ভারতের সংবিধানের অর্থ ও বৈশিষ্ট্য: বাংলা নোট ও MCQ

ভারতীয় সংবিধান • সরকারি পরীক্ষা প্রস্তুতি

ভারতের সংবিধানের অর্থ ও বৈশিষ্ট্য: সম্পূর্ণ বাংলা নোট ও ১০টি MCQ

Meaning and Features of the Constitution — সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সহজ বাংলায় সংজ্ঞা, মূল বৈশিষ্ট্য, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উদাহরণ ও অনলাইন মক টেস্ট।

এক নজরে উত্তর: সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নিয়ম ও নীতির সমষ্টি। এটি সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও সীমা নির্ধারণ করে, প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে এবং নাগরিকের অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি স্থাপন করে। ভারতের সংবিধান লিখিত, বিস্তৃত, সংসদীয়, গণতান্ত্রিক এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন; একই সঙ্গে এতে এককেন্দ্রিক প্রবণতাও রয়েছে।

উপযোগী: TET, CTET Paper II, Upper Primary TET, WBCS, WBPSC Clerkship, SSC ও অন্যান্য রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। নির্দিষ্ট পরীক্ষার সর্বশেষ সিলেবাসের সঙ্গে বিষয়গুলি মিলিয়ে পড়ুন।

সংবিধান গৃহীত২৬ নভেম্বর ১৯৪৯
সংবিধান কার্যকর২৬ জানুয়ারি ১৯৫০
খসড়া কমিটির চেয়ারম্যানড. বি. আর. আম্বেদকর
মূল সংবিধানে৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ ও ৮টি তফসিল ছিল
পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ ও ৮টি তফসিল হলো মূল সংবিধানের তথ্য। সংশোধনের ফলে বর্তমান সংবিধানের কাঠামো ও নম্বরায়নে পরিবর্তন হয়েছে। তাই মূল সংবিধান এবং বর্তমান সংবিধানের তথ্যকে এক করে লিখবেন না।
ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন — পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন

১. সংবিধানের অর্থ ও সংজ্ঞা (Meaning and Definition of Constitution)

সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন ও শাসনব্যবস্থার ভিত্তি। এতে রাষ্ট্রের কাঠামো, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ক্ষমতার সীমা এবং নাগরিকের অধিকার-সংক্রান্ত মৌলিক নীতিগুলি নির্ধারিত থাকে। রাষ্ট্রের সাধারণ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান একটি মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

পরীক্ষায় লেখার উপযোগী সংজ্ঞা: সংবিধান হলো সেই মৌলিক আইনসমষ্টি, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, সরকারের ক্ষমতা ও সীমা নির্ধারিত হয় এবং নাগরিকের অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি নির্দিষ্ট হয়।

সংবিধান কী কাজ করে?

  • রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলির কাঠামো নির্ধারণ করে।
  • আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচারবিভাগের ক্ষমতা এবং সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
  • ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সাংবিধানিক সীমা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে।
  • নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষা দেয়।
  • রাষ্ট্রের আদর্শ, লক্ষ্য এবং শাসন পরিচালনার মূলনীতি প্রকাশ করে।
  • সরকার ও নাগরিকের সম্পর্কের মৌলিক নিয়ম নির্ধারণ করে।
মনে রাখুন: সংবিধান শুধু সরকারের ক্ষমতা নির্ধারণ করে না; সেই ক্ষমতার সীমা, নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল আদর্শও নির্দেশ করে।
বিজ্ঞাপন

২. সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা (Importance of Constitution)

একটি রাষ্ট্রে বহু মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বার্থ একসঙ্গে কাজ করে। সংবিধান না থাকলে সরকারের ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন, নাগরিকের স্বাধীনতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়ম অস্পষ্ট হতে পারে। সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা, বৈধতা ও জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করে।

শাসনব্যবস্থায় স্থিতিশীলতারাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করবে, তার মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করে।
ক্ষমতার সীমাসরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে।
অধিকারের সুরক্ষানাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অন্যায় সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিকারের ভিত্তি দেয়।
গণতান্ত্রিক জবাবদিহিনির্বাচন, প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় রাখে।

৩. ভারতের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য (Main Features of the Indian Constitution)

