শিলার প্রকারভেদ: আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা
পৃথিবীর ভূত্বক গঠনে শিলার ভূমিকা, তিন প্রকার শিলার উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ এবং শিলা চক্র সহজ বাংলায় শিখুন। WBPSC, WBCS, TET, SSC, Railway ও অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই নোটে রয়েছে তুলনামূলক ছক, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ১০টি অনলাইন MCQ।
১. শিলা কী? (What Is a Rock?)
শিলা হলো এক বা একাধিক খনিজের স্বাভাবিকভাবে গঠিত কঠিন সমষ্টি। পৃথিবীর ভূত্বকের বড় অংশ শিলা দিয়ে তৈরি। শিলার রং, কঠিনতা, দানার আকার, খনিজ উপাদান এবং উৎপত্তি একেক রকম হতে পারে। শিলা ও খনিজ একই জিনিস নয়: খনিজের নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও স্ফটিক কাঠামো থাকে, আর একটি শিলায় একাধিক খনিজ থাকতে পারে।
শিলার উৎপত্তি বোঝার জন্য ভূবিজ্ঞানীরা সাধারণত তিনটি প্রধান শ্রেণি ব্যবহার করেন। এই শ্রেণিবিভাগের মূল ভিত্তি হলো শিলা কীভাবে তৈরি হয়েছে।
আগ্নেয় শিলা
গলিত ম্যাগমা বা লাভা ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে তৈরি হয়। উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, অবসিডিয়ান।
পাললিক শিলা
পলি, শিলাখণ্ড, খনিজের অবক্ষেপ বা জীবদেহের অবশেষ জমে ও সংহত হয়ে তৈরি হয়। উদাহরণ: বেলেপাথর, শেল, চুনাপাথর।
রূপান্তরিত শিলা
আগের শিলা তাপ, চাপ বা সক্রিয় তরলের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ: মার্বেল, স্লেট, নিস।
২. আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks)
‘আগ্নেয়’ শব্দটির অর্থ আগুন-সম্পর্কিত। ভূগর্ভের গলিত শিলাকে ম্যাগমা (Magma) বলা হয়। এই ম্যাগমা ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা (Lava) বলা হয়। ম্যাগমা বা লাভা ঠান্ডা হয়ে স্ফটিকায়িত ও কঠিন হলে আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়।
আগ্নেয় শিলার উৎপত্তি
ম্যাগমা ভূগর্ভে ধীরে ঠান্ডা হলে খনিজ স্ফটিক বড় হওয়ার সময় পায় এবং সাধারণত মোটা দানার শিলা তৈরি হয়। অন্যদিকে, লাভা ভূ-পৃষ্ঠে দ্রুত ঠান্ডা হলে সাধারণত সূক্ষ্ম দানার শিলা তৈরি হয়। অত্যন্ত দ্রুত ঠান্ডা হলে অবসিডিয়ানের মতো আগ্নেয় কাচও তৈরি হতে পারে।
আগ্নেয় শিলার প্রধান প্রকার
| প্রকার | উৎপত্তিস্থল | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| অন্তর্ভেদী (Intrusive / Plutonic) | ভূগর্ভে ম্যাগমা ধীরে ঠান্ডা হয় | সাধারণত মোটা দানা ও দৃশ্যমান স্ফটিক | গ্রানাইট, গ্যাব্রো |
| বহির্ভেদী (Extrusive / Volcanic) | ভূ-পৃষ্ঠে লাভা দ্রুত ঠান্ডা হয় | সাধারণত সূক্ষ্ম দানা; কখনও কাচের মতো | ব্যাসল্ট, অবসিডিয়ান |
আগ্নেয় শিলার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
- গ্রানাইট (Granite): অন্তর্ভেদী আগ্নেয় শিলা; সাধারণত মোটা দানার হয় এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়।
