অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ: গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা, বিষুবরেখা ও কর্কটক্রান্তি
অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হলো পৃথিবীর কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত কাল্পনিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা। অক্ষাংশের সাহায্যে কোনো স্থান বিষুবরেখার কত উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত তা জানা যায়। দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে জানা যায় কোনো স্থান মূল মধ্যরেখার কত পূর্বে বা পশ্চিমে অবস্থিত। বিষুবরেখা, কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি, সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা।
এই অধ্যায়ে সংজ্ঞা, পার্থক্য, প্রধান অক্ষরেখার অবস্থান, পৃথিবীর তাপমণ্ডল, ভারতের কর্কটক্রান্তি রেখা, ভারতের প্রমাণ সময়, আন্তর্জাতিক তারিখরেখা এবং পরীক্ষার উপযোগী ১০টি MCQ ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করা হয়েছে।
সূচিপত্র: স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা · অক্ষাংশ · দ্রাঘিমাংশ · গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা · তাপমণ্ডল · ভারত ও কর্কটক্রান্তি · সময় নির্ণয় · তারিখরেখা · ১০টি MCQ · FAQ
১. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ কী?
পৃথিবীর পৃষ্ঠে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অবস্থান নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করার জন্য অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নামে দুটি কাল্পনিক রেখার জাল বা Grid ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর গোলকের ওপর এই রেখাগুলি বাস্তবে আঁকা নেই; মানচিত্র ও গ্লোবে এগুলি কল্পনা করে দেখানো হয়।
- অক্ষাংশ: বিষুবরেখা থেকে কোনো স্থানের উত্তর বা দক্ষিণের কৌণিক দূরত্ব।
- দ্রাঘিমাংশ: মূল মধ্যরেখা থেকে কোনো স্থানের পূর্ব বা পশ্চিমের কৌণিক দূরত্ব।
অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ একসঙ্গে ব্যবহার করলে পৃথিবীর প্রায় যেকোনো স্থানের অবস্থান নির্দিষ্ট করা যায়। GPS, মানচিত্র, বিমান চলাচল, জাহাজ চলাচল এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে এই স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
২. অক্ষাংশ কাকে বলে?
বিষুবরেখা থেকে পৃথিবীর কোনো স্থানের উত্তর বা দক্ষিণে কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ (Latitude) বলে। অক্ষাংশ ডিগ্রি (°), মিনিট (′) ও সেকেন্ড (″) এককে প্রকাশ করা হয়।
- বিষুবরেখার অক্ষাংশ 0°।
- বিষুবরেখার উত্তরের অক্ষাংশকে উত্তর অক্ষাংশ বা N (North) বলা হয়।
- বিষুবরেখার দক্ষিণের অক্ষাংশকে দক্ষিণ অক্ষাংশ বা S (South) বলা হয়।
- উত্তর মেরুর অক্ষাংশ 90° N।
- দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ 90° S।
অক্ষরেখা বা Parallels of Latitude
পৃথিবীর পৃষ্ঠে একই অক্ষাংশবিশিষ্ট স্থানগুলিকে যুক্ত করে যে কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা হয়, তাকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা (Parallel of Latitude) বলে। এই রেখাগুলি সাধারণত পূর্ব-পশ্চিম দিকে বিস্তৃত এবং পরস্পরের সমান্তরাল।
বিষুবরেখা হলো বৃহত্তম অক্ষরেখা। বিষুবরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর দিকে এগোলে অক্ষরেখাগুলির পরিধি ক্রমশ ছোট হয়। মেরুতে অক্ষরেখা একটি বিন্দুতে পরিণত হয়।
অক্ষাংশের দূরত্ব
পৃথিবীর পৃষ্ঠে 1° অক্ষাংশের দূরত্ব গড়ে প্রায় 111 কিলোমিটার। অক্ষাংশের 1 ডিগ্রিকে 60 মিনিট এবং 1 মিনিটকে 60 সেকেন্ডে ভাগ করা হয়।
1° অক্ষাংশ = 60′
1′ অক্ষাংশ = 60″
1° অক্ষাংশের দূরত্ব ≈ 111 কিলোমিটার
1′ অক্ষাংশের দূরত্ব ≈ 1.85 কিলোমিটার
এগুলি গড় বা আনুমানিক মান। পৃথিবী সম্পূর্ণ নিখুঁত গোলক নয় বলে প্রকৃত দূরত্বে সামান্য তারতম্য হতে পারে।
৩. দ্রাঘিমাংশ কাকে বলে?
গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কোনো স্থানের পূর্ব বা পশ্চিমে কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমাংশ (Longitude) বলে। দ্রাঘিমাংশও ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে প্রকাশ করা হয়।
- মূল মধ্যরেখার দ্রাঘিমাংশ 0°।
- মূল মধ্যরেখার পূর্বের দ্রাঘিমাংশকে পূর্ব দ্রাঘিমা বা E (East) বলা হয়।
- মূল মধ্যরেখার পশ্চিমের দ্রাঘিমাংশকে পশ্চিম দ্রাঘিমা বা W (West) বলা হয়।
- পূর্ব ও পশ্চিমে সর্বোচ্চ দ্রাঘিমাংশ 180° পর্যন্ত গণনা করা হয়।
মূল মধ্যরেখা ও 180° দ্রাঘিমারেখা পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করতে সাহায্য করে।
দ্রাঘিমারেখা বা Meridians of Longitude
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কাল্পনিক অর্ধবৃত্তাকার রেখাগুলিকে দ্রাঘিমারেখা বা Meridian বলে। সব দ্রাঘিমারেখা দুই মেরুতে মিলিত হয়। দ্রাঘিমারেখাগুলির দৈর্ঘ্য সমান এবং এগুলি অক্ষরেখার মতো পরস্পর সমান্তরাল নয়।
দ্রাঘিমারেখার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
- দ্রাঘিমারেখাগুলি উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুকে যুক্ত করে।
- সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
- দুটি বিপরীত দ্রাঘিমারেখা মিলে একটি পূর্ণবৃত্ত গঠন করতে পারে।
- দ্রাঘিমারেখা সময় নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- দ্রাঘিমারেখাগুলি মেরুতে পরস্পরের কাছাকাছি এসে মিলিত হয়।
৪. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | অক্ষাংশ (Latitude) | দ্রাঘিমাংশ (Longitude) |
|---|---|---|
| পরিমাপের ভিত্তি | বিষুবরেখা | গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা |
| দিক | উত্তর বা দক্ষিণ | পূর্ব বা পশ্চিম |
| সর্বোচ্চ মান | 90° উত্তর ও 90° দক্ষিণ | 180° পূর্ব ও 180° পশ্চিম |
| রেখার প্রকৃতি | পূর্ণ বৃত্তাকার সমান্তরাল রেখা | মেরুতে মিলিত অর্ধবৃত্তাকার রেখা |
| রেখার দৈর্ঘ্য | বিষুবরেখা সবচেয়ে বড়; মেরুর দিকে ছোট হয় | সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান |
| প্রধান ব্যবহার | উত্তর-দক্ষিণ অবস্থান নির্ণয় | পূর্ব-পশ্চিম অবস্থান ও স্থানীয় সময় নির্ণয় |
| উদাহরণ | 23° N | 88° E |
৫. পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা (Important Parallels)
পৃথিবীর কয়েকটি অক্ষরেখা ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, ঋতু ও সূর্যরশ্মির বিস্তারের কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় এই রেখাগুলির অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য থেকে প্রশ্ন আসে।
| গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা | অক্ষাংশ | অবস্থান |
|---|---|---|
| বিষুবরেখা (Equator) | 0° | পৃথিবীর মধ্যভাগ |
| কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) | প্রায় 23°26′ উত্তর | উত্তর গোলার্ধ |
| মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn) | প্রায় 23°26′ দক্ষিণ | দক্ষিণ গোলার্ধ |
| সুমেরুবৃত্ত (Arctic Circle) | প্রায় 66°34′ উত্তর | উত্তর গোলার্ধ |
| কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle) | প্রায় 66°34′ দক্ষিণ | দক্ষিণ গোলার্ধ |
| উত্তর মেরু (North Pole) | 90° উত্তর | পৃথিবীর উত্তর প্রান্ত |
| দক্ষিণ মেরু (South Pole) | 90° দক্ষিণ | পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্ত |
অনেক স্কুল-স্তরের বইয়ে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তিকে 23½° এবং সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্তকে 66½° হিসেবে লেখা হয়। এগুলি আনুমানিক মান। পৃথিবীর অক্ষের হেলনের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত মানে সামান্য পরিবর্তন ঘটে।
১. বিষুবরেখা (Equator)
পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে সমান দূরত্বে অবস্থিত 0° অক্ষাংশের কাল্পনিক বৃহত্তম বৃত্তকে বিষুবরেখা বলে। এটি পৃথিবীকে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে।
- বিষুবরেখার অক্ষাংশ 0°।
- এটি পৃথিবীর বৃহত্তম অক্ষরেখা।
- বিষুবরেখা পৃথিবীকে প্রায় সমান দুটি গোলার্ধে ভাগ করে।
