ভারতের ইতিহাস
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি
গণপরিষদ কী? ভারতের গণপরিষদের গঠন, সদস্য, কার্যাবলি ও সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস
গণপরিষদ বা Constituent Assembly হলো এমন একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সভা, যার প্রধান কাজ একটি দেশের সংবিধান প্রণয়ন করা। ভারতের গণপরিষদ স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিল। 1946 সালে এর যাত্রা শুরু হয় এবং 26 নভেম্বর 1949 তারিখে ভারতীয় সংবিধান গৃহীত হয়।
এই অধ্যায়ে গণপরিষদের গঠন, সদস্যসংখ্যা, প্রথম অধিবেশন, গুরুত্বপূর্ণ নেতা, বিভিন্ন কমিটি, খসড়া সংবিধান, সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং পরীক্ষায় আসার মতো তথ্য আলোচনা করা হয়েছে।
বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন — পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন
সূচিপত্র
- গণপরিষদের অর্থ ও ধারণা
- গণপরিষদ গঠনের পটভূমি
- গণপরিষদের গঠন ও সদস্যসংখ্যা
- প্রথম অধিবেশন ও সভাপতি
- উদ্দেশ্য প্রস্তাব বা Objectives Resolution
- গণপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি
- খসড়া কমিটি ও ড. বি. আর. আম্বেদকর
- সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর হওয়া
- গণপরিষদের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব
- গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ঘটনাপঞ্জি
- গণপরিষদ ও সংসদের পার্থক্য
- ১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
- প্রশ্নোত্তর বা FAQ
1. গণপরিষদের অর্থ ও ধারণা
গণপরিষদ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Constituent Assembly। Constituent শব্দের অর্থ সংবিধান-সংক্রান্ত এবং Assembly অর্থ সভা বা পরিষদ। অর্থাৎ, যে প্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ কোনো দেশের সংবিধান তৈরি বা প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করে, তাকে গণপরিষদ বলা হয়।
একটি দেশের শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের কাঠামো, নাগরিকের অধিকার, সরকারের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিগুলি সংবিধানে নির্ধারিত হয়। ভারতের গণপরিষদ এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে স্বাধীন ভারতের সংবিধান তৈরি করেছিল।
2. ভারতের গণপরিষদ গঠনের পটভূমি
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে একটি স্বাধীন সংবিধান রচনার দাবি গভীরভাবে যুক্ত ছিল। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে ভারতীয় জনগণের নিজস্ব মতামত ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে সংবিধান তৈরির দাবি ক্রমশ শক্তিশালী হয়।
গণপরিষদ গঠনের দাবির বিকাশ
- 1934: এম. এন. রায় (M. N. Roy) স্বাধীন ভারতের জন্য গণপরিষদ গঠনের ধারণা উত্থাপন করেন বলে সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়।
- 1935: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান রচনার দাবি সামনে আনে।
- 1938: জওহরলাল নেহরু ঘোষণা করেন যে স্বাধীন ভারতের সংবিধান ভারতীয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা রচিত হওয়া উচিত।
- 1940: আগস্ট প্রস্তাবের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সংবিধান প্রণয়নে অংশগ্রহণের নীতিগত স্বীকৃতি দেয়, যদিও তা পূর্ণ গণপরিষদ গঠনের সমতুল্য ছিল না।
- 1942: ক্রিপস মিশন যুদ্ধের পর ভারতীয়দের দ্বারা সংবিধান প্রণয়নের একটি প্রস্তাব দেয়।
- 1946: ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ভারতের গণপরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা, 1946
1946 সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা অনুসারে ভারতের গণপরিষদ গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। এই পরিকল্পনায় প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচিত সদস্যদের মাধ্যমে পরোক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের মনোনয়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
অর্থাৎ, গণপরিষদের সদস্যরা ভারতের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি। প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচিত সদস্যরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করেছিলেন।
