Raja Rammohan Roy and Brahmo Samaj in Bengali – সম্পূর্ণ নোটস


MODERN INDIAN HISTORY | BENGAL RENAISSANCE

রাজা রামমোহন রায় ও ব্রাহ্মসমাজ (Raja Rammohan Roy and Brahmo Samaj)

আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়ের জীবন, ধর্মীয় চিন্তাধারা, সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন, ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন এবং ব্রাহ্মসমাজের বিভাজন সম্পর্কে সম্পূর্ণ পরীক্ষামুখী বাংলা নোট।

উপযোগী পরীক্ষা: WBCS, WBPSC, Clerkship, WB Police, SSC, Railway, অন্যান্য রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা।

এক কথায় উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ছিলেন আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অন্যতম প্রধান অগ্রদূত। তিনি 1815 সালে আত্মীয় সভা এবং 1828 সালে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। একেশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ, নারীশিক্ষা, সতীদাহ প্রথা বিলোপ এবং ধর্মীয় উদারতার প্রচার ছিল তাঁর সমাজসংস্কারমূলক কাজের প্রধান দিক। তাঁর মৃত্যুর পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেন ব্রাহ্ম আন্দোলনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এই অধ্যায়ে যা যা শিখবেন:

  • রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম, পরিবার, শিক্ষা ও কর্মজীবন।
  • তাঁর ধর্মীয় দর্শন ও একেশ্বরবাদী চিন্তাধারা।
  • আত্মীয় সভা এবং ব্রাহ্মসভার প্রতিষ্ঠা।
  • সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন ও 1829 সালের আইন।
  • নারীশিক্ষা, বিধবা অধিকার ও আধুনিক শিক্ষায় অবদান।
  • ব্রাহ্মসমাজে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা।
  • কেশবচন্দ্র সেন ও ব্রাহ্মসমাজের বিভাজন।
  • সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার কারণ ও গুরুত্ব।
  • গুরুত্বপূর্ণ সাল, ঘটনা, গ্রন্থ ও 10টি MCQ।

FREE REGISTRATION – বিনামূল্যে সদস্য হন

WhatsApp Channel Join করুন – Daily Exam Updates ও News

1. রাজা রামমোহন রায়: পরিচিতি (Introduction)

রাজা রামমোহন রায় (Raja Rammohan Roy) আধুনিক ভারতের ইতিহাসে একজন বিশিষ্ট সমাজসংস্কারক, ধর্মচিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিক। উনিশ শতকের প্রথম ভাগে ভারতীয় সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি যুক্তিনির্ভর আন্দোলন গড়ে তোলেন।

তাঁকে সাধারণভাবে আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত (Pioneer of Indian Renaissance) বলা হয়। তাঁর চিন্তাধারা ভারতীয় সমাজকে আধুনিক শিক্ষা, যুক্তিবাদ, মানবিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় উদারতার দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

তিনি মনে করতেন, ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের নৈতিক উন্নতি এবং সত্যের অনুসন্ধান। তাই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পরিবর্তে যুক্তি, নৈতিকতা ও একেশ্বরবাদকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: রাজা রামমোহন রায়কে আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়। ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠার সাল 1828 এবং সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করার সাল 1829।

2. জন্ম, পরিবার ও শিক্ষাজীবন

2.1 জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

  • জন্ম: 22 May 1772।
  • জন্মস্থান: রাধানগর, হুগলি জেলা, বাংলা।
  • পিতার নাম: রামকান্ত রায়।
  • মাতার নাম: তারিণী দেবী।
  • মৃত্যু: 27 September 1833।
  • মৃত্যুস্থান: ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড।

রামমোহন রায় একটি সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় দর্শন, ভাষা এবং সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি সম্পর্কে আগ্রহী ছিলেন।

2.2 শিক্ষাজীবন

তিনি সংস্কৃত, বাংলা, ফারসি, আরবি এবং ইংরেজিসহ একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে তিনি হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের ধর্মীয় চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হন।

তাঁর ভাষাজ্ঞান তাঁকে বিভিন্ন ধর্মের মূল দর্শন তুলনা করতে সাহায্য করে। তিনি ধর্মীয় গ্রন্থের মধ্যে নৈতিকতা ও একেশ্বরবাদের ধারণা খুঁজে দেখেন।

2.3 কর্মজীবন

রামমোহন রায় কর্মজীবনের একটি পর্যায়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে রাজস্ব প্রশাসনের কাজে যুক্ত ছিলেন। এই সময় তিনি ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ঔপনিবেশিক শাসন এবং ভারতীয় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

পরবর্তীকালে তিনি কলকাতায় স্থায়ীভাবে সমাজসংস্কার, ধর্মীয় আলোচনা, শিক্ষা এবং সংবাদপত্র প্রকাশের কাজে আত্মনিয়োগ করেন।