- বিষুবরেখা অঞ্চলে সারা বছর সূর্যরশ্মি তুলনামূলকভাবে লম্বভাবে পড়ে।
- বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু দেখা যায়।
২. কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer)
উত্তর গোলার্ধে বিষুবরেখার প্রায় 23°26′ উত্তরে অবস্থিত অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলে। স্কুল-স্তরের বইয়ে একে সাধারণত 23½° উত্তর অক্ষাংশ বলা হয়।
- কর্কটক্রান্তি রেখা উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
- উত্তর অয়নান্ত বা June Solstice-এর সময় সূর্য এই রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এটি উষ্ণমণ্ডলের উত্তর সীমা নির্দেশ করে।
- ভারতের মধ্যভাগের কাছ দিয়ে এই রেখা অতিক্রম করেছে।
৩. মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn)
দক্ষিণ গোলার্ধে বিষুবরেখার প্রায় 23°26′ দক্ষিণে অবস্থিত অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে। স্কুল-স্তরের বইয়ে একে সাধারণত 23½° দক্ষিণ অক্ষাংশ বলা হয়।
- মকরক্রান্তি রেখা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
- দক্ষিণ অয়নান্ত বা December Solstice-এর সময় সূর্য এই রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এটি উষ্ণমণ্ডলের দক্ষিণ সীমা নির্দেশ করে।
৪. সুমেরুবৃত্ত (Arctic Circle)
উত্তর গোলার্ধে প্রায় 66°34′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত বলে। এটি উত্তর মেরু অঞ্চলের দক্ষিণ সীমা নির্দেশ করে।
- এটি উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
- এখানে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে অন্তত এক দিন 24 ঘণ্টা সূর্য দেখা যেতে পারে এবং অন্য সময়ে অন্তত এক দিন সূর্যোদয় হয় না।
- এর উত্তরের অঞ্চলকে উত্তর মেরু অঞ্চল বা Arctic Region বলা হয়।
৫. কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle)
দক্ষিণ গোলার্ধে প্রায় 66°34′ দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। এটি দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের উত্তর সীমা নির্দেশ করে।
- এটি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
- এর দক্ষিণে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে 24 ঘণ্টা সূর্যালোক এবং অন্য সময়ে 24 ঘণ্টা অন্ধকার দেখা যায়।
- এর দক্ষিণের অঞ্চল অ্যান্টার্কটিক বা দক্ষিণ মেরু অঞ্চল নামে পরিচিত।
৬. অয়নান্ত ও বিষুব (Solstice and Equinox)
পৃথিবীর অক্ষ প্রায় 23.5° হেলে থাকার কারণে সূর্যের আপাত অবস্থান সারা বছর উত্তর ও দক্ষিণে পরিবর্তিত হয়। এর ফলে অয়নান্ত ও বিষুবের সৃষ্টি হয়।
| ঘটনা | সময় | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| উত্তর অয়নান্ত (June Solstice) | সাধারণত 20–22 জুন | সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়; উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় হয়। |
| দক্ষিণ অয়নান্ত (December Solstice) | সাধারণত 20–23 ডিসেম্বর | সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়; উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোট হয়। |
| মার্চ বিষুব (March Equinox) | সাধারণত 19–21 মার্চ | সূর্য বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়; দিন ও রাত প্রায় সমান হয়। |
| সেপ্টেম্বর বিষুব (September Equinox) | সাধারণত 21–24 সেপ্টেম্বর | সূর্য আবার বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়; দিন ও রাত প্রায় সমান হয়। |
৭. অক্ষাংশ অনুসারে পৃথিবীর তাপমণ্ডল
সূর্যরশ্মির পতন কোণ ও তাপের তারতম্যের ভিত্তিতে পৃথিবীকে প্রধানত 3টি তাপমণ্ডলে ভাগ করা হয়।
১. উষ্ণমণ্ডল (Torrid Zone)
কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে উষ্ণমণ্ডল বলে। এই অঞ্চলে বছরের কোনো না কোনো সময়ে মধ্যাহ্ন সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। সাধারণভাবে পৃথিবীর সর্বাধিক সৌরশক্তি এই অঞ্চলে পাওয়া যায়।
২. নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল (Temperate Zone)