3. গণপরিষদের গঠন ও সদস্যসংখ্যা
ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতের গণপরিষদের প্রাথমিক মোট সদস্যসংখ্যা নির্ধারিত হয়েছিল 389 জন। এই সদস্যদের বিভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়েছিল।
| প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র | সদস্যসংখ্যা |
|---|---|
| ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহ | 292 |
| দেশীয় রাজ্যসমূহ (Princely States) | 93 |
| চিফ কমিশনার শাসিত প্রদেশসমূহ | 4 |
| মোট | 389 |
দেশভাগের পর সদস্যসংখ্যার পরিবর্তন
1947 সালে ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠিত হলে পাকিস্তানের জন্য পৃথক গণপরিষদ তৈরি হয়। এর ফলে ভারতের গণপরিষদের সদস্যসংখ্যা কমে দাঁড়ায় 299 জন।
প্রাথমিক সদস্যসংখ্যা = 389 জন।
দেশভাগের পর সদস্যসংখ্যা = 299 জন।
এই দুটি সংখ্যাকে কখনো এক করে ফেলবেন না।
গণপরিষদের সদস্য নির্বাচন পদ্ধতি
- প্রাদেশিক প্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি; প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচিত সদস্যরা তাঁদের নির্বাচন করেছিলেন।
- নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি এবং একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট (Single Transferable Vote) ব্যবহৃত হয়েছিল।
- দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মনোনয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে আসেন।
- তৎকালীন সীমিত ভোটাধিকার ব্যবস্থার কারণে গণপরিষদ সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সরাসরি নির্বাচিত ছিল না।
4. গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ও সভাপতি
ভারতের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় 9 ডিসেম্বর 1946 তারিখে। অধিবেশনটি নয়াদিল্লির Constitution Hall-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা বর্তমানে সংসদ ভবনের Central Hall নামে পরিচিত।
| পদ বা ঘটনা | ব্যক্তি / তারিখ |
|---|---|
| অস্থায়ী সভাপতি (Temporary President) | ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা |
| স্থায়ী সভাপতি | ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ |
| স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন | 11 ডিসেম্বর 1946 |
| প্রথম অধিবেশন | 9 ডিসেম্বর 1946 |
ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন গণপরিষদের প্রবীণতম সদস্যদের একজন।
ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
11 ডিসেম্বর 1946 তারিখে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সভার কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গণপরিষদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা
- জওহরলাল নেহরু: উদ্দেশ্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- ড. বি. আর. আম্বেদকর: খসড়া কমিটির সভাপতি ছিলেন।
- সরদার বল্লভভাই প্যাটেল: গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি হিসেবে কাজ করেন এবং সংবিধান প্রণয়নের কাজে ভূমিকা রাখেন।
- মৌলানা আবুল কালাম আজাদ: গণপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও জাতীয় নেতা ছিলেন।
- কে. এম. মুন্সি: খসড়া কমিটির সদস্য ছিলেন।
- বি. এন. রাউ: সংবিধান বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে খসড়া প্রস্তুতির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন — নতুন স্টাডি আপডেট পান
5. উদ্দেশ্য প্রস্তাব বা Objectives Resolution
ভারতের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। 13 ডিসেম্বর 1946 তারিখে জওহরলাল নেহরু গণপরিষদে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। দীর্ঘ আলোচনা ও বিবেচনার পর এটি 22 জানুয়ারি 1947 তারিখে গৃহীত হয়।
উদ্দেশ্য প্রস্তাবের প্রধান বিষয়
- ভারতকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
- ভারতের জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস স্থাপন করা।
- সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।
- চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