3. রাজা রামমোহন রায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক চিন্তাধারা

রামমোহন রায়ের চিন্তাধারার মূল ভিত্তি ছিল যুক্তিবাদ, একেশ্বরবাদ, মানবতাবাদ এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। তিনি মনে করতেন, ধর্মকে অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারের ওপর প্রতিষ্ঠিত করা উচিত নয়।

3.1 একেশ্বরবাদ (Monotheism)

তিনি এক ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন। তাঁর মতে, ঈশ্বর নিরাকার, সর্বব্যাপী এবং এক। ঈশ্বরের উপাসনার জন্য বাহ্যিক আচার বা মূর্তির ওপর নির্ভর করা অপরিহার্য নয়।

3.2 মূর্তিপূজা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা

রামমোহন রায় হিন্দুধর্মের নামে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস, অর্থহীন আচার-অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির সমালোচনা করেন। তিনি ধর্মগ্রন্থকে যুক্তি ও নৈতিকতার আলোকে ব্যাখ্যা করার পক্ষপাতী ছিলেন।

3.3 ধর্মীয় সহিষ্ণুতা

তিনি হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের মিল রয়েছে। অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ না রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা উচিত।

3.4 মানবতাবাদ ও যুক্তিবাদ

মানুষের মর্যাদা, স্বাধীন চিন্তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ছিল তাঁর দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি মনে করতেন, সমাজের কোনো প্রথা মানুষের জীবন ও মর্যাদার ক্ষতি করলে তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

3.5 ধর্মীয় গ্রন্থের পুনর্ব্যাখ্যা

তিনি উপনিষদের একেশ্বরবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দেন এবং বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের অনুবাদ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মীয় জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মনে রাখুন: রামমোহন রায়ের ধর্মীয় দর্শনের প্রধান ভিত্তি ছিল একেশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং নৈতিকতা।

4. সাহিত্য, সংবাদপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা

রামমোহন রায় শুধু সমাজসংস্কারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক, অনুবাদক এবং সাংবাদিক। তাঁর রচনাগুলির মাধ্যমে ধর্মীয় চিন্তা, সামাজিক সমস্যা এবং রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন আলোচিত হয়।

4.1 উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও রচনা

গ্রন্থ / প্রকাশনা বিষয় ও গুরুত্ব
তুহফাত-উল-মুয়াহহিদিন (Tuhfat-ul-Muwahhidin) একেশ্বরবাদ ও ধর্মীয় যুক্তিবাদ সম্পর্কিত প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
বেদান্ত গ্রন্থ বেদান্ত দর্শনের ব্যাখ্যা ও প্রচার।
কেন উপনিষদ অনুবাদ উপনিষদের একেশ্বরবাদী চিন্তার প্রসার।
ঈশোপনিষদ অনুবাদ উপনিষদীয় দর্শন সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
The Precepts of Jesus (1820) যিশুর নৈতিক শিক্ষার নির্বাচিত অংশের উপস্থাপনা।
A Conference Between an Advocate for, and an Opponent of, the Practice of Burning Widows Alive (1818) সতীদাহ প্রথার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তির আলোচনা।

4.2 সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা

রামমোহন রায় সংবাদপত্রকে সমাজের সমস্যা তুলে ধরা এবং জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।

  • সম্বাদ কৌমুদী (1821): বাংলা সংবাদপত্র। সামাজিক সংস্কার ও সতীদাহ বিরোধী জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • মিরাত-উল-আখবার (1822): ফারসি ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকা।
  • Brahmanical Magazine: ধর্মীয় বিতর্ক ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার সঙ্গে যুক্ত প্রকাশনা।

তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং ঔপনিবেশিক সরকারের সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণের নীতির সমালোচনা করেন।

5. সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন (Abolition of Sati)

রামমোহন রায়ের সমাজসংস্কারমূলক কাজের মধ্যে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। সতীদাহ প্রথায় স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবাকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত দাহ করা হতো বা কখনো জীবন্ত সমাধিস্থ করা হতো।

5.1 সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান

রামমোহন রায় মনে করতেন, সতীদাহ একটি অমানবিক সামাজিক প্রথা। তিনি ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করে দেখানোর চেষ্টা করেন যে সতীদাহকে হিন্দুধর্মের বাধ্যতামূলক ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

তিনি যুক্তি, শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে এই প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন।

5.2 আন্দোলনের প্রধান পদ্ধতি

  • সতীদাহের বিরুদ্ধে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রবন্ধ ও পুস্তিকা প্রকাশ।
  • ধর্মগ্রন্থের ভিত্তিতে সতীদাহের বাধ্যতামূলক চরিত্র অস্বীকার।
  • সমাজের শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি।
  • ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে আইনগত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত প্রকাশ।
  • নারীর জীবন ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে জনমত গঠন।