কর্কটক্রান্তি ও সুমেরুবৃত্তের মধ্যবর্তী উত্তর গোলার্ধের অঞ্চল এবং মকরক্রান্তি ও কুমেরুবৃত্তের মধ্যবর্তী দক্ষিণ গোলার্ধের অঞ্চলকে নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল বলে। এখানে সূর্যরশ্মি কখনোই লম্বভাবে পড়ে না। ঋতুর পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
৩. হিমমণ্ডল (Frigid Zone)
সুমেরুবৃত্ত ও উত্তর মেরুর মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং কুমেরুবৃত্ত ও দক্ষিণ মেরুর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হিমমণ্ডল বলে। এখানে সূর্যরশ্মি খুব তির্যকভাবে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দিন বা রাত দেখা যেতে পারে।
| তাপমণ্ডল | অবস্থান | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| উত্তর হিমমণ্ডল | 66½° N থেকে 90° N | অত্যন্ত শীতল অঞ্চল |
| উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল | 23½° N থেকে 66½° N | মধ্যম তাপমাত্রা ও ঋতু পরিবর্তন |
| উষ্ণমণ্ডল | 23½° N থেকে 23½° S | তুলনামূলক বেশি সৌর তাপ |
| দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল | 23½° S থেকে 66½° S | মধ্যম তাপমাত্রা ও ঋতু পরিবর্তন |
| দক্ষিণ হিমমণ্ডল | 66½° S থেকে 90° S | অত্যন্ত শীতল অঞ্চল |
৮. ভারতের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী কর্কটক্রান্তি রেখা
কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অক্ষরেখা। এটি ভারতের প্রায় মধ্যভাগের ওপর দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অতিক্রম করেছে। ভারতের 8টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে এই রেখা গেছে।
- গুজরাট
- রাজস্থান
- মধ্যপ্রদেশ
- ছত্তিশগড়
- ঝাড়খণ্ড
- পশ্চিমবঙ্গ
- ত্রিপুরা
- মিজোরাম
পরীক্ষায় রাজ্যগুলির নাম পশ্চিম থেকে পূর্বে সঠিক ক্রমে লেখার প্রশ্ন আসতে পারে। মনে রাখার জন্য প্রথম অক্ষরগুলি ব্যবহার করতে পারেন: গ-রা-ম-ছ-ঝ-প-ত্রি-মি।
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সম্পর্ক
কর্কটক্রান্তি রেখা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যভাগের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছে। তাই পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল ও সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় এই রেখার অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশ ও উত্তরাংশের অক্ষাংশগত অবস্থান জলবায়ু, সূর্যরশ্মি ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বুঝতে সাহায্য করে।
কর্কটক্রান্তি রেখা সম্পর্কে পরীক্ষার তথ্য
- কর্কটক্রান্তি রেখার অবস্থান প্রায় 23½° উত্তর অক্ষাংশে।
- এটি ভারতের 8টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে।
- পশ্চিমবঙ্গ এই 8টি রাজ্যের একটি।
- এটি উষ্ণমণ্ডলের উত্তর সীমা নির্দেশ করে।
- June Solstice-এ সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
৯. মূল মধ্যরেখা বা Prime Meridian
ইংল্যান্ডের গ্রিনিচের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত 0° দ্রাঘিমারেখাকে মূল মধ্যরেখা বা Prime Meridian বলে। এই রেখাকে ভিত্তি করে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা হয়।
- মূল মধ্যরেখার মান 0° দ্রাঘিমা।
- এটি গ্রিনিচ, লন্ডনের ওপর দিয়ে গেছে।
- মূল মধ্যরেখা পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করতে সাহায্য করে।
- আন্তর্জাতিক সময় নির্ণয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে গ্রিনিচ মধ্যরেখা গুরুত্বপূর্ণ।
১০. দ্রাঘিমাংশ ও সময়ের সম্পর্ক
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নিজের অক্ষের ওপর আবর্তন করে। পৃথিবী 24 ঘণ্টায় 360° ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। তাই দ্রাঘিমাংশের পার্থক্যের সঙ্গে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য তৈরি হয়।
360° দ্রাঘিমা = 24 ঘণ্টা
15° দ্রাঘিমা = 1 ঘণ্টা
1° দ্রাঘিমা = 4 মিনিট
1′ দ্রাঘিমা = 4 সেকেন্ড
সময় নির্ণয়ের নিয়ম
- পূর্ব দিকে গেলে স্থানীয় সময় বাড়ে।
- পশ্চিম দিকে গেলে স্থানীয় সময় কমে।
- দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য 1° হলে সময়ের পার্থক্য 4 মিনিট।
- দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য 15° হলে সময়ের পার্থক্য 1 ঘণ্টা।
উদাহরণ