- সুযোগ ও মর্যাদার সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
- সংখ্যালঘু, অনগ্রসর শ্রেণি ও আদিবাসীদের জন্য উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।
- জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখা।
উদ্দেশ্য প্রস্তাব পরবর্তীকালে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার আদর্শগত ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
6. গণপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি
ভারতের সংবিধান প্রণয়নের কাজকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য গণপরিষদ একাধিক কমিটি গঠন করেছিল। এই কমিটিগুলি সংবিধানের বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা, আলোচনা এবং সুপারিশ করেছিল।
| কমিটির নাম | সভাপতি |
|---|---|
| Drafting Committee (খসড়া কমিটি) | ড. বি. আর. আম্বেদকর |
| Union Powers Committee | জওহরলাল নেহরু |
| Union Constitution Committee | জওহরলাল নেহরু |
| Provincial Constitution Committee | সরদার বল্লভভাই প্যাটেল |
| Advisory Committee on Fundamental Rights, Minorities and Tribal Areas | সরদার বল্লভভাই প্যাটেল |
| Rules of Procedure Committee | ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ |
| Steering Committee | ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ |
| States Committee | জওহরলাল নেহরু |
কমিটিগুলির কাজ
Union Powers Committee: কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন এবং কেন্দ্রের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে আলোচনা করে।
Union Constitution Committee: ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার সাংবিধানিক কাঠামো সম্পর্কে সুপারিশ করে।
Provincial Constitution Committee: প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থার কাঠামো ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।
Advisory Committee: মৌলিক অধিকার, সংখ্যালঘু এবং উপজাতীয় অঞ্চল সম্পর্কিত বিষয়গুলি বিবেচনা করে।
Drafting Committee: গণপরিষদের সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের খসড়া তৈরি ও সংশোধনের কাজ করে।
7. খসড়া কমিটি ও ড. বি. আর. আম্বেদকর
ভারতের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে খসড়া কমিটি বা Drafting Committee অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 29 আগস্ট 1947 তারিখে গণপরিষদ খসড়া কমিটি গঠন করে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল সংবিধানের খসড়া পরীক্ষা করা, প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া এবং গণপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধানের পাঠ প্রস্তুত করা।
খসড়া কমিটির মূল 7 জন সদস্য
- ড. বি. আর. আম্বেদকর
- এন. গোপালস্বামী আয়েঙ্গার
- আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার
- কে. এম. মুন্সি
- সৈয়দ মোহাম্মদ সাদুল্লা
- বি. এল. মিত্র
- ডি. পি. খৈতান
কমিটি প্রথম বৈঠকে 30 আগস্ট 1947 তারিখে বসে এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরকে কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। পরবর্তীকালে সদস্যদের মধ্যে পরিবর্তন হয়। বি. এল. মিত্রের স্থলে এন. মাধব রাও এবং ডি. পি. খৈতানের মৃত্যুর পর টি. টি. কৃষ্ণমাচারী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
ড. বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা
ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর ছিলেন খসড়া কমিটির সভাপতি। সংবিধানের বিভিন্ন ধারার ভাষা, কাঠামো ও যুক্তি পরীক্ষা করে গণপরিষদের সামনে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বিভিন্ন বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন এবং সংবিধানের বিধানগুলির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তাঁর নেতৃত্বে খসড়া কমিটি গণপরিষদের সিদ্ধান্তগুলিকে একটি সুসংহত সাংবিধানিক দলিলে রূপ দেওয়ার কাজ করে। এই কারণেই তাঁকে প্রায়ই ভারতীয় সংবিধানের প্রধান স্থপতি বা Architect of the Indian Constitution বলা হয়। তবে সংবিধান প্রণয়ন ছিল গণপরিষদের সম্মিলিত কাজ; এটি কোনো একজন ব্যক্তির একক রচনা নয়।
