ধ্বনিতত্ত্ব
WB TET • WBPSC • WBP • SLST
স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি: সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ ও পার্থক্য
বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব অংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি। আমরা কথা বলার সময় নানা ধরনের ধ্বনি উচ্চারণ করি। কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বায়ুপ্রবাহ বাধাহীনভাবে বেরিয়ে আসে, আবার কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ মুখের কোনো স্থানে বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়। এই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই ধ্বনিকে প্রধানত স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি—এই দুই ভাগে আলোচনা করা হয়।
- স্বরধ্বনি (Vowel Sound): যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয় না।
- ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant Sound): যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ মুখের কোনো স্থানে বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়।
- প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনায় বাংলা মৌলিক স্বরধ্বনি 7টি হিসেবে শেখানো হয়।
- ধ্বনি ও বর্ণ এক বিষয় নয়—ধ্বনি উচ্চারিত হয়, বর্ণ লেখা হয়।
কাদের জন্য এই নোট? WB TET, Primary TET, Upper Primary TET, WBPSC Clerkship, Miscellaneous, WBP, SLST, SSC, Railway এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সংজ্ঞা, উদাহরণ, তুলনামূলক ছক এবং ব্যাখ্যাসহ MCQ দেওয়া হয়েছে।
বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন — নিয়মিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন
1. ধ্বনি কাকে বলে?
মানুষের বাক্যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত এবং ভাষায় ব্যবহৃত শ্রাব্য একককে ধ্বনি বলা হয়। আমরা কথা বলার সময় যে আওয়াজ সৃষ্টি করি, তার অর্থপূর্ণ ভাষাগত ব্যবহার ধ্বনির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
যেমন: অ, আ, ই, উ, ক্, খ্, গ্, প্, ম্ ইত্যাদি ধ্বনির উদাহরণ।
ধ্বনিতত্ত্ব কী?
ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনির প্রকৃতি, উচ্চারণ, শ্রেণিবিভাগ, ব্যবহার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে যে শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়, তাকে ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology) বলে। ধ্বনিবিজ্ঞান (Phonetics) ধ্বনির উৎপাদন, শ্রবণ ও ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে।
ধ্বনির প্রধান প্রকার
বাংলা ব্যাকরণের প্রাথমিক আলোচনায় ধ্বনিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি (Vowel Sound)
- ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant Sound)
2. স্বরধ্বনি কাকে বলে?
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বায়ু মুখগহ্বরের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য বাধা ছাড়াই বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে স্বরধ্বনি বলে। স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা ও ঠোঁটের অবস্থান পরিবর্তিত হলেও বায়ুপ্রবাহ ব্যঞ্জনধ্বনির মতো সম্পূর্ণ বন্ধ বা সংকুচিত হয় না।
উদাহরণ: অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
স্বরধ্বনির প্রধান বৈশিষ্ট্য
- স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা থাকে না।
