WBCS • WBPSC • TET • SSC • Railway
পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ (Rotation and Revolution of the Earth)
পৃথিবী স্থির নয়। এটি নিজের অক্ষের চারদিকে ঘোরে এবং একই সঙ্গে সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে। পৃথিবীর এই দুটি প্রধান গতির ফলেই দিন-রাত্রি, ঋতু পরিবর্তন, বছরের দৈর্ঘ্য, অধিবর্ষ এবং বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটে। ভূগোল ও সাধারণ বিজ্ঞানের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে সংজ্ঞা, সময়, তারিখ ও কারণভিত্তিক প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায়।
- আবর্তন (Rotation): পৃথিবীর নিজের অক্ষের চারদিকে ঘূর্ণন। এর ফলে দিন ও রাত্রি হয়।
- পরিক্রমণ (Revolution): সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথে একবার ঘোরা। এর সঙ্গে অক্ষের হেলানো অবস্থান মিলিতভাবে ঋতু পরিবর্তন ঘটায়।
- একবার আবর্তনে সৌরদিন হিসেবে প্রায় 24 ঘণ্টা লাগে।
- একবার পরিক্রমণে প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা লাগে।
এই অধ্যায় থেকে কী শিখবেন? আবর্তন ও পরিক্রমণের সংজ্ঞা, পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান, দিন-রাত্রির সৃষ্টি, ঋতু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক কারণ, জুন ও ডিসেম্বর অয়নান্ত, মার্চ ও সেপ্টেম্বর বিষুব এবং অধিবর্ষের হিসাব।
বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন — নিয়মিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন
1. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation) কী?
পৃথিবী নিজের কেন্দ্র দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুকে সংযোগকারী একটি কাল্পনিক রেখার চারদিকে ঘোরে। এই কাল্পনিক রেখাকে পৃথিবীর অক্ষ (Axis) বলা হয়। পৃথিবীর নিজের অক্ষের চারদিকে এই ঘূর্ণনকে আবর্তন বা Rotation বলে।
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়। এই কারণে আমাদের কাছে সূর্যকে পূর্ব দিকে উদিত এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখা যায়। বাস্তবে সূর্যের দৈনিক আপাত গতির প্রধান কারণ পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী আবর্তন।
পৃথিবীর আবর্তনের সময়
সূর্যের সাপেক্ষে পৃথিবী একটি গড় আবর্তন সম্পন্ন করতে প্রায় 24 ঘণ্টা সময় নেয়। একে সৌরদিন বা Solar Day বলা হয়। দূরবর্তী নক্ষত্রের সাপেক্ষে একবার আবর্তনের সময় প্রায় 23 ঘণ্টা 56 মিনিট 4 সেকেন্ড; একে নাক্ষত্রিক দিন বা Sidereal Day বলা হয়।
2. পৃথিবীর আবর্তনের কারণ ও প্রধান ফলাফল
ক. দিন ও রাত্রির সৃষ্টি
পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় সূর্যের আলো একই সময়ে পৃথিবীর সব জায়গায় পৌঁছায় না। পৃথিবীর যে অর্ধাংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, সেখানে দিন হয়। বিপরীত অর্ধাংশ সূর্যের আলো থেকে আড়ালে থাকায় সেখানে রাত্রি হয়। পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরতে থাকায় বিভিন্ন স্থান পর্যায়ক্রমে আলো ও অন্ধকারের মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটে।
খ. সূর্যের আপাত দৈনিক গতি
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে বলে সূর্যকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে চলতে দেখা যায়। এটি সূর্যের প্রকৃত দৈনিক পশ্চিমমুখী গতি নয়; পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট আপাত গতি।
গ. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিক বেঁকে যাওয়া
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস প্রভাব (Coriolis Effect) বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের গতিপথকে বেঁকিয়ে দেয়। উত্তর গোলার্ধে গতিশীল বায়ু ও জলপ্রবাহ সাধারণত গতির দিকের ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। বিষুবরেখায় এই প্রভাব প্রায় শূন্য।
ঘ. পৃথিবীর আকৃতির উপর প্রভাব
আবর্তনের কারণে পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে স্ফীতি এবং মেরু অঞ্চলে সামান্য চাপা আকৃতি দেখা যায়। তাই পৃথিবী নিখুঁত গোলক নয়; এটি মেরুতে কিছুটা চাপা এবং বিষুবরেখার কাছে কিছুটা স্ফীত।
ঙ. সময়ের পার্থক্য
পৃথিবীর বিভিন্ন দ্রাঘিমারেখা পর্যায়ক্রমে সূর্যের দিকে মুখ করে। তাই বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সৌরসময়ের পার্থক্য তৈরি হয়। পৃথিবী 24 ঘণ্টায় প্রায় 360° ঘোরে বলে 15° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় 1 ঘণ্টা হয়।
3. পৃথিবীর পরিক্রমণ (Revolution) কী?