- ব্যাসল্ট (Basalt): বহির্ভেদী আগ্নেয় শিলা; সাধারণত গাঢ় রঙের এবং সূক্ষ্ম দানার।
- অবসিডিয়ান (Obsidian): দ্রুত ঠান্ডা হওয়া লাভা থেকে তৈরি আগ্নেয় কাচ।
- পিউমিস (Pumice): গ্যাসের বুদবুদ আটকে থাকার ফলে অনেক সময় ছিদ্রযুক্ত ও হালকা হয়; কিছু নমুনা জলে ভাসতে পারে।
- গ্যাব্রো (Gabbro): মোটা দানার অন্তর্ভেদী আগ্নেয় শিলা।
৩. পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks)
নদী, বায়ু, হিমবাহ ও সমুদ্রের মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় শিলা ভেঙে ক্ষুদ্র কণা বা পলি তৈরি হয়। এই পলি পরিবাহিত হয়ে নদীর তলদেশ, হ্রদ, সমুদ্র বা অন্য কোনো অববাহিকায় জমা হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে পলির স্তর চাপের কারণে সংকুচিত হয় এবং খনিজ পদার্থ কণাগুলিকে জুড়ে দিলে পাললিক শিলা গঠিত হয়। কিছু পাললিক শিলা আবার দ্রবীভূত খনিজের রাসায়নিক অবক্ষেপ বা জীবদেহের অবশেষ থেকেও তৈরি হয়।
পাললিক শিলা গঠনের ধাপ
- আবহবিকার (Weathering): শিলা ভেঙে ছোট কণা বা পলিতে পরিণত হয়।
- ক্ষয় ও পরিবহন (Erosion and Transport): জল, বায়ু বা অন্য প্রাকৃতিক শক্তি পলিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়।
- অবক্ষেপণ (Deposition): পলি কোনো স্থানে জমা হয় এবং স্তর তৈরি করতে পারে।
- সংকোচন (Compaction): উপরিভাগের পলির চাপে নিচের স্তর ঘন হয়।
- সিমেন্টেশন (Cementation): খনিজ পদার্থ পলিকণাকে জুড়ে শিলায় পরিণত করতে সাহায্য করে।
পাললিক শিলার প্রধান প্রকার
| প্রকার | কীভাবে তৈরি হয় | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ক্লাস্টিক (Clastic) | আগের শিলা থেকে আসা কণা জমে, সংকুচিত ও সিমেন্টেড হয় | বেলেপাথর, শেল, কংগ্লোমারেট |
| রাসায়নিক (Chemical) | জল থেকে খনিজ অবক্ষেপিত হয় | কিছু চুনাপাথর, রক সল্ট, জিপসাম |
| জৈব/জীবজ (Biological/Organic) | জীবদেহের খোলস, কঙ্কাল বা উদ্ভিদজাত পদার্থ জমে | কিছু চুনাপাথর, কয়লার বিভিন্ন ধরন |
পাললিক শিলার উদাহরণ ও বৈশিষ্ট্য
- বেলেপাথর (Sandstone): বালুকণার সংহতকরণে তৈরি হয়।
- শেল (Shale): সূক্ষ্ম কাদামাটি ও পলিকণা থেকে গঠিত; অনেক ক্ষেত্রে পাতলা স্তরে ভাঙে।
- কংগ্লোমারেট (Conglomerate): গোলাকার নুড়ি বা বড় কণা সূক্ষ্ম পদার্থের সঙ্গে সংহত হয়ে তৈরি হয়।
- চুনাপাথর (Limestone): ক্যালসিয়াম কার্বনেটসমৃদ্ধ; অনেক ক্ষেত্রে সামুদ্রিক জীবের খোলস থেকে গঠিত হয়, আবার রাসায়নিক প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে।
- কয়লা (Coal): উদ্ভিদজাত জৈব পদার্থের দীর্ঘকালীন পরিবর্তনে তৈরি হওয়া জৈব পাললিক শিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
৪. রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks)
আগের কোনো আগ্নেয়, পাললিক বা রূপান্তরিত শিলা যখন তাপ, চাপ বা রাসায়নিকভাবে সক্রিয় তরলের প্রভাবে খনিজ গঠন, স্ফটিকের বিন্যাস অথবা গাঠনিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। এই প্রক্রিয়াকে রূপান্তর (Metamorphism) বলা হয়। সাধারণত শিলা সম্পূর্ণ গলে না গিয়েই এই পরিবর্তন ঘটে। শিলা গলে গেলে ম্যাগমা তৈরি হতে পারে; সেটি পরে ঠান্ডা হয়ে নতুন আগ্নেয় শিলা তৈরি করতে পারে।