- স্বরধ্বনি নিজস্ব ধ্বনিগত পরিচয়ে উচ্চারিত হতে পারে।
- শব্দের শুরু, মাঝখান ও শেষে স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হতে পারে।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বার উচ্চতা, জিহ্বার অবস্থান এবং ঠোঁটের আকৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
- স্বরধ্বনি শব্দের উচ্চারণ ও শব্দাংশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনায় মৌলিক স্বরধ্বনি হিসেবে সাধারণত 7টি ধ্বনি শেখানো হয়। সেগুলি হলো:
| ক্রম | স্বরধ্বনি | উদাহরণ |
|---|---|---|
| 1 | অ | অজগর, অল্প |
| 2 | আ | আম, আশা |
| 3 | ই | ইলিশ, ইট |
| 4 | উ | উট, উনুন |
| 5 | এ | এক, এলাচ |
| 6 | ও | ওল, ওজন |
| 7 | অ্যা | ব্যাগ, অ্যাসিড |
3. স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান এবং ঠোঁটের আকৃতি অনুসারে স্বরধ্বনিকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। ভাষাবিজ্ঞানে এই শ্রেণিবিভাগ উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভরশীল।
ক. জিহ্বার উচ্চতা অনুসারে
- উচ্চ স্বরধ্বনি: উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখগহ্বরের উপরের দিকে থাকে। উদাহরণ: ই, উ।
- মধ্য বা মধ্যবর্তী স্বরধ্বনি: জিহ্বা উচ্চ ও নিম্ন অবস্থানের মাঝামাঝি থাকে। উদাহরণ: এ, ও।
- নিম্ন স্বরধ্বনি: উচ্চারণের সময় জিহ্বা তুলনামূলকভাবে নিচে থাকে। উদাহরণ: আ।
খ. জিহ্বার অবস্থান অনুসারে
- সম্মুখ স্বরধ্বনি: উচ্চারণের সময় জিহ্বার সামনের অংশ সক্রিয় থাকে। উদাহরণ: ই, এ।
- মধ্য স্বরধ্বনি: জিহ্বার মধ্যবর্তী অংশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: জিহ্বার পেছনের অংশ সক্রিয় থাকে। উদাহরণ: উ, ও, অ।
গ. ওষ্ঠের আকৃতি অনুসারে
- বৃত্তাকার স্বরধ্বনি: উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোলাকার হয়। উদাহরণ: উ, ও।
- অবৃত্তাকার স্বরধ্বনি: উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোলাকার হয় না। উদাহরণ: ই, এ, আ।
মৌলিক স্বরধ্বনি ও যৌগিক স্বরধ্বনি
একটি স্বরধ্বনির উচ্চারণে যদি একটিমাত্র স্বরধ্বনিগত অবস্থান প্রধান থাকে, তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি হিসেবে আলোচনা করা হয়। আর একই উচ্চারণে একটি স্বরধ্বনি থেকে অন্য স্বরধ্বনির দিকে ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটলে তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বরধ্বনি (Diphthong) বলা হয়।
উদাহরণ: কই, বউ, মৌ, যাও—এই ধরনের শব্দের উচ্চারণে স্বরধ্বনির সঙ্গে অর্ধস্বরধ্বনির সংযোগ লক্ষ করা যায়।
4. ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বায়ু মুখগহ্বরের কোনো স্থানে সম্পূর্ণ বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা, দাঁত, তালু, কণ্ঠ বা ঠোঁটের সাহায্যে বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: ক্, খ্, গ্, চ্, ট্, ত্, প্, ম্, স্ ইত্যাদি।
ব্যঞ্জনধ্বনির ধ্বনিগত রূপকে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে সাধারণত স্বরধ্বনির সহায়তা লাগে। যেমন, ক্ ধ্বনির সঙ্গে অ-স্বরধ্বনি যুক্ত হলে ক উচ্চারণ পাওয়া যায়।
ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য
- উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ মুখের কোনো স্থানে বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়।
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা, দাঁত, ঠোঁট, তালু ও কণ্ঠের ভূমিকা থাকে।