5.3 সতীদাহ প্রথা বিলোপ আইন, 1829

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের শাসনকালে 4 December 1829 তারিখে Bengal Regulation XVII জারি করা হয়। এর মাধ্যমে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে সতীদাহ প্রথাকে বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য প্রেসিডেন্সিতেও সম্প্রসারিত হয়।

রামমোহন রায়ের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও জনমত গঠন এই আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে আইনটি কার্যকর করেছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার।

পরীক্ষায় বিশেষভাবে মনে রাখুন:

  • সতীদাহ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিত্ব — রাজা রামমোহন রায়।
  • আইন প্রণয়নকারী গভর্নর জেনারেল — লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
  • আইনের নাম — Bengal Regulation XVII of 1829।
  • আইন জারির তারিখ — 4 December 1829।

6. শিক্ষা ও নারী অধিকারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান

6.1 আধুনিক শিক্ষার প্রসার

রামমোহন রায় আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন এবং ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের পক্ষে ছিলেন। তিনি মনে করতেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু প্রাচীন জ্ঞান অর্জন নয়; মানুষের যুক্তিবোধ ও বাস্তব জ্ঞান বৃদ্ধি করাও জরুরি।

1823 সালে তিনি লর্ড অ্যামহার্স্টকে একটি চিঠি লিখে আধুনিক বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

6.2 হিন্দু কলেজ ও আধুনিক শিক্ষা

1817 সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। রামমোহন রায় আধুনিক শিক্ষার সমর্থক হলেও হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। তাই তাঁকে এককভাবে এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বলা সঠিক নয়।

6.3 নারীশিক্ষার সমর্থন

তিনি নারীদের শিক্ষার অধিকার এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থানের পক্ষে ছিলেন। তাঁর মতে, নারীদের অশিক্ষিত ও অধিকারহীন রেখে সমাজের সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব নয়।

6.4 নারীর সম্পত্তির অধিকার

রামমোহন রায় নারীর উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকারের প্রশ্নেও লেখালেখি করেন। নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তাঁর সংস্কারচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।

6.5 বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধিতা

তিনি সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য এবং অমানবিক বিবাহপ্রথার সমালোচনা করেন। নারীর শিক্ষা, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার পক্ষে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।


7. আত্মীয় সভা (Atmiya Sabha), 1815

1815 সালে রাজা রামমোহন রায় কলকাতায় আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল ধর্মীয় ও দার্শনিক আলোচনা এবং সামাজিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

7.1 আত্মীয় সভার উদ্দেশ্য

  • একেশ্বরবাদী চিন্তার প্রচার।
  • ধর্মীয় গ্রন্থ ও দর্শন নিয়ে আলোচনা।
  • মূর্তিপূজা ও কুসংস্কারের সমালোচনা।
  • সামাজিক সমস্যার যুক্তিনির্ভর পর্যালোচনা।
  • ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও নৈতিকতার প্রসার।

7.2 ঐতিহাসিক গুরুত্ব

আত্মীয় সভা পরবর্তীকালের ব্রাহ্ম আন্দোলনের বৌদ্ধিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি রামমোহনের ধর্মীয় ও সমাজসংস্কারমূলক চিন্তাধারার প্রাথমিক সংগঠিত প্রকাশ।

মনে রাখুন: আত্মীয় সভা — 1815 — রাজা রামমোহন রায়।

8. ব্রাহ্মসভা ও ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা (1828)

20 August 1828 সালে রাজা রামমোহন রায় কলকাতায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনকে ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এক ঈশ্বরের উপাসনা, ধর্মীয় উদারতা এবং সমাজসংস্কারের প্রচার।

8.1 প্রতিষ্ঠার পটভূমি

আত্মীয় সভার আলোচনার পর রামমোহন রায় উপলব্ধি করেন যে ধর্মীয় সংস্কারের জন্য একটি নিয়মিত উপাসনা ও সংগঠিত প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। তাই তিনি একটি নতুন ধর্মীয় উপাসনা সংগঠন গড়ে তোলেন।

প্রথম দিকে এটি Brahma Sabha নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে Brahmo Samaj নামটি জনপ্রিয় হয়।

8.2 ব্রাহ্ম উপাসনালয়ের উদ্বোধন, 1830

23 January 1830 সালে কলকাতার চিৎপুর অঞ্চলে ব্রাহ্ম উপাসনালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এর সঙ্গে একটি Trust Deed যুক্ত ছিল, যেখানে উপাসনালয়ের উদ্দেশ্য ও ধর্মীয় নীতির কথা উল্লেখ করা হয়।