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর এই গতিকে পরিক্রমণ বা Revolution বলা হয়। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নিজের অক্ষের চারদিকে আবর্তিত হওয়ার পাশাপাশি সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণও করে।
পৃথিবীর পরিক্রমণের সময়
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার পরিক্রমণ সম্পন্ন করতে প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা সময় নেয়। আরও নির্ভুলভাবে বললে, ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত গড় সৌর বছর প্রায় 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 45 সেকেন্ড। তাই সাধারণ ক্যালেন্ডারের 365 দিনের সঙ্গে প্রকৃত সৌর বছরের কিছু সময়ের পার্থক্য থাকে।
পৃথিবীর কক্ষপথ
পৃথিবীর কক্ষপথ সম্পূর্ণ বৃত্তাকার নয়; এটি উপবৃত্তাকার (Elliptical)। ফলে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সারা বছর একই থাকে না। সূর্যের সবচেয়ে কাছে পৃথিবীর অবস্থানকে অনুসূর (Perihelion) এবং সবচেয়ে দূরের অবস্থানকে অপসূর (Aphelion) বলে।
- অনুসূর: সাধারণত জানুয়ারির প্রথম দিকে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে।
- অপসূর: সাধারণত জুলাইয়ের প্রথম দিকে পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে।
4. পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের কারণ
পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান এবং সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর বার্ষিক পরিক্রমণ। পৃথিবীর অক্ষ কক্ষপথের লম্বের সঙ্গে প্রায় 23.5° কোণে হেলে আছে। অর্থাৎ কক্ষপথের সমতলের সঙ্গে অক্ষের কোণ প্রায় 66.5°।
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণের সময় তার অক্ষের দিক প্রায় একই দিকে বজায় রাখে। ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকে থাকে। এই কারণে দুই গোলার্ধে সূর্যালোকের পতনকোণ এবং দিনের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন হয়।
উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল
জুন মাসের কাছাকাছি সময়ে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। সূর্যের রশ্মি তুলনামূলকভাবে বেশি সরাসরি পড়ে এবং দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। ফলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল অনুভূত হয়। একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল থাকে।
উত্তর গোলার্ধে শীতকাল
ডিসেম্বর মাসের কাছাকাছি সময়ে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে বিপরীত দিকে হেলে থাকে। সূর্যের রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং দিনের দৈর্ঘ্য কমে যায়। ফলে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হয়। এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল থাকে।
দুই গোলার্ধে ঋতুর বিপরীত অবস্থা
উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল। আবার উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়। কারণ একই সময়ে দুই গোলার্ধ সূর্যের দিকে সমানভাবে হেলে থাকে না।
- অক্ষের হেলানো অবস্থান + পরিক্রমণ = ঋতু পরিবর্তন।