- স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি শব্দ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ব্যঞ্জনধ্বনি স্পর্শ, ঘর্ষণ, নাসিক্য বা অন্যান্য উচ্চারণরীতিতে উৎপন্ন হতে পারে।
- বাংলা ভাষায় ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান ও উচ্চারণরীতি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
5. ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের যে স্থানে বায়ুপ্রবাহ বাধা পায় বা সংকুচিত হয়, তাকে উচ্চারণস্থান (Place of Articulation) বলে। বাংলা ব্যাকরণের প্রচলিত আলোচনায় উচ্চারণস্থান অনুসারে ব্যঞ্জনবর্ণের কয়েকটি প্রধান শ্রেণি শেখানো হয়।
| উচ্চারণস্থান | প্রচলিত উদাহরণ | সহজ পরিচয় |
|---|---|---|
| কণ্ঠ্য | ক, খ, গ, ঘ, ঙ | জিহ্বার পশ্চাৎভাগ ও কোমল তালুর সংযোগস্থলে উচ্চারিত। |
| তালব্য | চ, ছ, জ, ঝ, ঞ | জিহ্বার সামনের অংশ ও তালুর কাছে উচ্চারিত। |
| মূর্ধন্য | ট, ঠ, ড, ঢ, ণ | জিহ্বার অগ্রভাগ পেছনের তালুর দিকে বাঁকিয়ে উচ্চারিত। |
| দন্ত্য | ত, থ, দ, ধ, ন | জিহ্বার অগ্রভাগ দাঁতের কাছে এনে উচ্চারিত। |
| ওষ্ঠ্য | প, ফ, ব, ভ, ম | দুই ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত। |
6. ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ
ব্যঞ্জনধ্বনিকে উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহের বাধার ধরন, স্বরতন্ত্রীর কম্পন এবং বায়ু নির্গমনের পথ অনুসারে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়।
ক. স্পর্শধ্বনি
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাক্যন্ত্রের দুটি অঙ্গের মধ্যে সম্পূর্ণ সংযোগ তৈরি হয়ে বায়ুপ্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয় এবং পরে মুক্ত হয়, তাকে স্পর্শধ্বনি বলা হয়।
উদাহরণ: ক, খ, গ, ঘ; চ, ছ, জ, ঝ; ট, ঠ, ড, ঢ; ত, থ, দ, ধ; প, ফ, ব, ভ।
খ. নাসিক্যধ্বনি
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নাসারন্ধ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে, তাকে নাসিক্যধ্বনি বলা হয়।
উদাহরণ: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
গ. উষ্ম বা ঘর্ষণধ্বনি
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ু সংকীর্ণ পথ দিয়ে বেরিয়ে এসে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণধ্বনি বা উষ্মধ্বনি বলা হয়।
উদাহরণ: শ, ষ, স, হ।
ঘ. অন্তঃস্থ ও অন্যান্য ধ্বনি
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে য, র, ল ইত্যাদি ধ্বনিকে অন্তঃস্থ ধ্বনির আলোচনায় রাখা হয়। আধুনিক ধ্বনিবিজ্ঞানে এগুলির উচ্চারণরীতি আরও নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
ঙ. ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি
- ঘোষধ্বনি: উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রীতে কম্পন সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: গ, জ, ড, দ, ব।
- অঘোষধ্বনি: উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রীর নিয়মিত কম্পন থাকে না। উদাহরণ: ক, চ, ট, ত, প।
চ. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি
- অল্পপ্রাণ: উচ্চারণে তুলনামূলকভাবে কম শ্বাসবায়ু নির্গত হয়। উদাহরণ: ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব।
- মহাপ্রাণ: উচ্চারণে তুলনামূলকভাবে বেশি শ্বাসবায়ু নির্গত হয়। উদাহরণ: খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ।
7. স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | স্বরধ্বনি | ব্যঞ্জনধ্বনি |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | যে ধ্বনি উচ্চারণে মুখগহ্বরে বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা থাকে না। | যে ধ্বনি উচ্চারণে বায়ুপ্রবাহ বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়। |