8.3 Trust Deed-এর গুরুত্ব

1830 সালের Trust Deed ব্রাহ্ম উপাসনার ধর্মীয় চরিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে সর্বোচ্চ ঈশ্বরের উপাসনা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ না রাখার নীতি গুরুত্ব পায়।

9. ব্রাহ্মসমাজের প্রধান আদর্শ ও বৈশিষ্ট্য

9.1 একেশ্বরবাদ

ব্রাহ্মসমাজ এক ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করত। ঈশ্বর নিরাকার এবং সর্বজনীন — এই ধারণা ছিল এর মূল ভিত্তি।

9.2 মূর্তিপূজার বিরোধিতা

ব্রাহ্মসমাজ মূর্তিপূজা ও বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের পরিবর্তে সরল উপাসনা এবং নৈতিক জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়।

9.3 জাতিভেদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরোধিতা

সমাজে জন্মভিত্তিক বৈষম্য এবং মানুষের মর্যাদার অসমতাকে ব্রাহ্ম আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনা করা হয়।

9.4 নারীশিক্ষা ও নারী অধিকার

নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ এবং নারীর সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্রাহ্ম আন্দোলনের নেতারা কাজ করেন।

9.5 ধর্মীয় সহিষ্ণুতা

বিভিন্ন ধর্মের নৈতিক শিক্ষাকে সম্মান করা এবং ধর্মীয় বিরোধের পরিবর্তে মানবিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া ছিল এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

9.6 যুক্তিবাদ ও নৈতিকতা

ধর্মীয় বিশ্বাসকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে যুক্তি, বিবেক এবং নৈতিকতার আলোকে বিচার করার প্রবণতা ব্রাহ্ম আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

9.7 সরল উপাসনা

ব্রাহ্ম উপাসনায় ঈশ্বরের গুণগান, ধর্মীয় পাঠ এবং প্রার্থনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো।

পরীক্ষার জন্য: ব্রাহ্মসমাজের মূল ভিত্তি — একেশ্বরবাদ, মূর্তিপূজা বিরোধিতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, যুক্তিবাদ এবং সামাজিক সংস্কার।

10. রাজা রামমোহন রায়ের ইংল্যান্ড যাত্রা ও মৃত্যু

1830 সালে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরের দূত হিসেবে রামমোহন রায় ইংল্যান্ডে যান। সম্রাট তাঁকে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন বলে সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়। ইংল্যান্ডে তিনি ভারতীয় স্বার্থ, প্রশাসনিক প্রশ্ন এবং সামাজিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন।

  • ইংল্যান্ড যাত্রা — 1830।
  • মৃত্যু — 27 September 1833।
  • মৃত্যুস্থান — ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড।

তাঁর মৃত্যুর পর ব্রাহ্ম আন্দোলনের নেতৃত্বে নতুন পর্যায় শুরু হয়। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করেন।


11. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রাহ্মসমাজের পুনর্জাগরণ

রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর ব্রাহ্ম আন্দোলন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম আন্দোলনের পুনর্জাগরণ ও সাংগঠনিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

11.1 তত্ত্ববোধিনী সভা, 1839

1839 সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা, দর্শন এবং ব্রাহ্ম আদর্শের প্রচার।

11.2 তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা

1843 সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ শুরু হয়। অক্ষয়কুমার দত্ত এই পত্রিকার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন। পত্রিকাটি ধর্ম, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সাহিত্য এবং সামাজিক সংস্কার বিষয়ে আলোচনা করত।

11.3 ব্রাহ্মসমাজে দেবেন্দ্রনাথের ভূমিকা

  • ব্রাহ্ম আন্দোলনকে নতুন সাংগঠনিক শক্তি প্রদান।
  • উপনিষদভিত্তিক একেশ্বরবাদী চিন্তার প্রসার।
  • শিক্ষা ও বাংলা সাহিত্যচর্চার উন্নতি।
  • ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক কুসংস্কারের সমালোচনা।
  • ব্রাহ্মসমাজের সাংগঠনিক কাঠামো সুদৃঢ় করা।

1843 সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাহ্ম আন্দোলনে যোগ দেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজ একটি শক্তিশালী ধর্মীয় ও বৌদ্ধিক আন্দোলনে পরিণত হয়।

মনে রাখুন: তত্ত্ববোধিনী সভা — 1839 — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা — 1843।

12. কেশবচন্দ্র সেন ও ব্রাহ্মসমাজের বিস্তার

কেশবচন্দ্র সেন (1838–1884) ব্রাহ্ম আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা ও সমাজসংস্কারক ছিলেন। তিনি 1857 সালে ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন এবং পরবর্তীকালে এর প্রচার ও সামাজিক সংস্কারমূলক কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

