্রধান ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কার আন্দোলন — বাংলার সমাজসংস্কারকদের বিস্তারিত আলোচনা।

16. নির্ভরযোগ্য ইতিহাস ও শিক্ষামূলক তথ্যসূত্র (External References)

বিষয়টির আরও গভীর অধ্যয়ন এবং ঐতিহাসিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য নিচের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষামূলক উৎসগুলি ব্যবহার করতে পারেন।

উপরের বহিঃসংযোগগুলি শিক্ষামূলক রেফারেন্স। লিংকের গন্তব্য ও প্রকাশিত বিষয়বস্তু সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।

17. Social and Religious Reform Movements: 10 Important MCQ with Answers and Explanations

WBCS, WBPSC, Clerkship, WB Police, SSC এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচের 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ অনুশীলন করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো Online Test নয়।

প্রশ্ন 1. ব্রাহ্মসভা কে এবং কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর — 1839

খ) রাজা রামমোহন রায় — 1828

গ) কেশবচন্দ্র সেন — 1866

ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর — 1856

সঠিক উত্তর: খ) রাজা রামমোহন রায় — 1828
ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় 1828 সালে কলকাতায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়। একেশ্বরবাদ, ধর্মীয় উদারতা এবং সামাজিক সংস্কার ছিল এর প্রধান আদর্শ।

প্রশ্ন 2. সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় কত সালে?

ক) 1828

খ) 1829

গ) 1856

ঘ) 1872

সঠিক উত্তর: খ) 1829
ব্যাখ্যা: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের শাসনকালে 1829 সালে Regulation XVII জারি করে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। রাজা রামমোহন রায় এই প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

প্রশ্ন 3. প্রার্থনা সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?

ক) মহাদেব গোবিন্দ রানাডে

খ) আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ

গ) স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী

ঘ) জ্যোতিরাও ফুলে

সঠিক উত্তর: খ) আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ
ব্যাখ্যা: আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ 1867 সালে বোম্বাইয়ে প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। মহাদেব গোবিন্দ রানাডে এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।

প্রশ্ন 4. আর্যসমাজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) 1828

খ) 1867

গ) 1875

ঘ) 1897

সঠিক উত্তর: গ) 1875
ব্যাখ্যা: স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী 1875 সালে বোম্বাইয়ে আর্যসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল আদর্শ ছিল বেদে প্রত্যাবর্তন বা Back to the Vedas।

প্রশ্ন 5. রামকৃষ্ণ মিশন কে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস

খ) স্বামী বিবেকানন্দ

গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঘ) কেশবচন্দ্র সেন

সঠিক উত্তর: খ) স্বামী বিবেকানন্দ
ব্যাখ্যা: স্বামী বিবেকানন্দ 1897 সালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। মানবসেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ।

প্রশ্ন 6. আলিগড় আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা কে ছিলেন?

ক) মুহাম্মদ কাসিম নানুতভি

খ) হাজি শরিয়তউল্লাহ

গ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান

ঘ) মির্জা গোলাম আহমদ

সঠিক উত্তর: গ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা: স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসারের জন্য আলিগড় আন্দোলন পরিচালনা করেন। 1875 সালে মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন 7. সত্যশোধক সমাজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) নারায়ণ গুরু

খ) জ্যোতিরাও ফুলে

গ) পেরিয়ার

ঘ) বি. আর. আম্বেদকর

সঠিক উত্তর: খ) জ্যোতিরাও ফুলে
ব্যাখ্যা: জ্যোতিরাও ফুলে 1873 সালে মহারাষ্ট্রে সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রশ্ন 8. দেওবন্দ আন্দোলনের সূচনা কোন সালে হয়?

ক) 1857

খ) 1866

গ) 1875

ঘ) 1889

সঠিক উত্তর: খ) 1866
ব্যাখ্যা: 1866 সালে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে দারুল উলুম প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহাম্মদ কাসিম নানুতভি ও রশিদ আহমদ গঙ্গোহী এর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

প্রশ্ন 9. ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

ক) সৈয়দ আহমদ বেরেলভি

খ) দুদু মিয়াঁ

গ) হাজি শরিয়তউল্লাহ

ঘ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান

সঠিক উত্তর: গ) হাজি শরিয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা: হাজি শরিয়তউল্লাহ বাংলায় ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা করেন। তাঁর পুত্র দুদু মিয়াঁ এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

প্রশ্ন 10. আত্মসম্মান আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে?

ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর

খ) জ্যোতিরাও ফুলে

গ) ই. ভি. রামাস্বামী পেরিয়ার

ঘ) শ্রী নারায়ণ গুরু

সঠিক উত্তর: গ) ই. ভি. রামাস্বামী পেরিয়ার
ব্যাখ্যা: পেরিয়ার 1925 সালে আত্মসম্মান আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলন জাতিভেদ, সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও নারীর প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করে।

ফ্রি Registration করুন এবং আরও বাংলা GK নোটস পড়ুন

Daily GK, Current Affairs ও Exam News পেতে WhatsApp Channel Join করুন

18. Frequently Asked Questions (FAQ)

1. ভারতের সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

উনিশ ও বিশ শতকের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলনকে বোঝায়, যেগুলি কুসংস্কার, জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা, নারীশিক্ষার অভাব এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল।

2. ব্রাহ্মসমাজ কে প্রতিষ্ঠা করেন এবং কত সালে?

রাজা রামমোহন রায় 1828 সালে কলকাতায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়।

3. আর্যসমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী 1875 সালে বোম্বাইয়ে আর্যসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল আদর্শ ছিল বেদে প্রত্যাবর্তন।

4. বিধবা বিবাহ আইন কত সালে পাস হয়?

1856 সালে Hindu Widows’ Remarriage Act প্রণীত হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই আইন প্রণয়নের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

5. রামকৃষ্ণ মিশন কে এবং কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?

স্বামী বিবেকানন্দ 1897 সালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

6. আলিগড় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

ভারতীয় মুসলিম সমাজের মধ্যে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রসার ঘটানো ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

7. সত্যশোধক সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?

জ্যোতিরাও ফুলে 1873 সালে মহারাষ্ট্রে সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

8. দেওবন্দ আন্দোলন কত সালে শুরু হয়?

1866 সালে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে দারুল উলুম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়।

9. ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

হাজি শরিয়তউল্লাহ এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর পুত্র দুদু মিয়াঁ আন্দোলনকে বিস্তৃত করেন।

10. সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের প্রধান ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

এই আন্দোলনগুলি সামাজিক সচেতনতা, নারীশিক্ষা, ধর্মীয় পুনর্বিবেচনা, জাতিভেদ বিরোধিতা, আধুনিক শিক্ষার প্রসার এবং ভারতের আধুনিক জাতীয় চেতনার বিকাশে ভূমিকা পালন করে।


Ranjan Malakar - My Test Series Author

About Ranjan Malakar

Ranjan Malakar is an experienced educational content writer and exam preparation mentor with more than 15 years of expertise in creating high-quality study materials, mock tests, MCQs, and competitive exam resources in Bengali, Assamese, and English languages.

He specializes in educational content related to WB Police, Panchayat, TET, Assam Exams, and various state-level competitive examinations. Through My Test Series, he continuously works to make exam preparation more accessible, affordable, and effective for students across India.

Editorial note: এই শিক্ষামূলক নোটটি সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। গুরুত্বপূর্ণ সাল ও ঐতিহাসিক তথ্য অধ্যয়নের সময় নির্ভরযোগ্য পাঠ্যসূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series