- আবর্তন = দিন ও রাত্রি।
- শুধু সূর্য থেকে দূরত্বের পরিবর্তন ঋতু পরিবর্তনের কারণ নয়।
5. অয়নান্ত (Solstice) ও বিষুব (Equinox)
অয়নান্ত বা Solstice
বছরে দুবার পৃথিবীর একটি গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক হেলে থাকে এবং অন্য গোলার্ধ সূর্য থেকে সর্বাধিক বিপরীত দিকে হেলে থাকে। এই অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত দিনকে অয়নান্ত বা Solstice বলা হয়। অয়নান্তের সময় উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য সবচেয়ে স্পষ্ট হয়।
গ্রীষ্ম অয়নান্ত (Summer Solstice)
- সাধারণত 21 জুনের কাছাকাছি ঘটে।
- এই সময়ে সূর্যের লম্ব রশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার উপর পড়ে।
- উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত দেখা যায়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে এই সময়ে শীতকাল এবং তুলনামূলকভাবে দীর্ঘতম রাত থাকে।
শীত অয়নান্ত (Winter Solstice)
- সাধারণত 21 বা 22 ডিসেম্বরের কাছাকাছি ঘটে।
- এই সময়ে সূর্যের লম্ব রশ্মি মকরক্রান্তি রেখার উপর পড়ে।
- উত্তর গোলার্ধে বছরের ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত দেখা যায়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে এই সময়ে গ্রীষ্মকাল থাকে।
বিষুব বা Equinox
বছরে দুবার এমন সময় আসে যখন সূর্যের লম্ব রশ্মি বিষুবরেখার উপর পড়ে এবং পৃথিবীর দুই গোলার্ধ প্রায় সমানভাবে আলোকিত হয়। এই ঘটনাকে বিষুব বা Equinox বলে। বিষুবের সময় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানে প্রায় সমান, অর্থাৎ প্রায় 12 ঘণ্টা করে হয়।
| ঘটনা | সাধারণ সময় | সূর্যের লম্ব রশ্মি | উত্তর গোলার্ধে প্রভাব |
|---|---|---|---|
| বসন্ত বিষুব | 20 বা 21 মার্চ | বিষুবরেখা | বসন্ত ঋতুর সূচনা |
| গ্রীষ্ম অয়নান্ত | 20 বা 21 জুন | কর্কটক্রান্তি রেখা | দীর্ঘতম দিন |
| শরৎ বিষুব | 22 বা 23 সেপ্টেম্বর | বিষুবরেখা | শরৎ ঋতুর সূচনা |
| শীত অয়নান্ত | 21 বা 22 ডিসেম্বর | মকরক্রান্তি রেখা | ক্ষুদ্রতম দিন |
6. অধিবর্ষ বা Leap Year কী?
পৃথিবীর একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু সাধারণ ক্যালেন্ডার বছরে 365 দিন ধরা হয়। ফলে প্রতি বছর প্রায় 6 ঘণ্টা করে অতিরিক্ত সময় জমা হয়। এই অতিরিক্ত সময়ের সমন্বয় করতে সাধারণত প্রতি 4 বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে 1 দিন যোগ করা হয়। সেই বছরকে অধিবর্ষ বা Leap Year বলে।
অধিবর্ষে মোট 366 দিন থাকে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে 29 দিন হয়। সাধারণ বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে 28 দিন থাকে।
অধিবর্ষ নির্ণয়ের নিয়ম
- সাধারণভাবে যে বছর 4 দিয়ে বিভাজ্য, সেটি অধিবর্ষ।
- কিন্তু শতাব্দী বছর (যেমন 1900, 2100) অধিবর্ষ হতে হলে 400 দিয়ে বিভাজ্য হতে হবে।
- 2000 সাল 400 দিয়ে বিভাজ্য হওয়ায় অধিবর্ষ।
- 1900 সাল 400 দিয়ে বিভাজ্য নয়, তাই এটি অধিবর্ষ ছিল না।
7. পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণের মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | আবর্তন (Rotation) | পরিক্রমণ (Revolution) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | নিজের অক্ষের চারদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণন | সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথে গমন |
| গতির ধরন | অক্ষীয় ঘূর্ণন | কক্ষপথে পরিভ্রমণ |
| সময় | প্রায় 24 ঘণ্টা (সৌরদিন) | প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা |
| প্রধান ফল | দিন ও রাত্রির সৃষ্টি | অক্ষের হেলানো অবস্থানের সঙ্গে মিলিতভাবে ঋতু পরিবর্তন |
| দিক | পশ্চিম থেকে পূর্ব | উত্তর মেরুর উপর থেকে দেখলে সাধারণত ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে |
| পথ | নিজ অক্ষের চারদিকে | উপবৃত্তাকার কক্ষপথে |
| আরও একটি ফল | কোরিওলিস প্রভাব ও বিষুবীয় স্ফীতি | বছরের দৈর্ঘ্য ও অধিবর্ষের হিসাব |
8. সরকারি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- পৃথিবীর আবর্তনের দিক পশ্চিম থেকে পূর্ব।
- পৃথিবীর আবর্তনের ফলে দিন ও রাত্রি হয়।
- পৃথিবীর অক্ষ কক্ষপথের লম্বের সঙ্গে প্রায় 23.5° কোণে হেলে আছে।
- পৃথিবীর অক্ষ ও কক্ষপথের সমতলের মধ্যবর্তী কোণ প্রায় 66.5°।
- পৃথিবীর একবার পরিক্রমণে প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা লাগে।
- পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার।
- অনুসূর সাধারণত জানুয়ারির প্রথম দিকে ঘটে।
- অপসূর সাধারণত জুলাইয়ের প্রথম দিকে ঘটে।
- 21 জুনের কাছাকাছি উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হয়।
- 21 বা 22 ডিসেম্বরের কাছাকাছি উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন হয়।
- মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে বিষুব ঘটে।
- বিষুবের সময় সূর্যের লম্ব রশ্মি বিষুবরেখার উপর পড়ে।
- গ্রীষ্ম অয়নান্তে সূর্যের লম্ব রশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখায় পড়ে।
- শীত অয়নান্তে সূর্যের লম্ব রশ্মি মকরক্রান্তি রেখায় পড়ে।
- অধিবর্ষে 366 দিন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে 29 দিন থাকে।
যেসব ভুল ধারণা এড়িয়ে চলবেন
- ভুল: পৃথিবী সূর্যের কাছে এলে গ্রীষ্ম হয়। সঠিক: ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ অক্ষের হেলানো অবস্থান ও পরিক্রমণ।
- ভুল: দিন-রাত্রি হয় পৃথিবীর পরিক্রমণের জন্য। সঠিক: দিন-রাত্রি হয় আবর্তনের জন্য।
- ভুল: বিষুবের দিন সব স্থানে ঠিক 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত হয়। সঠিক: দিন ও রাত প্রায় সমান হয়; বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ ও সূর্যের আপাত আকারের কারণে সঠিক দৈর্ঘ্যে সামান্য পার্থক্য হতে পারে।
- ভুল: প্রতি 4 বছর অন্তর সব বছরই অধিবর্ষ। সঠিক: শতাব্দী বছরের ক্ষেত্রে 400 দিয়ে বিভাজ্য হওয়ার শর্ত আছে।
9. পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ: 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ
WBCS, WBPSC, TET, SSC, Railway এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচের প্রশ্নগুলি অনুশীলন করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন 1. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে প্রধানত কোন ঘটনা ঘটে?