রূপান্তরের প্রধান কারণ
- তাপ: ভূগর্ভের উচ্চ তাপমাত্রা শিলার খনিজগুলিকে পুনর্গঠিত করতে পারে।
- চাপ: গভীর ভূস্তর বা টেকটোনিক বলের চাপে শিলার খনিজের বিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে।
- সক্রিয় তরল: গরম, খনিজসমৃদ্ধ তরল শিলার রাসায়নিক গঠন ও খনিজ পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে।
রূপান্তরিত শিলার প্রকার
| প্রকার | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|---|
| পাতবিন্যস্ত (Foliated) | চাপের ফলে খনিজগুলি সমান্তরাল স্তর বা ব্যান্ডে সাজতে পারে | স্লেট, শিস্ট, নিস |
| অপাতবিন্যস্ত (Non-foliated) | স্পষ্ট সমান্তরাল পাত বা ব্যান্ড নাও থাকতে পারে | মার্বেল, কোয়ার্টজাইট |
গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ: কোন শিলা থেকে কোন শিলা?
| মূল শিলা | রূপান্তরিত শিলা | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
|---|---|---|
| চুনাপাথর (Limestone) | মার্বেল (Marble) | চুনাপাথরের খনিজ পুনঃস্ফটিকায়িত হয়ে মার্বেল গঠন করতে পারে। |
| বেলেপাথর (Sandstone) | কোয়ার্টজাইট (Quartzite) | কোয়ার্টজসমৃদ্ধ বেলেপাথর রূপান্তরিত হলে কোয়ার্টজাইট হতে পারে। |
| শেল (Shale) | স্লেট (Slate) | কম মাত্রার রূপান্তরে স্লেট তৈরি হতে পারে। |
| গ্রানাইট (Granite) | নিস (Gneiss) | উপযুক্ত তাপ ও চাপের পরিবেশে গ্রানাইট থেকে নিস তৈরি হতে পারে। |
৫. আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলার পার্থক্য
সরকারি চাকরির পরীক্ষায় তিন প্রকার শিলার উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ তুলনা করে প্রশ্ন করা হয়। নিচের ছকটি দ্রুত পুনরাবৃত্তির জন্য ব্যবহার করুন।
| তুলনার বিষয় | আগ্নেয় শিলা | পাললিক শিলা | রূপান্তরিত শিলা |
|---|---|---|---|
| উৎপত্তি | ম্যাগমা/লাভা ঠান্ডা হয়ে কঠিন হয় | পলি জমে ও সংহত হয়; রাসায়নিক বা জৈব অবক্ষেপ থেকেও হতে পারে | আগের শিলা তাপ, চাপ বা সক্রিয় তরলে পরিবর্তিত হয় |
| সাধারণ গঠন | স্ফটিকযুক্ত; দানার আকার শীতলীকরণের উপর নির্ভরশীল | অনেক ক্ষেত্রে স্তরযুক্ত ও কণাযুক্ত | পুনঃস্ফটিকায়িত; পাতবিন্যস্ত বা অপাতবিন্যস্ত হতে পারে |
| জীবাশ্ম | সাধারণত থাকে না | তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যায় | তাপ ও চাপের কারণে জীবাশ্ম বিকৃত বা নষ্ট হতে পারে |
| সাধারণ উদাহরণ | গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, অবসিডিয়ান | বেলেপাথর, শেল, চুনাপাথর | মার্বেল, স্লেট, কোয়ার্টজাইট, নিস |
| মূল প্রক্রিয়া | শীতলীকরণ ও স্ফটিকায়ন | আবহবিকার, ক্ষয়, অবক্ষেপণ, সংকোচন ও সিমেন্টেশন | তাপ, চাপ ও রাসায়নিক পরিবর্তন |
৬. শিলা চক্র (Rock Cycle)