12.1 প্রধান অবদান

  • ব্রাহ্মসমাজের আদর্শ বাংলার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
  • নারীশিক্ষা ও নারী-অধিকারের পক্ষে প্রচার।
  • জাতিভেদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরোধিতা।
  • আন্তঃজাতি বিবাহ ও সামাজিক সংস্কারের সমর্থন।
  • বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ঐক্য ও সর্বজনীন ধর্মীয় আদর্শের প্রচার।

12.2 Indian Reform Association, 1870

1870 সালে কেশবচন্দ্র সেন Indian Reform Association প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার সাধন, শিক্ষা বিস্তার, নারীকল্যাণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছিল এর উদ্দেশ্য।

12.3 Indian Marriage Act, 1872

কেশবচন্দ্র সেনের সংস্কারমূলক উদ্যোগের সঙ্গে 1872 সালের Native Marriage Act-এর সম্পর্ক ছিল। এই আইন সাধারণভাবে Civil Marriage Act নামেও পরিচিত। এটি নির্দিষ্ট শর্তে অসবর্ণ ও ধর্মীয় পরিচয়নিরপেক্ষ বিবাহের আইনগত সুযোগ সৃষ্টি করে।

12.4 নববিধান (New Dispensation), 1880

1880 সালে কেশবচন্দ্র সেন নববিধান বা New Dispensation-এর ধারণা প্রচার করেন। তিনি হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম এবং অন্যান্য ধর্মের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন।

13. ব্রাহ্মসমাজের বিভাজন (Split of Brahmo Samaj)

ব্রাহ্মসমাজের ইতিহাসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন ঘটে। নেতৃত্ব, ধর্মীয় মতবাদ, সামাজিক সংস্কারের গতি এবং সাংগঠনিক গণতন্ত্র নিয়ে মতপার্থক্য ছিল এর প্রধান কারণ।

13.1 প্রথম বিভাজন, 1866

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেনের মধ্যে সংস্কারের পদ্ধতি ও গতির বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। দেবেন্দ্রনাথ তুলনামূলকভাবে ধীর ও সতর্ক সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে কেশবচন্দ্র সেন দ্রুত এবং ব্যাপক সামাজিক সংস্কারের পক্ষপাতী ছিলেন।

1866 সালে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বাধীন অংশ মূল সংগঠন থেকে পৃথক হয়ে ব্রাহ্মসমাজ অব ইন্ডিয়া (Brahmo Samaj of India) প্রতিষ্ঠা করে। দেবেন্দ্রনাথের নেতৃত্বাধীন মূল সংগঠন আদি ব্রাহ্মসমাজ (Adi Brahmo Samaj) নামে পরিচিত হয়।

13.2 দ্বিতীয় বিভাজন, 1878

কেশবচন্দ্র সেনের কন্যার অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় কোচবিহারের মহারাজার সঙ্গে বিবাহকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মসমাজ অব ইন্ডিয়ার মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। 1872 সালের বিবাহ আইন এবং কেশবচন্দ্রের ঘোষিত সংস্কারনীতির সঙ্গে এই বিবাহের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্বের কর্তৃত্ব এবং ধর্মীয় মতবাদের প্রশ্নে মতবিরোধ ছিল।

1878 সালে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের উদ্যোগে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ (Sadharan Brahmo Samaj) প্রতিষ্ঠিত হয়।

13.3 ব্রাহ্মসমাজের তিনটি প্রধান শাখা

শাখা প্রধান নেতা প্রতিষ্ঠা / বিভাজনের সাল
আদি ব্রাহ্মসমাজ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর 1866
ব্রাহ্মসমাজ অব ইন্ডিয়া কেশবচন্দ্র সেন 1866
সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখ 1878
পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র:

  • 1866 — প্রথম বিভাজন — দেবেন্দ্রনাথ ও কেশবচন্দ্রের মতপার্থক্য।
  • 1878 — দ্বিতীয় বিভাজন — সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা।

14. রাজা রামমোহন রায় ও ব্রাহ্মসমাজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

14.1 ভারতীয় নবজাগরণের সূচনা

রামমোহন রায়ের যুক্তিবাদী চিন্তা ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

14.2 ধর্মীয় সংস্কার

তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির পরিবর্তে একেশ্বরবাদ, নৈতিকতা এবং বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সহিষ্ণুতার ওপর গুরুত্ব দেন।

14.3 নারীর সামাজিক অবস্থার উন্নতি

সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন এবং নারী অধিকার সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ভারতীয় সমাজে নারীর মর্যাদা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করে।

14.4 আধুনিক শিক্ষার প্রসার

বিজ্ঞান, গণিত, আধুনিক দর্শন ও ইংরেজি শিক্ষার পক্ষে তাঁর অবস্থান নতুন শিক্ষিত সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