ধরা যাক, কোনো স্থানের দ্রাঘিমা 75° E এবং অন্য স্থানের দ্রাঘিমা 90° E। তাদের দ্রাঘিমার পার্থক্য 15°।
সময় পার্থক্য = 15 × 4 মিনিট = 60 মিনিট = 1 ঘণ্টা।
90° E-এ অবস্থিত স্থানটি 75° E-এর তুলনায় পূর্বে, তাই সেখানে স্থানীয় সময় 1 ঘণ্টা এগিয়ে থাকবে।
১১. ভারতের প্রমাণ সময় (Indian Standard Time বা IST)
ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের দ্রাঘিমার পার্থক্যের কারণে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয়। তাই সমগ্র দেশে একই সময় ব্যবহারের জন্য একটি মান সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একে ভারতের প্রমাণ সময় বা Indian Standard Time (IST) বলে।
- ভারতের প্রমাণ সময়ের ভিত্তি হলো 82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমা।
- এই রেখাকে ভারতের প্রমাণ মধ্যরেখা বা Standard Meridian of India বলা হয়।
- এই মধ্যরেখা উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের কাছ দিয়ে গেছে।
- IST হলো UTC বা Coordinated Universal Time-এর থেকে 5 ঘণ্টা 30 মিনিট এগিয়ে।
- ভারতের সর্বত্র সরকারি ও দৈনন্দিন কাজে একই প্রমাণ সময় অনুসরণ করা হয়।
১২. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা (International Date Line)
প্রায় 180° দ্রাঘিমারেখা বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা কল্পনা করা হয়েছে। এই রেখা অতিক্রম করার সময় ক্যালেন্ডারের তারিখ এক দিন পরিবর্তিত হয়।
- আন্তর্জাতিক তারিখরেখা প্রায় 180° দ্রাঘিমা অনুসরণ করে।
- এটি সম্পূর্ণ সোজা নয়; বিভিন্ন দ্বীপ ও দেশের ভূখণ্ডকে একই তারিখে রাখার জন্য কিছু স্থানে বাঁক নিয়েছে।
- পশ্চিম দিকে অতিক্রম করলে সাধারণভাবে এক দিন যোগ হয়।
- পূর্ব দিকে অতিক্রম করলে সাধারণভাবে এক দিন বিয়োগ হয়।
- এটি কোনো রাজনৈতিক সীমানা নয়; আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত একটি কাল্পনিক তারিখ-নির্দেশক রেখা।
১৩. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের ব্যবহার
আধুনিক ভূগোল ও দৈনন্দিন জীবনে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- অবস্থান নির্ণয়: পৃথিবীর কোনো স্থানের নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা যায়।
- GPS: মোবাইল, গাড়ি ও নৌযানের অবস্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
- মানচিত্র: মানচিত্রে বিভিন্ন স্থানের স্থানাঙ্ক নির্ধারণ করা যায়।
- সময় নির্ণয়: দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হিসাব করা যায়।
- আবহাওয়া ও জলবায়ু: অক্ষাংশের ভিত্তিতে সূর্যরশ্মি ও তাপের বণ্টন বোঝা যায়।
- নৌ ও বিমান চলাচল: নির্দিষ্ট পথ ও অবস্থান নির্ধারণে সাহায্য করে।
১৪. পরীক্ষার জন্য এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| প্রশ্নের বিষয় | সঠিক তথ্য |
|---|---|
| বিষুবরেখার অক্ষাংশ | 0° |
| উত্তর মেরুর অক্ষাংশ | 90° N |
| দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ | 90° S |
| কর্কটক্রান্তি রেখা | প্রায় 23½° N |
| মকরক্রান্তি রেখা | প্রায় 23½° S |
| সুমেরুবৃত্ত | প্রায় 66½° N |
| কুমেরুবৃত্ত | প্রায় 66½° S |
| মূল মধ্যরেখা | 0° দ্রাঘিমা |
| আন্তর্জাতিক তারিখরেখা | প্রায় 180° দ্রাঘিমা |
| ভারতের প্রমাণ মধ্যরেখা | 82°30′ E |
| IST | UTC + 5 ঘণ্টা 30 মিনিট |
| 1° দ্রাঘিমার সময়ের পার্থক্য | 4 মিনিট |
| 15° দ্রাঘিমার সময়ের পার্থক্য | 1 ঘণ্টা |
| 1° অক্ষাংশের দূরত্ব | প্রায় 111 কিমি |
| কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রমকারী ভারতীয় রাজ্য | 8টি |
বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন — ভূগোল ও সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন
১৫. অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা: ১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ
WB TET, WBPSC Clerkship, WBP, SLST, SSC এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নিচে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন দেওয়া হলো। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি সাধারণ অনুশীলন, কোনো অনলাইন টেস্ট নয়।
প্রশ্ন ১. বিষুবরেখার অক্ষাংশ কত?