- ঋতু পরিবর্তন
- দিন ও রাত্রির সৃষ্টি
- অধিবর্ষ সৃষ্টি
- জোয়ার-ভাটা
ব্যাখ্যা: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে ঘোরে। সূর্যের দিকে থাকা অংশে দিন এবং বিপরীত অংশে রাত্রি হয়। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে বিভিন্ন স্থান পর্যায়ক্রমে আলো ও অন্ধকারের মধ্যে আসে।
প্রশ্ন 2. পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তিত হয়?
- পূর্ব থেকে পশ্চিম
- উত্তর থেকে দক্ষিণ
- পশ্চিম থেকে পূর্ব
- দক্ষিণ থেকে উত্তর
ব্যাখ্যা: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়। তাই সূর্যকে পূর্ব দিকে উদিত এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখা যায়।
প্রশ্ন 3. সূর্যের সাপেক্ষে পৃথিবীর একবার আবর্তনে প্রায় কত সময় লাগে?
- 12 ঘণ্টা
- 23 ঘণ্টা 56 মিনিট
- 24 ঘণ্টা
- 365 দিন
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর একটি গড় সৌরদিন প্রায় 24 ঘণ্টা। নক্ষত্রের সাপেক্ষে আবর্তনের সময় প্রায় 23 ঘণ্টা 56 মিনিট 4 সেকেন্ড, যা নাক্ষত্রিক দিন নামে পরিচিত।
প্রশ্ন 4. পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ কী?
- পৃথিবীর আকৃতি
- পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান ও পরিক্রমণ
- চাঁদের আবর্তন
- পৃথিবীর চৌম্বকত্ব
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর অক্ষ প্রায় 23.5° হেলে আছে। সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণের সময় এই হেলানো অবস্থানের কারণে দুই গোলার্ধে সূর্যালোকের পতনকোণ ও দিনের দৈর্ঘ্য বদলায়। তাই ঋতু পরিবর্তন হয়।
প্রশ্ন 5. পৃথিবীর অক্ষ কক্ষপথের লম্বের সঙ্গে প্রায় কত কোণে হেলে আছে?
- 10.5°
- 23.5°
- 45°
- 66.5°
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষপথের সমতলের লম্বের সঙ্গে প্রায় 23.5° কোণে হেলে আছে। কক্ষপথের সমতলের সঙ্গে অক্ষের কোণ প্রায় 66.5°।
প্রশ্ন 6. উত্তর গোলার্ধে সাধারণত বছরের দীর্ঘতম দিন কখন হয়?
- 21 মার্চ
- 21 জুন
- 23 সেপ্টেম্বর
- 22 ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা: জুন অয়নান্তে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক হেলে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত দেখা যায়।
প্রশ্ন 7. শীত অয়নান্তের সময় সূর্যের লম্ব রশ্মি কোথায় পড়ে?
- বিষুবরেখা
- কর্কটক্রান্তি রেখা
- মকরক্রান্তি রেখা
- উত্তর মেরু
ব্যাখ্যা: ডিসেম্বর অয়নান্তে সূর্যের লম্ব রশ্মি মকরক্রান্তি রেখার উপর পড়ে। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল এবং বছরের ক্ষুদ্রতম দিন হয়।
প্রশ্ন 8. বিষুবের সময় সূর্যের লম্ব রশ্মি কোথায় পড়ে?
- বিষুবরেখা
- কর্কটক্রান্তি রেখা
- মকরক্রান্তি রেখা
- উত্তর মেরু
ব্যাখ্যা: মার্চ ও সেপ্টেম্বর বিষুবের সময় সূর্যের লম্ব রশ্মি বিষুবরেখার উপর পড়ে। পৃথিবীর দুই গোলার্ধ প্রায় সমানভাবে আলোকিত হয় এবং দিন-রাত্রি প্রায় সমান হয়।
প্রশ্ন 9. পৃথিবীর একবার পরিক্রমণে সাধারণভাবে কত সময় লাগে?
- 24 ঘণ্টা
- 30 দিন
- 365 দিন 6 ঘণ্টা
- 366 দিন
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা লাগে। অতিরিক্ত সময়ের হিসাব থেকেই অধিবর্ষের ধারণা এসেছে।
প্রশ্ন 10. নিচের কোন শতাব্দী বছরটি অধিবর্ষ?