শিলা চক্র হলো এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভূতাত্ত্বিক সময়ে এক ধরনের শিলা অন্য ধরনের শিলায় পরিবর্তিত হতে পারে। এটি কোনো নির্দিষ্ট একমুখী বা নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হওয়া চক্র নয়। শিলা যে কোনো পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে যেতে পারে; প্রক্রিয়ার ধরন পরিবেশ ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।
ম্যাগমা → শীতলীকরণ ও স্ফটিকায়ন → আগ্নেয় শিলা → আবহবিকার ও ক্ষয় → পলি → অবক্ষেপণ, সংকোচন ও সিমেন্টেশন → পাললিক শিলা → তাপ ও চাপ → রূপান্তরিত শিলা → গলন → ম্যাগমা।
মনে রাখবেন, এই ধারাটি বোঝানোর জন্য একটি সরল উদাহরণ। বাস্তবে আগ্নেয় শিলা সরাসরি রূপান্তরিত হতে পারে; রূপান্তরিত শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পলিও তৈরি করতে পারে; আবার যে কোনো শিলা গলে ম্যাগমা তৈরি করতে পারে।
শিলা চক্রের প্রধান প্রক্রিয়া
- Cooling and crystallization: ম্যাগমা বা লাভা ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয় শিলা গঠন করে।
- Weathering and erosion: শিলা ভেঙে কণা তৈরি হয় এবং স্থানান্তরিত হয়।
- Deposition and lithification: পলি জমে, সংকুচিত ও সিমেন্টেড হয়ে পাললিক শিলা তৈরি করতে পারে।
- Metamorphism: তাপ, চাপ বা সক্রিয় তরলের প্রভাবে শিলার খনিজ ও গঠন বদলে যায়।
- Melting: যথেষ্ট তাপে শিলা গলে ম্যাগমা তৈরি করতে পারে।
- Uplift: ভূতাত্ত্বিক বলের কারণে গভীরের শিলা উপরের দিকে উঠে আসতে পারে এবং পরে ক্ষয়ের শিকার হতে পারে।
৭. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সাধারণ ভুল
- শিলার তিনটি প্রধান শ্রেণি হলো আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত।
- ম্যাগমা ভূগর্ভে থাকে; ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা বলা হয়।
- গ্রানাইট একটি অন্তর্ভেদী আগ্নেয় শিলা; ব্যাসল্ট একটি বহির্ভেদী আগ্নেয় শিলা।
- পাললিক শিলায় স্তর ও জীবাশ্ম পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল হতে পারে।
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট হতে পারে।
- সব রূপান্তরিত শিলা স্তরযুক্ত নয়; কিছু রূপান্তরিত শিলা অপাতবিন্যস্ত।
- শিলা চক্র একমুখী নয়। শিলা বিভিন্ন পথে রূপান্তরিত হতে পারে।
- শিলা হলো খনিজের সমষ্টি; খনিজ ও শিলাকে একই অর্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
- শিলার রং দেখে একা তার শ্রেণি নিশ্চিত করা যায় না; উৎপত্তি ও গঠন গুরুত্বপূর্ণ।
৮. অনলাইন MCQ পরীক্ষা: Rocks
নিচের ১০টি প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন করুন। শেষে “উত্তর জমা দিন” বোতামে চাপ দিলে আপনার স্কোর, সঠিক উত্তর এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেখা যাবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।
আপনার ফলাফল
৯. শিলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
শিলা কয় প্রকার ও কী কী?
