রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (DPSP): বাংলা সম্পূর্ণ নোট ও MCQ

Indian Polity • Bengali Exam Notes

রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (DPSP): সম্পূর্ণ বাংলা নোট ও ১০টি MCQ

ভারতীয় সংবিধানের Directive Principles of State Policy (DPSP) বা রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি হলো জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সরকারকে দেওয়া সাংবিধানিক নির্দেশনা। এই অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১, DPSP-এর বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিভাগ, গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে পার্থক্য এবং পরীক্ষাভিত্তিক প্রশ্ন সহজ বাংলায় আলোচনা করা হয়েছে।

WB TET ও CTETWBPSC ও WBCSSSC ও RRB১০টি অনলাইন MCQ

এক লাইনে উত্তর: DPSP ভারতের সংবিধানের চতুর্থ ভাগে, অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১-এ রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুসারে এগুলি সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়, কিন্তু দেশের শাসন পরিচালনায় মৌলিক এবং আইন প্রণয়নের সময় রাষ্ট্রের এগুলি প্রয়োগ করার দায়িত্ব রয়েছে।

সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন

বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে স্টাডি আপডেট ও পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগ নিন।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন WhatsApp Daily Updates
এই পেজ থেকে যা শিখবেন
  • DPSP-এর অর্থ, উদ্দেশ্য ও সাংবিধানিক অবস্থান।
  • অনুচ্ছেদ ৩৬ থেকে ৫১-এর গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
  • সমাজতান্ত্রিক, গান্ধীবাদী ও উদার বুদ্ধিবাদী নীতির পরিচয়।
  • মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির পার্থক্য।
  • পরীক্ষায় বিভ্রান্তি এড়ানোর কৌশল এবং ১০টি MCQ।

১. DPSP কী? অর্থ, সংজ্ঞা ও সাংবিধানিক অবস্থান

DPSP-এর পূর্ণরূপ হলো Directive Principles of State Policy। বাংলায় একে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি বলা হয়। এই নীতিগুলির মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

সংবিধান প্রণেতারা মনে করেছিলেন, শুধু ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ তৈরি হয় না; দারিদ্র্য, বৈষম্য, অশিক্ষা, দুর্বল জনগোষ্ঠীর বঞ্চনা ও জনস্বাস্থ্যের সমস্যাও মোকাবিলা করা জরুরি। DPSP সরকারকে আইন, নীতি ও প্রশাসনিক কর্মসূচির মাধ্যমে এই লক্ষ্যগুলি অর্জনের দিকনির্দেশ দেয়।

পরীক্ষায় মনে রাখুন: DPSP সংবিধানের চতুর্থ ভাগ (Part IV), অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১-এ রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৭ এর আইনগত বলবৎযোগ্যতা ও শাসন পরিচালনায় গুরুত্ব সম্পর্কে মূল বিধান দেয়।

DPSP-এর প্রধান উদ্দেশ্য

  • সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা।
  • আয়, মর্যাদা, সুযোগ ও সুবিধার বৈষম্য কমানো।
  • দুর্বল ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে রাষ্ট্রকে উৎসাহিত করা।
  • শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবিকার সুযোগের উন্নতি করা।
  • গ্রাম পঞ্চায়েত, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়া।

২. রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির বৈশিষ্ট্য

সাংবিধানিক নীতি

DPSP সংবিধানের চতুর্থ ভাগে অন্তর্ভুক্ত। এগুলি সরকারের নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশ দেয়।

সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়

অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুসারে এই নীতিগুলি আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎ করা যায় না। তবে এগুলি শাসন পরিচালনায় মৌলিক।

জনকল্যাণের লক্ষ্য

সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষার সুযোগ এবং বৈষম্য হ্রাসের মতো লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব

আইন তৈরি ও নীতি বাস্তবায়নের সময় রাষ্ট্রকে এই নীতিগুলি প্রয়োগ করার চেষ্টা করতে হবে।

বিস্তৃত নীতিগত পরিধি

শ্রমিকের কল্যাণ, পঞ্চায়েত, পরিবেশ, বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—বিভিন্ন ক্ষেত্র এর অন্তর্ভুক্ত।

অধিকারের পরিপূরক

মৌলিক অধিকার ও DPSP-এর লক্ষ্য পরস্পর সম্পর্কিত। সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।

৩. অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১: গুরুত্বপূর্ণ DPSP তালিকা

পরীক্ষার জন্য প্রতিটি অনুচ্ছেদের নম্বরের সঙ্গে মূল বিষয়টি মিলিয়ে পড়ুন। নিচের তালিকাটি দ্রুত রিভিশন ও MCQ প্রস্তুতির জন্য তৈরি।