- 1700
- 1800
- 1900
- 2000
ব্যাখ্যা: শতাব্দী বছর অধিবর্ষ হতে হলে 400 দিয়ে বিভাজ্য হতে হয়। 2000 সাল 400 দিয়ে বিভাজ্য, তাই এটি অধিবর্ষ। 1700, 1800 ও 1900 সাল 400 দিয়ে বিভাজ্য নয়।
ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন — নতুন নোট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি পান
10. পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
1. পৃথিবীর আবর্তন কাকে বলে?
পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে যে ঘূর্ণন সম্পন্ন করে তাকে আবর্তন বলে। সূর্যের সাপেক্ষে একটি গড় আবর্তনে প্রায় 24 ঘণ্টা লাগে।
2. পৃথিবীর পরিক্রমণ কাকে বলে?
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে যে গতি সম্পন্ন করে তাকে পরিক্রমণ বলে। একবার পরিক্রমণে প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা সময় লাগে।
3. দিন ও রাত্রি কেন হয়?
পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সূর্যের দিকে থাকা অংশে দিন এবং বিপরীত দিকে থাকা অংশে রাত্রি হয়।
4. ঋতু পরিবর্তন কেন ঘটে?
পৃথিবীর অক্ষ প্রায় 23.5° হেলে থাকার কারণে এবং পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করার ফলে দুই গোলার্ধে সূর্যালোকের পতনকোণ ও দিনের দৈর্ঘ্য বদলায়। এর ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়।
5. গ্রীষ্ম অয়নান্ত কবে ঘটে?
উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম অয়নান্ত সাধারণত 20 বা 21 জুনের কাছাকাছি ঘটে। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হয়।
6. শীত অয়নান্ত কবে ঘটে?
উত্তর গোলার্ধে শীত অয়নান্ত সাধারণত 21 বা 22 ডিসেম্বরের কাছাকাছি ঘটে। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন হয়।
7. বিষুব কাকে বলে?
বছরে দুবার সূর্যের লম্ব রশ্মি বিষুবরেখার উপর পড়ে এবং পৃথিবীর দুই গোলার্ধ প্রায় সমানভাবে আলোকিত হয়। এই ঘটনাকে বিষুব বলে।
8. অধিবর্ষে কত দিন থাকে?
অধিবর্ষে 366 দিন থাকে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে 29 দিন হয়।
9. পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে কখন থাকে?
পৃথিবী সাধারণত জানুয়ারির প্রথম দিকে সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে। এই অবস্থাকে অনুসূর বা Perihelion বলে।
10. পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে কখন থাকে?
পৃথিবী সাধারণত জুলাইয়ের প্রথম দিকে সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে। এই অবস্থাকে অপসূর বা Aphelion বলে।
12. নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক তথ্যসূত্র
বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য নিচের শিক্ষামূলক ও বৈজ্ঞানিক তথ্যসূত্রগুলি অনুসরণ করতে পারেন।
WhatsApp Channel-এ যোগ দিন — প্রতিদিনের পড়াশোনা, GK ও পরীক্ষার আপডেট পান
শেষ কথা: পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ ভূগোলের একটি মৌলিক অধ্যায়। আবর্তনের সঙ্গে দিন-রাত্রি এবং পরিক্রমণের সঙ্গে অক্ষের হেলানো অবস্থান মিলিয়ে ঋতু পরিবর্তনের সম্পর্কটি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিলে এই অধ্যায়ের অধিকাংশ প্রশ্ন সহজে উত্তর করা যায়। বিশেষ করে অয়নান্ত, বিষুব, অধিবর্ষ এবং আবর্তন-পরিক্রমণের পার্থক্য নিয়মিত অনুশীলন করুন।