ক) 23½° উত্তর
খ) 0°
গ) 66½° দক্ষিণ
ঘ) 90° উত্তর
ব্যাখ্যা: বিষুবরেখা পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে সমান দূরত্বে অবস্থিত। এর অক্ষাংশ 0° এবং এটি পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে।
প্রশ্ন ২. কর্কটক্রান্তি রেখা কোন অক্ষাংশে অবস্থিত?
ক) 23½° উত্তর
খ) 23½° দক্ষিণ
গ) 66½° উত্তর
ঘ) 0°
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা উত্তর গোলার্ধে বিষুবরেখার প্রায় 23½° উত্তরে অবস্থিত। June Solstice-এর সময় সূর্য এই রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
প্রশ্ন ৩. মকরক্রান্তি রেখা কোন গোলার্ধে অবস্থিত?
ক) উত্তর গোলার্ধ
খ) দক্ষিণ গোলার্ধ
গ) পূর্ব গোলার্ধ
ঘ) পশ্চিম গোলার্ধ
ব্যাখ্যা: মকরক্রান্তি রেখা বিষুবরেখার প্রায় 23½° দক্ষিণে অবস্থিত। December Solstice-এর সময় সূর্য এই রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
প্রশ্ন ৪. সুমেরুবৃত্তের অবস্থান কত?
ক) 66½° উত্তর
খ) 66½° দক্ষিণ
গ) 23½° উত্তর
ঘ) 90° দক্ষিণ
ব্যাখ্যা: সুমেরুবৃত্ত উত্তর গোলার্ধে প্রায় 66½° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। এটি উত্তর মেরু অঞ্চলের দক্ষিণ সীমা নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ৫. দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের মূল মধ্যরেখা কোথায় অবস্থিত?
ক) বিষুবরেখা
খ) গ্রিনিচ
গ) উত্তর মেরু
ঘ) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা
ব্যাখ্যা: ইংল্যান্ডের গ্রিনিচের ওপর দিয়ে যাওয়া 0° দ্রাঘিমারেখাকে মূল মধ্যরেখা বা Prime Meridian বলে। পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ এই রেখা থেকে গণনা করা হয়।
প্রশ্ন ৬. 1° দ্রাঘিমার সময়ের পার্থক্য কত?
ক) 1 মিনিট
খ) 2 মিনিট
গ) 4 মিনিট
ঘ) 15 মিনিট
ব্যাখ্যা: পৃথিবী 360° ঘুরতে 24 ঘণ্টা সময় নেয়। তাই 15° ঘুরতে 1 ঘণ্টা এবং 1° ঘুরতে 4 মিনিট সময় লাগে।
প্রশ্ন ৭. ভারতের প্রমাণ মধ্যরেখা কত ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত?
ক) 75° E
খ) 82°30′ E
গ) 90° E
ঘ) 0°
ব্যাখ্যা: ভারতের প্রমাণ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে 82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমার ভিত্তিতে। এই রেখা উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের কাছ দিয়ে গেছে।
প্রশ্ন ৮. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা সাধারণত কোন দ্রাঘিমার কাছ দিয়ে গেছে?