বি. এন. রাউয়ের ভূমিকা
স্যার বেনেগাল নারসিং রাউ (B. N. Rau) ছিলেন গণপরিষদের সাংবিধানিক উপদেষ্টা। তিনি বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করে একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খসড়া কমিটি সেই উপাদান ও গণপরিষদের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে সংবিধানের খসড়া উন্নত করে।
8. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর হওয়া
গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া নিয়ে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। সংশোধনী প্রস্তাব, বিতর্ক এবং বিভিন্ন ধারার পর্যালোচনার মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হয়।
| ঘটনা | তারিখ |
|---|---|
| গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন | 9 ডিসেম্বর 1946 |
| উদ্দেশ্য প্রস্তাব উত্থাপন | 13 ডিসেম্বর 1946 |
| উদ্দেশ্য প্রস্তাব গৃহীত | 22 জানুয়ারি 1947 |
| খসড়া কমিটি গঠন | 29 আগস্ট 1947 |
| খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উপস্থাপন | 4 নভেম্বর 1948 |
| ভারতীয় সংবিধান গৃহীত | 26 নভেম্বর 1949 |
| গণপরিষদের সদস্যদের স্বাক্ষর | 24 জানুয়ারি 1950 |
| ভারতীয় সংবিধান কার্যকর | 26 জানুয়ারি 1950 |
26 নভেম্বর 1949: সংবিধান গৃহীত
26 নভেম্বর 1949 তারিখে গণপরিষদ ভারতীয় সংবিধান গ্রহণ করে। এই দিনটি বর্তমানে ভারতে সংবিধান দিবস (Constitution Day) হিসেবে পালন করা হয়।
24 জানুয়ারি 1950: সদস্যদের স্বাক্ষর
24 জানুয়ারি 1950 তারিখে গণপরিষদের 284 জন সদস্য সংবিধানের চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন।
26 জানুয়ারি 1950: সংবিধান কার্যকর
26 জানুয়ারি 1950 তারিখে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়। এই দিনটি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়। 1930 সালের 26 জানুয়ারি পূর্ণ স্বরাজ দিবস পালনের ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে এই তারিখের সম্পর্ক রয়েছে।
26 নভেম্বর 1949 — সংবিধান গৃহীত।
24 জানুয়ারি 1950 — সংবিধানে স্বাক্ষর।
26 জানুয়ারি 1950 — সংবিধান কার্যকর।
9. গণপরিষদের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব
গণপরিষদের প্রধান বৈশিষ্ট্য
- ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার ভিত্তিতে গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল।
- প্রাদেশিক প্রতিনিধিরা পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের মনোনয়নের ব্যবস্থা ছিল।
- গণপরিষদ বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে সংবিধানের পৃথক বিষয়গুলি পর্যালোচনা করেছিল।
- সভায় দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা চূড়ান্ত হয়।
- স্বাধীনতার পর গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নের পাশাপাশি আইনসভা হিসেবেও কাজ করে।
সংবিধান প্রণয়নে কত সময় লেগেছিল?
ভারতের সংবিধান প্রণয়নে সময় লেগেছিল 2 বছর, 11 মাস ও 17 দিন। এই সময়ে গণপরিষদ মোট 11টি অধিবেশন পরিচালনা করে, যা মোট 165 দিন স্থায়ী হয়েছিল। এর মধ্যে 114 দিন খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও বিবেচনায় ব্যয় হয়।
গণপরিষদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
- স্বাধীন ভারতের জন্য একটি লিখিত ও বিস্তারিত সংবিধান তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি স্থাপন করে।
- নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির কাঠামো নির্ধারণ করে।
- কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের ব্যবস্থা তৈরি করে।
- আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়।
- বহুভাষিক, বহুধর্মীয় ও বৈচিত্র্যময় দেশের জন্য একটি অভিন্ন সাংবিধানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে।
10. গণপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপঞ্জি
| সাল / তারিখ | গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা |
|---|---|
| 1934 | এম. এন. রায়ের গণপরিষদের ধারণা উত্থাপন |
| 1946 | ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার ভিত্তিতে গণপরিষদ গঠন |
| 9 ডিসেম্বর 1946 | গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন |
| 11 ডিসেম্বর 1946 | ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত |
| 13 ডিসেম্বর 1946 | জওহরলাল নেহরুর উদ্দেশ্য প্রস্তাব উত্থাপন |
| 22 জানুয়ারি 1947 | উদ্দেশ্য প্রস্তাব গৃহীত |
| 29 আগস্ট 1947 | খসড়া কমিটি গঠন |
| 4 নভেম্বর 1948 | খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উপস্থাপন |
| 26 নভেম্বর 1949 | সংবিধান গৃহীত |
| 24 জানুয়ারি 1950 | 284 জন সদস্যের স্বাক্ষর |
| 26 জানুয়ারি 1950 | সংবিধান কার্যকর; ভারত প্রজাতন্ত্রে পরিণত |
11. গণপরিষদ ও সংসদের মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | গণপরিষদ | সংসদ |
|---|---|---|
| প্রধান কাজ | সংবিধান প্রণয়ন | আইন প্রণয়ন ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা |
| গঠনের উদ্দেশ্য | দেশের সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি | সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার আইনসভা |
| ভারতের ক্ষেত্রে ভূমিকা | 1946 থেকে সংবিধান প্রণয়নের কাজ | বর্তমানে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনসভা |
| বিশেষ তথ্য | স্বাধীনতার পর আইনসভা হিসেবেও কাজ করেছিল | লোকসভা ও রাজ্যসভা নিয়ে গঠিত |
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নকারী সংস্থা এবং Dominion Legislature—দুটি পৃথক ভূমিকায় কাজ করেছিল। পরবর্তীকালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার সঙ্গে নতুন সাংবিধানিক সংসদীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।
12. পরীক্ষার জন্য এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- গণপরিষদের ইংরেজি নাম — Constituent Assembly.
- গণপরিষদ গঠনের ভিত্তি — Cabinet Mission Plan, 1946.
- প্রাথমিক সদস্যসংখ্যা — 389 জন.
- দেশভাগের পর সদস্যসংখ্যা — 299 জন.
- প্রথম অধিবেশন — 9 ডিসেম্বর 1946.
- অস্থায়ী সভাপতি — ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা.
- স্থায়ী সভাপতি — ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ.
- উদ্দেশ্য প্রস্তাব উত্থাপন — জওহরলাল নেহরু.
- উদ্দেশ্য প্রস্তাব গৃহীত — 22 জানুয়ারি 1947.
- খসড়া কমিটি গঠিত — 29 আগস্ট 1947.
- খসড়া কমিটির সভাপতি — ড. বি. আর. আম্বেদকর.
- সংবিধান গৃহীত — 26 নভেম্বর 1949.
- সংবিধানে স্বাক্ষর — 24 জানুয়ারি 1950.
- সংবিধান কার্যকর — 26 জানুয়ারি 1950.
- সংবিধান প্রণয়নে সময় — 2 বছর, 11 মাস ও 17 দিন.
- অধিবেশন — 11টি; মোট 165 দিন.
- খসড়া সংবিধান আলোচনার দিন — 114 দিন.
- সংবিধানে স্বাক্ষরকারী সদস্য — 284 জন.
দৈনিক GK, Current Affairs ও পরীক্ষার আপডেট পেতে WhatsApp Channel-এ Join করুন
13. গণপরিষদ: ১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
WBPSC, WBCS, WBP, TET, SSC, Railway এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচের প্রশ্নগুলি অনুশীলন করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন 1. ভারতের গণপরিষদ কোন পরিকল্পনার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল?
A) ক্রিপস মিশন পরিকল্পনা
B) ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা
C) মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা
D) ওয়াভেল পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা: 1946 সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতের গণপরিষদ গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
প্রশ্ন 2. ভারতের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
A) 15 আগস্ট 1947
B) 26 নভেম্বর 1949
C) 9 ডিসেম্বর 1946
D) 26 জানুয়ারি 1950
ব্যাখ্যা: 9 ডিসেম্বর 1946 তারিখে নয়াদিল্লির Constitution Hall-এ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন 3. গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি কে ছিলেন?
A) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
B) জওহরলাল নেহরু
C) ড. বি. আর. আম্বেদকর
D) ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা
ব্যাখ্যা: গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশ্ন 4. গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি কে নির্বাচিত হয়েছিলেন?
A) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
B) ড. বি. আর. আম্বেদকর
C) সরদার বল্লভভাই প্যাটেল
D) জওহরলাল নেহরু
ব্যাখ্যা: 11 ডিসেম্বর 1946 তারিখে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রশ্ন 5. উদ্দেশ্য প্রস্তাব বা Objectives Resolution কে উত্থাপন করেন?
A) ড. বি. আর. আম্বেদকর
B) জওহরলাল নেহরু
C) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
D) সরদার প্যাটেল
ব্যাখ্যা: 13 ডিসেম্বর 1946 তারিখে জওহরলাল নেহরু গণপরিষদে উদ্দেশ্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এটি 22 জানুয়ারি 1947 তারিখে গৃহীত হয়।
প্রশ্ন 6. খসড়া কমিটি কবে গঠিত হয়?
A) 9 ডিসেম্বর 1946
B) 22 জানুয়ারি 1947
C) 29 আগস্ট 1947
D) 26 নভেম্বর 1949
ব্যাখ্যা: 29 আগস্ট 1947 তারিখে গণপরিষদ খসড়া কমিটি গঠন করে। ড. বি. আর. আম্বেদকর এই কমিটির সভাপতি ছিলেন।
প্রশ্ন 7. খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
A) বি. এন. রাউ
B) কে. এম. মুন্সি
C) জওহরলাল নেহরু
D) ড. বি. আর. আম্বেদকর
ব্যাখ্যা: ড. বি. আর. আম্বেদকর 29 আগস্ট 1947-এ গঠিত Drafting Committee-এর সভাপতি ছিলেন। সংবিধানের খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার কাজে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
প্রশ্ন 8. ভারতীয় সংবিধান গণপরিষদে কবে গৃহীত হয়?
A) 26 নভেম্বর 1949
B) 24 জানুয়ারি 1950
C) 26 জানুয়ারি 1950
D) 15 আগস্ট 1947
ব্যাখ্যা: 26 নভেম্বর 1949 তারিখে গণপরিষদ ভারতীয় সংবিধান গ্রহণ করে। এই দিনটি সংবিধান দিবস হিসেবে পালিত হয়।
প্রশ্ন 9. ভারতীয় সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
A) 9 ডিসেম্বর 1946
B) 26 জানুয়ারি 1950
C) 24 জানুয়ারি 1950
D) 26 নভেম্বর 1949
ব্যাখ্যা: 26 জানুয়ারি 1950 তারিখে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়। এই দিনটি প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়।
প্রশ্ন 10. ভারতীয় সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদের কত সময় লেগেছিল?
A) 1 বছর 6 মাস 10 দিন
B) 3 বছর 2 মাস 5 দিন
C) 2 বছর 11 মাস 17 দিন
D) 4 বছর 1 মাস 15 দিন
ব্যাখ্যা: গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করতে 2 বছর, 11 মাস ও 17 দিন সময় নিয়েছিল। এই সময়ে 11টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
14. গণপরিষদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ লিংক
ভারতীয় সংবিধান, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে নিচের অধ্যায়গুলিও পড়ুন।
- ভারতীয় সংবিধান ও গণতন্ত্র
- সংবিধানের অর্থ ও বৈশিষ্ট্য
- সাংবিধানিক মূল্যবোধ: ন্যায়, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব
- ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা
- ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার
- রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি
- ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য
- ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
- গণতন্ত্রের অর্থ, নীতি ও গুরুত্ব
- সরকারের তিনটি অঙ্গ: আইনসভা, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগ
15. আরও পড়ুন: সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা
- প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্র
- কেন্দ্রীয় সরকার: রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ
- লোকসভা ও রাজ্যসভা
16. নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক তথ্যসূত্র
গণপরিষদের ইতিহাস, সংবিধান প্রণয়নের কার্যক্রম এবং ঐতিহাসিক বিতর্ক সম্পর্কে প্রাথমিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য নিচের উৎসগুলি ব্যবহার করতে পারেন।
- Digital Sansad — Constituent Assembly — সংসদের সরকারি ওয়েবসাইটে গণপরিষদের গঠন, অধিবেশন ও কমিটি সম্পর্কে তথ্য।
- Constitution of India — Constituent Assembly Debates — গণপরিষদের মূল বিতর্ক ও ঐতিহাসিক নথি।
- Press Information Bureau — Constituent Assembly — গণপরিষদ ও সংবিধান প্রণয়ন সম্পর্কিত সরকারি তথ্য।
17. গণপরিষদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন 1: গণপরিষদ কী?