14.5 সংবাদপত্রের স্বাধীনতা

সংবাদপত্রকে জনমত গঠনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতার প্রসারে ভূমিকা পালন করেন।

14.6 জাতীয় চেতনার বিকাশ

ভারতীয় সমাজের সংস্কার, আধুনিক শিক্ষা এবং অধিকার সম্পর্কে তাঁর চিন্তাধারা পরবর্তী জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিকাশে প্রভাব ফেলে।

14.7 পরবর্তী সংস্কার আন্দোলনে প্রভাব

ব্রাহ্মসমাজের আদর্শ পরবর্তী সময়ে নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ, ধর্মীয় উদারতা এবং সামাজিক সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগকে প্রভাবিত করে।

15. রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মধ্যে পার্থক্য

বিষয় রাজা রামমোহন রায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
জন্ম 1772 1820
প্রধান পরিচয় নবজাগরণের অগ্রদূত ও ধর্মীয় সংস্কারক শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক
প্রধান সংগঠন আত্মীয় সভা ও ব্রাহ্মসভা কোনো স্বতন্ত্র ধর্মীয় সমাজ প্রতিষ্ঠা করেননি
প্রধান আন্দোলন সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন বিধবা বিবাহ ও নারীশিক্ষা
গুরুত্বপূর্ণ সাল 1829 — সতীদাহ নিষিদ্ধ 1856 — বিধবা বিবাহ আইন
মৃত্যু 1833 1891

16. গুরুত্বপূর্ণ সাল ও সময়রেখা (Chronology)

সাল ঘটনা
1772 রামমোহন রায়ের জন্ম।
1815 আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা।
1818 সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পুস্তিকা প্রকাশ।
1820 The Precepts of Jesus প্রকাশ।
1821 সম্বাদ কৌমুদী প্রকাশ শুরু।
1822 মিরাত-উল-আখবার প্রকাশ শুরু।
1828 ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা।
1829 সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করার Bengal Regulation XVII।
1830 ব্রাহ্ম উপাসনালয়ের উদ্বোধন; রামমোহনের ইংল্যান্ড যাত্রা।
1833 ব্রিস্টলে রামমোহন রায়ের মৃত্যু।
1839 দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা।
1843 দেবেন্দ্রনাথের ব্রাহ্মসমাজে আনুষ্ঠানিক যোগদান; তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ শুরু।
1857 কেশবচন্দ্র সেন ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন।
1866 ব্রাহ্মসমাজের প্রথম বিভাজন।
1870 Indian Reform Association প্রতিষ্ঠা।
1872 Native Marriage Act / Civil Marriage Act।
1878 সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা।
1880 কেশবচন্দ্র সেনের নববিধান ঘোষণা।


17. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ One-Liner তথ্য

  • রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম — 22 May 1772।
  • জন্মস্থান — রাধানগর, হুগলি।
  • আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত — রাজা রামমোহন রায়।
  • আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা — 1815।
  • ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা — 1828।
  • ব্রাহ্ম উপাসনালয়ের উদ্বোধন — 23 January 1830।
  • সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ — 4 December 1829।
  • সতীদাহ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিত্ব — রামমোহন রায়।
  • সতীদাহ বিলোপের সময় গভর্নর জেনারেল — লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
  • সম্বাদ কৌমুদী — 1821।
  • মিরাত-উল-আখবার — 1822।
  • The Precepts of Jesus — 1820।
  • তত্ত্ববোধিনী সভা — 1839।
  • তত্ত্ববোধিনী সভার প্রতিষ্ঠাতা — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • কেশবচন্দ্র সেন ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন — 1857।
  • ব্রাহ্মসমাজের প্রথম বিভাজন — 1866।
  • ব্রাহ্মসমাজ অব ইন্ডিয়ার নেতা — কেশবচন্দ্র সেন।
  • আদি ব্রাহ্মসমাজের নেতা — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা — 1878।
  • নববিধান ঘোষণা — 1880।
  • রামমোহন রায়ের মৃত্যু — 27 September 1833।

18. পরীক্ষায় যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
আত্মীয় সভা ও ব্রাহ্মসভা একই সংগঠন। আত্মীয় সভা 1815 এবং ব্রাহ্মসভা 1828 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
1828 সালেই ব্রাহ্ম উপাসনালয়ের Trust Deed স্বাক্ষরিত হয়। ব্রাহ্মসভার সূচনা 1828; উপাসনালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও Trust Deed 1830 সালের সঙ্গে যুক্ত।
রামমোহন রায় নিজেই সতীদাহ নিষিদ্ধ করার আইন পাস করেন। আইন জারি করেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সরকার; রামমোহন আন্দোলন ও জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
ব্রাহ্মসমাজের প্রথম বিভাজন 1878 সালে হয়। প্রথম বিভাজন 1866; দ্বিতীয় বিভাজন 1878।
সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ 1866 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় 1878 সালে।
কেশবচন্দ্র সেন ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের মূল প্রতিষ্ঠাতা। ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন রাজা রামমোহন রায়; কেশবচন্দ্র পরবর্তী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