৩.১ লিখিত ও বিস্তৃত সংবিধান

ভারতের সংবিধান একটি লিখিত ও বিস্তারিত সাংবিধানিক দলিল। এতে কেন্দ্র ও রাজ্যের কাঠামো, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা, নাগরিকের অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিস্তারিত বিধান রয়েছে। মূল সংবিধানে ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ এবং ৮টি তফসিল ছিল। পরবর্তী সংশোধনীর ফলে সংবিধানের বর্তমান বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে।

৩.২ সংবিধানের সর্বোচ্চতা

ভারতে সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনগত ভিত্তি। আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচারবিভাগ—সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সংবিধানের সীমার মধ্যে কাজ করতে হয়। কোনো আইন বা সরকারি পদক্ষেপ সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গত হলে আদালত উপযুক্ত ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক বৈধতা বিচার করতে পারে।

৩.৩ প্রস্তাবনায় ঘোষিত আদর্শ

ভারতের প্রস্তাবনায় ভারতকে সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্বের আদর্শও প্রকাশ পেয়েছে। প্রস্তাবনার শব্দগুলির অর্থ ও তাৎপর্য পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৩.৪ সংসদীয় শাসনব্যবস্থা

ভারতে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তরে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বাস্তব নির্বাহী পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ লোকসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ। রাজ্য স্তরে রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান এবং মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ রাজ্যের নির্বাহী পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন।

৩.৫ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও এককেন্দ্রিক প্রবণতা

ভারতের শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়েছে। সংবিধানের সপ্তম তফসিলে কেন্দ্রীয় তালিকা, রাজ্য তালিকা এবং যুগ্ম তালিকার মাধ্যমে আইন প্রণয়নের বিষয়গুলি নির্ধারিত হয়েছে। তবে জরুরি অবস্থা, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও অন্যান্য সাংবিধানিক বিধানের কারণে ভারতীয় ব্যবস্থায় এককেন্দ্রিক প্রবণতাও দেখা যায়।

৩.৬ মৌলিক অধিকার

সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বর্ণিত হয়েছে। এগুলি ব্যক্তির স্বাধীনতা, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত। অধিকারগুলি পরম নয়; সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কিছু অধিকারের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

৩.৭ রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি

সংবিধানের চতুর্থ ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি রয়েছে। এগুলি রাষ্ট্রকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়, জনকল্যাণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নীতি গ্রহণে নির্দেশ দেয়। এগুলি সাধারণভাবে আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

৩.৮ মৌলিক কর্তব্য

সংবিধানের চতুর্থ-ক ভাগে নাগরিকের মৌলিক কর্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানকে সম্মান করা, জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে তোলার মতো দায়িত্বগুলি এই অংশের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে সংবিধানে ১১টি মৌলিক কর্তব্য রয়েছে।

৩.৯ স্বাধীন বিচারবিভাগ ও বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা

ভারতের বিচারব্যবস্থা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করে। বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে আদালত উপযুক্ত ক্ষেত্রে আইন বা সরকারি পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করতে পারে। সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় এই ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

৩.১০ সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী যোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণভাবে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করা এবং প্রযোজ্য ভোটার-নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাধিকার গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের একটি প্রধান মাধ্যম।

৩.১১ একক নাগরিকত্ব

ভারতে সাধারণভাবে একক ভারতীয় নাগরিকত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পৃথক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নাগরিকত্বের দ্বৈত কাঠামো ভারতের ক্ষেত্রে নেই। এই বৈশিষ্ট্য জাতীয় ঐক্যের ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত।

৩.১২ নমনীয়তা ও দৃঢ়তার সমন্বয়

ভারতের সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। কিছু বিধান তুলনামূলক সহজ পদ্ধতিতে, কিছু বিধান সংসদের বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে সংসদের বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি অন্তত অর্ধেক রাজ্যের অনুমোদনের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়। তাই ভারতীয় সংবিধানকে নমনীয়তা ও দৃঢ়তার সমন্বয় বলা হয়।

৩.১৩ জরুরি অবস্থার বিধান

সংবিধানে জাতীয় জরুরি অবস্থা, রাজ্যে সাংবিধানিক যন্ত্রের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা এবং আর্থিক জরুরি অবস্থার বিধান রয়েছে। এসব বিধানের প্রয়োগ নির্দিষ্ট সাংবিধানিক শর্ত ও প্রক্রিয়ার অধীন। পরীক্ষার জন্য অনুচ্ছেদ ৩৫২, ৩৫৬ এবং ৩৬০ আলাদা করে মনে রাখুন।