অনুচ্ছেদমূল বিষয়সহজ ব্যাখ্যা
৩৬রাষ্ট্রের সংজ্ঞাএই ভাগে “রাষ্ট্র” বলতে কী বোঝায়, তা নির্ধারণ করে; Part III-এর সংজ্ঞার সঙ্গে সম্পর্কিত।
৩৭নীতির প্রয়োগDPSP আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়; তবে দেশের শাসন পরিচালনায় মৌলিক এবং আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রের এগুলি প্রয়োগ করার দায়িত্ব রয়েছে।
৩৮জনকল্যাণমূলক সামাজিক ব্যবস্থাসামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য কমানোর চেষ্টা।
৩৯রাষ্ট্রের নীতির কিছু নির্দেশজীবিকার উপযুক্ত সুযোগ, সম্পদের জনকল্যাণমুখী বণ্টন, সম্পদের কেন্দ্রীভবন রোধ, সমান কাজের জন্য সমান মজুরি এবং শিশু ও শ্রমিকের সুরক্ষার মতো বিষয়।
৩৯Aসমান ন্যায়বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তাঅর্থনৈতিক বা অন্যান্য অসুবিধার কারণে যেন কেউ ন্যায়বিচারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।
৪০গ্রাম পঞ্চায়েতগ্রাম পঞ্চায়েত সংগঠিত করা এবং স্বশাসনের একক হিসেবে তাদের কার্যকর করার উদ্যোগ।
৪১কাজ, শিক্ষা ও জনসহায়তারাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও উন্নয়নের সীমার মধ্যে কাজ, শিক্ষা এবং বেকারত্ব, বার্ধক্য, অসুস্থতা ও অক্ষমতার ক্ষেত্রে জনসহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ।
৪২ন্যায়সংগত কাজের পরিবেশ ও মাতৃত্বকালীন সহায়তান্যায্য ও মানবিক কর্মপরিবেশ এবং মাতৃত্বকালীন সহায়তার ব্যবস্থা।
৪৩জীবনধারণের উপযোগী মজুরিশ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি, সম্মানজনক জীবনযাত্রা এবং অবসর ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সুযোগের দিকে রাষ্ট্রের উদ্যোগ।
৪৩Aশিল্প পরিচালনায় শ্রমিকের অংশগ্রহণশিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ।
৪৩Bসমবায় সমিতির প্রসারস্বেচ্ছায় গঠিত, স্বশাসিত, গণতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পেশাগতভাবে পরিচালিত সমবায় সমিতির উন্নয়ন।
৪৪অভিন্ন দেওয়ানি বিধিভারতের সমগ্র ভূখণ্ডে নাগরিকদের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।
৪৫শিশুদের প্রারম্ভিক পরিচর্যা ও শিক্ষাছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক পরিচর্যা ও শিক্ষার সুযোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ।
৪৬তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি ও দুর্বল শ্রেণির উন্নয়নশিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উন্নতি এবং সামাজিক অবিচার ও শোষণ থেকে সুরক্ষা।
৪৭পুষ্টি, জীবনযাত্রার মান ও জনস্বাস্থ্যপুষ্টির স্তর, জীবনযাত্রার মান এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি রাষ্ট্রের অন্যতম কর্তব্য।
৪৮কৃষি ও পশুপালনআধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষি ও পশুপালনের সংগঠন; গবাদিপশুর জাত সংরক্ষণ ও উন্নতির নির্দেশ।
৪৮Aপরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণীপরিবেশের সুরক্ষা ও উন্নতি এবং বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের চেষ্টা।
৪৯জাতীয় গুরুত্বের স্মৃতিস্তম্ভআইন দ্বারা জাতীয় গুরুত্বের ঘোষিত স্মৃতিস্তম্ভ, স্থান ও বস্তু রক্ষা করা।
৫০বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পৃথকীকরণরাষ্ট্রের জনসেবায় বিচারবিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার উদ্যোগ।
৫১আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাআন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা, জাতিগুলির মধ্যে ন্যায়সংগত সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির প্রতি সম্মান এবং সালিশির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রসার।
গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফাঁদ: অনুচ্ছেদ ৪৫ বর্তমানে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক পরিচর্যা ও শিক্ষার কথা বলে। ৬–১৪ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার মৌলিক অধিকার অনুচ্ছেদ ২১A-তে রয়েছে। এই দুটিকে গুলিয়ে ফেলবেন না।