| উচ্চারণ | মুখগহ্বরের পথ তুলনামূলকভাবে খোলা থাকে। | মুখগহ্বরের কোনো স্থানে বাধা বা সংকোচন তৈরি হয়। |
| উদাহরণ | অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা | ক্, খ্, গ্, চ্, ত্, প্, ম্ |
| বায়ুপ্রবাহ | উল্লেখযোগ্য বাধা ছাড়াই বের হয়। | বাধা বা সংকোচনের মধ্য দিয়ে বের হয়। |
| উচ্চারণে ভূমিকা | নিজস্ব ধ্বনিগত পরিচয়ে উচ্চারিত হতে পারে। | স্বরধ্বনির সহায়তায় স্পষ্ট উচ্চারণ পাওয়া যায়। |
| শব্দগঠন | শব্দাংশ গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। | শব্দের ধ্বনিগত গঠন তৈরি করে। |
সহজ উদাহরণে পার্থক্য বুঝুন
ধরা যাক, আমরা ‘আম’ শব্দটি উচ্চারণ করছি। এই শব্দে ‘আ’ একটি স্বরধ্বনি এবং ‘ম্’ একটি ব্যঞ্জনধ্বনি। আবার ‘কলম’ শব্দে প্রচলিত উচ্চারণ বিশ্লেষণে ক, ল, ম ব্যঞ্জনধ্বনি এবং সংশ্লিষ্ট স্বরধ্বনির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অর্থাৎ, স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি একসঙ্গে কাজ করে শব্দের ধ্বনিগত গঠন তৈরি করে।
8. ধ্বনি, বর্ণ, স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের পার্থক্য
পরীক্ষার্থীরা অনেক সময় ধ্বনি ও বর্ণকে একই মনে করেন। কিন্তু ধ্বনি হলো উচ্চারিত রূপ এবং বর্ণ হলো তার লিখিত প্রতীক।
| বিষয় | অর্থ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ধ্বনি | ভাষায় উচ্চারিত শ্রাব্য একক | আ, ক্, ম্ |
| বর্ণ | ধ্বনি প্রকাশের লিখিত প্রতীক | আ, ক, ম |
| স্বরধ্বনি | বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা ছাড়াই উচ্চারিত ধ্বনি | অ, আ, ই |
| স্বরবর্ণ | স্বরধ্বনি নির্দেশকারী লিখিত বর্ণ | অ, আ, ই, ঈ |
| ব্যঞ্জনধ্বনি | বায়ুপ্রবাহে বাধা বা সংকোচনের মাধ্যমে উচ্চারিত ধ্বনি | ক্, গ্, প্ |
| ব্যঞ্জনবর্ণ | ব্যঞ্জনধ্বনি নির্দেশকারী লিখিত বর্ণ | ক, গ, প |
স্বরবর্ণ ও স্বরধ্বনি কি একই?
না। স্বরবর্ণ হলো লিখিত প্রতীক, আর স্বরধ্বনি হলো উচ্চারিত ধ্বনি। যেমন, ঐ একটি স্বরবর্ণ। কিন্তু তার লিখিত রূপকে সরাসরি একটি মৌলিক স্বরধ্বনি ধরে নেওয়া যায় না। উচ্চারণ অনুযায়ী তার ধ্বনিগত বিশ্লেষণ করতে হয়।
ব্যঞ্জনবর্ণ ও ব্যঞ্জনধ্বনি কি একই?
না। ক, খ, গ হলো ব্যঞ্জনবর্ণের লিখিত রূপ। এগুলির অন্তর্নিহিত ব্যঞ্জনধ্বনিকে ধ্বনিগতভাবে ক্, খ্, গ্ হিসেবে বোঝানো যায়। লিখিত বর্ণ ও উচ্চারিত ধ্বনির মধ্যে এই পার্থক্যটি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
এখনই ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন — বাংলা ব্যাকরণের আরও নোট পড়ুন
9. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও মনে রাখার কৌশল
- ধ্বনি হলো ভাষার উচ্চারিত শ্রাব্য একক।
- বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা থাকে না।
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহে বাধা বা সংকোচন সৃষ্টি হয়।
- প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে মৌলিক স্বরধ্বনি 7টি হিসেবে শেখানো হয়।
- বাংলা বর্ণমালার স্বরবর্ণ ও মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা এক নয়।
- কণ্ঠ্য, তালব্য, মূর্ধন্য, দন্ত্য ও ওষ্ঠ্য—প্রচলিত উচ্চারণস্থানভিত্তিক শ্রেণি।
- নাসিক্যধ্বনি উচ্চারণে বায়ু নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়।
- ঘোষধ্বনি উচ্চারণে স্বরতন্ত্রীতে কম্পন থাকে।
- মহাপ্রাণ ধ্বনি উচ্চারণে তুলনামূলক বেশি শ্বাসবায়ু নির্গত হয়।