৩.১৪ স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান

নির্বাচন কমিশন, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল এবং ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে। তাদের ভূমিকা নির্বাচন, সরকারি ব্যয়ের নিরীক্ষা এবং সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশিষ্ট্যমূল ধারণাপরীক্ষার সূত্র
লিখিত ও বিস্তৃতবিস্তারিত সাংবিধানিক বিধানমূল সংবিধানে ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ
সংসদীয় সরকারমন্ত্রিপরিষদের আইনসভার কাছে দায়বদ্ধতাকেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ
যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনসপ্তম তফসিল
মৌলিক অধিকারব্যক্তির স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সুরক্ষাতৃতীয় ভাগ
নির্দেশমূলক নীতিজনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশনাচতুর্থ ভাগ
মৌলিক কর্তব্যনাগরিকের সাংবিধানিক কর্তব্যচতুর্থ-ক ভাগ
সংশোধনবিধান অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তনঅনুচ্ছেদ ৩৬৮
জরুরি অবস্থানির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিশেষ সাংবিধানিক ব্যবস্থাঅনুচ্ছেদ ৩৫২, ৩৫৬, ৩৬০
বিজ্ঞাপন

৪. সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble)

প্রস্তাবনা সংবিধানের উদ্দেশ্য ও মূল আদর্শ প্রকাশ করে। এর শুরুতে “আমরা, ভারতের জনগণ” কথাটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ধারণা তুলে ধরে। প্রস্তাবনা সংবিধানকে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রাষ্ট্রের চরিত্র ও কাঙ্ক্ষিত সামাজিক-রাজনৈতিক আদর্শ সংক্ষেপে প্রকাশিত হয়েছে।

শব্দসহজ অর্থ
সার্বভৌম (Sovereign)ভারত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র।
সমাজতান্ত্রিক (Socialist)সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় এবং বৈষম্য কমানোর আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ধর্মনিরপেক্ষ (Secular)রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
গণতান্ত্রিক (Democratic)জনগণের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক শাসনের ধারণা।
প্রজাতন্ত্র (Republic)রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমে পদে অধিষ্ঠিত হন না; সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন।
ন্যায়বিচার (Justice)সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়ের আদর্শ।
স্বাধীনতা (Liberty)চিন্তা, মত প্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতার আদর্শ।
সমতা (Equality)মর্যাদা ও সুযোগের সমতার আদর্শ।
ভ্রাতৃত্ব (Fraternity)ব্যক্তির মর্যাদা ও জাতির ঐক্য-সংহতি জোরদার করা।
পরীক্ষায় মনে রাখুন: “সমাজতান্ত্রিক” ও “ধর্মনিরপেক্ষ” শব্দ দুটি ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে প্রস্তাবনায় যোগ করা হয়। ভারতের সংবিধান ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ গৃহীত হয় এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ কার্যকর হয়।

৫. মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি ও মৌলিক কর্তব্যের পার্থক্য

এই তিনটি বিষয় পরীক্ষায় প্রায়ই তুলনামূলকভাবে জানতে চাওয়া হয়। এগুলির উদ্দেশ্য এক নয়, তাই তাদের সাংবিধানিক অবস্থান ও কাজ আলাদা করে বুঝতে হবে।

বিষয়অবস্থানপ্রধান উদ্দেশ্যআদালতে বলবৎযোগ্যতা
মৌলিক অধিকারতৃতীয় ভাগব্যক্তির অধিকার ও স্বাধীনতার সুরক্ষাপ্রযোজ্য সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়
রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিচতুর্থ ভাগজনকল্যাণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়ের লক্ষ্য নির্ধারণসরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়
মৌলিক কর্তব্যচতুর্থ-ক ভাগনাগরিকের দায়িত্ব ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ স্মরণ করানোনিজে থেকেই প্রতিটি কর্তব্য সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়; পৃথক আইন প্রাসঙ্গিক হতে পারে