৪. DPSP-এর শ্রেণিবিভাগ: সমাজতান্ত্রিক, গান্ধীবাদী ও উদার বুদ্ধিবাদী নীতি

ভারতীয় সংবিধান নিজে DPSP-কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেনি। তবে বিষয়বস্তু ও আদর্শ বুঝতে শিক্ষামূলক আলোচনায় সাধারণত তিনটি শ্রেণি ব্যবহার করা হয়। কিছু নীতি একাধিক শ্রেণির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

ক. সমাজতান্ত্রিক নীতি (Socialistic Principles)

এই নীতিগুলির লক্ষ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়, বৈষম্য হ্রাস, শ্রমিকের কল্যাণ এবং সম্পদের জনকল্যাণমুখী ব্যবহার।

  • অনুচ্ছেদ ৩৮: জনকল্যাণমূলক সামাজিক ব্যবস্থা ও বৈষম্য হ্রাস।
  • অনুচ্ছেদ ৩৯: জীবিকার সুযোগ, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, সমান কাজের জন্য সমান মজুরি ও শিশু-শ্রমিকের সুরক্ষার মতো লক্ষ্য।
  • অনুচ্ছেদ ৩৯A: সমান ন্যায়বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা।
  • অনুচ্ছেদ ৪১: কাজ, শিক্ষা ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জনসহায়তার ব্যবস্থা—রাষ্ট্রের সামর্থ্যের সীমার মধ্যে।
  • অনুচ্ছেদ ৪২–৪৩: মানবিক কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন সহায়তা ও জীবনধারণের উপযোগী মজুরি।
  • অনুচ্ছেদ ৪৭: পুষ্টি, জীবনযাত্রার মান ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি।

খ. গান্ধীবাদী নীতি (Gandhian Principles)

এই শ্রেণির নীতিগুলিতে গ্রামীণ স্বশাসন, দুর্বল জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, কুটিরশিল্প ও পশুপালনের মতো ধারণার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর সামাজিক-অর্থনৈতিক আদর্শের মিল দেখা যায়।

  • অনুচ্ছেদ ৪০: গ্রাম পঞ্চায়েত সংগঠিত করা।
  • অনুচ্ছেদ ৪৩: গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত বা সমবায় ভিত্তিতে কুটিরশিল্পের প্রসারের লক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত।
  • অনুচ্ছেদ ৪৩B: সমবায় সমিতির স্বেচ্ছামূলক গঠন, স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের প্রসার।
  • অনুচ্ছেদ ৪৬: তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি ও অন্যান্য দুর্বল শ্রেণির শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উন্নয়ন।
  • অনুচ্ছেদ ৪৭–৪৮: জনস্বাস্থ্য, নেশাজাতীয় পানীয়ের ক্ষতিকর ব্যবহার রোধের উদ্যোগ এবং কৃষি-পশুপালন উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নীতি।

গ. উদার বুদ্ধিবাদী নীতি (Liberal-Intellectual Principles)

এই নীতিগুলি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।

  • অনুচ্ছেদ ৪৪: অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রচেষ্টা।
  • অনুচ্ছেদ ৪৫: ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক পরিচর্যা ও শিক্ষা।
  • অনুচ্ছেদ ৪৮: কৃষি ও পশুপালনের বৈজ্ঞানিক সংগঠন।
  • অনুচ্ছেদ ৪৮A: পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ।
  • অনুচ্ছেদ ৪৯: জাতীয় গুরুত্বের স্মৃতিস্তম্ভ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ।
  • অনুচ্ছেদ ৫০: বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পৃথকীকরণ।
  • অনুচ্ছেদ ৫১: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান।
আরও পরীক্ষাভিত্তিক বাংলা নোট দরকার?

আপনার প্রস্তুতির জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন Daily Updates-এ যোগ দিন

৫. মৌলিক অধিকার ও DPSP-এর মধ্যে পার্থক্য

মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি—দুটিই সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তাদের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে।

তুলনার বিষয়মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)DPSP
সংবিধানে অবস্থানতৃতীয় ভাগ, অনুচ্ছেদ ১২–৩৫চতুর্থ ভাগ, অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১
প্রধান উদ্দেশ্যঅধিকার, স্বাধীনতা, সমতা ও সাংবিধানিক সুরক্ষাজনকল্যাণ, সামাজিক-অর্থনৈতিক ন্যায় এবং রাষ্ট্রের নীতিগত লক্ষ্য
আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্যতাপ্রযোজ্য সাংবিধানিক শর্তে আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুসারে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়
মূল দৃষ্টিভঙ্গিব্যক্তির অধিকার ও স্বাধীনতার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণরাষ্ট্রের নীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির দিকনির্দেশ
বাস্তবায়নসাংবিধানিক প্রতিকার ও বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারেআইন, সরকারি নীতি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়
সম্পর্কসংবিধানের সামগ্রিক কাঠামোর অংশমৌলিক অধিকারের সঙ্গে মিলিয়ে সাংবিধানিক ভারসাম্যের মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়