মনে রাখার সহজ সূত্র
ব্যঞ্জনধ্বনি = বাধা বা সংকোচনযুক্ত বায়ুপ্রবাহ
ধ্বনি = উচ্চারণ
বর্ণ = লিখিত চিহ্ন
পরীক্ষায় যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন
- স্বরধ্বনি ও স্বরবর্ণের সংখ্যা এক বলে লিখবেন না।
- ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণকে একই বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করবেন না।
- উচ্চারণস্থান ও উচ্চারণরীতিকে গুলিয়ে ফেলবেন না।
- ঘোষ-অঘোষ এবং অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণের পার্থক্য আলাদা করে বুঝবেন।
- বাংলার প্রচলিত বর্ণশ্রেণি এবং আধুনিক ধ্বনিবিজ্ঞানের বিশ্লেষণ সব ক্ষেত্রে অভিন্ন—এমন ধরে নেবেন না।
10. স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি: 10টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ
WB TET, WBPSC, WBP, SLST, SSC ও অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে 10টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন দেওয়া হলো। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি কোনো অনলাইন টেস্ট নয়।
প্রশ্ন 1. যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয় না, তাকে কী বলে?
- ব্যঞ্জনধ্বনি
- স্বরধ্বনি
- নাসিক্যধ্বনি
- ঘর্ষণধ্বনি
ব্যাখ্যা: স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের মধ্যে বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয় না। যেমন—অ, আ, ই, উ।
প্রশ্ন 2. প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি হিসেবে শেখানো হয়?
- 5টি
- 6টি
- 7টি
- 11টি
ব্যাখ্যা: প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনায় অ, আ, ই, উ, এ, ও এবং অ্যা—এই 7টি মৌলিক স্বরধ্বনি হিসেবে শেখানো হয়। মনে রাখবেন, স্বরবর্ণের সংখ্যা এর থেকে আলাদা।
প্রশ্ন 3. নিচের কোনটি স্বরধ্বনির উদাহরণ?
- ক্
- প্
- ম্
- আ
ব্যাখ্যা: আ একটি স্বরধ্বনি। ক্, প্ ও ম্ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
প্রশ্ন 4. যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ মুখগহ্বরের কোনো স্থানে বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়, তাকে কী বলে?
- স্বরধ্বনি
- ব্যঞ্জনধ্বনি
- দ্বিস্বরধ্বনি
- সুরতরঙ্গ
ব্যাখ্যা: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা, দাঁত, তালু বা ঠোঁটের সাহায্যে বায়ুপ্রবাহে বাধা বা সংকোচন সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন 5. নিচের কোনটি ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনবর্ণের উদাহরণ?
- ক
- চ
- ত
- প
ব্যাখ্যা: প, ফ, ব, ভ, ম—প্রচলিত বর্ণশ্রেণিতে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বা বর্ণ। এগুলি উচ্চারণে ঠোঁটের ভূমিকা থাকে।
প্রশ্ন 6. নিচের কোনটি নাসিক্যধ্বনির উদাহরণ?
- ম্
- স্
- ক্
- ত্
ব্যাখ্যা: ম একটি নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি। উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়।
প্রশ্ন 7. ধ্বনির লিখিত প্রতীককে কী বলা হয়?
- শব্দ
- বর্ণ
- পদ
- বাক্য
ব্যাখ্যা: ধ্বনি হলো উচ্চারিত রূপ এবং বর্ণ হলো সেই ধ্বনি প্রকাশের লিখিত প্রতীক।
প্রশ্ন 8. নিচের কোনটি প্রচলিত ব্যাকরণে দন্ত্য বর্ণের উদাহরণ?
- ট
- ক
- ত
- প
ব্যাখ্যা: ত, থ, দ, ধ, ন—প্রচলিত বর্ণশ্রেণিতে দন্ত্য। উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ দাঁতের কাছে আসে।
প্রশ্ন 9. উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রীতে কম্পন সৃষ্টি হলে সেই ধ্বনিকে কী বলা হয়?