যে প্রতিনিধিত্বমূলক সভা একটি দেশের সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করে, তাকে গণপরিষদ বা Constituent Assembly বলে। ভারতের গণপরিষদ স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনা করেছিল।
প্রশ্ন 2: ভারতের গণপরিষদ কবে গঠিত হয়?
1946 সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ভারতের গণপরিষদ গঠিত হয়। এর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় 9 ডিসেম্বর 1946 তারিখে।
প্রশ্ন 3: গণপরিষদের প্রথম অস্থায়ী সভাপতি কে ছিলেন?
ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা গণপরিষদের প্রথম অস্থায়ী সভাপতি ছিলেন।
প্রশ্ন 4: গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি কে ছিলেন?
ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ 11 ডিসেম্বর 1946 তারিখে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রশ্ন 5: গণপরিষদের প্রাথমিক সদস্যসংখ্যা কত ছিল?
ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী গণপরিষদের প্রাথমিক সদস্যসংখ্যা ছিল 389 জন। দেশভাগের পর তা কমে 299 জন হয়।
প্রশ্ন 6: খসড়া কমিটি কবে গঠিত হয়?
29 আগস্ট 1947 তারিখে খসড়া কমিটি গঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন ড. বি. আর. আম্বেদকর।
প্রশ্ন 7: উদ্দেশ্য প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
জওহরলাল নেহরু 13 ডিসেম্বর 1946 তারিখে উদ্দেশ্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এটি 22 জানুয়ারি 1947 তারিখে গৃহীত হয়।
প্রশ্ন 8: ভারতীয় সংবিধান কবে গৃহীত ও কার্যকর হয়?
ভারতীয় সংবিধান 26 নভেম্বর 1949 তারিখে গৃহীত হয় এবং 26 জানুয়ারি 1950 তারিখে কার্যকর হয়। 24 জানুয়ারি 1950 তারিখে 284 জন সদস্য সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
প্রশ্ন 9: সংবিধান প্রণয়নে কত সময় লেগেছিল?
ভারতের সংবিধান প্রণয়নে 2 বছর, 11 মাস ও 17 দিন সময় লেগেছিল। এই সময়ে 11টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন 10: সংবিধান দিবস কবে পালিত হয়?
প্রতি বছর 26 নভেম্বর ভারতে সংবিধান দিবস বা Constitution Day পালিত হয়। এই দিন 1949 সালে গণপরিষদ ভারতীয় সংবিধান গ্রহণ করেছিল।
উপসংহার
ভারতের গণপরিষদ দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ আলোচনা, বিতর্ক, বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ এবং সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধান তৈরি হয়েছিল। গণপরিষদের গঠন, সদস্যসংখ্যা, সভাপতি, উদ্দেশ্য প্রস্তাব, খসড়া কমিটি এবং সংবিধান গ্রহণের তারিখ সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অধ্যায়ের ঘটনাগুলি তারিখসহ ভালোভাবে অনুশীলন করা উচিত।
এখনই ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন — My Test Series-এর সঙ্গে প্রস্তুতি এগিয়ে নিন
Daily Updates ও Exam News পেতে WhatsApp Channel Join করুন
সম্পর্কিত পরীক্ষার প্রস্তুতি ও স্টাডি রিসোর্স
ভারতীয় সংবিধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞানের অন্যান্য অধ্যায়গুলি পড়ে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করুন। My Test Series-এর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি সামগ্রী ও প্র্যাকটিস রিসোর্স দেখতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:
My Test Series — Study Materials ও Exam Preparation Resources