মনে রাখার সহজ কৌশল: মৌলিক অধিকার নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতার সুরক্ষায় কাজ করে; DPSP রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমূলক নীতি গ্রহণের দিকনির্দেশ দেয়। তবে এই সরল পার্থক্যকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যে দুটি পরস্পরের বিরোধী। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য ও ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।

৬. DPSP সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী ও মামলা

৪২তম সংবিধান সংশোধনী, ১৯৭৬

এই সংশোধনীর মাধ্যমে DPSP-এর সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। অনুচ্ছেদ ৩৯A-তে সমান ন্যায়বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, অনুচ্ছেদ ৪৩A-তে শিল্প পরিচালনায় শ্রমিকের অংশগ্রহণ এবং অনুচ্ছেদ ৪৮A-তে পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিধান যুক্ত হয়।

৪৪তম সংবিধান সংশোধনী, ১৯৭৮

অনুচ্ছেদ ৩৮-এ বৈষম্য কমানোর বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট নির্দেশ যুক্ত হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশোধনীর নম্বর এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিধান আলাদা করে অনুশীলন করুন।

৮৬তম সংবিধান সংশোধনী, ২০০২

এই সংশোধনী শিক্ষার অধিকারকে নতুন সাংবিধানিক ভিত্তি দেয়। অনুচ্ছেদ ২১A-তে ৬–১৪ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার মৌলিক অধিকার যুক্ত হয় এবং অনুচ্ছেদ ৪৫-এর বিষয়বস্তু ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক পরিচর্যা ও শিক্ষার দিকে পুনর্গঠিত হয়।

৯৭তম সংবিধান সংশোধনী, ২০১১

সমবায় সমিতি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ ৪৩B যুক্ত হয়। সমবায় সমিতির স্বেচ্ছামূলক গঠন, স্বায়ত্তশাসন, গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও পেশাগত পরিচালনার প্রসার এই নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

Minerva Mills মামলা, ১৯৮০

Minerva Mills মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে ভারসাম্যের সাংবিধানিক গুরুত্ব তুলে ধরে। পরীক্ষায় মূল শিক্ষা হলো—সংবিধানের সামগ্রিক কাঠামো ব্যাখ্যার সময় মৌলিক অধিকার ও DPSP-এর মধ্যে সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ।

৭. সরকারি পরীক্ষার জন্য দ্রুত রিভিশন

প্রশ্নে যে বিষয় আসতে পারেমনে রাখার উত্তর
DPSP-এর পূর্ণরূপDirective Principles of State Policy
সংবিধানের কোন ভাগে?চতুর্থ ভাগ (Part IV)
অনুচ্ছেদের পরিসর৩৬–৫১
DPSP-এর বলবৎযোগ্যতাঅনুচ্ছেদ ৩৭ অনুসারে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়
জনকল্যাণমূলক সামাজিক ব্যবস্থাঅনুচ্ছেদ ৩৮
সম্পদের বণ্টন ও সমান কাজের জন্য সমান মজুরিঅনুচ্ছেদ ৩৯-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বিনামূল্যে আইনি সহায়তাঅনুচ্ছেদ ৩৯A
গ্রাম পঞ্চায়েতঅনুচ্ছেদ ৪০
অভিন্ন দেওয়ানি বিধিঅনুচ্ছেদ ৪৪
শিশুদের প্রারম্ভিক পরিচর্যা ও শিক্ষাঅনুচ্ছেদ ৪৫
দুর্বল শ্রেণির উন্নয়নঅনুচ্ছেদ ৪৬
জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিঅনুচ্ছেদ ৪৭
পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণীঅনুচ্ছেদ ৪৮A
বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পৃথকীকরণঅনুচ্ছেদ ৫০
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাঅনুচ্ছেদ ৫১

প্রস্তুতির কার্যকর কৌশল

  1. প্রথমে অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১-এর তালিকা একবার পড়ুন।
  2. ৩৮, ৩৯, ৩৯A, ৪০, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮A, ৫০ ও ৫১ আলাদা করে মুখস্থ করুন।
  3. মৌলিক অধিকার, DPSP ও মৌলিক কর্তব্যের মধ্যে তুলনামূলক ছক তৈরি করুন।
  4. ৪২তম, ৪৪তম, ৮৬তম ও ৯৭তম সংশোধনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় মিলিয়ে পড়ুন।
  5. নিচের MCQ পরীক্ষা দিন; ভুল উত্তরের ব্যাখ্যা পড়ে পুনরায় অনুশীলন করুন।