ক) 0°
খ) 90° E
গ) 180°
ঘ) 23½° N
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক তারিখরেখা প্রায় 180° দ্রাঘিমা বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে গেছে। তবে দ্বীপ ও দেশের সুবিধার জন্য রেখাটি কিছু স্থানে বাঁক নিয়েছে।
প্রশ্ন ৯. কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের কয়টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে?
ক) 6টি
খ) 7টি
গ) 8টি
ঘ) 9টি
ব্যাখ্যা: গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মিজোরাম—এই 8টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
প্রশ্ন ১০. 15° দ্রাঘিমার পার্থক্যে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কত?
ক) 15 মিনিট
খ) 30 মিনিট
গ) 1 ঘণ্টা
ঘ) 2 ঘণ্টা
ব্যাখ্যা: 1° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য 4 মিনিট। সুতরাং 15° × 4 মিনিট = 60 মিনিট বা 1 ঘণ্টা। পূর্ব দিকে স্থানীয় সময় এগিয়ে যায় এবং পশ্চিম দিকে পিছিয়ে যায়।
ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে আরও ভূগোলের নোট ও পরীক্ষার আপডেট পান
১৬. MyTestSeries-এর সম্পর্কিত ভূগোল নোট
অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ অধ্যায়ের সঙ্গে পৃথিবীর গঠন, বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূমিরূপ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বিষয়গুলি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। নিচের নোটগুলি ধারাবাহিকভাবে পড়ুন।
ভূগোল ও সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতি রিসোর্স
WB TET, WBPSC, WBP, SLST এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার জন্য ভূগোলের অধ্যায়ভিত্তিক নোট, অনুশীলন প্রশ্ন ও প্রস্তুতি সামগ্রী নিয়মিত পড়ুন। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য MyTestSeries-এর সংশ্লিষ্ট স্টাডি রিসোর্স ব্যবহার করুন।
এখনই বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন
WhatsApp Channel-এ Join করুন — Daily Exam Updates ও News
১৭. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. অক্ষাংশ কাকে বলে?
বিষুবরেখা থেকে কোনো স্থানের উত্তর বা দক্ষিণে কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে। এটি 0° থেকে 90° উত্তর বা দক্ষিণ পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়।
২. দ্রাঘিমাংশ কাকে বলে?
গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে কোনো স্থানের পূর্ব বা পশ্চিমে কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমাংশ বলে। এটি 0° থেকে 180° পূর্ব বা পশ্চিম পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়।
৩. বিষুবরেখার অক্ষাংশ কত?
বিষুবরেখার অক্ষাংশ 0°। এটি পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে।
৪. কর্কটক্রান্তি রেখা কত ডিগ্রি অক্ষাংশে অবস্থিত?
কর্কটক্রান্তি রেখা প্রায় 23½° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
৫. মকরক্রান্তি রেখা কত ডিগ্রি অক্ষাংশে অবস্থিত?
মকরক্রান্তি রেখা প্রায় 23½° দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত।
৬. ভারতের প্রমাণ মধ্যরেখা কত?
ভারতের প্রমাণ মধ্যরেখা 82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমা। এর ভিত্তিতে ভারতের প্রমাণ সময় নির্ধারিত হয়।
৭. 1° দ্রাঘিমার সময়ের পার্থক্য কত?
1° দ্রাঘিমার সময়ের পার্থক্য 4 মিনিট। 15° দ্রাঘিমার সময়ের পার্থক্য 1 ঘণ্টা।
৮. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা কোথায় অবস্থিত?
আন্তর্জাতিক তারিখরেখা সাধারণত 180° দ্রাঘিমার কাছ দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে গেছে।
৯. কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের কয়টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে?
কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের 8টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে—গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
১০. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের প্রধান ব্যবহার কী?
পৃথিবীর কোনো স্থানের নির্দিষ্ট অবস্থান নির্ণয়, মানচিত্র তৈরি, GPS, নৌ ও বিমান চলাচল এবং স্থানীয় সময় নির্ণয়ে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ ব্যবহৃত হয়।
১৮. তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য নিচের শিক্ষামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলি পড়ুন।
- SATHEE, IIT Kanpur — NCERT: Globe, Latitudes and Longitudes
- NOAA — What is Latitude?
- National Geographic Education — Latitude