19. সম্পর্কিত ইতিহাসের বাংলা নোটস (Internal Linking)

রাজা রামমোহন রায় ও ব্রাহ্মসমাজ অধ্যায়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় আন্দোলন, বাংলার নবজাগরণ এবং আধুনিক ভারতের ইতিহাসের অন্যান্য অধ্যায়গুলিও পড়ুন।

  1. ভারতের ইতিহাস সম্পূর্ণ বাংলা নোটস ও MCQ — প্রাচীন থেকে আধুনিক ভারতের ইতিহাসের মূল হাব।
  2. ইতিহাস কী? ইতিহাসের উৎস ও অধ্যয়নের পদ্ধতি — ঐতিহাসিক তথ্য ও উৎস বিশ্লেষণের পদ্ধতি।
  3. সিন্ধু সভ্যতা: বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য — প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি।
  4. বৈদিক যুগ: সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি — প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো।
  5. মহাজনপদ ও মগধের উত্থান — প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন।
  6. বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মের তুলনামূলক আলোচনা — প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন।
  7. পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধ — বাংলায় ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের সূচনা।
  8. ব্রিটিশ শাসনের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তার — ঔপনিবেশিক ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস।
  9. জৈনধর্ম: মহাবীরের জীবন ও প্রধান শিক্ষা — ভারতীয় ধর্মীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
  10. ভারতের সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন — উনিশ ও বিশ শতকের প্রধান সংস্কার আন্দোলনের সামগ্রিক আলোচনা।

FREE REGISTRATION – আরও সম্পূর্ণ বাংলা নোটস পড়ুন

Join WhatsApp Channel for Daily Exam Preparation Updates

20. নির্ভরযোগ্য External References

রাজা রামমোহন রায় এবং ব্রাহ্মসমাজ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে পড়ার জন্য নিচের শিক্ষামূলক ও ঐতিহাসিক তথ্যসূত্রগুলি ব্যবহার করুন।

  • Banglapedia – Brahma Sabha — ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা, রামমোহন রায় এবং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা।
  • INFLIBNET – Brahmo Samaj — ব্রাহ্মসমাজের ধর্মীয় দর্শন ও ঐতিহাসিক বিকাশ।
  • Bengal Sati Regulation, 1829 – Legal Text — 1829 সালের সতীদাহ নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত মূল আইনগত পাঠ।

উপরের External Reference-গুলি তথ্য যাচাই ও অতিরিক্ত অধ্যয়নের জন্য।

21. রাজা রামমোহন রায় ও ব্রাহ্মসমাজ: 10 Important MCQ with Answers and Explanations

WBCS, WBPSC Clerkship, WB Police, SSC, Railway এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য নিচের 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ অনুশীলন করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটি সাধারণ প্রশ্নোত্তর বিভাগ, কোনো Online Test নয়।

প্রশ্ন 1. রাজা রামমোহন রায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

ক) 1765

খ) 1772

গ) 1780

ঘ) 1793

সঠিক উত্তর: খ) 1772
ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় 22 May 1772 সালে বাংলার হুগলি জেলার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত বলা হয়।

প্রশ্ন 2. আত্মীয় সভা কে এবং কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর — 1839

খ) রাজা রামমোহন রায় — 1815

গ) কেশবচন্দ্র সেন — 1866

ঘ) বিদ্যাসাগর — 1856

সঠিক উত্তর: খ) রাজা রামমোহন রায় — 1815
ব্যাখ্যা: 1815 সালে রামমোহন রায় কলকাতায় আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মীয় আলোচনা, একেশ্বরবাদ এবং সামাজিক সংস্কারের ধারণা প্রচার করা ছিল এর উদ্দেশ্য।

প্রশ্ন 3. ব্রাহ্মসভা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) 1815

খ) 1820

গ) 1828

ঘ) 1839

সঠিক উত্তর: গ) 1828
ব্যাখ্যা: 20 August 1828 সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়।

প্রশ্ন 4. সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করার আইন কত সালে জারি হয়?

ক) 1815

খ) 1828

গ) 1829

ঘ) 1856

সঠিক উত্তর: গ) 1829
ব্যাখ্যা: 4 December 1829 সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে Bengal Regulation XVII জারি করে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়।

প্রশ্ন 5. তত্ত্ববোধিনী সভা কে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) রাজা রামমোহন রায়

খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

গ) কেশবচন্দ্র সেন

ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত

সঠিক উত্তর: খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর 1839 সালে তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা এবং ব্রাহ্ম আদর্শের প্রসার।

প্রশ্ন 6. কেশবচন্দ্র সেন কোন সালে ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন?