৮. DPSP: ১০টি অনলাইন MCQ পরীক্ষা

প্রতিটি প্রশ্নে একটি সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর “উত্তর যাচাই করুন” বোতামে ক্লিক করলে স্কোর ও প্রতিটি উত্তরের ব্যাখ্যা দেখা যাবে।

১. রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি সংবিধানের কোন ভাগে রয়েছে?
২. DPSP-এর আইনগত অবস্থান কোন অনুচ্ছেদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
৩. গ্রাম পঞ্চায়েত সংগঠিত করার নির্দেশ কোন অনুচ্ছেদে আছে?
৪. সমান ন্যায়বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
৫. অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কোন অনুচ্ছেদের বিষয়?
৬. ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক পরিচর্যা ও শিক্ষার নির্দেশ কোন অনুচ্ছেদে?
৭. পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে কোন অনুচ্ছেদ যুক্ত?
৮. বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পৃথকীকরণ কোন অনুচ্ছেদে আছে?
৯. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রসার কোন অনুচ্ছেদের লক্ষ্য?
১০. DPSP সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?

সংবিধান অধ্যায়টি ধারাবাহিকভাবে পড়তে নিচের সম্পর্কিত নোটগুলি ব্যবহার করুন। এগুলি একই বিষয়ের সংজ্ঞা, প্রস্তাবনা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মৌলিক অধিকার বুঝতে সহায়তা করবে।

সরকারি ও প্রামাণ্য বাহ্যিক উৎস

অনুচ্ছেদের সঠিক ভাষা ও সর্বশেষ সাংবিধানিক পাঠ যাচাই করতে সরকারি নথিকে অগ্রাধিকার দিন।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সম্পর্কিত পণ্য ও কোর্স:

আপনার প্রস্তুতি আরও এগিয়ে নিন

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে প্রস্তুতি শুরু করুন। দৈনিক আপডেট ও পরীক্ষার খবরের জন্য WhatsApp চ্যানেলে যুক্ত থাকুন।

এখনই ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন

১০. DPSP সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

DPSP-এর পূর্ণরূপ কী?

DPSP-এর পূর্ণরূপ Directive Principles of State Policy। বাংলায় একে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি বলা হয়।

ভারতীয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে DPSP রয়েছে?

DPSP সংবিধানের চতুর্থ ভাগে, অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১-এ রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৭ এই নীতিগুলির প্রয়োগ ও আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্যতা সম্পর্কে বলে।

DPSP কি আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়?

অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুসারে DPSP সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়। তবে এগুলি দেশের শাসন পরিচালনায় মৌলিক এবং আইন প্রণয়নের সময় রাষ্ট্রের এগুলি প্রয়োগ করার দায়িত্ব রয়েছে।

মৌলিক অধিকার ও DPSP-এর প্রধান পার্থক্য কী?

মৌলিক অধিকার সংবিধানের তৃতীয় ভাগে রয়েছে এবং প্রযোজ্য শর্তে আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়। DPSP চতুর্থ ভাগে রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমূলক নীতি গ্রহণের দিকনির্দেশ দেয়; অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এগুলি সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়।

কোন অনুচ্ছেদে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কথা বলা হয়েছে?

অনুচ্ছেদ ৪৪-এ ভারতের সমগ্র ভূখণ্ডে নাগরিকদের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণের নির্দেশ কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?

অনুচ্ছেদ ৪৮A রাষ্ট্রকে পরিবেশের সুরক্ষা ও উন্নতি এবং বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।

উপসংহার

রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি ভারতীয় সংবিধানের জনকল্যাণমূলক আদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুচ্ছেদ ৩৬–৫১-এর প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে তার নম্বর মিলিয়ে পড়ুন, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে পার্থক্য বুঝুন এবং নিয়মিত MCQ অনুশীলন করুন। নির্ভুল প্রস্তুতির জন্য সরকারি সংবিধান পাঠের সঙ্গে নিজের পরীক্ষার সর্বশেষ সিলেবাস মিলিয়ে নিন।

শিক্ষামূলক নোট: এই পেজটি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। নির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা বা বর্তমান বিধান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি সংবিধান পাঠ ও প্রাসঙ্গিক বিচারিক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করুন।

বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে প্রস্তুতি শুরু করুন Free Registration

Get Daily Free Questions

Practice Faster. Score Higher.

Download Our App

Practice Faster. Score Higher. Install the App Now.

Categories

Test Series