মৌলিক অধিকার সম্পর্কে আরও পড়তে সরকারি সংবিধান পাঠ্য ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, মৌলিক অধিকার ও মৌলিক কর্তব্য এক নয়; আবার নির্দেশমূলক নীতিকে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাও ভুল।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন — আরও নোট ও প্র্যাকটিসের জন্য

৬. যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, সংসদীয় সরকার ও ক্ষমতার বিভাজন

কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন

ভারতের সংবিধান কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আইন প্রণয়নের বিষয়গুলি ভাগ করেছে। সপ্তম তফসিলে কেন্দ্রীয় তালিকা, রাজ্য তালিকা এবং যুগ্ম তালিকা রয়েছে। তবে সব বিষয়ের ক্ষমতা সমানভাবে ভাগ করা নয়; সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিশেষ ক্ষমতাও রয়েছে।

আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচারবিভাগ

সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ পৃথক হলেও তাদের মধ্যে সাংবিধানিক সম্পর্ক ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। আইনসভা আইন প্রণয়ন করে, নির্বাহী বিভাগ আইন ও নীতি কার্যকর করে, আর বিচারবিভাগ আইন ব্যাখ্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তি করে। ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থায় আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে; তাই ক্ষমতার বিভাজনকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।

স্থানীয় স্বশাসন

পঞ্চায়েত ও পৌরসভার মতো স্থানীয় স্বশাসন প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনী যথাক্রমে পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার সাংবিধানিক কাঠামো শক্তিশালী করে। স্থানীয় প্রশাসন, গণতন্ত্র ও নাগরিকত্বের প্রশ্নে এই বিষয়গুলি পড়ে রাখা উপযোগী।

বিজ্ঞাপন

৭. সংবিধান সংশোধন ও বিচারবিভাগ

সংবিধান সংশোধন

সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তিত প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানে সংশোধন আনার ব্যবস্থা রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৬৮ সংবিধান সংশোধনের একটি প্রধান বিধান। সংশোধনের পদ্ধতি বিষয়ভেদে আলাদা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সংসদের বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি অন্তত অর্ধেক রাজ্যের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

মৌলিক কাঠামো নীতি

কেশবানন্দ ভারতী বনাম কেরল রাজ্য মামলায় ১৯৭৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে মৌলিক কাঠামো নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নীতি অনুযায়ী সংসদের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকলেও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করা যায় না। এটি সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা

বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা হলো আইন বা সরকারি পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা বিচার করার ক্ষমতা। এর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গত পদক্ষেপ উপযুক্ত ক্ষেত্রে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়। সংবিধান, মৌলিক অধিকার এবং আইনের শাসনের সম্পর্ক বোঝার জন্য এই ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।

৮. সরকারি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সংবিধান গৃহীত হয় ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯; কার্যকর হয় ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০।
  • সংবিধান সভার সভাপতি ছিলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
  • খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. বি. আর. আম্বেদকর।
  • মূল সংবিধানে ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ ও ৮টি তফসিল ছিল।
  • প্রস্তাবনায় সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে যুক্ত হয়।
  • মৌলিক অধিকার সংবিধানের তৃতীয় ভাগে রয়েছে।
  • রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি চতুর্থ ভাগে রয়েছে।
  • মৌলিক কর্তব্য চতুর্থ-ক ভাগে রয়েছে।
  • সংবিধান সংশোধনের প্রধান বিধান অনুচ্ছেদ ৩৬৮-এ রয়েছে।
  • জাতীয় জরুরি অবস্থা, রাজ্যে সাংবিধানিক যন্ত্রের ব্যর্থতা এবং আর্থিক জরুরি অবস্থার সঙ্গে যথাক্রমে অনুচ্ছেদ ৩৫২, ৩৫৬ ও ৩৬০ যুক্ত।
  • ভারতে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচারবিভাগ রয়েছে।
  • সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য বুঝতে প্রস্তাবনা, মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি, মৌলিক কর্তব্য ও সংশোধন পদ্ধতি একসঙ্গে পড়ুন।
পড়ার কৌশল: শুধু তারিখ মুখস্থ না করে “কোন বিষয়—কোন অংশ—কোন অনুচ্ছেদ—কেন গুরুত্বপূর্ণ” এই চারটি প্রশ্ন ধরে নোট তৈরি করুন। এতে তথ্যভিত্তিক ও ধারণাভিত্তিক উভয় ধরনের MCQ সমাধান সহজ হবে।