ক) 1839

খ) 1843

গ) 1857

ঘ) 1866

সঠিক উত্তর: গ) 1857
ব্যাখ্যা: কেশবচন্দ্র সেন 1857 সালে ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন। পরবর্তীকালে তিনি দ্রুত সামাজিক সংস্কার এবং নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রশ্ন 7. ব্রাহ্মসমাজের প্রথম বিভাজন কোন সালে ঘটে?

ক) 1828

খ) 1856

গ) 1866

ঘ) 1878

সঠিক উত্তর: গ) 1866
ব্যাখ্যা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেনের মধ্যে সংস্কারের গতি ও পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধের ফলে 1866 সালে ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হয়। কেশবচন্দ্রের অংশ Brahmo Samaj of India নামে পরিচিত হয়।

প্রশ্ন 8. সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) 1866

খ) 1870

গ) 1872

ঘ) 1878

সঠিক উত্তর: ঘ) 1878
ব্যাখ্যা: 1878 সালে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বাধীন সংগঠন থেকে পৃথক হয়ে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখ সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন 9. সম্বাদ কৌমুদী কোন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল?

ক) ফারসি

খ) বাংলা

গ) ইংরেজি

ঘ) সংস্কৃত

সঠিক উত্তর: খ) বাংলা
ব্যাখ্যা: সম্বাদ কৌমুদী ছিল একটি বাংলা সংবাদপত্র, যা 1821 সালে প্রকাশিত হয়। রামমোহন রায়ের সামাজিক সংস্কারমূলক চিন্তার প্রসারে এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন 10. রাজা রামমোহন রায় কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?

ক) কলকাতা

খ) লন্ডন

গ) ব্রিস্টল

ঘ) প্যারিস

সঠিক উত্তর: গ) ব্রিস্টল
ব্যাখ্যা: রামমোহন রায় 27 September 1833 সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে মৃত্যুবরণ করেন। 1830 সালে তিনি ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন।

FREE REGISTRATION – আরও পরীক্ষামুখী বাংলা নোটস পড়ুন

Daily GK ও Current Affairs পেতে WhatsApp Channel Join করুন

22. Frequently Asked Questions (FAQ)

1. রাজা রামমোহন রায় কে ছিলেন?

রাজা রামমোহন রায় ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট ভারতীয় সমাজসংস্কারক, ধর্মচিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক। তাঁকে আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।

2. রাজা রামমোহন রায় কত সালে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন?

তিনি 20 August 1828 সালে কলকাতায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়।

3. আত্মীয় সভা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

1815 সালে রাজা রামমোহন রায় আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করেন।

4. সতীদাহ প্রথা কে নিষিদ্ধ করেন?

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সরকার 4 December 1829 সালে Bengal Regulation XVII জারি করে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে। রামমোহন রায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

5. ব্রাহ্মসমাজের প্রধান আদর্শ কী ছিল?

একেশ্বরবাদ, মূর্তিপূজা বিরোধিতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, যুক্তিবাদ, নৈতিকতা এবং সামাজিক সংস্কার ছিল ব্রাহ্মসমাজের প্রধান আদর্শ।

6. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মসমাজে কী ভূমিকা পালন করেন?

তিনি ব্রাহ্ম আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করেন, 1839 সালে তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করেন।

7. ব্রাহ্মসমাজের প্রথম বিভাজন কখন ঘটে?

1866 সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেনের মধ্যে মতবিরোধের ফলে ব্রাহ্মসমাজ প্রথম বিভক্ত হয়।

8. সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

1878 সালে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

9. সম্বাদ কৌমুদী কী?

সম্বাদ কৌমুদী ছিল 1821 সালে প্রকাশিত একটি বাংলা সংবাদপত্র, যা রামমোহন রায়ের সামাজিক সংস্কারমূলক প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

10. রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু কোথায় ও কবে হয়?

27 September 1833 সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর মৃত্যু হয়।


Ranjan Malakar

About Ranjan Malakar

Ranjan Malakar is an experienced educational content writer and exam preparation mentor with more than 15 years of expertise in creating high-quality study materials, mock tests, MCQs, and competitive exam resources in Bengali, Assamese, and English languages.

He specializes in educational content related to WB Police, Panchayat, TET, Assam Exams, and various state-level competitive examinations. Through My Test Series, he continuously works to make exam preparation more accessible, affordable, and effective for students across India.

Visit Website

Editorial note: এই নোটটি সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। ঐতিহাসিক তথ্য ও সাল প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য পাঠ্যসূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series