- অঘোষধ্বনি
- ঘোষধ্বনি
- মহাপ্রাণ ধ্বনি
- উষ্মধ্বনি
ব্যাখ্যা: ঘোষধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রীতে কম্পন থাকে। অঘোষধ্বনিতে এই ধরনের নিয়মিত স্বরতন্ত্রী কম্পন থাকে না।
প্রশ্ন 10. নিচের কোন জোড়াটি অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনির সঠিক উদাহরণ?
- ক – খ
- গ – জ
- ম – ন
- র – ল
ব্যাখ্যা: ক অল্পপ্রাণ এবং খ মহাপ্রাণ ধ্বনি। খ উচ্চারণে ক-এর তুলনায় বেশি শ্বাসবায়ু নির্গত হয়।
11. স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
1. স্বরধ্বনি কাকে বলে?
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয় না, তাকে স্বরধ্বনি বলে। যেমন—অ, আ, ই, উ।
2. ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ মুখগহ্বরের কোনো স্থানে বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। যেমন—ক্, গ্, প্, ম্।
3. বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক বাংলা ব্যাকরণে মৌলিক স্বরধ্বনি 7টি হিসেবে শেখানো হয়।
4. স্বরধ্বনি ও স্বরবর্ণের মধ্যে পার্থক্য কী?
স্বরধ্বনি হলো উচ্চারিত ধ্বনি এবং স্বরবর্ণ হলো সেই স্বরধ্বনি নির্দেশকারী লিখিত প্রতীক। তাই স্বরধ্বনি ও স্বরবর্ণের সংখ্যা এক নয়।
5. ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে স্বরধ্বনির ভূমিকা কী?
ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণকে স্পষ্ট ও শ্রুতিযোগ্য করতে স্বরধ্বনির সহায়তা লাগে। যেমন ক্ ধ্বনির সঙ্গে অ যুক্ত হলে ক উচ্চারিত হয়।
6. নাসিক্যধ্বনি কাকে বলে?
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়, তাকে নাসিক্যধ্বনি বলে। যেমন—ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
7. ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনির পার্থক্য কী?
ঘোষধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রীতে কম্পন থাকে। অঘোষধ্বনি উচ্চারণের সময় নিয়মিত স্বরতন্ত্রী কম্পন থাকে না।
8. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি কী?
যে ধ্বনি উচ্চারণে তুলনামূলক কম শ্বাসবায়ু বের হয় তাকে অল্পপ্রাণ এবং যে ধ্বনি উচ্চারণে বেশি শ্বাসবায়ু বের হয় তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলা হয়।
9. ধ্বনি ও বর্ণ কি একই?
না। ধ্বনি হলো উচ্চারিত শ্রাব্য একক, আর বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক।
10. স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ কীভাবে করা হয়?
স্বরধ্বনিকে জিহ্বার উচ্চতা, জিহ্বার সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান এবং ঠোঁটের আকৃতি অনুসারে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়।
13. নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক তথ্যসূত্র
বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা পড়তে নিচের উৎসগুলি অনুসরণ করতে পারেন।
WhatsApp Channel-এ যোগ দিন — প্রতিদিনের বাংলা ব্যাকরণ, GK ও পরীক্ষার আপডেট পান
উপসংহার: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি বাংলা ভাষার ধ্বনিগত গঠনের দুটি মৌলিক অংশ। স্বরধ্বনি উচ্চারণে বায়ুপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য বাধা থাকে না, আর ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বাধা বা সংকোচন সৃষ্টি হয়। ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য, স্বরধ্বনির সংখ্যা, উচ্চারণস্থান, ঘোষ-অঘোষ এবং অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণের বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে বুঝে রাখলে সরকারি পরীক্ষার এই অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর করা সহজ হবে।