১০. অনলাইন MCQ টেস্ট: Meaning and Features of the Constitution

প্রতিটি প্রশ্নে একটি করে উত্তর বেছে নিন। শেষে “উত্তর জমা দিন” বোতামে চাপলে মোট নম্বর, সঠিক উত্তর এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।

১. সংবিধানের সবচেয়ে উপযুক্ত সংজ্ঞা কোনটি?
২. ভারতের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
৩. সংবিধানের খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
৪. প্রস্তাবনায় “সমাজতান্ত্রিক” ও “ধর্মনিরপেক্ষ” শব্দ দুটি কোন সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়?
৫. মৌলিক অধিকার সংবিধানের কোন ভাগে রয়েছে?
৬. রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি কোথায় রয়েছে?
৭. সংবিধান সংশোধনের প্রধান বিধান কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
৮. ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
৯. মৌলিক কর্তব্য সংবিধানের কোন ভাগে রয়েছে?
১০. মৌলিক কাঠামো নীতির মূল বক্তব্য কী?

১১. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সংবিধান কাকে বলে?

সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক আইন ও নীতির কাঠামো, যা সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও সীমা, প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পর্ক এবং নাগরিকের অধিকার-সংক্রান্ত মূল বিধান নির্ধারণ করে।

২. ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত ও কার্যকর হয়?

ভারতের সংবিধান ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ গৃহীত হয় এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ কার্যকর হয়।

৩. ভারতের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?

লিখিত ও বিস্তৃত সংবিধান, সংবিধানের সর্বোচ্চতা, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি, মৌলিক কর্তব্য, স্বাধীন বিচারবিভাগ, একক নাগরিকত্ব এবং সংশোধনের বিশেষ পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

৪. প্রস্তাবনায় সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ কখন যুক্ত হয়?

১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে শব্দ দুটি প্রস্তাবনায় যুক্ত হয়।

৫. মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে পার্থক্য কী?

মৌলিক অধিকার সংবিধানের তৃতীয় ভাগে রয়েছে এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়। নির্দেশমূলক নীতি চতুর্থ ভাগে রয়েছে; এগুলি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়।

৬. সংবিধান সংশোধনের প্রধান অনুচ্ছেদ কোনটি?

অনুচ্ছেদ ৩৬৮ সংবিধান সংশোধনের প্রধান বিধান। তবে বিষয়ভেদে সংশোধনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আলাদা হতে পারে।

৭. ভারতের সংবিধানকে যুক্তরাষ্ট্রীয় বলা হয় কেন?

কারণ সংবিধান কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আইন প্রণয়নের বিষয় ও ক্ষমতা বণ্টন করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ব্যবস্থায় এককেন্দ্রিক প্রবণতাও রয়েছে।

৮. TET পরীক্ষার জন্য সংবিধানের কোন বিষয়গুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

সংবিধানের অর্থ, প্রস্তাবনা, মূল বৈশিষ্ট্য, মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি, মৌলিক কর্তব্য, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, সংবিধান সংশোধন এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক তারিখ পড়ুন। সর্বশেষ সরকারি সিলেবাস অনুসরণ করুন।

উপসংহার

ভারতের সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি, নাগরিকের অধিকার রক্ষার কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ না করে প্রস্তাবনা, সংবিধানের বৈশিষ্ট্য, মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি, মৌলিক কর্তব্য ও সংশোধন পদ্ধতির পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝে পড়ুন। সরকারি ও আইনি তথ্যের চূড়ান্ত যাচাইয়ের জন্য মূল সংবিধান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি উৎস অনুসরণ করুন।

এই পৃষ্ঠাটি শিক্ষামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। আইনগত ব্যাখ্যা বা পরীক্ষার নিয়মের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিকে অগ্রাধিকার দিন।

বিজ্ঞাপন

আরও পরীক্ষার প্রস্তুতি

সম্পর্কিত নোট পড়ুন, মক টেস্ট অনুশীলন করুন এবং দৈনিক আপডেট পেতে আমাদের চ্যানেলে যোগ দিন।

WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন — দৈনিক আপডেট ও MCQ
সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন
ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি এগিয়ে নিন এখনই যোগ দিন

Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series