উৎপত্তি অনুসারে শিলা প্রধানত তিন প্রকার: আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা এবং রূপান্তরিত শিলা।
আগ্নেয় শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
ভূগর্ভের ম্যাগমা বা ভূ-পৃষ্ঠের লাভা ঠান্ডা হয়ে কঠিন হলে আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়। শীতলীকরণের গতি ও ম্যাগমার রাসায়নিক গঠন শিলার বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে।
গ্রানাইট ও ব্যাসল্টের মধ্যে পার্থক্য কী?
গ্রানাইট সাধারণত ভূগর্ভে ধীরে ঠান্ডা হওয়া মোটা দানার অন্তর্ভেদী আগ্নেয় শিলা। ব্যাসল্ট সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠে লাভা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম দানার বহির্ভেদী আগ্নেয় শিলা।
পাললিক শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
শিলার ক্ষয় থেকে তৈরি পলি বা অন্যান্য অবক্ষেপ জমে, চাপের ফলে সংকুচিত হয় এবং প্রায়ই খনিজ পদার্থের সিমেন্টেশনের মাধ্যমে পাললিক শিলায় পরিণত হয়। কিছু পাললিক শিলা রাসায়নিক বা জৈব প্রক্রিয়াতেও তৈরি হয়।
চুনাপাথর থেকে কোন শিলা তৈরি হয়?
উপযুক্ত তাপ ও চাপের প্রভাবে চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল তৈরি করতে পারে।
সব রূপান্তরিত শিলা কি স্তরযুক্ত?
না। কিছু রূপান্তরিত শিলা, যেমন স্লেট ও নিস, পাতবিন্যস্ত বা ব্যান্ডযুক্ত হতে পারে। মার্বেল ও কোয়ার্টজাইট সাধারণত অপাতবিন্যস্ত রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ হিসেবে পড়ানো হয়।
শিলা চক্র বলতে কী বোঝায়?
শিলা চক্র হলো সেই ধারাবাহিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিলা গঠন, ক্ষয়, অবক্ষেপণ, রূপান্তর, গলন ও শীতলীকরণের মতো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রূপ নিতে পারে।
১০. সম্পর্কিত বাংলা নোট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভূগোল, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জ্ঞান এবং সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচের সম্পর্কিত পেজগুলি পড়ুন। লিংকগুলির URL প্রকাশের আগে সাইটে পরীক্ষা করে নিন; URL পরিবর্তিত হলে WordPress থেকে সঠিক permalink বসান।
২. পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও সাধারণ জ্ঞান।
৩. পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলভূপ্রকৃতি, নদী, জলবায়ু ও অন্যান্য ভৌগোলিক বিষয়।
৪. পশ্চিমবঙ্গের জেলাজেলাভিত্তিক তথ্য ও পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নোট।
৫. পশ্চিমবঙ্গের নদনদীনদী, নদীপ্রণালী ও সংশ্লিষ্ট সাধারণ জ্ঞান।
৬. জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যপশ্চিমবঙ্গের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী।
৭. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনভূত্বক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল সম্পর্কে নোট।
৮. ভারতের মৃত্তিকামৃত্তিকার প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য ও MCQ অনুশীলন।
৯. ভারতের কৃষিকৃষি ও ভূগোলভিত্তিক পরীক্ষার প্রস্তুতির নোট।
১০. WBPSC Miscellaneous Prelimsসিলেবাস ও বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার প্রস্তুতি।
আরও পড়ুন: নির্ভরযোগ্য ভূবিজ্ঞান সূত্র
- U.S. Geological Survey (USGS): Types of Rocks — আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলার উৎপত্তি ও উদাহরণ।
- American Museum of Natural History: Three Types of Rock — শিলার তিনটি প্রধান শ্রেণি সম্পর্কে শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা।
- British Geological Survey: Rocks and Minerals — শিলা, খনিজ এবং শিলা চক্র সম্পর্কে তথ্য।




